ডিসেম্বরেই ভারতের সঙ্গে নতুন পানিবণ্টন চুক্তি: উপদেষ্টা রাশেদ তিতুমীর
স্ট্রিম সংবাদদাতা

দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মৌলিক পরিকল্পনায় নজর দিয়েছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরেই ভারতের সঙ্গে নতুন পানিবণ্টন চুক্তি হবে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই সংকট নিরসনে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি সংকট ও সুষ্ঠু পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় তার বাসভবনে রাত ৮টার দিকে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তঃসীমান্তীয় নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন প্রসঙ্গে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘বাংলাদেশে এসব নদীতে অনেক সময় বেশি পানি থাকে, আবার কিছুদিন কোনো পানি থাকে না। এর কারণে উৎপাদন, কৃষি, প্রকৃতি, পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়। ভাটির দেশ হিসেবে আমাদের উজানের পানির হিস্যা দরকার। এ পরিস্থিতিতে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মৌলিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘কৃষক, প্রকৃতি, মৎস্যসম্পদসহ সব সম্পদ যেন নিরাপদে থাকে, তা নিশ্চিত করা দরকার। সেজন্য দরকার নদী, শাখা নদী ও খালে সঠিক পরিমাণ পানি থাকা। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে সামগ্রিক পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক নদীর পানিতে ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছে। এরই অংশ হিসেবে আমরা পদ্মা ব্যারেজ করছি। এর মাধ্যমে আমরা পানি সংরক্ষণ করতে এবং শুষ্ক মৌসুমে সরবরাহ করতে পারবে। একইভাবে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের ৫৪টি নদীর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নদীপ্রবাহের সম্পর্ক রয়েছে। আমরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সেগুলোর পানি নিশ্চিত করতে চাই। পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বর্তমানে যে চুক্তি আছে, সেটি ডিসেম্বরে শেষ হবে। বিষয়টি ভারতকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সাড়া পেলে পরবর্তী কাজ শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন হবে।’
চলমান জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘শিল্প কারখানাসহ সাধারণ মানুষ জ্বালানি খাতে যে দূর্ভোগ ও সংকটের মধ্যে পড়েছেন, তা ফ্যাসিস্ট সরকারের দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট। এখন আমাদের চড়া দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তারপরও সরকার এ খাতে বিশাল অংকের ভর্তূকি দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
তিনি জানান, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে গ্রাহককে উৎপাদকে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাব। সৌরবিদ্যুতের উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশে সৌরবিদ্যুতের প্রয়োজনীয় উপকরণ উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন গ্যাস কুপ খনন করা প্রয়োজন। সরকার এরই মধ্যে ১৫০টি কুপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে দেশের ভেতর ও সাগরে কুপ খনন করে গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পৃষ্টপোষকতার জন্য এই খাতকে আমদানিনির্ভর করা হয়েছে।’
বর্তমান সরকার দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ অংশিদ্বারত্বের মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধানে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে খরচ কম হবে। বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা যেমন সাজিয়েছে, সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০৩৪ সাল নাগাদ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে যে জ্বালানি কাঠামো দরকার, সরকার সেটা নিশ্চিত করবে।’
.png)


-7be686-256x144.webp)



