জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বইমেলার বিশ্ব মানচিত্র: কোন দেশে কখন বসে বইয়ের হাট

প্রতিবারের মত এবারও পর্দা উঠল অমর একুশে বইমেলার। বছরের এই সময়টার জন্য বইপ্রেমীরা উন্মুখ হয়ে থাকেন, যাতে নতুন বইয়ের ঘ্রাণে সারা বছর কাটিয়ে দেওয়া যায়। তবে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই বিভিন্ন সময় লেখক, পাঠক আর প্রকাশকদের মিলনমেলা বসে। চলুন জেনে নিই বিশ্বের এমন কিছু নামকরা বইমেলার গল্প।

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭: ০১
একনজরে পৃথিবীর বিখ্যাত সব বইমেলা। এআই জেনারেটেড ছবি

প্রতিবারের মত এবারও পর্দা উঠল অমর একুশে বইমেলার। বছরের এই সময়টার জন্য বইপ্রেমীরা উন্মুখ হয়ে থাকেন, যাতে নতুন বইয়ের ঘ্রাণে সারা বছর কাটিয়ে দেওয়া যায়। তবে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই বিভিন্ন সময় লেখক, পাঠক আর প্রকাশকদের মিলনমেলা বসে। চলুন জেনে নিই বিশ্বের এমন কিছু নামকরা বইমেলার গল্প।

ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা

অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বিবেচনায় এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বইমেলা। গুটেনবার্গ ছাপাখানা আবিষ্কারের কয়েক বছরের মাথায় ১৪৫৪ সালে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলাটি শুরু হয়। তবে বইমেলাটির আধুনিক সংস্করণ শুরু হয় ১৯৪৯ সালে।

প্রতি বছর অক্টোবর মাসে প্রায় ৫ দিন ধরে এই মেলা চলে। এখানে ১০০টিরও বেশি দেশের ৭ হাজারের বেশি প্রকাশনী অংশ নেয়। এটি মূলত আন্তর্জাতিক বইয়ের স্বত্ব কেনাবেচা এবং লাইসেন্স চুক্তির বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্র।

পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলার প্রথম তিন দিন পেশাদারদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও, শেষের দুই দিন তা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেসময়টায় খুচরা বইও বিক্রি চলে।

ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা। সংগৃহীত ছবি
ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা। সংগৃহীত ছবি

বুক এক্সপো আমেরিকা (বিইএ)

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বার্ষিক বইমেলা ‘বুক এক্সপো আমেরিকা’ বা বিইএ-এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি নির্দিষ্ট কোনো শহরে হয় না। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যটিই মেলাটিকে অন্য সাধারণ মেলার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

১৯৪৭ সালের বাণিজ্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই মেলার সূচনা হয়। প্রতিবছর মেলাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ঘুরে ঘুরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চার দিনব্যাপী এই মেলা সাধারণত গ্রীষ্মের শুরুতে আমেরিকার কোনো প্রধান শহরে বসে। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকদের এক ছাদের নিচে আনা এই মেলার মূল লক্ষ্য।

যদিও ২০১৯ সালের পর এই মেলা বন্ধ হয়ে গেছে। ২০২০ সালে বাতিল হয়, এরপর আর নিয়মিত আয়োজন হয়নি।

লন্ডন বইমেলা

প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী লন্ডন বইমেলা। প্রতি বছর এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত অলিম্পিয়া প্রদর্শনী কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী বসে লন্ডন বইমেলার জমকালো আসর।

বিশ্বের প্রায় ৬০টিরও বেশি দেশের প্রকাশক, সাহিত্যিক এবং এজেন্টরা এই মেলায় অংশ নেন। শুরুতে এর উদ্দেশ্য ছিল কেবল ছোট ও নতুন প্রকাশকদের কাজ তুলে ধরার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। কিন্তু বর্তমানে এটি ইউরোপের বুকে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার পরেই অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক আয়োজনে পরিণত হয়েছে। বেশ কয়েকবার স্থান পরিবর্তনের পর গত কয়েক বছর ধরে এটি লন্ডনের ঐতিহাসিক অলিম্পিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

