ফলন ও দামে স্বস্তি, পাট চাষে লাভবান জয়পুরহাটের কৃষক
স্ট্রিম সংবাদদাতাজয়পুরহাট

গত কয়েক বছর পাটের ফলন ও বাজারদর নিয়ে হতাশ ছিলেন জয়পুরহাটের কৃষকেরা। এ বছর সময়মতো বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজারেও মিলছে ভালো দাম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন। শেষ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৩৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। আবাদ কম হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে ৮ হাজার ৫৩৩ মেট্রিক টন করা হয়।
এরই মধ্যে ২ হাজার ৪১৪ হেক্টর জমির পাট কাটা হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে সংশোধিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পাট পাওয়া গেছে। এখনো ২৩ হেক্টর জমির পাট কাটা বাকি।
জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের হিসাবে, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে সর্বোচ্চ প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন হয় ৮ থেকে ১০ মণ। বর্তমান বাজারদরে ওই পাট বিক্রি করে ৩০ হাজার থেকে ৪২ হাজার টাকা পাওয়া যায়। খরচ বাদে লাভ থাকে প্রায় ১৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা।
সরেজমিনে জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালগঞ্জ চারমাথা বাজারে দেখা যায়, ভ্যান ও ইজিবাইকে করে পাট নিয়ে আসছেন কৃষকেরা। সড়কের পাশে ও বিভিন্ন আড়তে স্তূপ করে রাখা হয়েছে পাট। পাটের মান অনুযায়ী দরদাম করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
আক্কেলপুর উপজেলার জালালপুর গ্রামের কৃষক জাইদুল ইসলাম ১০ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। তিনি বলেন, ওই জমি থেকে ৩ মণ ৪ কেজি পাট পেয়েছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। পাট বিক্রি করেছেন সাড়ে ১১ হাজার টাকায়।
একই উপজেলার ইসমাইলপুর গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর পাটের ফলন তেমন ভালো হয়নি। পাট চাষ করে লোকসান হচ্ছিল। তবে এ বছর ফলন ও দাম দুটিই ভালো। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ১৫ হাজার টাকার বেশি লাভ হয়েছে।
জামালগঞ্জ বাজারের পাটের আড়তদার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে পাটচাষিরা লাভবান হচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজু আলম সরকার বলেন, এ বছর পাট চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও কৃষকদের তেমন সমস্যা হয়নি। ভালো বাজারদরের কারণে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। আগামী মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ আরও বাড়বে।
.png)
-b52d51.jpeg)
-028855-256x144.webp)



-771542-256x144.webp)
