ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক/১০ মিনিটে ১৪ নিষিদ্ধ যান, চলছে উল্টো পথেও
স্ট্রিম সংবাদদাতানারায়ণগঞ্জ
-78ae87-480x270.webp)
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে আইন ভেঙে অবাধে চলছে ইজিবাইক, অটোরিকশা ও লেগুনা। বেশির ভাগ আবার চলে মহাসড়কের সার্ভিস লেন দিয়ে উল্টো পথে। এতে যানজটের পাশাপাশি নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা।
সম্প্রতি এই মহাসড়কে যানের উচ্চগতি এবং অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা। তবে নিষিদ্ধ এসব যান চলাচল বন্ধ হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও যান জব্দ করলেও কয়েক দিন পর সেগুলোকে আবার চলতে দেখা যায়।
মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি ১০ মিনিটে ১০ থেকে ১৪টি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল করছে। অনেকগুলোকে উল্টো পথে যেতেও দেখা যায়।

স্থানীয় আশিকুর রহমান জানান, সড়কের অন্য পাশে যেতে ফুটওভার-ব্রিজ থাকলেও অনেকেই ব্যবহার করতে চান না। একইভাবে চালকরাও উল্টো পথে চলেন। এতে যানজট এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
শিমরাইল মোড় থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত নিয়মিত ইজিবাইক চালান শাওন। তিনি জানান, উল্টো পথে গাড়ি চালানো অনেকটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে।
সাইনবোর্ড এলাকায় অনাবিল পরিবহনের চালক সোহেল বলেন, অনেক সময় এসব গাড়ি বাসের চেয়েও দ্রুতগতিতে চলে। উল্টো দিক থেকে হঠাৎ এমন অটোরিকশা সামনে চলে এলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। যানজটও হয়।
এ সময় উল্টো পথে আসা ইজিবাইকচালক রুবেলের কাছে কারণ জানতে চাইলে বলেন, এটি অপরাধ হলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় অনেকেই এভাবে চালাচ্ছেন।
আরেক অটোরিকশাচালক জানান, মহাসড়কে রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তিনি জানেন। তবে জীবিকার তাগিদে তারা মহাসড়কে আসেন। কারণ, লোকাল রাস্তার চেয়ে মহাসড়কে যাত্রী বেশি।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) জুলহাস উদ্দিন স্ট্রিমকে জানান, মহাসড়কে ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনা চলাচলের অনুমতি নেই। সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত উল্টো পথে চলাচলকারী অটোরিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। গাড়ি জব্দের পাশাপাশি মামলা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, মানুষের চাহিদার কারণে এই এলাকায় অটোরিকশার চলাচল বেশি। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। যাত্রীরা দ্রুত ও সহজে গন্তব্যে পৌঁছাতে এসব যানবাহনে ওঠেন। ফলে চালকেরা মহাসড়কে গাড়ি নিয়ে আসেন।
মহাসড়কে স্থাপিত এআই ক্যামেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব ক্যামেরার কারণে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং দুর্ঘটনা কমেছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। তবে শুধু পুলিশি অভিযান দিয়ে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। চালক ও পথচারীদেরও আইন মেনে চলতে হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান চালানোর পর কিছু দিন নিষিদ্ধ যান চলাচল কমলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এসব চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
.png)






