রায়হান রহমান

পপ কালচার আর নানাবিধ মিম মেটেরিয়ালে আমরা যে ‘নিটশে’কে চিনি, আসল নিটশে তাকে দেখলে হয়তো একটু প্যারাই খেয়ে যেতেন।
-579be0.jpeg)
গড ইজ ডেড, হোয়াট ডাজন্ট কিল মি মেইকস মি স্ট্রংগার, উইল টু পাওয়ার – এই একেকটা লাইন আজ মোটিভেশনাল কোট, মিম, এমনকি পলিটিক্যাল আইডিওলোজির স্লোগান পর্যন্ত হয়ে গিছে । অথচ নিটশের নিজের লেখায় এই প্রত্যেকটা লাইনের পেছনে আছে অনেক জটিল একেকটা কনটেক্সট, যেটা বাদ পড়লে লাইনের টোটাল মিনিংটাই বদলায় যায়।
নিটশের মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ আমরা তার ৫টা কোর আইডিয়া নিয়ে আলাপ করবো। দেখবো, নিটশে আসলে কী বলছিলেন, আর আমরা কীভাবে ও কেন তাকে মিসরিড করছি।
উবারমেনশ

১৮৮৩ সালে ‘দাস স্পোক যারাথ্রুস্ট’তে নিটশে এই আইডিয়াটা আনছিলেন । ইউরোপে তখন ট্র্যাডিশনাল রিলিজিয়াস মোরালিটি ধসে পড়তেছে। নিটশে দেখতেছিলেন মানুষ একটা ভ্যাকুয়ামের দিকে আগায় যাচ্ছে। উবারমেনশ কোনো রেস বা বায়োলজিক্যাল সুপিরিওরিটি না। এইটা একটা প্রসেস যা নিজের ভেতরের ইনহেরিটেড ভ্যালুজ, হার্ড ইন্সটিংট আর ধার করা মোরালিটিকে কোশ্চেন করে নিজের মতো করে ভ্যালু তৈরি করার সক্ষমতা তৈরি করে। সহজ ভাষায় বললে, নিজেকে বারবার ওভারকাম করা এবং নিজের পুরানা ভার্সনকে ছাড়ায় যাওয়ার মত ঘটনা। অর্থাৎ, ম্যান ইজ সামথিং দ্যাট শ্যাল বি ওভারকাম!
কিন্তু পপ কালচারে আইসা এই আইডিয়াটাই হয়ে গেছে পাওয়ার ফ্যান্টাসি। যেনোবা ‘স্ট্রং সারভাইবস, উইক ক্রাশড’ টাইপ একধরনের সোশ্যাল ডারউইনিস্ট ডমিনেন্স ফ্যান্টাসি। এবং ইন্টারেস্টিংলি এই রিডিংটা নাজি প্রোপাগান্ডাতেও ইউজ হয়েছে। নিটশের বোন এলিজাবেথ নিটশে, নিটশের মৃত্যুর পর তার ‘আনপাবলিশড নোট’ এডিট করে ‘উইল টু পাওয়ার’ নামে একটা বই বের করেন।
-5cd312.jpeg)
সেই বইয়ে এলিজাবেথ নিজের অ্যান্টি সেমেটিক, ন্যাশনালিস্টিক পলিটিক্স ঢুকায় দেন। প্লাস, ‘ওভারম্যান’ ওয়ার্ডটা ইটসেলফ অনেক বেশি সুপারহিরো ঘরানার। তাই মিসরিডিংটাই অনেক বেশি গ্ল্যামারাস লাগে!
