আবদুল্লাহ কাফি

সামাজিক মাধ্যমে শিশুদের নিয়ে বিকৃত যৌন ফ্যান্টাসি বাড়ছে। ফেসবুক গ্রুপ ও মেসেঞ্জারে পরিচয়ের সূত্রে ঘনিষ্ঠ, এমনকি শিশুর সঙ্গে নিজের যৌন কার্যকলাপ নিয়ে গর্বও করছেন অনেকে। ফেসবুকে ‘ক’ নামে একটি পাবলিক গ্রুপের সদস্য (২৮), তিনি রাজধানীর বসুন্ধরার একটি কওমি মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিসে (তাকমিল) পড়েন।
ফেসবুক মেসেঞ্জারে পরিচয়ের পর মগবাজারের একটি রেস্তোরাঁয় তাঁর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। অকপটে এই শিক্ষার্থী জানান, বছর পাঁচেক আগে লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসায় পড়ার সময় তিনি প্রথম ছেলেশিশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেন। এরপর একাধিক শিশুর সঙ্গে মিশেছেন। স্কুল-মাদ্রাসার ছেলেরা পছন্দ তাঁর।
২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর খোলা গ্রুপ ‘ক’– এর সদস্য ৬ হাজার ৫০০। ফেসবুকে একই ধরনের আরেক গ্রুপ ‘খ’ ২০২৫ সালের ১ জুন খোলা। বর্তমানে সদস্য ৩ হাজার ৫০০। গ্রুপ দুটিতে দিনে দুই শতাধিক পোস্ট থাকে, যার অধিকাংশ ছেলেশিশু সঙ্গে বিকৃত যৌন ফ্যান্টাসি-সংক্রান্ত। এসব গ্রুপে ভুয়া আইডির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অনেকেই ছেলেশিশুকে ফাঁদে ফেলছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রায় এক মাসের অনুসন্ধানে প্রতিবেদক কীভাবে ফেসবুকে ছেলেশিশুদের টার্গেট করা হয়, তা জানতে সংশ্লিষ্ট দুটি গ্রুপের অন্তত ১৮০ সদস্যের সঙ্গে অডিও-ভিডিও এবং সরাসরি যোগাযোগ করেন। এদের অর্ধেকের বেশি মাদ্রাসার ছাত্র এবং তারা ছেলেশিশুর সঙ্গে নিজের যৌন অভিজ্ঞতার কথা জানান।
যেখানে অল্প জায়গায় একসঙ্গে অনেক মানুষ থাকার আয়োজন, সেখানেই সমকামিতা কিংবা বলাৎকারের মতো অপরাধ হতে দেখা যায়। মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কেউ ফেরেশতা নন। ভুলত্রুটিরও ঊর্ধ্বে নন। তবে যতটুকু ঘটছে, তাও কোনোভাবে কাম্য নয়। মামুনুল হক, আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
এসব গ্রুপের সদস্যরা শিশু নিপীড়নের কাহিনি প্রকাশ্যে শেয়ার করছেন। পেডোফিলিয়ার মতো অপরাধকে তারা শুধু স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না, কিছু ক্ষেত্রে উদযাপনও করছেন।
মাদ্রাসায় এই ধরনের ঘটনার বাস্তবতা স্বীকার করেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন সমাজের অন্য ৮-১০টা অঙ্গনের মতোই। যেখানে অল্প জায়গায় একসঙ্গে অনেক মানুষ থাকার আয়োজন, সেখানেই সমকামিতা কিংবা বলাৎকারের মতো অপরাধ হতে দেখা যায়। মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কেউ ফেরেশতা নন। ভুলত্রুটিরও ঊর্ধ্বে নন। তবে যতটুকু ঘটছে, তাও কোনোভাবে কাম্য নয়।’

তিনি পরামর্শ দেন, এসব বন্ধ করার জন্য প্রত্যেক শিশুর জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা, সার্বক্ষণিক নজরদারি, খোলামেলা পরিবেশ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা নিশ্চিত করতে হবে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দরকার। পরিবার-পরিজনসহ তাঁরা যেন মাদ্রাসায় কিংবা কাছাকাছি থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত করা গেলে এসব ঘটনা কমে আসবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব ঘটনার বিপরীতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেই। কারণ, কর্তৃপক্ষ জানে– ব্যবস্থা নিলে তাদের ব্যবসার ভিত নড়ে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো– কর্তৃপক্ষ একটি ঘটনায় তথ্য-প্রমাণ এবং তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে, অন্যরা এসব করার সাহস পাবে না।
