নতুন মার্কিন শুল্কে অবস্থার পরিবর্তন হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ২২: ৪৭
২০২৬-২৭ অর্থ বছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বাণিজমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন শুল্কে দেশের পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে যে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন আইনি ভিত্তিতে একই হারে শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

রপ্তানিতে তৈরি পোশাকের ওপর অতিনির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টাপাল্টি ট্যারিফ ঘোষণা করেছিল, পরে তা ১৯ শতাংশে নামানো হয়। এরপর মার্কিন উচ্চ আদালতের এক রায়ের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেকশন ১২২-এর অধীনে ব্যালান্স অব পেমেন্টের কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ মাসের জন্য শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ব্যবহার করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সেকশন ৩০১-এর আওতায় শ্রমিক-সংক্রান্ত একটি বিষয় উল্লেখ করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এতে বাস্তবে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কের জায়গায় নতুন নামে একই ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। আমাদের দৃষ্টিতে এটি শুধু একটি রিপ্লেসমেন্ট।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থা শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, প্রায় ৬০টি দেশের ওপর একই ধরনের শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোসহ যুক্তরাজ্যও রয়েছে। ফলে নতুন করে বাংলাদেশের ওপর কোনো অতিরিক্ত প্রভাব পড়বে না।

রপ্তানিতে তৈরি পোশাকের ওপর অতিনির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, যা ১৮ কোটি মানুষের একটি দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে স্বস্তিদায়ক নয়।

মন্ত্রী বলেন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটি শিল্পখাত রাতারাতি গড়ে ওঠে না। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার এবং বাজার সম্প্রসারণ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি বর্তমানের প্রায় ৩৮-৩৯ বিলিয়ন ডলার থেকে ৭০-৮০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পাশাপাশি অন্যান্য খাত থেকেও অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে শিল্প মালিকদের অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন প্রায় ১ হাজার ৭০০ এমএমসিএফটি এবং এলএনজি আমদানির মাধ্যমে আরও ৯০০ থেকে ৯৫০ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যমান দুটি এফএসআরইউয়ের সক্ষমতার কারণে এর বেশি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় দ্রুত আরও দুটি এফএসআরইউ যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে শিল্পকারখানার স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো গেলে এই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে এর তাৎক্ষণিক সমাধান নেই।

গত অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও চলতি অর্থবছরে আরও উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, গত বছর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারণে নীতিগত অনিশ্চয়তা ছিল। এখন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় নীতিগত স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা ফিরে এসেছে।

এলডিসি উত্তরণ নিয়েও অনিশ্চয়তা কেটে গেছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের ইউএনসিডিপি ও ইকোসকের কারিগরি পর্যায়ের দুটি ধাপ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সফলভাবে অতিক্রম করেছে। ফলে বাজার প্রবেশাধিকার নিয়ে আগামী তিন বছর বড় কোনো পরিবর্তনের আশঙ্কা নেই।

Ad 300x250

সম্পর্কিত