ফেমাস এই লাইনটা নিটশের ‘দ্য গে সায়েন্স’ বইয়ের ১২৫ নম্বর প্যাসেজে আসে।
বাজারের মধ্যে একটা পাগল লোক, দিনে দুপুরে লণ্ঠন হাতে চিৎকার করতে করতে এই লাইনটা বলতেছিল। মজার ব্যাপার হইল এটা কোনো ট্রায়াম্ফ্যান্ট এথিস্ট মেনিফ্যাস্টো না। নিটশে বলতেছেন, ইউরোপীয় সভ্যতা যে মোরাল আর মেটাফিজিক্যাল ফাউন্ডেশনের উপর দাঁড়ায় ছিল মানুষ সেটা সায়েন্স, সেকুলারিজম আর রেশনালিজম দিয়ে ভেঙে ফেলছে। এবং এখনো সেই ভাঙনের ওজনটা বুঝতে পারতেছেনা। পাগল লোকটা চিৎকার করতে করতে বলে, "আমরাই তারে খুন করছি"। কিন্তু বাজারের লোকজন তারে দেখে হাসে, বোঝে না সে কী বলতেছে।
এখন ইনস্টায়, টি শার্ট ফ্যাশন মার্কেটে এই লাইনটা একটা কনফিডেন্ট এথিজম ফ্লেক্স হয়ে গেছে, যেন ভিক্টরিটা নিটশেই ডিক্লেয়ার করতেছেন। লাইনটা এতোই পাঞ্চি যে ছোট্ট এই একটা লাইনেই পুরা ওয়ার্ল্ডভিউ বোঝানো যায়। কিন্তু আসল প্যাসেজটা পড়লে বুঝবেন, এটা কোনো সেলিব্রেশন ছিল না। ছিল একটা ক্রাইসিস ডায়াগনোসিস। নিটশে এই ক্রাইসিসটা নিয়ে উদযাপন তো দূর কি বাত, বরং মারাত্মক চিন্তিত ছিলেন।
এইটা নিটশের অনেক বড় একটা সাইকোলজিক্যাল আর অন্টোলজিক্যাল কনসেপ্ট, যেটা তার নানা লেখায় ছড়ানো থাকলেও তিনি কখনোই এটাকে কোনো সিস্টেমেটিক থিওরি হিসেবে দাঁড় করান নাই।
মূল আইডিয়াটা ছিল, মানুষের বেসিক ড্রাইভ শুধু কোনোমতে টিকে থাকা বা সারভাইভাল না। বরং গ্রোথ, সেলফ এক্সপ্রেশন, নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাড়ায় যাওয়া এবং নিজের অস্তিত্বকে ক্রিয়েটিভলি শেইপ করার যে তাগিদ সেটাই ‘উইল টু পাওয়ার’। অর্থাৎ, একজন আর্টিস্ট যখন মাস্টারপিস আঁকেন, বা একজন লেখক যখন তার সেরা লেখাটা লেখেন সেটাও উইল টু পাওয়ারেরই একটা প্রকাশ।

কিন্তু এটাকেও বানায় ফেলা হইছে সোশ্যাল ডারউইনিজমের একটা জাস্টিফিকেশন। যেন পাওয়ার মানেই ডমিনেশন, শক্তিশালী এসে দুর্বলকে পিষে ফেলবে। এর পেছনেও মূল কালপ্রিট ওই এলিজাবেথ নিটশে। ভাইয়ের মৃত্যুর পর সে বেছে বেছে কেবল ওইসব আনপাবলিশড নোটস একত্র করে ‘উইল টু পাওয়ার’ নামে বই বের করে, যেগুলো পলিটিক্যালি ম্যানিপুলেট করা সহজ ছিল। অথচ আসল নিটশে অন্যের ওপর পলিটিক্যাল পাওয়ার খাটানো নিয়ে খুব একটা ভাবেনইনি, তার ফোকাস ছিল নিজের পটেনশিয়ালের চূড়ান্ত বিকাশ আর সাইকোলজিক্যাল ক্রিয়েটিভিটি নিয়ে।
নিটশে বলছেন, ‘ভিউ ফ্রম নোহয়্যার’ বা পুরাপুরি নিরপেক্ষ অবস্থান বইলা আসলে কিছু নাই। প্রতিটা নলেজ ক্লেইম বা জ্ঞানের দাবিই কোনো না কোনো স্পেসিফিক পার্সপেক্টিভ, ইন্টারেস্ট, হিস্ট্রি বা পজিশন থেকে আসে। তথাকথিত ‘অবজেক্টিভিটি’র যে একটা নাইভ বা বোকা-বোকা দাবি সমাজে আছে, নিটশে মূলত এপিস্টেমোলজিক্যালি সেটাকেই চ্যালেঞ্জ করছিলেন।
কিন্তু এই আইডিয়ার মিসরিডিংটা হইছে একদম জঘন্য। এটাকে বানিয়ে ফেলা হইছে “সবকিছুই রিলেটিভ, যার যার সত্য তার তার কাছে।”
এই লেজি শর্টকাটটা মূলত ফিলোসফিক্যাল ডিবেটকে পাশ কাটানোর একটা এক্সকিউজ। কারণ, ‘পার্সপেক্টিভ’ শব্দটা আমাদের রোজকার ক্যাজুয়াল আলাপে এতো বেশি ইউজ হয় যে, এটা খুব সহজেই “এভরিওয়ান হ্যাজ দেয়ার ওন পার্সপেক্টিভ” টাইপ একটা সস্তা ক্লিশের সাথে মিশে যায়।