মাদ্রাসা শিক্ষায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষায় তৃতীয় পক্ষ বা টেকনোলজিক্যাল মনিটরিং নেই। তৃতীয় পক্ষের নজরদারি খুব জরুরি। ওখানে সিসি ক্যামেরা থাকুক, সরকার চাইলে এসব বাধ্যতামূলক করতে পারে।
জানতে চাইলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান স্ট্রিমকে বলেন, ‘ফেসবুকের দুটি পাবলিক গ্রুপ ও তাদের কার্যক্রম এখনো আমাদের সাইবার মনিটরিং সেলের নজরে আসেনি। অবশ্যই খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফেসবুক গ্রুপে শিশুদের নিয়ে বিকৃত যৌন ফ্যান্টাসি শেয়ার ও আলোচনা স্বাভাবিক আড্ডায় পরিণত হয়েছে। কেবল গ্রুপে পোস্ট করেই থেমে থাকছেন না, মেসেঞ্জারের চ্যাটে খোলাখুলি শেয়ার করছেন শিশু ধর্ষণের ভিডিও ও যৌন নির্যাতনের ছবি। অথচ আইনে এসবের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
প্রতিবেদকের হাতে এসব গ্রুপের গোপন চ্যাট এবং ভিডিও রয়েছে। সেখানে কীভাবে শিশুদের টার্গেট করা যায়, সে আলাপ এসেছে। গ্রুপ ‘খ’-তে গোপন আইডি থেকে ১০-১১ বছর বয়সী দুই শিশুর ছবি পোস্ট করে তাদের ভিডিও লাগবে কিনা জানতে চাওয়া হয়। ১৬টি মন্তব্যের মধ্যে পাঁচজন ভিডিও দেখার আগ্রহ দেখান। তবে ভয়াবহ হলো– একাধিক মন্তব্যকারী ইতোমধ্যে ভিডিওটি দেখেছেন এবং তারা এই ধরনের নতুন কনটেন্ট খুঁজছেন।

একই গ্রুপে একটি আইডি থেকে ছেলেশিশুর ছবি দিয়ে লেখা, ছবিটির মতো ছেলে চাই। ওয়াইফ ম্যাটেরিয়াল হিসেবে রেখে দেব। মাদ্রাসা ছাড়া কেউ নক দিবা না, বয়স্ক পছন্দ না।
দুটি গ্রুপের পোস্ট ও মন্তব্যে অনেকেই শিশুর প্রতি আগ্রহ এবং শারীরিক সম্পর্ক করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। এসব পোস্ট ও মন্তব্য থেকে ব্যক্তিগত পরিচয় গড়ে অনেকেই ছেলেশিশুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন।
দুটি গ্রুপের অন্তত ৯০ সদস্য স্ট্রিমকে জানান, তারা বিভিন্নভাবে মাদ্রাসার সঙ্গে জড়িত। তাদের কেউ শিক্ষার্থী, কেউ শিক্ষক। আরবি শিক্ষক থেকে মসজিদের ইমাম, আবার পড়াশোনা ছেড়ে অন্য পেশার লোকজনও আছেন। মাদ্রাসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলেও, অনেকেই শিশুদের নিয়ে বিকৃত ফ্যান্টাসির জন্য এসব গ্রুপে যুক্ত হয়েছেন।
‘খ’ গ্রুপের সদস্য ‘রোল প্লেয়ার’। আইডির প্রোফাইলে নিকাব পড়া নারীর ছবি। পরিচয়ের পরে খোলস ছাড়েন। দাওরায়ে হাদিস করা এই ব্যক্তি বর্তমানে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকার একটি স্কুলে আরবি পড়ান।
ফোনে আলাপের একপর্যায়ে হোয়াটসঅ্যাপের ভিডিও কলে এসে এই শিক্ষক স্ট্রিমকে বলেন, অনেক আগে থেকে মাদ্রাসার ছেলে পছন্দ করি। কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছি। স্ত্রী রয়েছে। তবে এখনো আগের জীবন মিস করি। এজন্য ছেলেদের সঙ্গে কথা বলি। তাঁর ভাষ্যে, ছেলেদের মধ্যে এমন কিছু আছে, যা নারীর পক্ষে পুরুষকে দেওয়া সম্ভব নয়।
‘ক’ গ্রুপের সদস্য উম্মে কুলসুম আফিফা নামের আইডি চালান ডেমরার এক যুবক। তারাবো বিশ্বরোডের একটি মাদ্রাসায় পড়েছেন। আগামী বছর দাওরায়ে হাদিস শেষ করবেন। যোগাযোগের এক পর্যায়ে প্রতিবেদককে নিজের বাসায় যেতে দেন। বাসায় প্রায় শিশুদের আনেন জানিয়ে প্রতিবেদকেও একই কাজের প্রস্তাব দেন তিনি।
