বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস আজ
আবদুল্লাহ কাফি

চারদিকে কেমিক্যালের গন্ধ। টিনের ছাপড়ার নিচে ফ্যান ঘুরলেও তাতে গরম কমার লক্ষণ নেই। এর মধ্যেই কালি মাখা শরীরে ঘামতে ঘামতে দুপুরের খাবার খাচ্ছিল মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
সকাল থেকে কাজের ক্লান্তি নিয়েই জানাল, বয়স সবে ১২। কিছুটা পড়াশোনা করলেও পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে কাজ নিয়েছে অ্যালুমিনিয়াম কারখানায়। ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকার কারখানাটিতেই এখন কাটে তার অধিকাংশ সময়।
শুধু আব্দুল্লাহ নয়, জিনজিরা এলাকা ঘুরে তার মতো অন্তত ৫০ শিশু পাওয়া গেল। তাদের বয়স ১২-১৭ বছরের মধ্যে। এরচেয়েও কম বয়সী আছে কয়েকজন। এই বয়সে তাদের স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও বই-খাতা ফেলে সবাই এখন ‘পূর্ণাঙ্গ’ শ্রমিক।
সাপ্তাহিক বেতন বা কাজের পরিমাণভিত্তিক চুক্তিতে দৈনিক ১২ ঘণ্টাই কাটে কারখানায়। বড়রাও যে কাজে দুইবার ভাবেন, তেমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজও নির্দ্বিধায় তাদের দিয়ে করানো হয়। লোহা, অ্যালুমিনিয়াম, রং তৈরির কারখানায় দিন-রাত যান্ত্রিক শব্দ ও কেমিক্যালের বিষাক্ত গন্ধের মধ্যেই আটকে আছে এসব শিশুদের জীবন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের আইনে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ। তবে আইনের কড়াকড়ি ও শিক্ষার পরিবেশ না থাকা এবং দরিদ্রতার কারণে শ্রমে ঢুকতে বাধ্য হচ্ছে অনেক শিশু। এর থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ।
জিনজিরা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এই এলাকায় কারখানাগুলোতে শ্রমে যুক্ত শিশুদের অনেকে কিছুটা পড়াশোনা করেছে। এরপর কেউ নিজের ইচ্ছায়, কেউ পরিবারের চাপে কেউ অথবা আর্থিক অসচ্ছলতার কাছে হার মেনেছে। এদের অনেকে নিজের বয়সও জানে না।
বাগেরহাটের মো. আব্দুল্লাহ গত কয়েক মান ধরে অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় কাজ করছে। শিখছে হাঁড়িপাতিল বানানোর কাজ। নিজের বয়স বলতে পারেনি এই শিশু।
আবদুল্লাহ স্ট্রিমকে বলে, ‘হিফজ মাদ্রাসায় পড়তাম। দেড় পারা মুখস্থ করবার পর আর পড়তে ইচ্ছা করেনি। বাবা-মা শুরুতে জোর দিলেও পরে কাজে পাঠিয়েছেন। এখন দৈনিক কাজ করি। এতে পরিবারেরও একটু সহযোগিতা হয়।’
বরিশালের শাকিল ক্লাস ফাইভের পর থেকেই কাজে নেমেছে। টেইলার্স, মুদি দোকানে কাজ করে শেষে এসেছে জিনজিরায়। দরজার ছিটকিনি বানানোর কাজ করে সে। শাকিলও জানেন না, তার বয়স আসলে কত।
সে স্ট্রিমকে বলে, ‘আমার পড়তে ভালো লাগে না। তাই কাজে ঢুকে গেছি। এখন নিজের টাকায় নিজে চলি।’
গত তিনি বছর ধরে জিনজিরা এলাকায় কাজ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোহাম্মদ মহসিন। সে জানায়, তার বাবা রিকশা চালান। মা গৃহিণী এবং বোন পড়াশোনা করেন। বাবার আয়ে সংসার চলে না। তাই তাকে কাজে নামতে হয়েছে।
২০২৫ সালে ‘বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার’ শিরোনামে একটি জরিপ করেছে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সেখানে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে শিশুশ্রম বেড়েছে। ২০১৯ সালে মোট জনসংখ্যার ৬ দশমিক ৮ শতাংশ শিশুশ্রমে যুক্ত ছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ।

জরিপে বলা হয়, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে শিশুশ্রমের হার সবচেয়ে বেশি। এই বয়সী শিশুদের ১৪ শতাংশ শ্রমের সঙ্গে যুক্ত। ৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের মধ্যে শিশুশ্রমের হার ৮ শতাংশ। আর ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৮ শতাংশ।
শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার স্ট্রিমকে বলেন, শিশুশ্রম বাড়ছে। কারণ, তারা যা উপার্জন করে তার বড় অংশই পরিবারকে দেয়। যদি শিশুশ্রমের ওপরে পরিবারগুলোর নির্ভরতা কমানো যায়, তাহলে তাদের কাজে আসা অনেকটা কমবে। সেক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, তাদের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটা ব্যাপার হলো, শিশুরা স্কুলে পরীক্ষায় ভালো না করলে তাদের বিয়ে বা কাজে দেওয়ার একটা প্রবণতা এখানে আছে। কারণ অনেক পরিবার পড়াশোনার খরচ চালাতে পারে না। এই ক্ষেত্রে শিক্ষার মানও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ সহায়তা পেয়ে স্কুলে আসতে পারলেও অনেক শিশু শিখতে পারে না। ফলে তাকে প্রাইভেট বা কোচিংয়ে যেতে হয়। আবার স্কুলে বই বিনামূল্যে দিলেও শিক্ষার অন্য সরঞ্জাম টাকা দিয়েই কিনতে হয়।’
ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপে বলা হয়েছে, শ্রমের সঙ্গে জড়িত শিশুদের মধ্যে ৫ শতাংশ ভারী বোঝা বহনের কাজ করে। বিপজ্জনক যন্ত্রপাতির কাজ করে ৪ শতাংশ শিশু। উঁচু স্থানে এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে ১ শতাংশ। ধুলাবালি, ধোঁয়া, গ্যাসের মধ্যে কাজ করে ৪ শতাংশ শিশু। রাসায়নিক ও বিস্ফোরক কারখানায়ও ১ শতাংশ শিশু কাজ করে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, ‘শিশুদের শ্রমসাধ্য কাজে দেওয়ার মানে তার শারীরিক বিকাশ এবং মানসিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। কাজের ধরণ অনুযায়ী তাঁদের শরীরে কিছু ‘অকুপেশনাল হ্যাজার্ড’ বা পেশাগত অসুবিধা তৈরি হয়। কোনো শিশু যদি রঙের ফ্যাক্টরিতে কাজ করে, তাহলে রঙের সাথে যা মেশানো হয় এগুলো শ্বাসতন্ত্রে ঢুকে তার ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভয়াবহ কেমিক্যাল খাবারের সঙ্গে পাকস্থলীতে ঢুকে পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো পেশায় বা প্রতিষ্ঠানে শিশুকে নিয়োগ দেওয়া নিষিদ্ধ। তবে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদের মতে, বাংলাদেশের আইন অনেক সময় কাগজেই থাকে, বাস্তবে মূল্য থাকে না।
স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আইনে স্পষ্ট বলা আছে, শিশুদের লেবার ওয়ার্ক দেওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু যারা আইন করে তাদের বাসায়ও শিশু শ্রমিক থাকে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায়, ফ্যাক্টরিতে শিশুরা কাজ করে। শুধু আন্তর্জাতিক চাপের কারণে গার্মেন্টসগুলোতে এখন আর শিশুরা কাজ করতে পারে না। এ ছাড়া বাংলাদেশের সব জায়গায় আছে শিশুশ্রম।
তিনি আরও বলেন, যদি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত করা না যায় এবং সরকার যদি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেয় তাহলে মুখে বলে শিশুশ্রম বন্ধ করা যাবে না। কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে।
বাংলাদেশে শিশুশ্রমের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আছে উল্লেখ করে উন্নয়নকর্মী ও গবেষক লায়লা খন্দকার বলেন, ‘নিয়োগকর্তা যেমন শিশুকে নিয়োগ দিচ্ছেন, মা-বাবাও শিশুকে শ্রমে পাঠাচ্ছেন। ফলে শিশুশ্রম বেড়ে যাচ্ছে। এটা নির্মূলে সবার আগে প্রয়োজন আমাদের আন্তরিকতা এবং সদিচ্ছা। আমরা সবাই মিলে-গভর্নমেন্ট, সিভিল সোসাইটি, এমপ্লয়ার, কমিউনিটি, প্যারেন্টস—সবাইকেই ইনভলভ হতে হবে এবং সবাইকে মিলে এটা নিরসনে কাজ করতে হবে।’

চারদিকে কেমিক্যালের গন্ধ। টিনের ছাপড়ার নিচে ফ্যান ঘুরলেও তাতে গরম কমার লক্ষণ নেই। এর মধ্যেই কালি মাখা শরীরে ঘামতে ঘামতে দুপুরের খাবার খাচ্ছিল মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
সকাল থেকে কাজের ক্লান্তি নিয়েই জানাল, বয়স সবে ১২। কিছুটা পড়াশোনা করলেও পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে কাজ নিয়েছে অ্যালুমিনিয়াম কারখানায়। ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকার কারখানাটিতেই এখন কাটে তার অধিকাংশ সময়।
শুধু আব্দুল্লাহ নয়, জিনজিরা এলাকা ঘুরে তার মতো অন্তত ৫০ শিশু পাওয়া গেল। তাদের বয়স ১২-১৭ বছরের মধ্যে। এরচেয়েও কম বয়সী আছে কয়েকজন। এই বয়সে তাদের স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও বই-খাতা ফেলে সবাই এখন ‘পূর্ণাঙ্গ’ শ্রমিক।
সাপ্তাহিক বেতন বা কাজের পরিমাণভিত্তিক চুক্তিতে দৈনিক ১২ ঘণ্টাই কাটে কারখানায়। বড়রাও যে কাজে দুইবার ভাবেন, তেমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজও নির্দ্বিধায় তাদের দিয়ে করানো হয়। লোহা, অ্যালুমিনিয়াম, রং তৈরির কারখানায় দিন-রাত যান্ত্রিক শব্দ ও কেমিক্যালের বিষাক্ত গন্ধের মধ্যেই আটকে আছে এসব শিশুদের জীবন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের আইনে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ। তবে আইনের কড়াকড়ি ও শিক্ষার পরিবেশ না থাকা এবং দরিদ্রতার কারণে শ্রমে ঢুকতে বাধ্য হচ্ছে অনেক শিশু। এর থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ।
জিনজিরা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এই এলাকায় কারখানাগুলোতে শ্রমে যুক্ত শিশুদের অনেকে কিছুটা পড়াশোনা করেছে। এরপর কেউ নিজের ইচ্ছায়, কেউ পরিবারের চাপে কেউ অথবা আর্থিক অসচ্ছলতার কাছে হার মেনেছে। এদের অনেকে নিজের বয়সও জানে না।
বাগেরহাটের মো. আব্দুল্লাহ গত কয়েক মান ধরে অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় কাজ করছে। শিখছে হাঁড়িপাতিল বানানোর কাজ। নিজের বয়স বলতে পারেনি এই শিশু।
আবদুল্লাহ স্ট্রিমকে বলে, ‘হিফজ মাদ্রাসায় পড়তাম। দেড় পারা মুখস্থ করবার পর আর পড়তে ইচ্ছা করেনি। বাবা-মা শুরুতে জোর দিলেও পরে কাজে পাঠিয়েছেন। এখন দৈনিক কাজ করি। এতে পরিবারেরও একটু সহযোগিতা হয়।’
বরিশালের শাকিল ক্লাস ফাইভের পর থেকেই কাজে নেমেছে। টেইলার্স, মুদি দোকানে কাজ করে শেষে এসেছে জিনজিরায়। দরজার ছিটকিনি বানানোর কাজ করে সে। শাকিলও জানেন না, তার বয়স আসলে কত।
সে স্ট্রিমকে বলে, ‘আমার পড়তে ভালো লাগে না। তাই কাজে ঢুকে গেছি। এখন নিজের টাকায় নিজে চলি।’
গত তিনি বছর ধরে জিনজিরা এলাকায় কাজ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোহাম্মদ মহসিন। সে জানায়, তার বাবা রিকশা চালান। মা গৃহিণী এবং বোন পড়াশোনা করেন। বাবার আয়ে সংসার চলে না। তাই তাকে কাজে নামতে হয়েছে।
২০২৫ সালে ‘বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার’ শিরোনামে একটি জরিপ করেছে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সেখানে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে শিশুশ্রম বেড়েছে। ২০১৯ সালে মোট জনসংখ্যার ৬ দশমিক ৮ শতাংশ শিশুশ্রমে যুক্ত ছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ।

জরিপে বলা হয়, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে শিশুশ্রমের হার সবচেয়ে বেশি। এই বয়সী শিশুদের ১৪ শতাংশ শ্রমের সঙ্গে যুক্ত। ৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের মধ্যে শিশুশ্রমের হার ৮ শতাংশ। আর ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৮ শতাংশ।
শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার স্ট্রিমকে বলেন, শিশুশ্রম বাড়ছে। কারণ, তারা যা উপার্জন করে তার বড় অংশই পরিবারকে দেয়। যদি শিশুশ্রমের ওপরে পরিবারগুলোর নির্ভরতা কমানো যায়, তাহলে তাদের কাজে আসা অনেকটা কমবে। সেক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, তাদের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটা ব্যাপার হলো, শিশুরা স্কুলে পরীক্ষায় ভালো না করলে তাদের বিয়ে বা কাজে দেওয়ার একটা প্রবণতা এখানে আছে। কারণ অনেক পরিবার পড়াশোনার খরচ চালাতে পারে না। এই ক্ষেত্রে শিক্ষার মানও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ সহায়তা পেয়ে স্কুলে আসতে পারলেও অনেক শিশু শিখতে পারে না। ফলে তাকে প্রাইভেট বা কোচিংয়ে যেতে হয়। আবার স্কুলে বই বিনামূল্যে দিলেও শিক্ষার অন্য সরঞ্জাম টাকা দিয়েই কিনতে হয়।’
ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপে বলা হয়েছে, শ্রমের সঙ্গে জড়িত শিশুদের মধ্যে ৫ শতাংশ ভারী বোঝা বহনের কাজ করে। বিপজ্জনক যন্ত্রপাতির কাজ করে ৪ শতাংশ শিশু। উঁচু স্থানে এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে ১ শতাংশ। ধুলাবালি, ধোঁয়া, গ্যাসের মধ্যে কাজ করে ৪ শতাংশ শিশু। রাসায়নিক ও বিস্ফোরক কারখানায়ও ১ শতাংশ শিশু কাজ করে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, ‘শিশুদের শ্রমসাধ্য কাজে দেওয়ার মানে তার শারীরিক বিকাশ এবং মানসিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। কাজের ধরণ অনুযায়ী তাঁদের শরীরে কিছু ‘অকুপেশনাল হ্যাজার্ড’ বা পেশাগত অসুবিধা তৈরি হয়। কোনো শিশু যদি রঙের ফ্যাক্টরিতে কাজ করে, তাহলে রঙের সাথে যা মেশানো হয় এগুলো শ্বাসতন্ত্রে ঢুকে তার ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভয়াবহ কেমিক্যাল খাবারের সঙ্গে পাকস্থলীতে ঢুকে পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো পেশায় বা প্রতিষ্ঠানে শিশুকে নিয়োগ দেওয়া নিষিদ্ধ। তবে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদের মতে, বাংলাদেশের আইন অনেক সময় কাগজেই থাকে, বাস্তবে মূল্য থাকে না।
স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আইনে স্পষ্ট বলা আছে, শিশুদের লেবার ওয়ার্ক দেওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু যারা আইন করে তাদের বাসায়ও শিশু শ্রমিক থাকে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায়, ফ্যাক্টরিতে শিশুরা কাজ করে। শুধু আন্তর্জাতিক চাপের কারণে গার্মেন্টসগুলোতে এখন আর শিশুরা কাজ করতে পারে না। এ ছাড়া বাংলাদেশের সব জায়গায় আছে শিশুশ্রম।
তিনি আরও বলেন, যদি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত করা না যায় এবং সরকার যদি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেয় তাহলে মুখে বলে শিশুশ্রম বন্ধ করা যাবে না। কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে।
বাংলাদেশে শিশুশ্রমের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আছে উল্লেখ করে উন্নয়নকর্মী ও গবেষক লায়লা খন্দকার বলেন, ‘নিয়োগকর্তা যেমন শিশুকে নিয়োগ দিচ্ছেন, মা-বাবাও শিশুকে শ্রমে পাঠাচ্ছেন। ফলে শিশুশ্রম বেড়ে যাচ্ছে। এটা নির্মূলে সবার আগে প্রয়োজন আমাদের আন্তরিকতা এবং সদিচ্ছা। আমরা সবাই মিলে-গভর্নমেন্ট, সিভিল সোসাইটি, এমপ্লয়ার, কমিউনিটি, প্যারেন্টস—সবাইকেই ইনভলভ হতে হবে এবং সবাইকে মিলে এটা নিরসনে কাজ করতে হবে।’

প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা আর সর্বোচ্চ এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই নতুন কাঠামো ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
১১ ঘণ্টা আগে
রাজবাড়ীর কালুখালী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে চাঁদা দাবি, মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) অভিযান চালিয়ে বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
১২ ঘণ্টা আগে
দেশের সব রপ্তানিমুখী খাতের জন্য কাস্টমস বন্ড সুবিধা সম্প্রসারণসহ ব্যবসা সহজ করতে একগুচ্ছ প্রস্তাব করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে সংসদে বাজেট বক্তৃতায় এসব সংস্কারের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
১২ ঘণ্টা আগে
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল আকারের বাজেটকে ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ আখ্যা দিয়েছে । প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বাজেটে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা অর্জন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।
১২ ঘণ্টা আগে