অথচ নিটশের কথা ছিল একদম উল্টা! তিনি এই অলস রিলেটিভিজমের কথা বলেননি। নিটশে বলতে চাইছেন, একটা জিনিসকে আপনি যত বেশি পার্সপেক্টিভ থেকে দেখতে পারবেন, সেটা নিয়ে আপনার জ্ঞান বা আন্ডারস্ট্যান্ডিং তত বেশি রিচ আর সমৃদ্ধ হবে।
‘অন দ্য জিনিঅ্যালজি অব মোরালস’তে নিটশে দেখাইছিলেন ‘গুড’ আর ‘ইভিল’ এর মতো মোরাল কনসেপ্টগুলো আসলে কোত্থেকে আসলো। তার আর্গুমেন্ট হইলো, এগুলো তৈরি হইছে ক্ষমতাহীনদের রেজেন্টিমেন্ট বা ক্ষোভ থেকে। যারা শক্তিশালীদের সাথে সরাসরি পাল্লা দিতে পারেনাই, তারা নিজেদের নম্রতা আর দুর্বলতারেই 'ভার্চ্যু' বা পুণ্য বানায়ে পুরা ভ্যালু সিস্টেমটারেই উল্টায় দিছে।
কিন্তু মিসরিডিংটা হয় কই? মানুষ এই থিওরি পড়ে নিজেরে ‘মাস্টার মোরালিটি’র পক্ষে ভাবে, আর অন্যদের ‘স্লেভ’ বা ‘হার্ড’ বইলা গালি দেওয়ার একটা ইন্টেলেকচুয়াল ভোকাব পেয়ে যায়।
এখানেই সবচেয়ে সাটল আর ডেঞ্জারাস ভুলটা হয়। অন্যরে ছোট করে নিজেরে সুপিরিয়র ভাবার এই যে ইগো, সেইটাই তো আরেক ধরনের রেজেন্টিমেন্ট! নিটশে এই থিওরিটা দিছিলেন আয়নায় নিজেকে জাজ করার জন্য, অন্যদের ছোট করে নিজের সুপিরিওরিটি কমপ্লেক্স মেটানোর টুল হিসেবে না আরকি।

নিটশে নিজেকে বলতেন ‘ফিলোসফার উইথ অ্যা হ্যামার’, যিনি হাতুড়ি দিয়ে সমাজের কমফোর্ট জোন আর ভণ্ডামিগুলো ভেঙে দিতে চাইছিলেন। কিন্তু আইরনিটা হইলো, আমরা সেই হাতুড়ি টি-শার্ট আর কফি মগে প্রিন্ট করে বসে আছি। দিনশেষে নিটশেকে পড়া মানে নিজের কনফার্মেশন বায়াস খোঁজা না, বরং নিজেকে আনকমফোর্টেবল করা। তো, নেক্সট টাইম ‘গড ইজ ডেড’ বা ‘হোয়াট ডাজন্ট কিল মি...’ লিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাপশন দেওয়ার আগে অন্তত দুইবার ভাইবেন, আসল নিটশে এইসব দেখলে আপনার দিকে হাতুড়ি নিয়ে দৌড়ায় আসতেন কি না!

পপ কালচার আর নানাবিধ মিম মেটেরিয়ালে আমরা যে ‘নিটশে’কে চিনি, আসল নিটশে তাকে দেখলে হয়তো একটু প্যারাই খেয়ে যেতেন।
-579be0.jpeg)
গড ইজ ডেড, হোয়াট ডাজন্ট কিল মি মেইকস মি স্ট্রংগার, উইল টু পাওয়ার – এই একেকটা লাইন আজ মোটিভেশনাল কোট, মিম, এমনকি পলিটিক্যাল আইডিওলোজির স্লোগান পর্যন্ত হয়ে গিছে । অথচ নিটশের নিজের লেখায় এই প্রত্যেকটা লাইনের পেছনে আছে অনেক জটিল একেকটা কনটেক্সট, যেটা বাদ পড়লে লাইনের টোটাল মিনিংটাই বদলায় যায়।
নিটশের মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ আমরা তার ৫টা কোর আইডিয়া নিয়ে আলাপ করবো। দেখবো, নিটশে আসলে কী বলছিলেন, আর আমরা কীভাবে ও কেন তাকে মিসরিড করছি।
উবারমেনশ

১৮৮৩ সালে ‘দাস স্পোক যারাথ্রুস্ট’তে নিটশে এই আইডিয়াটা আনছিলেন । ইউরোপে তখন ট্র্যাডিশনাল রিলিজিয়াস মোরালিটি ধসে পড়তেছে। নিটশে দেখতেছিলেন মানুষ একটা ভ্যাকুয়ামের দিকে আগায় যাচ্ছে। উবারমেনশ কোনো রেস বা বায়োলজিক্যাল সুপিরিওরিটি না। এইটা একটা প্রসেস যা নিজের ভেতরের ইনহেরিটেড ভ্যালুজ, হার্ড ইন্সটিংট আর ধার করা মোরালিটিকে কোশ্চেন করে নিজের মতো করে ভ্যালু তৈরি করার সক্ষমতা তৈরি করে। সহজ ভাষায় বললে, নিজেকে বারবার ওভারকাম করা এবং নিজের পুরানা ভার্সনকে ছাড়ায় যাওয়ার মত ঘটনা। অর্থাৎ, ম্যান ইজ সামথিং দ্যাট শ্যাল বি ওভারকাম!
