leadT1ad

অন্তরঙ্গ ছবি তৈরির অভিযোগ, গ্রকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ০৩
স্ট্রিম গ্রাফিক

ইলন মাস্কের গ্রোক এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে সম্মতি ছাড়াই মানুষের অন্তরঙ্গ ছবি তৈরির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সতর্ক করেছেন, এক্স যদি এটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে তারা ‘স্বনিয়ন্ত্রণের অধিকার হারাতে পারে’।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) লেবার পার্টির এমপিদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার বলেন, এক্স ব্যর্থ হলে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। ব্রিটিশ সরকার নতুন একটি আইন কার্যকর করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে সম্মতি ছাড়া অন্তরঙ্গ ছবি তৈরি এবং এ ধরনের ছবি তৈরির অনলাইন টুল সরবরাহ করা অবৈধ হবে।

যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম গ্রোকের মাধ্যমে ছবি বিকৃত করার বিষয়ে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর সরকার এক্সের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়। তদন্তে আইন ভঙ্গের প্রমাণ মিললে এক্সকে তাদের বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ বা ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। এমনকি আইন অমান্য করলে আদালতের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে এক্স পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতাও অফকমের রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের ‘ডিপফেক’ ছবি শেয়ার করা অবৈধ। তবে নতুন আইনে এ ধরনের ছবি তৈরি বা তৈরির অনুরোধ করাকেও ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। ২০২৫ সালের জুনে পাস হওয়া এই আইন চলতি সপ্তাহেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল। তিনি বলেন, সম্মতি ছাড়া নারী ও শিশুদের পোশাকহীন ছবি তৈরি করা কোনো ‘নিরীহ ছবি’ নয়, বরং এটি ‘নির্যাতনের অস্ত্র’।

কেন্ডাল সংসদে বলেন, ‘এক্সে যে কনটেন্ট ছড়িয়েছে তা জঘন্য এবং বেআইনি। অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, সম্মতি ছাড়া অন্তরঙ্গ ছবি শেয়ার বা হুমকি দেওয়া ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্ম উভয়ের জন্যই অপরাধ। এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের পূর্ণ শাস্তি পেতে হবে।’

সরকার ‘নিউডিফিকেশন অ্যাপ’ বা পোশাক সরিয়ে দেওয়ার অ্যাপকেও অপরাধের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে অফকমের নির্দেশিকা মেনে নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, এক্সে নারীদের সম্মতি ছাড়া পোশাক খুলে যৌন ভঙ্গিতে দেখানোর বহু নজির পাওয়া গেছে। এক নারী অভিযোগ করেছেন, তাঁর ১০০টিরও বেশি এমন ছবি তৈরি করা হয়েছে।

মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া ইতিমধ্যে গ্রোকের এই টুলের ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।

এদিকে ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাজ্য সরকার ‘সেন্সরশিপের অজুহাত খুঁজছে’। তবে প্রযুক্তিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ নয়, বরং নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবিলার প্রশ্ন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত