স্ট্রিম ডেস্ক

ইরানের ১৩তম দিনের মতো চলছে সরকার বিরোধী আন্দোলন। ইরানি রিয়ালের বিনিময় মান কমা ও গভীর অর্থনৈতিক সংকটের জেরে প্রথমে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নেমেছিল। সেই আন্দোলনে পরে যোগ দেয় সাধারণ মানুষসহ নানা পেশার মানুষ। যোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। এরই মধ্যে আন্দোলন দমাতে নানান উদ্যোগ নিয়েছিল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অধীনস্ত ইরান সরকার। কিন্তু কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না।
প্রথমদিকে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও ধীরে ধীরে তা সহিংস হয়ে উঠছে। সরকারি বাহিনীও দমন-পীড়ন আর মারমুখি হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বিরোধী দলের একাংশ ও রাজতন্ত্রের উত্তরসূরি স্বঘোষিত যুবরাজ রেজা শাহ পাহলভি গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নিজের সমর্থকদের রাস্তায় নামার ডাক দেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে গতকাল কুর্দিদের কয়েকটি গোষ্ঠী ইতোমধ্যে আন্দোলনে নেমেছে। এতে আন্দোলনে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। তাই গতকাল আন্দোলনের ১২তম দিন ছিল সবচেয়ে ব্যাপক বিস্তৃত। ইরানের সবগুলো প্রদেশে ইতোমধ্যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
গতকাল বিক্ষোভকারীরা সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। আর সরকার আন্দোলন দমাতে দমন-পীড়নের পাশাপাশি দেশব্যাপী ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। অনলাইন পর্যবেক্ষ সংস্থা নেটব্লকসও নিশ্চিত করেছে, গতকাল ইরানজুড়ে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন ছিল।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, বিবিসি ও গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানে বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েকশ বিক্ষোভকারী। আর আটক করা হয়েছে দুই হাজারের উপরে বিক্ষোভকারীকে। রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি কওম, ইসপাহান, বন্দর আব্বাস, মাশহাদ, ফারুদিস ও বজনুর্দে ব্যাপাকভাবে বিক্ষোভ চলছে। সরকারি হিসাবে অবশ্য নিহতের সংখ্যা অর্ধেকের কথা বলা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুই সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তবে প্রায় প্রতিটি সংবাদমাধ্যমই বলছে, তারা স্বতন্ত্রভাবে টেলিভিশন ভবনে আগুন ও দেশব্যাপী ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নের খবর যাছাই করতে পারেনি

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে আক্রমণ চালাতে প্রস্তুত। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান বিক্ষোভ মোকাবিলায় ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালানো বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নিপীড়ন চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ চালাতে পুরোপুরি প্রস্তুত আছে।
এর আগেও তিনি একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। গত বছরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় আক্রমণ করেছিল।
বৃহস্পতিবার পশ্চিমা অন্যান্য দেশের মতো জার্মানিও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর বলপ্রয়োহগের’ নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বিদেশিদের দ্বারা প্রভাবিত ‘আন্দোলনকারীদের’ গ্রেপ্তার এবং চোরাচালানকৃত অস্ত্র জব্দ করার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, এক এক্স পোস্টে বলা হয়েছে, ইরানে গণহত্যা! প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, অর্ধশতাধিক সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ফারদিস শহরে একটি টয়োটায় করে মেশিন গান আনার পর ইসলামী শাসকদের নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি শুরু করে।
সোশ্যাল মিডিয়ার আরেক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ফার্স প্রদেশে বিপ্লবী গার্ডদের একটি স্থাপনা বিক্ষোকারীরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। যদিও এসব তথ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি গালফ নিউজ।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্বীকার করেছেন দেশে অর্থনৈতিক সংকট রয়েছে। তবে এও অভিযোগ করেছেন, বাইরের শক্তির উসকানির কারণেই এই বিক্ষোভ হচ্ছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ থাকার হুমকির মুখে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়ে তেহরান জানিয়েছে, তারা আগে আক্রান্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকবে না বরং যেকোনো সময় পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। ইরানের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর আঘাতকে তারা রেড লাইন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেকোনো আক্রমণ বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে তারা কঠোর ও ভারসাম্যপূর্ণ পাল্টা ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, বুধবার দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা রাজপথে নেমে আসেন। নরওয়েভিত্তিক সংস্থা আইএইচআর-এর প্রকাশিত ভিডিওতে উত্তর-পূর্বের শহর বোজনুর্দে উত্তাল জনতাকে ‘অপমানের চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।

