জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঢাকার তিন স্পট মাদকের হাট, রাতে বাড়ে হাঁকডাক

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ঢাকার তিন স্পট মাদকের হাট, রাতে বাড়ে হাঁকডাক। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় খোলা বাজারের মতো বিক্রি হচ্ছে মাদক। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, কারওয়ান বাজার ও মিরপুরের বিহারি ক্যাম্পে রাতে হাঁকডাক ছেড়েই বিক্রি করছেন কারবারিরা। যদিও পুলিশের দাবি, মাদক নিয়ন্ত্রণে তারা এসব স্পটে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

হটস্পট জেনেভা ক্যাম্প

রাজধানীর মাদকের অন্যতম ‘হটস্পট’ মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কিশোর বিক্রি করছে গাঁজা। নারী-শিশুদের হাতে ইয়াবা, হেরোইন। ক্যাম্পের মুরগিপট্টি, বাবর রোড, আল ফালাহ মডেল ক্লিনিক গলি, হুমায়ূন রোডসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত চলে মাদক কারবার।

ঘনবসতিপূর্ণ এই ক্যাম্পে বাইরে থেকে এসে কেনে মাদকদ্রব্য। রাস্তার ওপর হাঁকডাক দিয়েই ক্রেতা জোগাড় করা হয়।

ক্যাম্পের বাসিন্দা ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেনেভা ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টাই মাদক বিক্রি হয়। এলাকার অনেকে কারবারের সঙ্গে জড়িত। ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাজিদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘মাদকের কারণে ক্যাম্পের সবার বদনাম হচ্ছে। এখানে দিনরাত এসব চলে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে মাদক কিনে নিয়ে যায়। মাদকের কারণে ক্যাম্পে বিভিন্ন গ্যাং তৈরি হয়েছে।’

সাজিদ আরও বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই পুলিশ অভিযান চালায়। কিছু মাদক ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁরা জামিনে বের হয়ে আবার এই কাজে যুক্ত হয়।’

কারওয়ান বাজারে হাঁকডাক

রাজধানীর কারওয়ান বাজার রেলগেট এলাকা ঘুরে একই পরিস্থিতে দেখা গেছে। এফডিসি রেলগেট যেতেই কানে আসে, ‘লাগবে? কয়ডা?’ ঘুরে দাঁড়াতেই দেখা গেল, কয়েকজন তরুণ এবং কিশোর দাঁড়িয়ে আছে। তাদের হাতে পলিথিনে ছোট ছোট ‘পুঁটলি’।

এফডিসি রেলগেট থেকে তেঁজগাও রেলগেট পর্যন্ত বিস্তৃত মাদকের বাজার। এই এলাকায় রেললাইনের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকে বিক্রেতারা। ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ‘কয়ডা-কয়ডা’ বলে হাঁক দেন। দাঁড়ালেই বের করে দেন গাঁজা, ইয়াবা। কেউ কেউ আবার ইট, পলিথিনের নিচে লুকিয়ে রাখেন। গ্রাহক এলে বের করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারওয়ান বাজারের এক আড়তদার স্ট্রিমকে বলেন, এখানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম ঘটে। তাদের অনেকে মাদক নেন। রেললাইনে গেলে সহজেই মেলে।

মিরপুরের ক্যাম্পগুলো আখড়া

মিরপুরের ১০-১২ নম্বর এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটি বিহারি ক্যাম্প ও বস্তি। মিরপুরের এডিসি ক্যাম্প, কেটিসি ক্যাম্প, রহমত ক্যাম্প, মাদ্রাসা ক্যাম্প, মুসলিম ক্যাম্প, কনসাল ক্যাম্প, থার্টিনাস ক্যাম্প, কালাপানি বস্তি, কুর্মিটোলা ক্যাম্প, মুড়াপাড়া ক্যাম্প, এমসিসি ক্যাম্প, মিল্লাত ক্যাম্প, শাহপরান ক্যাম্পে চলে মাদকের কারবার।

এলাকাগুলোর বিভিন্ন জায়গায় চলে মাদক কেনাবেচা। কোথাও গিয়ে বিক্রেতাকে খুঁজতে হয়। কোথাও কোথাও আবার ক্রেতাকে দেখে এগিয়ে আসেন বিক্রেতা।

মিরপুর ১২ নম্বর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জোবায়ের স্ট্রিমকে বলেন, ‘মিরপুরের বস্তিগুলোতে মাদকের বেচাকেনা হয়। সবচেয়ে বেশি হয় বিহারি ক্যাম্পগুলো। প্রশাসন মাঝেমধ্যেই অভিযান চালায়। অনেকে গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু মাদকের ব্যবসা বন্ধ হয় না।’

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান চলছে। মাদক কারবারিদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাচ্ছি। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে একদম কঠোর অবস্থানে আছি।’

অভিযানের পরও কেন বন্ধ হচ্ছে না– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘খোলা বাজারের মতো বিষয়টা আমরা দেখিনি। তবে মাদকের বিভিন্ন স্পটে অভিযানে গ্রেপ্তার কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হচ্ছে। এভাবে অভিযান পরিচালিত হলে আমার মনে হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

বিষয়:

মাদক

সম্পর্কিত