জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতা: জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল, অপেক্ষায় বিএনপির প্রার্থী

Multiple Authors
স্ট্রিম প্রতিবেদক ও স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

ছবি: সংগৃহীত

দ্বৈত নাগরিকত্বসংক্রান্ত জটিলতায় চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি এখন উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে একই কারণে বিএনপির শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর আপিল অপেক্ষমাণ রেখেছে ইসি।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে তৃতীয় দিনের আপিল শুনানিতে এ চিত্র দেখা গেছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামায় এ কে এম ফজলুল হক উল্লেখ করেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। গত ২৮ ডিসেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, হলফনামায় নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা থাকলেও এর পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো নথিপত্র জমা দেওয়া হয়নি। এ কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। আপিলেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকল।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, হলফনামায় নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা থাকলেও এর পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো নথিপত্র জমা দেওয়া হয়নি। এ কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। আপিলেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকল।

ফজলুল হকের মতো শেরপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীও দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই—এমন প্রমাণ সরাসরি দেখাতে ব্যর্থ হন। আপিল শুনানিতে ফাহিম চৌধুরী বলেন, ‘গত ২৬ ডিসেম্বর আমি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আবেদন করেছি। আবেদনের পর একটি ফিরতি মেইলও পেয়েছি। যেখানে বলা হয়েছে, “উই হ্যাভ প্রসেসড” ।’

শুনানি শেষে এ কে এম ফজলুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার প্রতি বৈষম্য হয়েছে। বিএনপির অনেক প্রার্থীকে দ্বৈত নাগরিকত্বের কাগজপত্র দাখিল না করলেও মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের মতো নির্বাচন কমিশনও আমার প্রার্থিতা দেয়নি। এখন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে আদালতে যাওয়ার ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “চট্টগ্রাম-৯ আসনে ডা. এ কে এম ফজলুল হকের দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে আমরা এখনো সুবিচার পাইনি। উচ্চ আদালতে যেতে হচ্ছে। আশা করি সেখানে সুবিচার পাব।”

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্বের জটিলতার কারণে ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন।

এদিকে ফাহিম চৌধুরীর এই দাবির বিষয়ে ইসি জানায়, নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে এমন একটি সার্টিফিকেট লাগবে। সেই সার্টিফিকেটও যাচাই-বাছাই করতে হবে। তার আগে কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। তাঁকে অপেক্ষায় থাকতে হবে। আগামী ১৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফাহিম চৌধুরীর এই দাবির বিষয়ে ইসি জানায়, নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে এমন একটি সার্টিফিকেট লাগবে এবং সেই সার্টিফিকেটও যাচাই-বাছাই করতে হবে। তার আগে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব না। আপনাকে অপেক্ষায় থাকতে হবে। আগামী ১৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। নির্বাচন কমিশনে গত ৫ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) শেষ হয়। এর আগে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল করেন।

গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। এটি চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রথম দিন ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল, আজ ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর এবং মঙ্গলবার ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সংশোধিত তফশিলের নির্বাচনি সময়সূচি অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

সম্পর্কিত