
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা চালাতে সৌদি আরবের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার বদলে সৌদিকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানায় আনাদোলু এজেন্সি।
অ্যাক্সিওস জানায়, হুতিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর মোকা দখল করে বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৃহস্পতিবার অল্প সময়ের ব্যবধানে দুবার যোগাযোগ করেন। প্রথমবার তিনি হুতিদের হামলার মুখে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর পিছু হটার বিষয়টি জানান। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার অনুরোধ করেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প সৌদি যুবরাজের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরান ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কৌশলগত মনোযোগ ধরে রাখতে চায়। নতুন কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি জড়িয়ে পড়াও এড়াতে চাইছে ওয়াশিংটন।
তবে সরাসরি বিমান হামলায় রাজি না হলেও সৌদি বাহিনীকে সহায়তা করতে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু–সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে হোয়াইট হাউস। সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন। তারা পরামর্শ ও সমন্বয়ের কাজ করেন।
এদিকে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে গেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। তিনি দেশটির জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘর্ষ সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুলআজিজ আলওয়াসিল বলেন, সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ সৌদির বিভিন্ন শহরের বেসামরিক স্থাপনায় হুতিদের হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব ‘প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা’ নেবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
মোকা ও এর আশপাশের উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। কারণ, এলাকাটি বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছে অবস্থিত। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ।
২০২২ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর ইয়েমেনে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ছিল। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের সরকার ও তাদের মিত্র বাহিনী দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।
২০১৫ সালের মার্চ থেকে সৌদি আরব ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে একটি সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। হুতিরা ইরানের কাছ থেকে সমর্থন পায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
.png)
-b52d51.jpeg)
-028855-256x144.webp)