লন্ডন বইমেল। সংগৃহীত লেখা
লন্ডন বইমেল। সংগৃহীত লেখা

গুয়াদালাজারা আন্তর্জাতিক বইমেলা

মেক্সিকোর শহর গুয়াদালাজারায় অনুষ্ঠিত এই মেলাটি মূলত স্প্যানিশ ভাষার প্রকাশনা জগতের প্রধান উৎসব। ১৯৮৭ সাল থেকে প্রতি বছর গুয়াদালাজারা বিশ্ববিদ্যালয় এই মেলার আয়োজন করে আসছে।

প্রায় ৪০,০০০ বর্গমিটার জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই মেলাটি সাধারণত নভেম্বরের শেষের দিকে শুরু হয়ে ৯ দিনব্যাপী স্থায়ী হয়। এই মেলাটি প্রকাশনা জগতের পেশাদারদের জন্য যেমন একটি বাণিজ্যিক পরিবেশ তৈরি করে, তেমনি পাঠকদেরও এক অনন্য অভিজ্ঞতা উপহার দেয়।

নয়াদিল্লি বিশ্ব বইমেলা

কলকাতার পর ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম বইমেলা হলো ‘নয়াদিল্লি বিশ্ব বইমেলা’। ১৯৭২ সালে মাত্র ২০০ জন অংশগ্রহণকারী নিয়ে শুরু হওয়া এই মেলায় বর্তমানে প্রতি বছর এক হাজারের বেশি প্রকাশক অংশ নেন।

ভারতের ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট আয়োজিত এই মেলা বছরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হয়। নয়াদিল্লী বিশ্ব বইমেলা ভারতের দেশীয় প্রকাশনা জগতের জন্য এক বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

মেক্সিকোর শহর গুয়াদালাজারায় অনুষ্ঠিত এই মেলাটি মূলত স্প্যানিশ ভাষার প্রকাশনা জগতের প্রধান উৎসব। ১৯৮৭ সাল থেকে প্রতি বছর গুয়াদালাজারা বিশ্ববিদ্যালয় এই মেলার আয়োজন করে আসছে।

অন্তত ১৮টি ভাষায় কাজ করা প্রকাশক এই বইমেলায় তাঁদের বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেন। এসব বই কিনতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন বই ও সাহিত্যপ্রেমী দর্শনার্থীরা।

আবুধাবি আন্তর্জাতিক বইমেলা

আরব বিশ্বের সাহিত্য ও ঐতিহ্য রক্ষার্থে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে প্রকাশনা জগতের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আবুধাবি আন্তর্জাতিক বইমেলার আয়োজন করা হয়।

ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলাটি এখন আরব ভাষা, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকান প্রকাশকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বইয়ের স্বত্ব কেনাবেচা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই মেলা ক্রমশই তার গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলছে।

হংকং বইমেলা

১৯৯০ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হংকং বইমেলা বর্তমানে এশিয়ার সর্ববৃহৎ বইমেলাগুলোর একটি। হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল আয়োজিত এই মেলা সাধারণত জুলাই মাসে বসে। এর মূল লক্ষ্য হংকংয়ের সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপী প্রচার।

তবে এই মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এখানে শুধু সাহিত্যই নয়, প্রকাশনা জগতের সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহারও বিশেষভাবে স্থান পায়। দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত আয়োজনেও অংশ নিতে পারেন।

তেহরান বইমেলা

তেহরানের ইমাম খোমেনি মসজিদ চত্বরে অনুষ্ঠিত এই বইমেলাটি ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন। মেলাটির স্থায়িত্বকাল ১০ দিন। অনুষ্ঠিত হয় মে মাসে। দেশি-বিদেশি প্রায় দুই হাজার প্রকাশক মেলাটিতে অংশ নেন।

ইসলামি সাহিত্য, ধর্মীয় গবেষণা ও ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের বই বেশি প্রাধান্য পায়। তবে শিশুতোষ, প্রযুক্তি ও আধুনিক সাহিত্যের বইয়েরও উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

সাহিত্যিক অনুষ্ঠান, আলাপচারিতা ও কবিতা পাঠ বইমেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

সম্পর্কিত