মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সকল পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার আদালত শুল্ক বাতিলের পর যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানোর কথা জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি জানান, আগে কখনও ব্যবহার না করা একটি বাণিজ্য আইনের আওতায় তিনি এই হার বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ করবেন।
১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২-এর অধীনে এই শুল্ক প্রায় পাঁচ মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর এটি চালু রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।
ট্রাম্পের ঘোষিত ১০ শতাংশ শুল্ক মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ১৫ শতাংশ শুল্কও একই দিন থেকে কার্যকর হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এই নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর জন্য প্রশ্ন তৈরি করেছে, কারণ তারা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১০ শতাংশ শুল্কের চুক্তি করেছিল।
এর আগে, ৬–৩ ভোটে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, ট্রাম্প গত বছর ১৯৭৭ সালের একটি আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করে তাঁর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। ওই আইনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে অন্তত ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করেছে।
রায়ের পর ট্রাম্প আদালতের বিচারকদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তবে তার শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর অংশ বলেই তিনি দাবি করেন।
বিবিসি আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৪ সালের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
নতুন ১৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় অধিকাংশ পণ্যের ওপর কর দিতে হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ধাতু ও ওষুধের মতো কিছু পণ্য ছাড় পাবে। ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ ও গাড়ির ওপর আগের শুল্ক বহাল থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈধভাবে আদায় করা শুল্ক ফেরতের দাবি জানাতে পারবে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনি লড়াই হতে পারে।
ইউরোপীয় নেতারা শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তাকে ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাজ্য বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বিশেষ বাণিজ্য সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা করছে।