সিএনএনের প্রতিবেদন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধের নেপথ্যে আলোচনা না অস্ত্র সংকট

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২: ১৯
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন (ডান থেকে)। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে টানা ১৫ রাতে হামলা চালানোর পর থেমেছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্য ছিল, ‘সন্তুষ্ট’ না হওয়া পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাওয়ার। এখন হঠাৎ হামলা বন্ধের পর কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

অবগত সূত্র ও মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সমঝোতা সত্ত্বেও ইরানে দ্বিতীয় দফায় চালানো এই হামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে বসেছিলেন ট্রাম্পসহ ঊর্ধ্বতনরা। সেখানে ইরানে বড় পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর আলোচনা ওঠে। তবে এ সময় যুদ্ধ বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, বৈঠকে জেনারেল কেইনের অন্যতম উদ্বেগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত কমে আসা এবং এর সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি।

তিনি ট্রাম্প ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের বলেন, সামনে থাকা সামরিক বিকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সেগুলো সফলও হতে পারে। তবে এর সঙ্গে সম্ভাব্য পরিণতি (অস্ত্রের মজুত) সম্পর্কে ভাবতে হবে।

ওই বৈঠকের আগ দিয়ে ইরানে দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিরাতে হামলা চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স) সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, অভিযানগুলো বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

এরপর হামলা বন্ধের পেছনে কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময়ই বলে এসেছেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তাহলে তিনি সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখবেন।

তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তাঁদের অর্থনীতিকে দুর্বল করে ফেলেছে। তাঁদের আগ্রাসনের জবাবে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১৫ দিনের হামলার পর ইরানের উচিত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতার দিকে এগিয়ে যাওয়া। অন্যথায় তারা জানে কী ঘটবে।

এই উদ্বেগের বিষয়টি এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সিএনএন এর আগে জানিয়েছিল, ইরানে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে এসব অস্ত্রের মজুতের ওপর আরও চাপ পড়তে পারে।

শুক্রবার শীর্ষ উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্পও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথাই বলেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি এও বলেন, সামরিক বাহিনী চাইলে বোমা হামলা চালিয়ে যেতে পারে, এমনকি ‘আরও জোরালো মাত্রায়’ হামলা হতে পারে। তাঁর দাবি, চলমান আলোচনায় ইরান আরও আন্তরিক হয়ে উঠছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেল পর্যন্তও সম্ভাব্য যুদ্ধের বিস্তার কেমন হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

সূত্রটির মতে, সাম্প্রতিক আলোচনায় উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সংযম হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে তারা এটাও স্বীকার করেছে, প্রয়োজন হলে সংঘাত আরও বাড়ানোর মতো সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।

এ সপ্তাহে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার কথা বিবেচনা করার কথা বললেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর আলোচকদের ‘আলোচনা চালিয়ে যেতে’ নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে আরেকটি সূত্র জানায়। এতে বোঝা যায়, স্থলবাহিনী মোতায়েন না করে সীমিত সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর বাস্তবতা নিয়ে তিনি ভাবছিলেন।

একাধিক সূত্রের মতে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল কিংবা পেন্টাগনের ভেতরে খুব কম মানুষই বিশ্বাস করতেন, যুদ্ধ আরও বাড়ানোর জন্য প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা বিকল্পগুলো তাঁর প্রত্যাশিত ফল এনে দিতে পারবে।

সিএনএন এর আগে আরও জানিয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর আগে জেনারেল কেইন ও অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের মজুতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে সিএনএনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী। প্রেসিডেন্ট যে সময় ও স্থানে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য তাদের যা প্রয়োজন, সবই তাদের রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিভিন্ন কমব্যাট্যান্ট কমান্ডে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেছি। একই সঙ্গে আমরা নিশ্চিত করেছি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে আমাদের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতার শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত