তাঁতিবাজারে সত্যিই কি তাঁতিরা থাকতেন? শাঁখারিবাজারের নামের সঙ্গে শাঁখারিদের সম্পর্ক কী? মাহুতটুলির মাহুতরা কোথায় গেল? পুরান ঢাকার পরিচিত এসব এলাকার নামের পেছনে আছে এমন অনেক গল্প। কোথাও পেশার স্মৃতি, কোথাও কোনো সম্প্রদায়ের বসতি, কোথাও আবার ফরাসি বা আর্মেনীয় বণিকদের ছাপ। পুরান ঢাকার নয়টি এলাকার নাম ধরে খুঁজে দেখা যাক সেই পুরোনো সময়ের গল্প।

পুরান ঢাকার অলি-গলি ধরে চলতে গিয়ে কখনও কি মনে হয়েছে ‘হাজার বছর ধরে পৃথিবীর পথে হাঁটছেন’? বাতাসে ‘প্রাচীন প্রাচীন’ গন্ধ, পলেস্তারা উঠে যাওয়া দালানে মিশে আছে ফেলে আসা অতীতের স্মৃতি, মানুষগুলোও যেন পুরোনো সময়ের সাক্ষী হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এলাকাজুড়ে।
পুরোনো এসব এলাকার নামের পেছনেও আছে অতীতের ইতিহাস। অনেক এলাকার নামই হয়েছে পেশা ও সম্প্রদায়ের নাম থেকে।
শুরুটা করা যাক কায়েতটুলি’কে দিয়ে। কায়েত শব্দটি এসেছে ‘কায়েস্ত’ থেকে। টুলী অর্থ বসতি বা বসবাসের জায়গা। অর্থাৎ কায়েতটুলি মানে হিন্দু কায়েস্তদের বসতি।
কায়স্থরা মুঘল প্রশাসনে লেখক, হিসাবরক্ষক ও নথিকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন।ফারসি ভাষায় তারা বেশ দক্ষ ছিলেন। ১৮৮৩ সালে জেমস ওয়াইজ তাঁর লেখায় চারটি কায়েস্ত পরিবারের কথা লেখেন। পরিবারগুলো নিজেদের ‘লালা’ নামে পরিচয় দিত। মুঘল আমলে তাঁরা ‘দেওয়ান’ পদ পেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। কায়েতটুলি আজও সেই স্মৃতি বহন করছে।
পুরান ঢাকার আরেকটি এলাকা তাঁতিবাজার। একসময় এটি ছিল অভিজাত এলাকা। মুঘল আমলের শুরুতেই এখানে বসতি গড়ে ওঠে। ইসলাম খান ঢাকায় রাজধানী প্রতিষ্ঠা করলে তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। তাঁতিদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গাও রাখা হয়েছিল। সেখানেই তৈরি হতো বিখ্যাত মসলিন কাপড়। তৈরি হতো সূক্ষ্ম সুতি কাপড়ও। ক্রেতারা সরাসরি তাঁতিদের বাড়ি যেতেন। সেখান থেকেই কাপড় কিনতেন। ধীরে ধীরে জমে ওঠে বিশাল বাজার। তখনই নাম হয় তাঁতিবাজার।
তবে ১৮৫০ সালের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। মসলিনের প্রচলন ক্রমেই কমতে থাকে। তখন সুতি কাপড়ের ব্যবসা বাড়ে। তাঁতিবাজারও হয়ে ওঠে বাণিজ্যের কেন্দ্র। নবাবপুর, ইসলামপুরও সেই বাণিজ্যে যুক্ত হয়। দেশভাগের পর আবার বদলে যায় দৃশ্য। ১৯৪৭ সালে বহু হিন্দু ব্যবসায়ী ভারত চলে গেলে সেই জায়গার জৌলুশ কমে যায়।
এদিকে শাঁখারিবাজারের গল্প আরও বর্ণিল। নামটি এসেছে শাঁখারি সম্প্রদায়ের পেশা থেকে। শাঁখা তৈরি করাই ছিল তাদের প্রধান কাজ। আঠারো শতকে ঢাকায় ছিলেন বহু শাঁখারি। শাঁখারিবাজার ছিল তাদের প্রধান বসতি। এখানে আজও পূজার বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়। শাঁখা, সিঁদুর, টিপও মেলে এখানে। পাওয়া যায় প্রদীপ, আবির এবং পূজার থালা আর বিয়ের টোপরও।
১৯৭১ সালে নেমে আসে শাঁখারিবাজারে নেমে আসে বিপর্যয়। অনেক শাঁখারি মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশ ছাড়লেও স্বাধীনতার পর আবার কেউ কেউ ফিরে আসেন। এভাবে পুরোনো পেশাটিও ধীরে ধীরে ফিরে আসে।
কাঠের কারিগরদের গল্পও আলাদা নয়। তাদের বলা হতো সূত্রধর। বিভিন্ন কাঠের বাড়ি, নৌকা, আসবাব তৈরি করতেন তারা। প্রাচীন ঢাকায় সেই সূত্রধরদের বসতি ছিল আলাদা।
ধারণা করা হয়, সূত্রধরদের বসতির কারণেই এলাকার নাম হয় সূত্রাপুর। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও এলাকাটি সমৃদ্ধ। মিল ব্যারাকের পাশেই রয়েছে একটি দুর্গ। সেটি বেগ মুরাদের প্রাচীন দুর্গ নামে পরিচিত।
একসময় পূর্ব বাংলার সমৃদ্ধ নগরী ঢাকা কাঁচা পাটের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিল। পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে ঢাকা অঞ্চলের কাঁচা পাট কলকাতার জুটশিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল ছিল। ফলে ঢাকার পাটের ব্যবসাকে ঘিরে দেশি-বিদেশি বণিকদের আনাগোনাও বাড়তে থাকে। এই ব্যবসায় বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন ঢাকার আর্মেনীয় বণিকরা। আব্রাহাম পোগজ, এম ডেভিড, জে সি সারকিস, জে জি এন পোগজ, মাইকেল সারকিস এবং পি আরাতুন ছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
তাদের কেউ পাটের ব্যবসা করতেন, কেউ আবার নানা ধরনের ইউরোপীয় পণ্যের বেচাকেনায় যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে এম ডেভিডের খ্যাতি ছিল সবচেয়ে বেশি। ব্যবসায়িক সাফল্যের কারণে তাঁকে বলা হতো ‘মার্চেন্ট প্রিন্স অব ইস্টার্ন বেঙ্গল’।
ব্যবসার পাশাপাশি ঢাকার আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ার ক্ষেত্রেও আর্মেনীয়দের ভূমিকা ছিল। ১৮৪৬ সালে ঢাকা ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলে এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জে জি এন পোগজ। তখনকার ঢাকায় এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। কারণ ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজনও বাড়ছিল।
এই আর্মেনীয় বণিকদের বসতিও ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ঢাকার একটি নির্দিষ্ট এলাকায়। পরে সেই এলাকাই পরিচিত হয় আরমানিটোলা নামে। তবে শুরু থেকেই জায়গাটির নাম আরমানিটোলা ছিল না। মুসলিম শাসনামলে এলাকাটি ‘আলে আবু সাঈদ’ নামে পরিচিত ছিল। আর্মেনীয়দের বসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো নামটি ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়।
আরমানিটোলায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পর আর্মেনীয়রা সেখানে গড়ে তোলেন গির্জা। পাশাপাশি ইউরোপীয় নানা পণ্যের দোকানও খুলেছিলেন তারা। ১৮৩২ সালের একটি হিসাব থেকে সেই সময়কার আর্মেনীয় সমাজের একটি ধারণা পাওয়া যায়। তখন ঢাকায় আর্মেনীয়দের মোট বাড়ির সংখ্যা ছিল ৪২টি। সব মিলিয়ে আর্মেনীয় ছিলেন ১২৬ জন। তাদের বড় একটি অংশ থাকতেন আরমানিটোলা ও তার আশপাশে।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে ঢাকার আর্মেনীয় সমাজের অবস্থাও বদলাতে থাকে। উনিশ শতকের শেষ দিকে তাদের সংখ্যা কমতে থাকে, এর পাশাপাশি প্রভাবও কমতে শুরু করে। এর পেছনে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাই ছিল অন্যতম বড় কারণ। ভারতবর্ষের ব্যবসা-বাণিজ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রভাব তখন দ্রুত বাড়ছিল। পাশাপাশি ইংরেজসহ অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকদের প্রতিযোগিতাও তীব্র হয়ে উঠে। এই প্রতিযোগিতায় অনেক আর্মেনীয় ব্যবসায়ী টিকে থাকতে পারেননি।
নাম শুনলেই অনুমান করা যায়, এলাকার নামের সঙ্গে ফরাসিদের সম্পর্ক রয়েছে। ঢাকায় বসবাসকারী ফরাসিদের স্মৃতিই যেন এই এলাকার নামের মধ্যে আটকে আছে। ১৬৮২ সালে ফরাসি নৌবহর ঢাকায় আসে। এরপর ধীরে ধীরে ঢাকায় গড়ে ওঠে ফরাসি বাণিজ্যকুঠি। তবে ফরাশগঞ্জের বর্তমান পরিচয়ের পেছনে রয়েছে আরেকটি ঘটনা।