‘তানভীর’ নামে আইডির মালিক ময়মনসিংহের গফরগাঁয়ের একটি মসজিদের ইমাম। তিনি যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে, প্রতিবেদক জায়গায় বিষয়ে জানতে চান। তখন এই যুবক বলেন, ‘মসজিদে আমার থাকার জন্য আলাদা কক্ষ আছে। তুমি আসলে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারব।’
হুজুরের পাগল, হুজুর মিয়া, মাদ্রাসার বন্ধু ভার্সেটাইল, ময়মনসিংহের হুজুর টপ, কিউট পিচ্চি হুজুর, চিকনা বয়, সঙ্গীবিহীন বন্ধু, কিউট পোলা, ভদ্র বালক, অচিন পাখি, একলা জীবন– বাংলা, ইংরেজি ও আরবিতে এমন ভুয়া আইডি খুলে গ্রুপ দুটির মাধ্যমে শিশুদের যৌন নিপীড়ন করা হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় পড়াকালে মীর হুযাইফা আল-মামদূহ শিশুদের যৌন হেনস্তার নানা অভিযোগ পেয়েছেন। পরে ২০১৯ সালে সামাজিক মাধ্যমে অ্যাক্টিভিজম শুরু করেন তিনি। প্রথমে নিজের জানা ঘটনাগুলো শেয়ার করেন। পরে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত নেন।
মীর হুযাইফা আল-মামদূহ স্ট্রিমকে বলেন, ‘মাদ্রাসায় এসব ঘটনা আছে। তবে সব মাদ্রাসায় আছে, তা বলব না। অন্তত ১০ ভুক্তভোগী আমাকে লিখিত দিয়েছেন, যারা নামি শায়েখ, হাদিসের উস্তাদ ও শিক্ষকের কাছে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে এসব লিখে আমি হুজুরদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছি। এসব ঘটনা প্রকাশ্যে এলে দ্বীনের ক্ষতি হবে– অজুহাত দাঁড় করিয়ে হুজুররা এড়িয়ে যান। ক্ষেত্র বিশেষে ধামাচাপা দেন। বাস্তবে শাস্তি কার্যকর না করে লুকানোর মাধ্যমে তাঁরা ধর্মের আরও বেশি ক্ষতি করছেন। প্রকাশ্যে এলে অনেকে সচেতন হবেন।’
অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় বোর্ডের তদন্ত কমিটি যায়। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে সমস্যা হলো, অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগতভাবে চলে। বোর্ডের আওতায় না পড়ায়, তাদের কিছু করা যায় না। ওবায়দুর রহমান খান নদভী, মহাপরিচালক, বেফাক
শিশু যৌন নির্যাতনের অধিকাংশ অভিযোগ মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দাবি করেছেন আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর আবু আহমেদ ফয়জুল কবির। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনার তথ্য আমরা আলাদা করে সংরক্ষণ করি না। তবে আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে– শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বেশি মাদ্রাসায়। ঢালাওভাবে সব মাদ্রাসায় হচ্ছে, এটি আমরা বলতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা কিংবা অন্যান্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানে শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের ঘটনা বন্ধ করার জন্য সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা থাকা দরকার। কারণ, শিশুরা শিক্ষা জীবনের শুরুতে এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হলে, তার সঠিক মানবিক বিকাশ হবে না। নানা প্রতিবন্ধকতায় জীবন থমকে যেতে পারে।’
কওমি মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)। এই বোর্ডের অধীনে ৩৩ হাজারের বেশি মাদ্রাসা। বেফাক ছাড়াও কওমি মাদ্রাসার জন্য আরও পাঁচটি শিক্ষাবোর্ড রয়েছে।
মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুর যৌন নিপীড়নের বেশির ভাগ ঘটনা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কান পর্যন্ত পৌঁছে না। উভয়ে চেপে যায়। তবে অভিযোগ পেলে বহিষ্কার, মাদ্রাসার নিবন্ধন বাতিলসহ নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বেফাকের মহাপরিচালক ওবায়দুর রহমান খান নদভী স্ট্রিমকে বলেন, অভিযোগ পেলে ওই প্রতিষ্ঠানে বোর্ডের তদন্ত কমিটি যায়। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে সমস্যা হলো, অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগতভাবে চলে। বোর্ডের আওতায় না পড়ায়, তাদের আমরা কিছু করতে পারি না।
বরখাস্তের পর অভিযুক্ত শিক্ষক আরেক মাদ্রাসায় চাকরি কীভাবে পান– প্রশ্নে তিনি বলেন, কোনো অভিযোগের পর প্রিন্সিপালের দুর্বলতা থাকলে আমার মাদ্রাসার নিবন্ধন বাতিল করি। একজন শিক্ষক কবে মাদ্রাসায় এলেন, কে নিয়োগ দিলেন– এসব আমরা দেখি। তবে আমাদের কেন্দ্রীয় নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা নেই। সফটওয়্যারের কাজ চলছে। কেন্দ্রীয়ভাবে সবাইকে নিবন্ধনের আওতায় আনা গেলে, গুরুতর অভিযোগে বরখাস্ত কেউ অন্যত্র চাকরি করতে পারবেন না।
শিক্ষক ছাড়াও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত ছেলেশিশুকে নির্যাতনের ব্যাপারে ওবায়দুর রহমান বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠিনভাবে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বলা আছে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা আছে। দেখা যাচ্ছে, ১০০ চেষ্টার মধ্যে ৯৯টিতে আমরা সফল। একটি হয়তো মিস হয়ে যাচ্ছে।
গত ২৮ জুলাই কওমি মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ও দায়িত্বশীল মুরুব্বিদের প্রতি ৬টি প্রস্তাবনা দিয়েছেন ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। এগুলো হলো– কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযোগ গ্রহণ সেল গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত সংস্কার, শিক্ষক ও স্টাফদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীতি এবং অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে আনা।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি আরও লেখেন, ইসলামি শরিয়তে শিশুদের সঙ্গে কোমল আচরণের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কতিপয় তথাকথিত শিক্ষকের এ ধরনের ইসলাম ও নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ড যুগপৎ উদ্বেগজনক এবং লজ্জাজনক।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন স্ট্রিমকে বলেন, আমাদের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এই ধরনের ঘটনা নজরদারি করে। অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু পেলে বা কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে তারা ব্যবস্থা নেয়। আবার যেগুলো দেশ এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সাইবার ক্রাইম ইউনিট কাজ করে।

সামাজিক মাধ্যমে শিশুদের নিয়ে বিকৃত যৌন ফ্যান্টাসি বাড়ছে। ফেসবুক গ্রুপ ও মেসেঞ্জারে পরিচয়ের সূত্রে ঘনিষ্ঠ, এমনকি শিশুর সঙ্গে নিজের যৌন কার্যকলাপ নিয়ে গর্বও করছেন অনেকে। ফেসবুকে ‘ক’ নামে একটি পাবলিক গ্রুপের সদস্য (২৮), তিনি রাজধানীর বসুন্ধরার একটি কওমি মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিসে (তাকমিল) পড়েন।