কিন্তু পপ কালচারে আইসা এই আইডিয়াটাই হয়ে গেছে পাওয়ার ফ্যান্টাসি। যেনোবা ‘স্ট্রং সারভাইবস, উইক ক্রাশড’ টাইপ একধরনের সোশ্যাল ডারউইনিস্ট ডমিনেন্স ফ্যান্টাসি। এবং ইন্টারেস্টিংলি এই রিডিংটা নাজি প্রোপাগান্ডাতেও ইউজ হয়েছে। নিটশের বোন এলিজাবেথ নিটশে, নিটশের মৃত্যুর পর তার ‘আনপাবলিশড নোট’ এডিট করে ‘উইল টু পাওয়ার’ নামে একটা বই বের করেন।
-5cd312.jpeg)
সেই বইয়ে এলিজাবেথ নিজের অ্যান্টি সেমেটিক, ন্যাশনালিস্টিক পলিটিক্স ঢুকায় দেন। প্লাস, ‘ওভারম্যান’ ওয়ার্ডটা ইটসেলফ অনেক বেশি সুপারহিরো ঘরানার। তাই মিসরিডিংটাই অনেক বেশি গ্ল্যামারাস লাগে!
ফেমাস এই লাইনটা নিটশের ‘দ্য গে সায়েন্স’ বইয়ের ১২৫ নম্বর প্যাসেজে আসে।
বাজারের মধ্যে একটা পাগল লোক, দিনে দুপুরে লণ্ঠন হাতে চিৎকার করতে করতে এই লাইনটা বলতেছিল। মজার ব্যাপার হইল এটা কোনো ট্রায়াম্ফ্যান্ট এথিস্ট মেনিফ্যাস্টো না। নিটশে বলতেছেন, ইউরোপীয় সভ্যতা যে মোরাল আর মেটাফিজিক্যাল ফাউন্ডেশনের উপর দাঁড়ায় ছিল মানুষ সেটা সায়েন্স, সেকুলারিজম আর রেশনালিজম দিয়ে ভেঙে ফেলছে। এবং এখনো সেই ভাঙনের ওজনটা বুঝতে পারতেছেনা। পাগল লোকটা চিৎকার করতে করতে বলে, "আমরাই তারে খুন করছি"। কিন্তু বাজারের লোকজন তারে দেখে হাসে, বোঝে না সে কী বলতেছে।
এখন ইনস্টায়, টি শার্ট ফ্যাশন মার্কেটে এই লাইনটা একটা কনফিডেন্ট এথিজম ফ্লেক্স হয়ে গেছে, যেন ভিক্টরিটা নিটশেই ডিক্লেয়ার করতেছেন। লাইনটা এতোই পাঞ্চি যে ছোট্ট এই একটা লাইনেই পুরা ওয়ার্ল্ডভিউ বোঝানো যায়। কিন্তু আসল প্যাসেজটা পড়লে বুঝবেন, এটা কোনো সেলিব্রেশন ছিল না। ছিল একটা ক্রাইসিস ডায়াগনোসিস। নিটশে এই ক্রাইসিসটা নিয়ে উদযাপন তো দূর কি বাত, বরং মারাত্মক চিন্তিত ছিলেন।
এইটা নিটশের অনেক বড় একটা সাইকোলজিক্যাল আর অন্টোলজিক্যাল কনসেপ্ট, যেটা তার নানা লেখায় ছড়ানো থাকলেও তিনি কখনোই এটাকে কোনো সিস্টেমেটিক থিওরি হিসেবে দাঁড় করান নাই।
মূল আইডিয়াটা ছিল, মানুষের বেসিক ড্রাইভ শুধু কোনোমতে টিকে থাকা বা সারভাইভাল না। বরং গ্রোথ, সেলফ এক্সপ্রেশন, নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাড়ায় যাওয়া এবং নিজের অস্তিত্বকে ক্রিয়েটিভলি শেইপ করার যে তাগিদ সেটাই ‘উইল টু পাওয়ার’। অর্থাৎ, একজন আর্টিস্ট যখন মাস্টারপিস আঁকেন, বা একজন লেখক যখন তার সেরা লেখাটা লেখেন সেটাও উইল টু পাওয়ারেরই একটা প্রকাশ।