নওয়াজিশ মোহাম্মদ খান যখন ঢাকার নায়েব নাজিম ছিলেন, তখন তাঁর অনুমতি নিয়ে ফরাসি বণিকেরা ১৭৪০ সালে বুড়িগঙ্গার তীরে বাজার স্থাপন করেন। সেই বাজারই পরে পরিচিত হয়ে ওঠে ফরাশগঞ্জ নামে। বাজারটি ইজারা নিয়েছিলেন আর্মেনীয় ব্যবসায়ী পোগোজ সাহেব। অর্থাৎ ফরাশগঞ্জের গল্পে ফরাসিদের পাশাপাশি আর্মেনীয়দেরও গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি ছিল।
ফরাসি ব্যবসায়ীরা এখানে মসলার বড় বড় পাইকারি আড়ৎ গড়ে তুলেছিলেন। কাঁচা হলুদ, আদা, রসুন ও মরিচের মতো মসলা ছিল তাঁদের ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু মসলা বিক্রিই নয়, ঢাকার বিখ্যাত মসলিনও তাদের ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফরাসিরা ঢাকার মসলিন বিদেশে রপ্তানি করতেন। ফলে বুড়িগঙ্গার তীরের এই বাজার ধীরে ধীরে ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়।
সময় গড়ানোর সঙ্গে ফরাশগঞ্জে শুধু ফরাসিরাই থাকেননি। পর্তুগিজ, ইংরেজ ও আর্মেনীয় ব্যবসায়ীরাও এখানে বসতি গড়েন। বুড়িগঙ্গার উত্তর তীরের বাদামতলী থেকে মিলব্যারাক পর্যন্ত তখন ইউরোপীয় বণিকদের বেশ আনাগোনা ছিল। নদীপথ, বাজার আর বাণিজ্য—সব মিলিয়ে এই অংশটি হয়ে উঠেছিল ঢাকার ব্যস্ততম এলাকাগুলোর একটি।
তবে উনিশ শতকের মাঝামাঝি এসে ফরাশগঞ্জের চেহারা আবার বদলাতে শুরু করে। ইউরোপীয় বণিকদের পাশাপাশি হিন্দু জমিদার ও ব্যবসায়ীরাও এখানে বসতবাড়ি তৈরি করতে শুরু করেন। তাদের নির্মিত বাড়িগুলো আজও পুরান ঢাকার স্থাপত্য ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নাম রূপলাল হাউজ। তবে বাড়িটি আগে ‘আরাতুন হাউজ’ নামে পরিচিত ছিল। ১৮২৫ সালে আর্মেনীয় ব্যবসায়ী স্টিফেন আরাতুন এটি নির্মাণ করেছিলেন বলে প্রচলিত আছে।

পরে ১৮৪০ সালে ব্যবসায়ী রূপলাল ও তাঁর ভাই রঘুনাথ দাস বাড়িটি কিনে নেন। তাঁরা কলকাতার মার্টিন কোম্পানিকে দিয়ে বাড়িটি নতুনভাবে নির্মাণ করান। এরপর রূপলাল হাউজ ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে সামাজিক আভিজাত্যের প্রতীক। ১৮৮৬ সালে ভারতের ভাইসরয় লর্ড ডাফরিনের সম্মানে এখানে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ এক বল নাচের অনুষ্ঠান।
পুরান ঢাকার আরেক পরিচিত নাম টিকাটুলি। একসময় এই এলাকায় তৈরি হতো বিশেষ ধরনের গোল টিকিয়া। কাঠ ও কয়লার গুঁড়ো দিয়ে বানানো সেই টিকিয়া ব্যবহার করা হতো তামাক সাজানোর পর আগুন দেওয়ার কাজে। যারা এই টিকিয়া তৈরি করতেন, তারা একসময় একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বসতি গড়ে তোলেন। তাদের পেশার নাম থেকেই জায়গাটির নাম হয়ে যায় টিকাটুলি।
এই টিকিয়া তৈরির কৌশলও ছিল বেশ রহস্যময়। কারিগররা তাদের কাজের পদ্ধতি অন্য কাউকে জানাতেন না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেই জ্ঞান নিজেদের মধ্যেই রাখতেন। ফলে কারিগররা একে একে হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যায় টিকিয়া তৈরির কৌশলও। আজ সেই টিকিয়াও নেই, নেই সেই কারিগরদের পেশা। শুধু টিকাটুলি নামটি এখনো পুরোনো গল্পটির কথা মনে করিয়ে দেয়।
পুরান ঢাকার আরেকটি এলাকার নাম নাজির বাজার। তবে লোকমুখে নামটি বদলে গিয়ে এখন অনেকের কাছে নাজিরা বাজার হিসেবে পরিচিত। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক নথিতে অবশ্য নামটি ‘নাজির বাজার’ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। এই নামের পেছনেও রয়েছে পেশার গল্প। একসময় সরকারি দপ্তরের হিসাব-নিকাশ ও নথিপত্রের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের নাজির বলা হতো। এই নাজিরদের বসতি বা কর্মস্থলের সঙ্গে এলাকার নামের সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
