leadT1ad

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সোমালিয়ার সব চুক্তি বাতিল, বন্ধ প্রধান বন্দরগুলো

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে সকল চুক্তি বাতিল করেছে সোমালিয়া সরকার। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে সকল চুক্তি বাতিল করেছে সোমালিয়া সরকার। এই সিদ্ধান্ত বারবেরা, বসাসো ও কিসমায়ো—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে করা সব ধরনের চুক্তি ও সহযোগিতার ওপর প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ ইউএই-এর সঙ্গে বিদ্যমান সব দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তাদের হাতে আসা নথি ও সোমালিয়া সরকারের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের মাধ্যমে এসব তথ্য জানা গেছে।

নথি বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মোগাদিশু সরকার মনে করে ইউএই দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এ কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে ইউএই সোমালিয়ার বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো থেকে তাদের সেনা সরিয়ে নিচ্ছে।

সোমালিয়ার জনগণের একাংশ ও রাজনৈতিক মহল এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুল্লাহি ফারমাজো এ সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ইউএই এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। অন্যদিকে সোমালিল্যান্ড সরকার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে জানায়, মোগাদিশুর এ ধরনের ঘোষণার বাস্তবে কোনো প্রভাব নেই।

ইউএই পুন্তল্যান্ডের বসাসোসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে এবং এর কিছু প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়ায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। পুন্টল্যান্ড প্রশাসন এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব নিয়ে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে, কারণ ইউএই ও ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় এবং পরে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বারবেরা সফর করেন। সেখানে সম্ভাব্য ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও ইসরায়েল নিজেকে সোমালিল্যান্ডের বন্ধু ঘোষণা করেছে।

বারবেরা বন্দরটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড, সোমালিল্যান্ড সরকার এবং যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের যৌথ মালিকানায় রয়েছে। দীর্ঘ রানওয়ে ও আধুনিক সামরিক অবকাঠামোর কারণে বারবেরা এখন লোহিত সাগর অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বারবেরা আফ্রিকার অন্যতম দীর্ঘ রানওয়ে। একসময় নাসা এটিকে স্পেস শাটলের জরুরি অবতরণ স্থল হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া নিয়েছিল। এই রানওয়ে ভারী পরিবহন বিমান ও যুদ্ধবিমান অবতরণে সক্ষম।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত