এক্সপ্লেইনার
মাহজাবিন নাফিসা

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় এক পাশে পর্দা দিয়ে ‘ফিমেল জোন’ তৈরির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা চলছে। কেউ এটিকে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি লিঙ্গ বৈষম্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন—এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া আদৌ ডাকসুর কাজ কি না।
গত ২৩ জুলাই ডাকসুর উদ্যোগে টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় পর্দা টাঙিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বসার জায়গা চালু করা হয়। একই সঙ্গে ক্যাফেটেরিয়ায় নতুন খাবারের মেনুও চালু করা হয়। উদ্বোধন করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফারহাদ।
ডাকসুর কমনরুম, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অনেক নারী শিক্ষার্থী এমন একটি জায়গার দাবি জানিয়েছিলেন, যেখানে তাঁরা চাইলে স্বাচ্ছন্দ্যে বসে খেতে পারবেন। তাঁর ভাষ্য, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া ও কিছু কমনরুমে আগে থেকেই এমন ব্যবস্থা থাকলেও টিএসসিতে ছিল না। তাই সেই প্রয়োজন বিবেচনায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ডাকসু কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নয়। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন। এর মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে তুলে ধরা, ছাত্রকল্যাণে কাজ করা, বিভিন্ন সেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করা ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অনেকেই মনে করেন, ডাকসুর সব সিদ্ধান্ত শুধু ভিপি বা জিএস নেন। বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। ডাকসুতে বিভিন্ন খাতের জন্য আলাদা সম্পাদক রয়েছেন। যেমন—ক্রীড়া, সংস্কৃতি, সাহিত্য, আন্তর্জাতিক বিষয়ক, পরিবহন, ছাত্রকল্যাণ, কমনরুম, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া ইত্যাদি। প্রতিটি সম্পাদক নির্দিষ্ট একটি খাত নিয়ে কাজ করেন। সেই খাতের সমস্যা চিহ্নিত করা, উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করাই তাঁদের দায়িত্বের অংশ।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন কমনরুম, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক। ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এই সম্পাদক কমনরুম, পাঠাগার এবং ক্যাফেটেরিয়াসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করেন। শিক্ষার্থীদের এসব সেবা ব্যবহারে যেসব সমস্যা থাকে, সেগুলো চিহ্নিত করা এবং উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
এ কারণেই ক্যাফেটেরিয়ায় নতুন মেনু চালু করা, খাবারের মান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া, বসার পরিবেশে পরিবর্তন আনা কিংবা ব্যবহারকারীদের সুবিধা বাড়ানোর মতো কাজ এই সম্পাদকীয় দপ্তরের আওতায় পড়তে পারে। সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, ‘ফিমেল জোন’ কি সেই দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে?
যদি কোনো উদ্যোগের উদ্দেশ্য হয় ক্যাফেটেরিয়া ব্যবহারকারী একটি নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করা, তাহলে সেটিকে ক্যাফেটেরিয়া-সংক্রান্ত উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। এ কারণেই ডাকসুর সংশ্লিষ্ট সম্পাদক বলেছেন, নারী শিক্ষার্থীদের চাহিদা বিবেচনা করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ যুক্তির দিক থেকে এটি ক্যাফেটেরিয়া ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি উদ্যোগ।
তবে এখানেই আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ডাকসু কি একাই সব করতে পারে? না। ডাকসু শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ, ভবনের নকশা পরিবর্তন, স্থায়ী সংস্কার বা বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। ডাকসু এসব বিষয়ে প্রস্তাব দিতে পারে, উদ্যোগ নিতে পারে কিংবা সমন্বয় করতে পারে, কিন্তু প্রশাসনিক কর্তৃত্ব তাদের হাতে নেই।