ফেসবুক মেসেঞ্জারে পরিচয়ের পর মগবাজারের একটি রেস্তোরাঁয় তাঁর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। অকপটে এই শিক্ষার্থী জানান, বছর পাঁচেক আগে লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসায় পড়ার সময় তিনি প্রথম ছেলেশিশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেন। এরপর একাধিক শিশুর সঙ্গে মিশেছেন। স্কুল-মাদ্রাসার ছেলেরা পছন্দ তাঁর।
২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর খোলা গ্রুপ ‘ক’– এর সদস্য ৬ হাজার ৫০০। ফেসবুকে একই ধরনের আরেক গ্রুপ ‘খ’ ২০২৫ সালের ১ জুন খোলা। বর্তমানে সদস্য ৩ হাজার ৫০০। গ্রুপ দুটিতে দিনে দুই শতাধিক পোস্ট থাকে, যার অধিকাংশ ছেলেশিশু সঙ্গে বিকৃত যৌন ফ্যান্টাসি-সংক্রান্ত। এসব গ্রুপে ভুয়া আইডির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অনেকেই ছেলেশিশুকে ফাঁদে ফেলছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রায় এক মাসের অনুসন্ধানে প্রতিবেদক কীভাবে ফেসবুকে ছেলেশিশুদের টার্গেট করা হয়, তা জানতে সংশ্লিষ্ট দুটি গ্রুপের অন্তত ১৮০ সদস্যের সঙ্গে অডিও-ভিডিও এবং সরাসরি যোগাযোগ করেন। এদের অর্ধেকের বেশি মাদ্রাসার ছাত্র এবং তারা ছেলেশিশুর সঙ্গে নিজের যৌন অভিজ্ঞতার কথা জানান।
যেখানে অল্প জায়গায় একসঙ্গে অনেক মানুষ থাকার আয়োজন, সেখানেই সমকামিতা কিংবা বলাৎকারের মতো অপরাধ হতে দেখা যায়। মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কেউ ফেরেশতা নন। ভুলত্রুটিরও ঊর্ধ্বে নন। তবে যতটুকু ঘটছে, তাও কোনোভাবে কাম্য নয়। মামুনুল হক, আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
এসব গ্রুপের সদস্যরা শিশু নিপীড়নের কাহিনি প্রকাশ্যে শেয়ার করছেন। পেডোফিলিয়ার মতো অপরাধকে তারা শুধু স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না, কিছু ক্ষেত্রে উদযাপনও করছেন।
মাদ্রাসায় এই ধরনের ঘটনার বাস্তবতা স্বীকার করেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন সমাজের অন্য ৮-১০টা অঙ্গনের মতোই। যেখানে অল্প জায়গায় একসঙ্গে অনেক মানুষ থাকার আয়োজন, সেখানেই সমকামিতা কিংবা বলাৎকারের মতো অপরাধ হতে দেখা যায়। মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কেউ ফেরেশতা নন। ভুলত্রুটিরও ঊর্ধ্বে নন। তবে যতটুকু ঘটছে, তাও কোনোভাবে কাম্য নয়।’

তিনি পরামর্শ দেন, এসব বন্ধ করার জন্য প্রত্যেক শিশুর জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা, সার্বক্ষণিক নজরদারি, খোলামেলা পরিবেশ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা নিশ্চিত করতে হবে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দরকার। পরিবার-পরিজনসহ তাঁরা যেন মাদ্রাসায় কিংবা কাছাকাছি থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত করা গেলে এসব ঘটনা কমে আসবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব ঘটনার বিপরীতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেই। কারণ, কর্তৃপক্ষ জানে– ব্যবস্থা নিলে তাদের ব্যবসার ভিত নড়ে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো– কর্তৃপক্ষ একটি ঘটনায় তথ্য-প্রমাণ এবং তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে, অন্যরা এসব করার সাহস পাবে না।
মাদ্রাসা শিক্ষায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষায় তৃতীয় পক্ষ বা টেকনোলজিক্যাল মনিটরিং নেই। তৃতীয় পক্ষের নজরদারি খুব জরুরি। ওখানে সিসি ক্যামেরা থাকুক, সরকার চাইলে এসব বাধ্যতামূলক করতে পারে।
জানতে চাইলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান স্ট্রিমকে বলেন, ‘ফেসবুকের দুটি পাবলিক গ্রুপ ও তাদের কার্যক্রম এখনো আমাদের সাইবার মনিটরিং সেলের নজরে আসেনি। অবশ্যই খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফেসবুক গ্রুপে শিশুদের নিয়ে বিকৃত যৌন ফ্যান্টাসি শেয়ার ও আলোচনা স্বাভাবিক আড্ডায় পরিণত হয়েছে। কেবল গ্রুপে পোস্ট করেই থেমে থাকছেন না, মেসেঞ্জারের চ্যাটে খোলাখুলি শেয়ার করছেন শিশু ধর্ষণের ভিডিও ও যৌন নির্যাতনের ছবি। অথচ আইনে এসবের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
প্রতিবেদকের হাতে এসব গ্রুপের গোপন চ্যাট এবং ভিডিও রয়েছে। সেখানে কীভাবে শিশুদের টার্গেট করা যায়, সে আলাপ এসেছে। গ্রুপ ‘খ’-তে গোপন আইডি থেকে ১০-১১ বছর বয়সী দুই শিশুর ছবি পোস্ট করে তাদের ভিডিও লাগবে কিনা জানতে চাওয়া হয়। ১৬টি মন্তব্যের মধ্যে পাঁচজন ভিডিও দেখার আগ্রহ দেখান। তবে ভয়াবহ হলো– একাধিক মন্তব্যকারী ইতোমধ্যে ভিডিওটি দেখেছেন এবং তারা এই ধরনের নতুন কনটেন্ট খুঁজছেন।

একই গ্রুপে একটি আইডি থেকে ছেলেশিশুর ছবি দিয়ে লেখা, ছবিটির মতো ছেলে চাই। ওয়াইফ ম্যাটেরিয়াল হিসেবে রেখে দেব। মাদ্রাসা ছাড়া কেউ নক দিবা না, বয়স্ক পছন্দ না।
দুটি গ্রুপের পোস্ট ও মন্তব্যে অনেকেই শিশুর প্রতি আগ্রহ এবং শারীরিক সম্পর্ক করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। এসব পোস্ট ও মন্তব্য থেকে ব্যক্তিগত পরিচয় গড়ে অনেকেই ছেলেশিশুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন।
দুটি গ্রুপের অন্তত ৯০ সদস্য স্ট্রিমকে জানান, তারা বিভিন্নভাবে মাদ্রাসার সঙ্গে জড়িত। তাদের কেউ শিক্ষার্থী, কেউ শিক্ষক। আরবি শিক্ষক থেকে মসজিদের ইমাম, আবার পড়াশোনা ছেড়ে অন্য পেশার লোকজনও আছেন। মাদ্রাসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলেও, অনেকেই শিশুদের নিয়ে বিকৃত ফ্যান্টাসির জন্য এসব গ্রুপে যুক্ত হয়েছেন।
‘খ’ গ্রুপের সদস্য ‘রোল প্লেয়ার’। আইডির প্রোফাইলে নিকাব পড়া নারীর ছবি। পরিচয়ের পরে খোলস ছাড়েন। দাওরায়ে হাদিস করা এই ব্যক্তি বর্তমানে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকার একটি স্কুলে আরবি পড়ান।
ফোনে আলাপের একপর্যায়ে হোয়াটসঅ্যাপের ভিডিও কলে এসে এই শিক্ষক স্ট্রিমকে বলেন, অনেক আগে থেকে মাদ্রাসার ছেলে পছন্দ করি। কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছি। স্ত্রী রয়েছে। তবে এখনো আগের জীবন মিস করি। এজন্য ছেলেদের সঙ্গে কথা বলি। তাঁর ভাষ্যে, ছেলেদের মধ্যে এমন কিছু আছে, যা নারীর পক্ষে পুরুষকে দেওয়া সম্ভব নয়।
‘ক’ গ্রুপের সদস্য উম্মে কুলসুম আফিফা নামের আইডি চালান ডেমরার এক যুবক। তারাবো বিশ্বরোডের একটি মাদ্রাসায় পড়েছেন। আগামী বছর দাওরায়ে হাদিস শেষ করবেন। যোগাযোগের এক পর্যায়ে প্রতিবেদককে নিজের বাসায় যেতে দেন। বাসায় প্রায় শিশুদের আনেন জানিয়ে প্রতিবেদকেও একই কাজের প্রস্তাব দেন তিনি।
‘তানভীর’ নামে আইডির মালিক ময়মনসিংহের গফরগাঁয়ের একটি মসজিদের ইমাম। তিনি যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে, প্রতিবেদক জায়গায় বিষয়ে জানতে চান। তখন এই যুবক বলেন, ‘মসজিদে আমার থাকার জন্য আলাদা কক্ষ আছে। তুমি আসলে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারব।’
হুজুরের পাগল, হুজুর মিয়া, মাদ্রাসার বন্ধু ভার্সেটাইল, ময়মনসিংহের হুজুর টপ, কিউট পিচ্চি হুজুর, চিকনা বয়, সঙ্গীবিহীন বন্ধু, কিউট পোলা, ভদ্র বালক, অচিন পাখি, একলা জীবন– বাংলা, ইংরেজি ও আরবিতে এমন ভুয়া আইডি খুলে গ্রুপ দুটির মাধ্যমে শিশুদের যৌন নিপীড়ন করা হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় পড়াকালে মীর হুযাইফা আল-মামদূহ শিশুদের যৌন হেনস্তার নানা অভিযোগ পেয়েছেন। পরে ২০১৯ সালে সামাজিক মাধ্যমে অ্যাক্টিভিজম শুরু করেন তিনি। প্রথমে নিজের জানা ঘটনাগুলো শেয়ার করেন। পরে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত নেন।
মীর হুযাইফা আল-মামদূহ স্ট্রিমকে বলেন, ‘মাদ্রাসায় এসব ঘটনা আছে। তবে সব মাদ্রাসায় আছে, তা বলব না। অন্তত ১০ ভুক্তভোগী আমাকে লিখিত দিয়েছেন, যারা নামি শায়েখ, হাদিসের উস্তাদ ও শিক্ষকের কাছে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে এসব লিখে আমি হুজুরদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছি। এসব ঘটনা প্রকাশ্যে এলে দ্বীনের ক্ষতি হবে– অজুহাত দাঁড় করিয়ে হুজুররা এড়িয়ে যান। ক্ষেত্র বিশেষে ধামাচাপা দেন। বাস্তবে শাস্তি কার্যকর না করে লুকানোর মাধ্যমে তাঁরা ধর্মের আরও বেশি ক্ষতি করছেন। প্রকাশ্যে এলে অনেকে সচেতন হবেন।’
অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় বোর্ডের তদন্ত কমিটি যায়। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে সমস্যা হলো, অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগতভাবে চলে। বোর্ডের আওতায় না পড়ায়, তাদের কিছু করা যায় না। ওবায়দুর রহমান খান নদভী, মহাপরিচালক, বেফাক
শিশু যৌন নির্যাতনের অধিকাংশ অভিযোগ মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দাবি করেছেন আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর আবু আহমেদ ফয়জুল কবির। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনার তথ্য আমরা আলাদা করে সংরক্ষণ করি না। তবে আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে– শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বেশি মাদ্রাসায়। ঢালাওভাবে সব মাদ্রাসায় হচ্ছে, এটি আমরা বলতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা কিংবা অন্যান্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানে শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের ঘটনা বন্ধ করার জন্য সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা থাকা দরকার। কারণ, শিশুরা শিক্ষা জীবনের শুরুতে এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হলে, তার সঠিক মানবিক বিকাশ হবে না। নানা প্রতিবন্ধকতায় জীবন থমকে যেতে পারে।’
কওমি মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)। এই বোর্ডের অধীনে ৩৩ হাজারের বেশি মাদ্রাসা। বেফাক ছাড়াও কওমি মাদ্রাসার জন্য আরও পাঁচটি শিক্ষাবোর্ড রয়েছে।
মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুর যৌন নিপীড়নের বেশির ভাগ ঘটনা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কান পর্যন্ত পৌঁছে না। উভয়ে চেপে যায়। তবে অভিযোগ পেলে বহিষ্কার, মাদ্রাসার নিবন্ধন বাতিলসহ নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বেফাকের মহাপরিচালক ওবায়দুর রহমান খান নদভী স্ট্রিমকে বলেন, অভিযোগ পেলে ওই প্রতিষ্ঠানে বোর্ডের তদন্ত কমিটি যায়। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে সমস্যা হলো, অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগতভাবে চলে। বোর্ডের আওতায় না পড়ায়, তাদের আমরা কিছু করতে পারি না।
