যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন/রিপাবলিকান প্রচারণার পুঁজি ‘মুসলিম বিদ্বেষ’
স্ট্রিম ডেস্ক

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। দেশের অর্থনীতি ও ইরান যুদ্ধের কারণে খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টি। গাজা যুদ্ধের প্রভাবতো আছেই। এই অবস্থায় রিপাবলিকান নেতাদের অনেককেই মুসলিম বিদ্বেষকে পুঁজি করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ইতোমধ্যে আব্দুল এল-সায়েদ নামের এক ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ‘ভেরি, ভেরি ইভিল’ বা খুবই খারাপ বলে মন্তব্য করেছেন।
গত সপ্তাহে এক জনসভায় ভ্যান্স সায়েদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের অভিযোগ তোলেন। গত মার্চ মাসে ডেট্রয়েটের শহরতলির এক সিনাগগে (ইহুদিদের উপাসনালয়) হামলার পর আব্দুল এল-সায়েদের করা কিছু মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে ভ্যান্স এই অভিযোগ করেন।

টেক্সাসে পুনরায় জয়ের লড়াইয়ে থাকা রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট, মুসলমানদের নেতৃত্বে পরিকল্পিত একটি আবাসন প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। এই প্রকল্প আসলে ‘শরিয়া আদালত’ তৈরির চেষ্টা, অভিযোগ তুলে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যদিও আবাসন প্রকল্পের ডেভেলপার এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংস্থাগুলো এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রায় একই প্রচারণা দেখা গেছে আলাবামায়। অথচ অঙ্গরাজ্যটিতে মোট জনসংখ্যার অর্ধ শতাংশেরও (০.৫%) কম মুসলিম। সেখানে গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান ইউএস সেনেটর টমি টিউবারভিল উগ্রবাদের হুমকি তুলে ধরে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। কথিত উগ্র ইসলামপন্থীদের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, "শত্রু এখন ঘরের ভেতরেই উপস্থিত।"
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের ভাষ্যমতে, এসব মন্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনকে সামনে রেখে মুসলিম ও ইসলাম ধর্মকে রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু বানানোর একটি প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সমালোচক ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এ ধরণের রাজনৈতিক বক্তব্য অন্যায়ভাবে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। তাদের ঘিরে ভীতি ছড়িয়ে নির্বাচনী ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রিপাবলিকানরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করছেন, তারা কোনো ধর্মকে নিশানা করছেন না। জাতীয় নিরাপত্তা, উগ্রবাদ দমন এবং জনজীবনে ধর্মের ভূমিকা নিয়ে তাদের যৌক্তিক উদ্বেগ ও প্রশ্নগুলোই জনসম্মুখে তুলে ধরছেন।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৫৫ লাখ মুসলিম বসবাস করছেন, যা ২০০৭ সালের ২৪ লাখের তুলনায় দ্বিগুণ। মুসলিমরা এখন দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১.৬ শতাংশ।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের অবস্থান ও অংশগ্রহণ বেশ শক্তিশালী হয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন জোহরান মামদানি। অন্যদিকে ভার্জিনিয়ার লেফট্যানেন্ট গভর্নর হয়ে ইতিহাস গড়েছেন গাজালা হাশমি। তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম নারী যিনি কোনো অঙ্গরাজ্যের এত বড় পদে নির্বাচিত হলেন। আর আসছে নির্বাচনে জিতলে আব্দুল এল-সায়েদ হবেন প্রথম মুসলিম মার্কিন সেনেটর।
মুসলিমদের এই রাজনেতিক উত্থানে রিপাবলিকানদের বিচলিত হয়ে পদক্ষেপও নিতে দেখা যাচ্ছে। এসব পদক্ষেপ অনেকটাই মুসলিমবিরোধী মনোভাব উস্কে দেওয়ার প্রচারণা।
টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি কিথ সেলফ ও চিপ রয় মিলে গঠন করেছেন ‘শরিয়া ফ্রি আমেরিকা ককাস’। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি র্যান্ডি ফাইন ‘নো শরিয়া অ্যাক্ট’ নামের একটি খসড়া আইন প্রস্তাব করেছেন। যার মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে তথাকথিত ‘শরিয়া আইনের বিস্তার থামানো’।
কেন মুসলিম বিদ্বেষকে রাজনীর রসদ করছে রিপাবলিকানরা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বর্তমানে বেশ কম, জরিপের হিসেবে প্রায় ৩৩ শতাংশের ঘরে। ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টারের অধ্যাপক এবং ইসলাম ও ইহুদি ধর্মের গবেষক অ্যারন হিউজেসের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয়, ইরান যুদ্ধ বা অভিবাসনের মতো মূল ইস্যুগুলোতে সাধারণ মানুষের নজর কাড়তে ব্যর্থ হয়ে রিপাবলিকানরা মুসলিমদের বেশি নিশানা করছে।
এটিকে এক ধরণের ‘ভীতি প্রদর্শন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কৌশলে জাতীয়তাবাদের দোহাই দিয়ে মুসলিম ও ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করলে মূল সমস্যাগুলো আর মোকাবিলা করতে হয় না।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে হুট করে হামাস কিংবা ইরানের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলাটা সত্যিই হতবাক করার মতো।’
সূত্র: রয়টার্স
.png)





-7bb02b-256x144.webp)