অতীতের সেই নাজিরা বাজার এখন খাদ্যরসিকদের ভোজনবিলাসের জন্য সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। পুরান ঢাকার বিখ্যাত হাজী বিরিয়ানি, বিউটি লাচ্ছি কিংবা কাবাবের দোকান, কী নেই এখানে? আজকের নাজিরা বাজারে সেই সরকারি কর্মচারীদের পুরোনো আবাসনের চিহ্ন হয়তো চোখে পড়ে না। কিন্তু এলাকার নামটি এখনো তাদের উপস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়। ঢাকার পুরোনো নামগুলোর বৈশিষ্ট্য এখানেই। মানুষ চলে যায়, পেশা হারিয়ে যায়, স্থাপনা বদলে যায়। কিন্তু কোনো কোনো নাম থেকে যায় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে।
পুরান ঢাকার মাহুতটুলি নামটির মধ্যেও আছে অন্যরকম এক ইতিহাস। সেই ইতিহাসে আছে হাতি, রাজা-বাদশাহ আর রাজকীয় জীবনের গল্প। একসময় হাতি ছিল রাজকীয় ক্ষমতা ও আভিজাত্যের প্রতীক। রাজা-বাদশাহরা হাতির পিঠে চড়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতেন। আবার এক শাসক অন্য শাসককে উপহার হিসেবেও হাতি দিতেন।
তাই মুঘল আমলে ঢাকাতেও হাতির ব্যবহার ও উপস্থিতি ছিল। তবে হাতি থাকলেই তো হলো না। তাদের পালন ও পরিচর্যার জন্য অনেক দক্ষ মানুষের প্রয়োজন ছিল। এই কাজ করতেন মাহুতরা। হাতির দেখাশোনাই ছিল তাদের পেশা। যেখানে এই মাহুতরা বসবাস করতেন, সেই এলাকাই পরিচিত হয় মাহুতটুলি নামে। কয়েক শতক আগের সেই হাতির দল আজ নেই। নেই রাজা-বাদশাহদের সেই শোভাযাত্রাও। কিন্তু মাহুতটুলি নামটি এখনো সেই সময়ের গল্প বয়ে চলেছে।
আজকের ব্যস্ত ঢাকার ভিড়ে এসব গল্প হয়তো সহজে চোখে পড়ে না। পুরোনো বাড়ির জায়গায় উঠেছে নতুন ভবন। বদলে গেছে অনেক রাস্তা, বাজার ও পাড়া। অনেক পেশাও হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। তবু এলাকার নামগুলো এখনো সেই স্মৃতি আঁকড়ে আছে।
.png)

‘মি. ওসমানী, আপনি কি জানেন আপনার উচ্চতা কম?’ কিংস কলেজের ভাইভা বোর্ডে প্রশ্নটা শুনে তরুণ আতাউল গণি ওসমানী মোটেই বিচলিত হলেন না। শান্তভাবে বললেন, ‘জি, জানি।’
১ দিন আগে
বঙ্গভবন। ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা দিলকুশার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবন অনেক কিছুর সাক্ষী। গল্পটা শুরু হয় ব্রিটিশ আমলে। তখন এই জায়গায় ছিল ঢাকার নবাব পরিবারের একটি বাগানবাড়ি। পরে সরকার সেটি কিনে নেয়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর এর নাম হয় ‘গভর্নমেন্ট হাউস’। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলে, ভবনটির নাম পাল্টে রাখা
২৩ আগস্ট ২০২৬
মশা ছোট। এতটাই ছোট যে হাতের এক চাপে তার অস্তিত্ব মুছে যায়। কিন্তু ইতিহাসের ওপর তার ছাপ মুছে ফেলা এত সহজ নয়। এই ক্ষুদ্র প্রাণী কখনো সেনাবাহিনী দুর্বল করেছে, কখনো যুদ্ধের ফলাফল বদলে দিয়েছে, আবার কখনো জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়েছে। উপনিবেশ বিস্তার থেকে শুরু করে মানবসভ্যতার নানা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকেও মশাবাহিত
২০ আগস্ট ২০২৬-1363a1-256x144.webp)
বুড়িগঙ্গার পানিতে শুরু হয়েছিল যে যাত্রা, তা একদিন গিয়ে শেষ হলো ইংলিশ চ্যানেলের ওপারে। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সকে আলাদা করেছে এই চ্যানেল। কোনো এক সাঁতারুর ব্যর্থতার খবরই একসময় নাড়া দিয়েছিল বাংলাদেশের আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা ব্রজেন দাসের। তাঁর মনে হলো, ইংলিশ চ্যানেল তাঁকে পাড়ি দিতেই হবে। এরপর সেই স্বপ্ন পূরণ
১৮ আগস্ট ২০২৬