বাংলা স্ট্রিম

শতাব্দীকা ঊর্মি
চারদিকে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, তখনও ঋতুর নির্ভার নিয়মে চলে আসে বুদ্ধ পূর্ণিমা। একটা ট্রাজেডি দিয়েই বুদ্ধকে স্মরণ করি চলুন। বুদ্ধ সারাজীবন শান্তির বাণী বহন করলেন, করুণা আর অহিংসার পথ দেখালেন, অথচ তাঁর নামেই হলো পরমাণু বোমার নাম, ‘স্মাইলিং বুদ্ধা’। ১৯৭৪ সালের ১৮ মে ভারতের প্রথম সফল পারমাণবিক বোমার কোড নাম ছিল এটা। এক পক্ষ দেখালো শক্তি, অন্য পক্ষ শঙ্কিত হলো ধ্বংসের শঙ্কায়। কিন্তু ইতিহাসের এই আইরনির মাঝে কোথায় যেন লুকিয়ে রইল এক অনুচ্চারিত প্রশ্ন, বুদ্ধ কি জানতেন? তাঁর নামেও গর্জে উঠবে যুদ্ধের অগ্নিবীজ?
যুদ্ধ আর শান্তির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকেন মহামতি বুদ্ধ। তিনি জানেন, যুদ্ধ আসে, যুদ্ধ যায়। বিজয়ী আর বিজিতের চেহারা পাল্টায়, কিন্তু হৃদয়ের মধ্যে যে অশান্তি, যে লোভ, যে ক্রোধ—তার রূপ তেমনই থেকে যায়। তাই বুদ্ধ হয়ে থাকেন অন্তরের বিপ্লবের নেতা।
আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫৬৬ সালে, কপিলাবস্তুর অদূরে লুম্বিনী বাগানে জন্মেছিলেন এক রাজকুমার। নাম রাখা হলো সিদ্ধার্থ। অর্থ ‘যার সব কামনা পূর্ণ হয়েছে।’ শাক্য বংশের রাজা শুদ্ধোধন ও রানি মায়াদেবীর সন্তান তিনি।
তাঁর বাল্যকাল কাটলো বিলাস আর সুরক্ষার গণ্ডিতে। প্রাসাদের চার দেওয়ালের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হলো জরা, ব্যাধি, মৃত্যু—জীবনের সত্য। কিন্তু নিয়তি থেমে থাকে না। একদিন তাঁর মনে হলো ‘সবকিছু যদি ক্ষয়িষ্ণু হয়, তবে সুখ কোথায়?’
সেই প্রশ্নই তাঁকে এক ভরা পূর্ণিমায় করলো গৃহত্যাগী। ২৯ বছর বয়সে এক রাতে স্ত্রী যশোধরা আর ছোট্ট ছেলে রাহুলকে ছেড়ে চুপিচুপি প্রাসাদ ছাড়লেন। কেবল একটি লক্ষ্য- দুঃখ-মুক্তির পথ খোঁজা।
ছয় বছর করলেন কঠোর তপস্যা, উপবাস, ধ্যান। উরুবিলার (বর্তমান বোধগয়া) বোধিবৃক্ষের তলায় গভীর ধ্যানে বসে এক পূর্ণিমার রাতে বোধিলাভ। সিদ্ধার্থ থেকে তিনি হয়ে গেলেন বুদ্ধ।
বোধিপ্রাপ্তির পর চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি পথে পথে হেঁটেছেন—রাজপ্রাসাদ থেকে গ্রাম, নগর, অরণ্য। রাজা থেকে চণ্ডাল, নারী থেকে সম্রাট—সবাইকে শিখিয়েছেন, ‘আপনিই নিজের প্রদীপ, আপনিই নিজের আশ্রয়।’
বুদ্ধ বলেছিলেন পৃথিবী দুঃখের কারখানা। কিন্তু দেখিয়েছিলেন মুক্তির পথ, নির্বাণের পথ।
৮০ বছর বয়সে কুশিনগরে শেষ উপদেশ, ‘সব বস্তুই নশ্বর। নিজের মুক্তির জন্য পরিশ্রম করো।’ তারপর পেলেন মহানির্বাণ। তাঁর নিথর দেহের চারপাশে ছিল শিষ্যরা, শোক নয়, ছিল কৃতজ্ঞতা। কারণ তিনি জানিয়ে গিয়েছেন অমৃত বাণী—যা আজও বয়ে চলে কালের স্রোতে।
যুদ্ধের দামামা থেমে যায়, শান্তির পতাকা উড়তে উড়তে মলিন হয়, কিন্তু বুদ্ধের বাণী রয়ে যায় সময়ের ওপারে, অন্তরাত্মার ভেতরে। আজও যখন রক্তের দাগে পৃথিবীর মানচিত্র আঁকা হয় বুকের ভেতর বেজে ওঠে বুদ্ধের বাণী। চলমান ভারত পাকিস্তান সংঘাতের মধ্যে বুদ্ধের এই জন্মলগ্নে তাই প্রাসঙ্গিক হয় তাঁর মহান বাণী- ঘৃণার বিপরীতে ভালোবাসাই অন্যতম উত্তর।

শতাব্দীকা ঊর্মি
চারদিকে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, তখনও ঋতুর নির্ভার নিয়মে চলে আসে বুদ্ধ পূর্ণিমা। একটা ট্রাজেডি দিয়েই বুদ্ধকে স্মরণ করি চলুন। বুদ্ধ সারাজীবন শান্তির বাণী বহন করলেন, করুণা আর অহিংসার পথ দেখালেন, অথচ তাঁর নামেই হলো পরমাণু বোমার নাম, ‘স্মাইলিং বুদ্ধা’। ১৯৭৪ সালের ১৮ মে ভারতের প্রথম সফল পারমাণবিক বোমার কোড নাম ছিল এটা। এক পক্ষ দেখালো শক্তি, অন্য পক্ষ শঙ্কিত হলো ধ্বংসের শঙ্কায়। কিন্তু ইতিহাসের এই আইরনির মাঝে কোথায় যেন লুকিয়ে রইল এক অনুচ্চারিত প্রশ্ন, বুদ্ধ কি জানতেন? তাঁর নামেও গর্জে উঠবে যুদ্ধের অগ্নিবীজ?
যুদ্ধ আর শান্তির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকেন মহামতি বুদ্ধ। তিনি জানেন, যুদ্ধ আসে, যুদ্ধ যায়। বিজয়ী আর বিজিতের চেহারা পাল্টায়, কিন্তু হৃদয়ের মধ্যে যে অশান্তি, যে লোভ, যে ক্রোধ—তার রূপ তেমনই থেকে যায়। তাই বুদ্ধ হয়ে থাকেন অন্তরের বিপ্লবের নেতা।
আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫৬৬ সালে, কপিলাবস্তুর অদূরে লুম্বিনী বাগানে জন্মেছিলেন এক রাজকুমার। নাম রাখা হলো সিদ্ধার্থ। অর্থ ‘যার সব কামনা পূর্ণ হয়েছে।’ শাক্য বংশের রাজা শুদ্ধোধন ও রানি মায়াদেবীর সন্তান তিনি।
তাঁর বাল্যকাল কাটলো বিলাস আর সুরক্ষার গণ্ডিতে। প্রাসাদের চার দেওয়ালের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হলো জরা, ব্যাধি, মৃত্যু—জীবনের সত্য। কিন্তু নিয়তি থেমে থাকে না। একদিন তাঁর মনে হলো ‘সবকিছু যদি ক্ষয়িষ্ণু হয়, তবে সুখ কোথায়?’