অন্যদিকে, একটি পর্দা টাঙানো, আসনবিন্যাসে পরিবর্তন আনা, নতুন মেনু চালু করা বা সীমিত পরিসরে সেবার ধরনে পরিবর্তন আনার মতো উদ্যোগ অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হয়। টিএসসির ক্ষেত্রেও ডাকসুর পক্ষ থেকে এটিকে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিভিন্ন প্যানেল অতীতে ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের ভর্তুকি বাড়ানো, খাদ্যের মান উন্নয়ন, নতুন ক্যানটিন চালু, শিক্ষার্থীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা এবং কমনরুমের উন্নয়নের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অর্থাৎ ক্যাফেটেরিয়া-সংক্রান্ত উদ্যোগকে ডাকসুর কার্যপরিধির বাইরে হিসেবে কখনো দেখা হয়নি।
টিএসসির ‘ফিমেল জোন’ সামনে এনে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কোন ধরনের উদ্যোগ আগে নেওয়া দরকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ তুলছেন, টিএসসিতে সংস্কার প্রয়োজন এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। টিএসসিতে নারীদের শৌচাগারের অবস্থা খুবই শোচনীয়। সেখানে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিনটিও অকার্যকর। পুশ শাওয়ার ঠিকমতো কাজ করে না, নেই হ্যান্ডওয়াশও। নারী শিক্ষার্থীদের দাবি, এগুলোই ডাকসুর অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা উচিত ছিল। দীর্ঘদিন এই অবস্থা থাকলেও তা নিয়ে ডাকসুকে কাজ করতে দেখা যায়নি। এগুলোর তুলনায় ক্যাফেটেরিয়ায় পর্দা দিয়ে আলাদা জায়গা তৈরি করা তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বলে লিখছেন তারা।
ডাকসু নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ-সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেল থেকে ভিপি পদে নির্বাচন করা আব্দুল কাদের লিখেছেন, ‘ডাকসু নেতৃবৃন্দ নারী শিক্ষার্থীদের যে নিরাপত্তা, মর্যাদা, অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে আলাদা করে পর্দার ঘেরাটোপ বানাচ্ছেন, সেই ডাকসু টিএসসিতে নারীদের ওয়াশরুম বিড়ম্বনা নিয়ে কনসার্ন না। ব্যবহার অনুপযোগী ফিমেল ওয়াশরুম নিয়ে নারী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন থেকে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন, সেই বিড়ম্বনা থেকে তাদেরকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য ডাকসু ততটা আগ্রহের সাথে কাজ করে নাই, যতটা আগ্রহ আর উৎসাহ পর্দাঘেরা ফিমেল জোন নিয়ে করেছে। অথচ নারী শিক্ষার্থীরা টিএসসিতে এসে সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনার শিকার এই ওয়াশরুম ব্যবহার নিয়ে। সেজন্য অনেককেই আজকে প্রশ্ন তুলতে দেখেছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রকৃতি শ্যামলিমা লিখেছেন, ‘কোনো একটা পুশ শাওয়ার ঠিক নাই। হয় পানি আসে না, না হয় ননস্টপ পানি পড়তে থাকে। একটারও ফ্ল্যাশ কাজ করে না। হ্যান্ডওয়াশ কিংবা সাবান থাকার আশা তো বাদই দিলাম। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য একটা ভেন্ডিং মেশিন বসায় রাখছে, ওইটা জীবনে কারও কাজে লাগছে বলে মনে হয় না। … একটা বেসিক হাইজিন ইস্যু নিয়ে কেউ ভাবল না, এদিকে তারা আছে ক্যাফেটেরিয়ায় ‘‘প্রাইভেট ফিমেল জোন’’ তৈরি করতে। ভালোই লাগে এসব দেখতে।’
তবে ডাকসুর সংশ্লিষ্ট সম্পাদক এটিকে ক্যাফেটেরিয়া-সংশ্লিষ্ট একটি সেবামূলক উদ্যোগ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় এক পাশে পর্দা দিয়ে ‘ফিমেল জোন’ তৈরির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা চলছে। কেউ এটিকে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি লিঙ্গ বৈষম্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন—এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া আদৌ ডাকসুর কাজ কি না।
গত ২৩ জুলাই ডাকসুর উদ্যোগে টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় পর্দা টাঙিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বসার জায়গা চালু করা হয়। একই সঙ্গে ক্যাফেটেরিয়ায় নতুন খাবারের মেনুও চালু করা হয়। উদ্বোধন করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফারহাদ।
