উচ্চশিক্ষায় সংখ্যার নয়, মানের বিপ্লবের সময়

ড. খালিদুর রহমান
ড. খালিদুর রহমান

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৩: ৩৫
স্ট্রিম গ্রাফিক্স

উচ্চশিক্ষা কোনো দেশের কেবল ডিগ্রি প্রদানের ব্যবস্থা নয়; এটি একটি জাতির জ্ঞান, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রধান ভিত্তি। যে দেশ তার বিশ্ববিদ্যালয়কে শক্তিশালী করতে পারে, সেই দেশই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, শিল্পোন্নয়ন এবং সুশাসনে এগিয়ে যায়। তাই বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো উচ্চশিক্ষাকে ব্যয় নয়, বরং ভবিষ্যতের সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর উচ্চশিক্ষার বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। হাতে গোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজ সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭০-এরও বেশি। একইভাবে মেডিকেল কলেজের সংখ্যাও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক অর্জন। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে—আমরা কি সংখ্যার দৌড়ে এগোচ্ছি, নাকি মানের দিক থেকেও সমান অগ্রগতি অর্জন করছি?

বাস্তবতা হলো, উচ্চশিক্ষার পরিমাণগত সম্প্রসারণ এবং গুণগত উৎকর্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক গবেষণাগার, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনী সংস্কৃতি সেই অনুপাতে বিকশিত হয়নি। ফলে এখন সময় এসেছে নতুন প্রতিষ্ঠান নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোকে বিশ্বমানে উন্নীত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় তার বিশাল ক্যাম্পাস, দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য কিংবা বিভাগের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে তার শিক্ষক, গবেষণা, একাডেমিক স্বাধীনতা, জ্ঞানচর্চার পরিবেশ এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সক্ষমতার ওপর। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা শতাব্দীব্যাপী গবেষণা, সৃজনশীল চিন্তা এবং একাডেমিক উৎকর্ষের সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। সেখানে নতুন ভবনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণায় বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যেখানে দক্ষতা রাতারাতি তৈরি হয় না। একজন আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক গড়ে উঠতে দীর্ঘ শিক্ষা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, সম্মেলনে অংশগ্রহণ, গবেষণা তহবিল অর্জন এবং বহু বছরের পাঠদানের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সততা, বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি এবং নিরবচ্ছিন্ন আত্মোন্নয়নের মানসিকতা। ফলে দক্ষ শিক্ষক কোনো দেশেই অগণিত সংখ্যায় পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই বাস্তবতা অনিবার্য।

বাংলাদেশে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ এখনও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম। সীমিত অর্থায়ন, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং পর্যাপ্ত গবেষণা অবকাঠামোর অভাবে অনেক মেধাবী গবেষক তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেন না।

এই কারণেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় বা নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শিক্ষকসংকট। অবকাঠামো নির্মাণ তুলনামূলক সহজ হলেও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষক তৈরি করতে সময় লাগে এক বা দুই দশক। অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো একজন শিক্ষককে নিজের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের বাইরের একাধিক বিষয় পড়াতে হয়। অনেক গবেষণাগারে আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে, গ্রন্থাগারের সংগ্রহ সীমিত, গবেষণা তহবিল অপ্রতুল এবং গবেষণা সহায়ক কাঠামো দুর্বল। ফলে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হলেও তারা প্রত্যাশিত মানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতাও একই বাস্তবতার সাক্ষ্য দেয়। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো বিভাগ আন্তর্জাতিক গবেষণায় সাফল্য অর্জন করলেও অন্য অনেক বিভাগ এখনও শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে পিছিয়ে রয়েছে। যেখানে অভিজ্ঞ শিক্ষক, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেখানেই একাডেমিক উৎকর্ষ এসেছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান নয়, মূল পার্থক্য গড়ে দেয় মানুষ এবং জ্ঞানচর্চার পরিবেশ।

উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রে রয়েছেন শিক্ষক। একজন দক্ষ শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না; তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে শেখান, সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করেন, গবেষণার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেন এবং নতুন জ্ঞান অনুসন্ধানের সাহস জোগান। একটি ভালো শিক্ষকগোষ্ঠী একটি বিভাগের গবেষণা সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে এবং ভবিষ্যৎ গবেষকদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। তাই উচ্চশিক্ষায় অবকাঠামোর চেয়ে মানবসম্পদে বিনিয়োগই অধিক ফলপ্রসূ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারণে গবেষণার ভূমিকা আজ সর্বজনস্বীকৃত। গবেষণার মাধ্যমেই নতুন প্রযুক্তি, নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি, নতুন শিল্পপ্রক্রিয়া এবং নীতিনির্ধারণের নতুন ধারণা জন্ম নেয়। অথচ বাংলাদেশে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ এখনও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম। সীমিত অর্থায়ন, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং পর্যাপ্ত গবেষণা অবকাঠামোর অভাবে অনেক মেধাবী গবেষক তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেন না। অনেকে উচ্চতর গবেষণার জন্য বিদেশে গিয়ে আর দেশে ফিরে আসেন না। এই মেধাপ্রবাহ দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মেডিকেল শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করলেই দক্ষ চিকিৎসক তৈরি হয় না। প্রয়োজন অভিজ্ঞ শিক্ষক, উন্নত হাসপাতালভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক গবেষণাগার, পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা এবং কঠোর একাডেমিক মূল্যায়ন। এসব উপাদানের কোনো একটি দুর্বল হলে তার প্রভাব ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবায় পড়ে। তাই নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের আগে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নই অধিক জরুরি।

আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বাংলাদেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিক তালিকায় স্থান পেলেও গবেষণাপ্রতি উদ্ধৃতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষক, বিদেশি শিক্ষার্থী এবং বৈশ্বিক গবেষণা সহযোগিতার মতো সূচকে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখনও পিছিয়ে। এটি হতাশার কারণ নয়; বরং উন্নয়নের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের আহ্বান।

বিশ্বের সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে স্পষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস কিংবা সুইজারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎকর্ষে বিনিয়োগ করেছে। তারা গবেষণায় বিপুল অর্থায়ন করেছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে, শিল্পখাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে এবং গবেষণার ফলকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশেও এখন নীতিগত পরিবর্তনের সময় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত এবং সরকারের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। গবেষণাকে শুধু প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার বাস্তব সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। গবেষণার ফল যেন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে—সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি। বিদেশি শিক্ষক, যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কে সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানচর্চাকে সমৃদ্ধ করে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই বৈশ্বিক সংযোগ আরও বিস্তৃত করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।

বাংলাদেশেও এখন নীতিগত পরিবর্তনের সময় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত এবং সরকারের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। গবেষণাকে শুধু প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার বাস্তব সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যবিজ্ঞান, বায়োটেকনোলজি, সাইবার নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্র ভবিষ্যতের বিশ্ব অর্থনীতিকে নেতৃত্ব দেবে। এসব ক্ষেত্রে বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার জন্য শুধু নতুন বিভাগ খোলা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আধুনিক গবেষণাগার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সুবিধা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দক্ষ শিক্ষক।

শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নেও নতুন করে গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণা ছুটি, আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ, যৌথ গবেষণা, আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির প্রশিক্ষণ এবং গবেষণাভিত্তিক পদোন্নতির ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে গবেষণা অনুদান, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হয়। সেই অর্থের একটি বড় অংশ যদি বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা তহবিল, আধুনিক গবেষণাগার, ডিজিটাল অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক মানের গ্রন্থাগার এবং শিক্ষক উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হয়, তবে তার দীর্ঘমেয়াদি সুফল অনেক বেশি হবে। উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞতা দেখায়, উচ্চশিক্ষায় গুণগত বিনিয়োগই সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করে।

অবশ্যই প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তবে প্রতিটি জেলায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাই একমাত্র সমাধান নয়। ডিজিটাল শিক্ষা, দূরশিক্ষণ, আঞ্চলিক একাডেমিক কেন্দ্র, ভার্চুয়াল গবেষণাগার এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতার মাধ্যমে কম ব্যয়ে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান সম্ভব।

বাংলাদেশ আজ জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমাদের প্রয়োজন এমন বিশ্ববিদ্যালয়, যেখান থেকে শুধু স্নাতক নয়, বিশ্বমানের গবেষক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, অর্থনীতিবিদ, উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারক তৈরি হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হবে এমন এক জ্ঞানকেন্দ্র, যেখানে গবেষণার ফল শিল্পে পৌঁছাবে, শিল্পের সমস্যা গবেষণার বিষয় হবে এবং সেই জ্ঞান জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।

নীতিনির্ধারকদের সামনে তাই আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সংখ্যার নয়, মানের। একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে দশকের পর দশক সময় লাগে; কিন্তু পরিকল্পনাহীনভাবে একটি দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে সময় লাগে মাত্র কয়েক বছর। তাই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার আগে জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয়তা, সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কঠোর মূল্যায়ন অপরিহার্য।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তার জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার সক্ষমতার ওপর। সেই সক্ষমতার ভিত্তি হবে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, দক্ষ শিক্ষক, শক্তিশালী গবেষণা এবং উদ্ভাবনী সংস্কৃতি। সংখ্যার প্রতিযোগিতা কোনো জাতিকে জ্ঞানসমৃদ্ধ করে না; গুণগত উৎকর্ষই একটি জাতিকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। তাই এখনই সময় উচ্চশিক্ষার অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের—নতুন প্রতিষ্ঠান নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করাই হওয়া উচিত আগামী দিনের সর্বোচ্চ জাতীয় অঙ্গীকার।

  • ড. খালিদুর রহমান: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক
Ad 300x250

সম্পর্কিত