সেই প্রশ্নই তাঁকে এক ভরা পূর্ণিমায় করলো গৃহত্যাগী। ২৯ বছর বয়সে এক রাতে স্ত্রী যশোধরা আর ছোট্ট ছেলে রাহুলকে ছেড়ে চুপিচুপি প্রাসাদ ছাড়লেন। কেবল একটি লক্ষ্য- দুঃখ-মুক্তির পথ খোঁজা।
ছয় বছর করলেন কঠোর তপস্যা, উপবাস, ধ্যান। উরুবিলার (বর্তমান বোধগয়া) বোধিবৃক্ষের তলায় গভীর ধ্যানে বসে এক পূর্ণিমার রাতে বোধিলাভ। সিদ্ধার্থ থেকে তিনি হয়ে গেলেন বুদ্ধ।
বোধিপ্রাপ্তির পর চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি পথে পথে হেঁটেছেন—রাজপ্রাসাদ থেকে গ্রাম, নগর, অরণ্য। রাজা থেকে চণ্ডাল, নারী থেকে সম্রাট—সবাইকে শিখিয়েছেন, ‘আপনিই নিজের প্রদীপ, আপনিই নিজের আশ্রয়।’
বুদ্ধ বলেছিলেন পৃথিবী দুঃখের কারখানা। কিন্তু দেখিয়েছিলেন মুক্তির পথ, নির্বাণের পথ।
৮০ বছর বয়সে কুশিনগরে শেষ উপদেশ, ‘সব বস্তুই নশ্বর। নিজের মুক্তির জন্য পরিশ্রম করো।’ তারপর পেলেন মহানির্বাণ। তাঁর নিথর দেহের চারপাশে ছিল শিষ্যরা, শোক নয়, ছিল কৃতজ্ঞতা। কারণ তিনি জানিয়ে গিয়েছেন অমৃত বাণী—যা আজও বয়ে চলে কালের স্রোতে।
যুদ্ধের দামামা থেমে যায়, শান্তির পতাকা উড়তে উড়তে মলিন হয়, কিন্তু বুদ্ধের বাণী রয়ে যায় সময়ের ওপারে, অন্তরাত্মার ভেতরে। আজও যখন রক্তের দাগে পৃথিবীর মানচিত্র আঁকা হয় বুকের ভেতর বেজে ওঠে বুদ্ধের বাণী। চলমান ভারত পাকিস্তান সংঘাতের মধ্যে বুদ্ধের এই জন্মলগ্নে তাই প্রাসঙ্গিক হয় তাঁর মহান বাণী- ঘৃণার বিপরীতে ভালোবাসাই অন্যতম উত্তর।

কয়েক মিনিটের কাজ। অথচ দেখা যায়, ঘড়ির কাঁটা একের পর এক ঘর পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাজটা আর করা হয়ে উঠছে না। জানি কী করতে হবে, জানি সময়ও লাগবে না। তবু কাজটা পড়ে থাকে। এই ‘পরে করব সিনড্রোম’ কি কোনো রোগ? কেন কয়েক মিনিটের কাজও আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রাখি?
৯ ঘণ্টা আগে
ফিল্টার তৈরি করে এক ধরনের পারফেক্ট জীবনের ভ্রম, ফোমো মানসিক চাপ ও তুলনার জন্ম দেয়, আর ফিউশন বিভিন্ন দেশ–সংস্কৃতিকে মিশিয়ে নতুন হাইব্রিড কালচার তৈরি করে। এই তিনটি মিলেই সোশ্যাল মিডিয়ার সাংস্কৃতিক প্রভাবকে গড়ে তুলছে।
১০ ঘণ্টা আগে
মাইক্রোসফটের তৈরি এক্সেলের বয়স এখন ৪০ বছর। এখন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এক্সেল এখন অনেক ক্ষেত্রে কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। কারো মতে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে এক্সেল যে এখনও কতটা জনপ্রিয়, তা বোঝা যায় পরিসংখ্যানেই।
১৩ ঘণ্টা আগে
ভালো ছবি মানেই শুধু দামি ক্যামেরা বা স্মার্টফোন নয়। ছবিতে কোথায় কী রাখবেন, কী বাদ দেবেন, আলো–ছায়া আর ফ্রেম কীভাবে কাজ করবে, এই সিদ্ধান্তগুলোর নামই কম্পোজিশন। একটু ভাবনা আর কিছু সহজ নিয়ম জানলে সাধারণ দৃশ্যও হয়ে উঠতে পারে চোখে পড়ার মতো ছবি। এই লেখায় থাকছে ফটোগ্রাফি কম্পোজিশনের সহজ কৌশল।
১ দিন আগে