মির্জা ফখরুল কততম রাষ্ট্রপতি? জানার উপায় নেই

২১ আগস্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবনের দরবার হলে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সাবেক প্রধান উপদেষ্টা।
কিন্তু রাষ্ট্রপতির নিজের সরকারি ওয়েবসাইটে তাঁর নামের পাশে একটি সংখ্যা নেই। রাষ্ট্রপতির নামের পাশে এই সংখ্যা দিয়ে বোঝানোর কথা যে তিনি দেশের কততম রাষ্ট্রপতি।
এই শূন্যস্থান বছরের পর বছর ধরেই রয়েছে। কারণ রাষ্ট্রপতিদের কীভাবে গণনা করা হবে, তা নিয়েই রাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে কোনো ঐকমত্য নেই।
তাহলে জনাব ফখরুল কততম রাষ্ট্রপতি—২৩তম, ২৪তম, না ২৫তম? এখানেই শেষ নয়। আরেক হিসাবে তিনি ৩১তমও হতে পারেন। এমনকি ২০তম হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিষয়টি নির্ভর করছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের ইতিহাস কীভাবে নথিভুক্ত করা হচ্ছে তার ওপর। এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে যে, হিসাবটি ঠিকঠাক করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কেউ খুব একটা মাথা ঘামাননি।
বিভ্রান্তি কতটা গভীর তার প্রমাণ মেলে একটা সরকারি তালিকায়। সেখানে একজন রাষ্ট্রপতির তিনটি ধারাবাহিক মেয়াদকে একই নম্বরে তিনবার দেখানো হয়েছে। আবার অন্য একজন রাষ্ট্রপতির দুই মেয়াদের জন্য দেওয়া হয়েছে দুটি আলাদা নম্বর।
এর মূল কারণ, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের ক্রমিক নম্বর নির্ধারণ ও তা সংরক্ষণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি নেই। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানেও এই বিষয়ে কোনো বিধান নেই। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলেও নেই।
ফলে বঙ্গভবনের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সাবেক রাষ্ট্রপতিদের তালিকায় রয়েছে চোখে পড়ার মতো অসংগতি ও ভুল। তালিকার উৎস হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির সরকারি ওয়েবসাইটে এই ধরনের অগোছালো তথ্য সাধারণ মানুষের মনে শুধু বিভ্রান্তিই তৈরি করে।
বঙ্গভবনের ওয়েবসাইটে অদ্ভুত ও গোলমেলে তালিকা
রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের ওয়েবসাইটে সাবেক রাষ্ট্রপতিদের একটি তালিকা রয়েছে।
সাধারণ মানুষ ভাববে যে এই ওয়েবসাইট থেকে দেশের রাষ্ট্রপতিদের ইতিহাস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। কিন্তু কেউ তালিকাটি দেখলে অবাক হবেন। কারণ তালিকার প্রথমেই রয়েছে বড় ধরনের এক বিভ্রান্তি।
তালিকায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়াদকে প্রথম নম্বরে রাখা হয়েছে।
তার ঠিক নিচে দ্বিতীয় নম্বরে একই সময়কালে দেখানো হয়েছে সৈয়দ নজরুল ইসলামের নাম।
মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এটি ঐতিহাসিক সত্য। কিন্তু বঙ্গভবনের তালিকায় কোনো পাদটীকা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই একই সময়ে দুজনকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখানো হয়েছে। দ্বিতীয় জনকে ভারপ্রাপ্ত বা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলাদা করে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
তালিকার আরেকটি বিব্রতকর দিক হলো বানান ভুল এবং রাষ্ট্রপতিদের ক্রমিক নম্বর নির্ধারণে এলোমেলো নীতি।
তালিকার তিন নম্বরে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নাম পরপর তিনবার রয়েছে। তাঁর তিন মেয়াদের জন্য আলাদা তিনটি সারি করা হয়েছে। কিন্তু তিন ক্ষেত্রেই ক্রমিক নম্বর রাখা হয়েছে একই—তিন।
এর ওপর সরকারি ওয়েবসাইটে এই সাবেক রাষ্ট্রপতির পদবি ‘Chowdhury’-এর বদলে ‘Chaidhury’ লেখা হয়েছে। স্পষ্টতই একটি দৃষ্টি ভুল।
একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ২২ নম্বরেও। সেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের নাম পরপর চারবার দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রথমে ভারপ্রাপ্ত এবং পরে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে আরও দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর দায়িত্ব পালনের এই চারটি পর্যায়ই একটি মাত্র ক্রমিক নম্বরের অধীনে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেও আবু সাঈদ চৌধুরী তালিকায় তৃতীয় রাষ্ট্রপতি। আর বিভিন্ন পরিচয়ে—ভারপ্রাপ্ত, অস্থায়ী ও নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি—চার দফা দায়িত্ব পালন করেও আবদুল হামিদ ২২তম।
কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে বঙ্গভবন আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন, এমনকি পরস্পরবিরোধী পদ্ধতি অনুসরণ করেছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক শাসক হিসেবে ক্ষমতা নেওয়ার সময় তাঁকে ১৩ নম্বরে রাখা হয়েছে। পরে বেসামরিক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁকেই আবার ১৪তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অর্থাৎ একই ব্যক্তির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে দুটি আলাদা ক্রমিক নম্বর। শুধু তা-ই নয়, তাঁর নামও দুইভাবে লেখা হয়েছে—একবার ‘লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ’, পরে ‘মি. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ’।
বিচারপতি আবদুস সাত্তার এবং বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। তাঁরাও ভারপ্রাপ্ত ও নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য পেয়েছেন আলাদা আলাদা ক্রমিক নম্বর।
অর্থাৎ, কারও ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি থেকে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হলে ক্রমিক নম্বর বদলে গেছে। আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে বদলায়নি।
বঙ্গভবনের এইসব অসঙ্গতির কারণে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সংখ্যা কত—তা নির্ধারণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমান রাষ্ট্রপতি ১৭তম, ১৮তম নাকি ২১তম—এই প্রশ্নেরও নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যায় না।
বঙ্গভবনের সাবেক রাষ্ট্রপতিদের তালিকা অনুযা, ২২তম রাষ্ট্রপতি ছিলেন আবদুল হামিদ। তাহলে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার কথা মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের।
তালিকায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে গণনা করা হয়েছে। সে হিসাবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে ২৪তম রাষ্ট্রপতি বলতে হয়। শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ২৪ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট ফখরুল শপথ নেওয়া পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
সে হিসাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হবেন ২৫তম রাষ্ট্রপতি।
অথচ শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরবর্তী রাষ্ট্রপতিকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
আবার হিসাবের অন্য পদ্ধতিতে ফখরুলের অবস্থান আরও নিচেও নেমে যেতে পারে।
ব্যক্তি, না মেয়াদ—বিভ্রান্তির আসল উৎস
এই বিভ্রান্তির মূলেই রয়েছে রাষ্ট্রপতিদের গণনার পদ্ধতি। একজন রাষ্ট্রপতির ক্রমিক নম্বর নির্ধারণ করা হবে ব্যক্তি ধরে, নাকি মেয়াদ ধরে? এই বিষয়ে কোনো আইনি নির্দেশনা নেই।
ব্যক্তি ধরে গণনা বলতে বোঝাবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে কতজন ভিন্ন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির পদে বসেছেন, সেই হিসাব।
যেমন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ চারবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি তো একজনই ব্যক্তি। তাই ব্যক্তি ধরে হিসাব করলে তাঁর জন্য থাকবে একটি মাত্র ক্রমিক নম্বর।
অন্যদিকে মেয়াদ ধরে গণনা বলতে বোঝাবে, রাষ্ট্রপতির পদে কতবার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে কিংবা কতবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়া হয়েছে, সেই হিসাব।
এই পদ্ধতিতে কেউ খুব অল্প সময়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত বা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হলেও সেটিকে একটি পৃথক মেয়াদ হিসেবে গণনা করা হবে।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে প্রথমবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। পরে আবারও রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। মেয়াদ ধরে হিসাব করলে এই দুটি শপথকে দুটি পৃথক ক্রমিক সংখ্যা হিসেবে গণনা করতে হবে।
কিন্তু রাষ্ট্র কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঠিক করেনি যে এই দুটি পদ্ধতির কোনটি অনুসরণ করা হবে। ফলে আপনি যেভাবেই হিসাব করুন না কেন, মির্জা ফখরুল এবং তাঁর আগের রাষ্ট্রপতিদের ক্রমিক নম্বর আলাদা হবে। ভবিষ্যতে নতুন রাষ্ট্রপতি বা নতুন মেয়াদ যোগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বিভ্রান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত, অস্থায়ী কিংবা তত্ত্বাবধায়ক রাষ্ট্রপতি এবং তাঁদের মেয়াদকে গণনার আওতায় আনা হবে কি না—এই প্রশ্ন ধরলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
সংবিধানে ফাঁক, আইনে নেই স্পষ্ট ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্রপতির ক্রমিক নম্বর নির্ধারণের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
সংবিধানের ৪৮ থেকে ৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন, মেয়াদ, ক্ষমতা এবং পদ শূন্য হলে কে দায়িত্ব নেবেন—এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে।
কিন্তু সংবিধানে কোথাও বলা নেই যে কেউ ভারপ্রাপ্ত বা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে তাঁকে রাষ্ট্রপতিদের মূল তালিকায় পৃথক ক্রমিক নম্বর দিতে হবে কি না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কোনো আইনগত নথিতেও এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল এবং সরকারি গেজেটেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আদেশে সাধারণত শুধু ‘মাননীয় রাষ্ট্রপতি’ কথাটিই ব্যবহার করা হয়। রাষ্ট্রপতির শপথের নথিতেও কোনো ক্রমিক নম্বর উল্লেখ করা হয় না।
বঙ্গভবনের ওয়েবসাইটের তালিকা অনুসরণ করলে জনাব ফখরুলকে ২৪তম রাষ্ট্রপতি মনে হতে পারে। তালিকায় কোনো কারণে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু ব্যক্তি ধরে হিসাব করলে তিনি হবেন ২০তম রাষ্ট্রপতি।
তবে রাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংখ্যা ঘোষণা করেনি।
ভারত, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট পদ্ধতি
অন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা এই সমস্যার বেশ গোছানো সমাধান করেছে।
ভারতের রাষ্ট্রপতির ওয়েবসাইটে সাবেক রাষ্ট্রপতিদের তালিকাটি বেশ সুশৃঙ্খল। ভারত রাষ্ট্রপতির ক্রমিক নম্বর নির্ধারণ করে ব্যক্তি ধরে। তালিকায় শুধু নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিভিন্ন সময়ে যাঁরা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের মূল তালিকায় রাখা হয় না।
এই স্পষ্ট নীতির কারণেই ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই। তিনি সরকারি হিসাবেই ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি।
ভারতের এই পদ্ধতি বাংলাদেশে প্রয়োগ করলে মির্জা ফখরুল হবেন ১৭তম রাষ্ট্রপতি।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির ওয়েবসাইটেও নির্দিষ্ট একটি নিয়ম অনুসরণ করা হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্রপতির ক্রমিক নম্বর নির্ধারণ করে নির্বাচিত মেয়াদ ধরে। সেখানেও ভারপ্রাপ্ত বা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিদের মূল হিসাবের মধ্যে ধরা হয় না।
২০০৮ সালে আসিফ আলী জারদারি পাকিস্তানের ১১তম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ২০২৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪তম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। এখানে একই ব্যক্তির নম্বর বদলেছে। কারণ দ্বিতীয়বার তাঁর মেয়াদটি ছিল ভিন্ন। কিন্তু হিসাবটি সম্পূর্ণ ধারাবাহিক এবং নির্দিষ্ট গাণিতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুসরণ করে করা হয়েছে।
পাকিস্তানের পদ্ধতি বাংলাদেশে প্রয়োগ করলে ফখরুল হবেন ২১তম রাষ্ট্রপতি।
যুক্তরাষ্ট্রের পদ্ধতিটি আরও সূক্ষ্ম। সেখানে একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদে নির্বাচিত হলে তাঁকে দুটি নম্বর দেওয়া হয় না। একটি নম্বরই দেওয়া হয়। কিন্তু এক বা একাধিক মেয়াদের বিরতির পর একই ব্যক্তি আবার রাষ্ট্রপতির পদে ফিরে এলে তাঁকে দুটি আলাদা নম্বর দেওয়া হয়।
গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ২২তম ও ২৪তম রাষ্ট্রপতি।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর ডোনাল্ড ট্রাম্পও মার্কিন ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে একই ঘটনা ঘটান। ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ৪৫তম রাষ্ট্রপতি। এরপর এক মেয়াদ বিরতির পর আবার ক্ষমতায় ফিরে তিনি হন ৪৭তম রাষ্ট্রপতি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদ্ধতি বাংলাদেশে প্রয়োগ করা হলে ফখরুল হবেন ১৮তম রাষ্ট্রপতি।
বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট মডেলই অনুসরণ করে না। উল্লিখিত দেশগুলোর প্রত্যেকটিই তাদের সংবিধান বা রাষ্ট্রীয় নীতির মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছে—রাষ্ট্রপতিদের কোন পদ্ধতিতে গণনা করা হবে।
যে শূন্যস্থান পূরণ হয় না
আপাতত বিভ্রান্তিটা সমাধান করতে কেউ কোন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা যায় না।
পাঠ্যবইয়ে এক ধরনের সংখ্যা, উইকিপিডিয়ায় আরেকটি। সংবাদ প্রতিবেদনে অন্য আরেক সংখ্যা। কেউই এই বিতর্কের অবসান ঘটানোর তাড়া অনুভব করছেন না।
একজন শিক্ষার্থী বই খুলে রাষ্ট্রপতিদের তালিকা পড়লে কোন সংখ্যাটি সঠিক তা বোঝার কোনো উপায় নেই। অন্যদিকে, কোনো ইতিহাসবিদ রাষ্ট্রপতি পদটির একটি নির্ভুল ও ধারাবাহিক ইতিহাস লিখতে গেলে একাধিক নথির সামনে পড়বেন যেগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা মেলে না।
নেই শুধু একবার সঠিকভাবে হিসাবটি নির্ধারণ করে তা সরকারি নথিতে লিখে সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকার উদ্যোগ।
.png)