বরখাস্তের পর অভিযুক্ত শিক্ষক আরেক মাদ্রাসায় চাকরি কীভাবে পান– প্রশ্নে তিনি বলেন, কোনো অভিযোগের পর প্রিন্সিপালের দুর্বলতা থাকলে আমার মাদ্রাসার নিবন্ধন বাতিল করি। একজন শিক্ষক কবে মাদ্রাসায় এলেন, কে নিয়োগ দিলেন– এসব আমরা দেখি। তবে আমাদের কেন্দ্রীয় নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা নেই। সফটওয়্যারের কাজ চলছে। কেন্দ্রীয়ভাবে সবাইকে নিবন্ধনের আওতায় আনা গেলে, গুরুতর অভিযোগে বরখাস্ত কেউ অন্যত্র চাকরি করতে পারবেন না।
শিক্ষক ছাড়াও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত ছেলেশিশুকে নির্যাতনের ব্যাপারে ওবায়দুর রহমান বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠিনভাবে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বলা আছে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা আছে। দেখা যাচ্ছে, ১০০ চেষ্টার মধ্যে ৯৯টিতে আমরা সফল। একটি হয়তো মিস হয়ে যাচ্ছে।
গত ২৮ জুলাই কওমি মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ও দায়িত্বশীল মুরুব্বিদের প্রতি ৬টি প্রস্তাবনা দিয়েছেন ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। এগুলো হলো– কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযোগ গ্রহণ সেল গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত সংস্কার, শিক্ষক ও স্টাফদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীতি এবং অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে আনা।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি আরও লেখেন, ইসলামি শরিয়তে শিশুদের সঙ্গে কোমল আচরণের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কতিপয় তথাকথিত শিক্ষকের এ ধরনের ইসলাম ও নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ড যুগপৎ উদ্বেগজনক এবং লজ্জাজনক।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন স্ট্রিমকে বলেন, আমাদের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এই ধরনের ঘটনা নজরদারি করে। অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু পেলে বা কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে তারা ব্যবস্থা নেয়। আবার যেগুলো দেশ এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সাইবার ক্রাইম ইউনিট কাজ করে।
.png)

সাদিয়া রশ্নি সূচনাকে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সামাজিক মাধ্যম আলোচনা-সমালোচনায় সয়লাব তাঁর উপস্থাপনা। গত ৪ জুলাই রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ উপস্থাপনার পর সূচনাকে নিয়ে একাধিক পোস্ট ছড়ায়।
০৭ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবকে ‘আসক্তিকর’ এবং শিশুদের সুরক্ষায় অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে একটি রায় দিয়েছে।
২৬ মার্চ ২০২৬
নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে সরাসরি জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী এক ‘লাইভ ক্লাস’ চালু করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের তরুণ সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
১১ মার্চ ২০২৬
ঈদের কেনাকাটা করতে জনপ্রিয় লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ংয়ের সাভার আউটলেটে গিয়েছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তি। তবে তাঁকে এসময় ভেতরে প্রবেশ করতে বাঁধা দেন আউটলেটের নিরাপত্তা কর্মীরা।
০৮ মার্চ ২০২৬