অন্যদিকে, ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম দাবি করেছে, বিক্ষোভের সুযোগে একদল দাঙ্গাকারী একটি মসজিদ ও ধর্মীয় বই বিক্রির দোকান ভাঙচুর চালিয়েছে। এছাড়া রাজধানীর শেমিরান এলাকায় ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে রাজপথ।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বিক্ষোভ দমনে সংযম প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়েমপানাহ এক ভিডিও বার্তায় জানান, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো শক্তি প্রয়োগ না করার ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যারা সশস্ত্র অবস্থায় রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা চালায়, তারা বিক্ষোভকারী নয় বরং দাঙ্গাকারী এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানি সেনাবাহিনীর কমান্ডার এবং অন্যতম শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল আমির হাতামি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরান বাইরের কোনো হুমকি ‘জবাব ছাড়া’ মেনে নেবে না।
হাতামি বলেন, ‘শত্রুরা যদি কোনো ভুল করে’, তবে ইরানের পাল্টা জবাব গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও কঠোর হবে।
ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে হস্তক্ষেপ করবে—ট্রাম্পের এমন হুমকির পাশাপাশি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বিক্ষোভকারীদের প্রতি তাঁর সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় নেতানিয়াহু বলেন, আমরা ইরানি জনগণের সংগ্রাম এবং তাদের মুক্তি ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার পাশে আছি।
ইরাকভিত্তিক ইরানের সাতটি কুর্দি বিরোধী দল বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে সাধারণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। কোমালা পার্টির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইরাকের কুর্দিস্তানে নির্বাসিত বিচ্ছিন্নতাবাদী কোমালা পার্টিকে তেহরান একটি ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে। দলটির নেতা হাসান রহমানপানাহ জানান, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের চলমান সংগ্রাম ও বিক্ষোভের প্রতি কুর্দি জনগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন প্রদর্শন করাই এই ধর্মঘটের লক্ষ্য। ইরান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘নিষ্ঠুর ও অপরাধমূলক হামলা’ চালানোর অভিযোগ আনেন হাসান রহমানপানাহ।
উল্লেখ্য, চলতি বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের একটি মোবাইল ফোন মার্কেটের ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘটের মাধ্যমে। এরপর থেকে এই বিক্ষোভ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র রাজধানীর ‘গ্র্যান্ড বাজার’ এবং দেশের অন্যান্য শহর ও নগরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে এর তীব্রতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

ইরানের ১৩তম দিনের মতো চলছে সরকার বিরোধী আন্দোলন। ইরানি রিয়ালের বিনিময় মান কমা ও গভীর অর্থনৈতিক সংকটের জেরে প্রথমে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নেমেছিল। সেই আন্দোলনে পরে যোগ দেয় সাধারণ মানুষসহ নানা পেশার মানুষ। যোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। এরই মধ্যে আন্দোলন দমাতে নানান উদ্যোগ নিয়েছিল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অধীনস্ত ইরান সরকার। কিন্তু কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না।
প্রথমদিকে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও ধীরে ধীরে তা সহিংস হয়ে উঠছে। সরকারি বাহিনীও দমন-পীড়ন আর মারমুখি হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বিরোধী দলের একাংশ ও রাজতন্ত্রের উত্তরসূরি স্বঘোষিত যুবরাজ রেজা শাহ পাহলভি গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নিজের সমর্থকদের রাস্তায় নামার ডাক দেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে গতকাল কুর্দিদের কয়েকটি গোষ্ঠী ইতোমধ্যে আন্দোলনে নেমেছে। এতে আন্দোলনে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। তাই গতকাল আন্দোলনের ১২তম দিন ছিল সবচেয়ে ব্যাপক বিস্তৃত। ইরানের সবগুলো প্রদেশে ইতোমধ্যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
গতকাল বিক্ষোভকারীরা সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। আর সরকার আন্দোলন দমাতে দমন-পীড়নের পাশাপাশি দেশব্যাপী ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। অনলাইন পর্যবেক্ষ সংস্থা নেটব্লকসও নিশ্চিত করেছে, গতকাল ইরানজুড়ে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন ছিল।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, বিবিসি ও গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানে বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েকশ বিক্ষোভকারী। আর আটক করা হয়েছে দুই হাজারের উপরে বিক্ষোভকারীকে। রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি কওম, ইসপাহান, বন্দর আব্বাস, মাশহাদ, ফারুদিস ও বজনুর্দে ব্যাপাকভাবে বিক্ষোভ চলছে। সরকারি হিসাবে অবশ্য নিহতের সংখ্যা অর্ধেকের কথা বলা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুই সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তবে প্রায় প্রতিটি সংবাদমাধ্যমই বলছে, তারা স্বতন্ত্রভাবে টেলিভিশন ভবনে আগুন ও দেশব্যাপী ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নের খবর যাছাই করতে পারেনি