ডাকসুর কমনরুম, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অনেক নারী শিক্ষার্থী এমন একটি জায়গার দাবি জানিয়েছিলেন, যেখানে তাঁরা চাইলে স্বাচ্ছন্দ্যে বসে খেতে পারবেন। তাঁর ভাষ্য, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া ও কিছু কমনরুমে আগে থেকেই এমন ব্যবস্থা থাকলেও টিএসসিতে ছিল না। তাই সেই প্রয়োজন বিবেচনায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ডাকসু কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নয়। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন। এর মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে তুলে ধরা, ছাত্রকল্যাণে কাজ করা, বিভিন্ন সেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করা ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অনেকেই মনে করেন, ডাকসুর সব সিদ্ধান্ত শুধু ভিপি বা জিএস নেন। বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। ডাকসুতে বিভিন্ন খাতের জন্য আলাদা সম্পাদক রয়েছেন। যেমন—ক্রীড়া, সংস্কৃতি, সাহিত্য, আন্তর্জাতিক বিষয়ক, পরিবহন, ছাত্রকল্যাণ, কমনরুম, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া ইত্যাদি। প্রতিটি সম্পাদক নির্দিষ্ট একটি খাত নিয়ে কাজ করেন। সেই খাতের সমস্যা চিহ্নিত করা, উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করাই তাঁদের দায়িত্বের অংশ।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন কমনরুম, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক। ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এই সম্পাদক কমনরুম, পাঠাগার এবং ক্যাফেটেরিয়াসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করেন। শিক্ষার্থীদের এসব সেবা ব্যবহারে যেসব সমস্যা থাকে, সেগুলো চিহ্নিত করা এবং উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
এ কারণেই ক্যাফেটেরিয়ায় নতুন মেনু চালু করা, খাবারের মান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া, বসার পরিবেশে পরিবর্তন আনা কিংবা ব্যবহারকারীদের সুবিধা বাড়ানোর মতো কাজ এই সম্পাদকীয় দপ্তরের আওতায় পড়তে পারে। সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, ‘ফিমেল জোন’ কি সেই দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে?
যদি কোনো উদ্যোগের উদ্দেশ্য হয় ক্যাফেটেরিয়া ব্যবহারকারী একটি নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করা, তাহলে সেটিকে ক্যাফেটেরিয়া-সংক্রান্ত উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। এ কারণেই ডাকসুর সংশ্লিষ্ট সম্পাদক বলেছেন, নারী শিক্ষার্থীদের চাহিদা বিবেচনা করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ যুক্তির দিক থেকে এটি ক্যাফেটেরিয়া ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি উদ্যোগ।
তবে এখানেই আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ডাকসু কি একাই সব করতে পারে? না। ডাকসু শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ, ভবনের নকশা পরিবর্তন, স্থায়ী সংস্কার বা বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। ডাকসু এসব বিষয়ে প্রস্তাব দিতে পারে, উদ্যোগ নিতে পারে কিংবা সমন্বয় করতে পারে, কিন্তু প্রশাসনিক কর্তৃত্ব তাদের হাতে নেই।

অন্যদিকে, একটি পর্দা টাঙানো, আসনবিন্যাসে পরিবর্তন আনা, নতুন মেনু চালু করা বা সীমিত পরিসরে সেবার ধরনে পরিবর্তন আনার মতো উদ্যোগ অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হয়। টিএসসির ক্ষেত্রেও ডাকসুর পক্ষ থেকে এটিকে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিভিন্ন প্যানেল অতীতে ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের ভর্তুকি বাড়ানো, খাদ্যের মান উন্নয়ন, নতুন ক্যানটিন চালু, শিক্ষার্থীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা এবং কমনরুমের উন্নয়নের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অর্থাৎ ক্যাফেটেরিয়া-সংক্রান্ত উদ্যোগকে ডাকসুর কার্যপরিধির বাইরে হিসেবে কখনো দেখা হয়নি।
টিএসসির ‘ফিমেল জোন’ সামনে এনে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কোন ধরনের উদ্যোগ আগে নেওয়া দরকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ তুলছেন, টিএসসিতে সংস্কার প্রয়োজন এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। টিএসসিতে নারীদের শৌচাগারের অবস্থা খুবই শোচনীয়। সেখানে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিনটিও অকার্যকর। পুশ শাওয়ার ঠিকমতো কাজ করে না, নেই হ্যান্ডওয়াশও। নারী শিক্ষার্থীদের দাবি, এগুলোই ডাকসুর অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা উচিত ছিল। দীর্ঘদিন এই অবস্থা থাকলেও তা নিয়ে ডাকসুকে কাজ করতে দেখা যায়নি। এগুলোর তুলনায় ক্যাফেটেরিয়ায় পর্দা দিয়ে আলাদা জায়গা তৈরি করা তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বলে লিখছেন তারা।
ডাকসু নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ-সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেল থেকে ভিপি পদে নির্বাচন করা আব্দুল কাদের লিখেছেন, ‘ডাকসু নেতৃবৃন্দ নারী শিক্ষার্থীদের যে নিরাপত্তা, মর্যাদা, অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে আলাদা করে পর্দার ঘেরাটোপ বানাচ্ছেন, সেই ডাকসু টিএসসিতে নারীদের ওয়াশরুম বিড়ম্বনা নিয়ে কনসার্ন না। ব্যবহার অনুপযোগী ফিমেল ওয়াশরুম নিয়ে নারী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন থেকে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন, সেই বিড়ম্বনা থেকে তাদেরকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য ডাকসু ততটা আগ্রহের সাথে কাজ করে নাই, যতটা আগ্রহ আর উৎসাহ পর্দাঘেরা ফিমেল জোন নিয়ে করেছে। অথচ নারী শিক্ষার্থীরা টিএসসিতে এসে সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনার শিকার এই ওয়াশরুম ব্যবহার নিয়ে। সেজন্য অনেককেই আজকে প্রশ্ন তুলতে দেখেছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রকৃতি শ্যামলিমা লিখেছেন, ‘কোনো একটা পুশ শাওয়ার ঠিক নাই। হয় পানি আসে না, না হয় ননস্টপ পানি পড়তে থাকে। একটারও ফ্ল্যাশ কাজ করে না। হ্যান্ডওয়াশ কিংবা সাবান থাকার আশা তো বাদই দিলাম। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য একটা ভেন্ডিং মেশিন বসায় রাখছে, ওইটা জীবনে কারও কাজে লাগছে বলে মনে হয় না। … একটা বেসিক হাইজিন ইস্যু নিয়ে কেউ ভাবল না, এদিকে তারা আছে ক্যাফেটেরিয়ায় ‘‘প্রাইভেট ফিমেল জোন’’ তৈরি করতে। ভালোই লাগে এসব দেখতে।’
তবে ডাকসুর সংশ্লিষ্ট সম্পাদক এটিকে ক্যাফেটেরিয়া-সংশ্লিষ্ট একটি সেবামূলক উদ্যোগ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন।
.png)

‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে, দূর অজানায় চায় হারাতে...!’ সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই গানের সুরে তৈরি একটি ছোট্ট ভিডিও মুহূর্তেই লাখো মানুষের টাইমলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ছিল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের।
২ ঘণ্টা আগে
টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেল! সম্প্রতি পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (ইএসডিও) এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বাজারে পরিচিত ব্র্যান্ডের টুথপেস্টের চারটির মধ্যে তিনটিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। মোট ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানে ২৬টিতেই অর্থাৎ ৭৭ শতাংশ
৬ ঘণ্টা আগে
ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হয়েছে ভয়াবহ দাবানল। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে দুই দেশে ছড়িয়ে পড়া আগুনে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে বোর্দো এলাকার আশপাশে আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে
২৬ জুলাই ২০২৬
এক সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জ্বালানি শক্তি ছিল প্রাকৃতিক গ্যাস। বিদ্যুৎকেন্দ্র, কলকারখানা, সিএনজি, এমনকি রান্নার চুলাও অনেকটাই চলত দেশে উৎপাদিত গ্যাসে। কিন্তু এখন চিত্রটা উল্টো। রাজধানী থেকে শিল্পাঞ্চল—সবখানেই কমবেশি গ্যাসের চাপ কম, কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সরবরাহ থাকে না, আবার কোথাও উৎপাদন কমিয়ে দ
২৬ জুলাই ২০২৬