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে আক্রমণ চালাতে প্রস্তুত। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান বিক্ষোভ মোকাবিলায় ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালানো বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নিপীড়ন চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ চালাতে পুরোপুরি প্রস্তুত আছে।
এর আগেও তিনি একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। গত বছরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় আক্রমণ করেছিল।
বৃহস্পতিবার পশ্চিমা অন্যান্য দেশের মতো জার্মানিও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর বলপ্রয়োহগের’ নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বিদেশিদের দ্বারা প্রভাবিত ‘আন্দোলনকারীদের’ গ্রেপ্তার এবং চোরাচালানকৃত অস্ত্র জব্দ করার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, এক এক্স পোস্টে বলা হয়েছে, ইরানে গণহত্যা! প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, অর্ধশতাধিক সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ফারদিস শহরে একটি টয়োটায় করে মেশিন গান আনার পর ইসলামী শাসকদের নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি শুরু করে।
সোশ্যাল মিডিয়ার আরেক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ফার্স প্রদেশে বিপ্লবী গার্ডদের একটি স্থাপনা বিক্ষোকারীরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। যদিও এসব তথ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি গালফ নিউজ।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্বীকার করেছেন দেশে অর্থনৈতিক সংকট রয়েছে। তবে এও অভিযোগ করেছেন, বাইরের শক্তির উসকানির কারণেই এই বিক্ষোভ হচ্ছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ থাকার হুমকির মুখে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়ে তেহরান জানিয়েছে, তারা আগে আক্রান্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকবে না বরং যেকোনো সময় পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। ইরানের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর আঘাতকে তারা রেড লাইন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেকোনো আক্রমণ বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে তারা কঠোর ও ভারসাম্যপূর্ণ পাল্টা ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, বুধবার দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা রাজপথে নেমে আসেন। নরওয়েভিত্তিক সংস্থা আইএইচআর-এর প্রকাশিত ভিডিওতে উত্তর-পূর্বের শহর বোজনুর্দে উত্তাল জনতাকে ‘অপমানের চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।

অন্যদিকে, ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম দাবি করেছে, বিক্ষোভের সুযোগে একদল দাঙ্গাকারী একটি মসজিদ ও ধর্মীয় বই বিক্রির দোকান ভাঙচুর চালিয়েছে। এছাড়া রাজধানীর শেমিরান এলাকায় ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে রাজপথ।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বিক্ষোভ দমনে সংযম প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়েমপানাহ এক ভিডিও বার্তায় জানান, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো শক্তি প্রয়োগ না করার ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যারা সশস্ত্র অবস্থায় রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা চালায়, তারা বিক্ষোভকারী নয় বরং দাঙ্গাকারী এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানি সেনাবাহিনীর কমান্ডার এবং অন্যতম শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল আমির হাতামি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরান বাইরের কোনো হুমকি ‘জবাব ছাড়া’ মেনে নেবে না।
হাতামি বলেন, ‘শত্রুরা যদি কোনো ভুল করে’, তবে ইরানের পাল্টা জবাব গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও কঠোর হবে।
ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে হস্তক্ষেপ করবে—ট্রাম্পের এমন হুমকির পাশাপাশি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বিক্ষোভকারীদের প্রতি তাঁর সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় নেতানিয়াহু বলেন, আমরা ইরানি জনগণের সংগ্রাম এবং তাদের মুক্তি ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার পাশে আছি।
ইরাকভিত্তিক ইরানের সাতটি কুর্দি বিরোধী দল বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে সাধারণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। কোমালা পার্টির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইরাকের কুর্দিস্তানে নির্বাসিত বিচ্ছিন্নতাবাদী কোমালা পার্টিকে তেহরান একটি ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে। দলটির নেতা হাসান রহমানপানাহ জানান, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের চলমান সংগ্রাম ও বিক্ষোভের প্রতি কুর্দি জনগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন প্রদর্শন করাই এই ধর্মঘটের লক্ষ্য। ইরান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘নিষ্ঠুর ও অপরাধমূলক হামলা’ চালানোর অভিযোগ আনেন হাসান রহমানপানাহ।
উল্লেখ্য, চলতি বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের একটি মোবাইল ফোন মার্কেটের ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘটের মাধ্যমে। এরপর থেকে এই বিক্ষোভ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র রাজধানীর ‘গ্র্যান্ড বাজার’ এবং দেশের অন্যান্য শহর ও নগরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে এর তীব্রতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশ ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনা করছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
৯ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজের দেশের সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ইরানে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্পের সতর্কবার্তার জবাবে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তিনি এ মন্তব্য করেন।
১২ ঘণ্টা আগে
ইরানের রাজধানী তেহরানে শপিংমলে দোকানের শাটার নামানোর মধ্য দিয়ে যে বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল, তা আর নিছক অর্থনৈতিক দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে সেই আন্দোলনের ভাষা ও স্লোগান নাটকীয়ভাবে পাল্টে গেছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতদিন কর্মকাণ্ড দিয়ে প্রকাশ করেছেন তিনি আন্তর্জাতিক আইনের ধার ধারেন না। এবার প্রকাশ্যেই বলেছেন, তিনি আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করেন না।
১৭ ঘণ্টা আগে