কিন্তু এটাকেও বানায় ফেলা হইছে সোশ্যাল ডারউইনিজমের একটা জাস্টিফিকেশন। যেন পাওয়ার মানেই ডমিনেশন, শক্তিশালী এসে দুর্বলকে পিষে ফেলবে। এর পেছনেও মূল কালপ্রিট ওই এলিজাবেথ নিটশে। ভাইয়ের মৃত্যুর পর সে বেছে বেছে কেবল ওইসব আনপাবলিশড নোটস একত্র করে ‘উইল টু পাওয়ার’ নামে বই বের করে, যেগুলো পলিটিক্যালি ম্যানিপুলেট করা সহজ ছিল। অথচ আসল নিটশে অন্যের ওপর পলিটিক্যাল পাওয়ার খাটানো নিয়ে খুব একটা ভাবেনইনি, তার ফোকাস ছিল নিজের পটেনশিয়ালের চূড়ান্ত বিকাশ আর সাইকোলজিক্যাল ক্রিয়েটিভিটি নিয়ে।
নিটশে বলছেন, ‘ভিউ ফ্রম নোহয়্যার’ বা পুরাপুরি নিরপেক্ষ অবস্থান বইলা আসলে কিছু নাই। প্রতিটা নলেজ ক্লেইম বা জ্ঞানের দাবিই কোনো না কোনো স্পেসিফিক পার্সপেক্টিভ, ইন্টারেস্ট, হিস্ট্রি বা পজিশন থেকে আসে। তথাকথিত ‘অবজেক্টিভিটি’র যে একটা নাইভ বা বোকা-বোকা দাবি সমাজে আছে, নিটশে মূলত এপিস্টেমোলজিক্যালি সেটাকেই চ্যালেঞ্জ করছিলেন।
কিন্তু এই আইডিয়ার মিসরিডিংটা হইছে একদম জঘন্য। এটাকে বানিয়ে ফেলা হইছে “সবকিছুই রিলেটিভ, যার যার সত্য তার তার কাছে।”
এই লেজি শর্টকাটটা মূলত ফিলোসফিক্যাল ডিবেটকে পাশ কাটানোর একটা এক্সকিউজ। কারণ, ‘পার্সপেক্টিভ’ শব্দটা আমাদের রোজকার ক্যাজুয়াল আলাপে এতো বেশি ইউজ হয় যে, এটা খুব সহজেই “এভরিওয়ান হ্যাজ দেয়ার ওন পার্সপেক্টিভ” টাইপ একটা সস্তা ক্লিশের সাথে মিশে যায়।
অথচ নিটশের কথা ছিল একদম উল্টা! তিনি এই অলস রিলেটিভিজমের কথা বলেননি। নিটশে বলতে চাইছেন, একটা জিনিসকে আপনি যত বেশি পার্সপেক্টিভ থেকে দেখতে পারবেন, সেটা নিয়ে আপনার জ্ঞান বা আন্ডারস্ট্যান্ডিং তত বেশি রিচ আর সমৃদ্ধ হবে।
‘অন দ্য জিনিঅ্যালজি অব মোরালস’তে নিটশে দেখাইছিলেন ‘গুড’ আর ‘ইভিল’ এর মতো মোরাল কনসেপ্টগুলো আসলে কোত্থেকে আসলো। তার আর্গুমেন্ট হইলো, এগুলো তৈরি হইছে ক্ষমতাহীনদের রেজেন্টিমেন্ট বা ক্ষোভ থেকে। যারা শক্তিশালীদের সাথে সরাসরি পাল্লা দিতে পারেনাই, তারা নিজেদের নম্রতা আর দুর্বলতারেই 'ভার্চ্যু' বা পুণ্য বানায়ে পুরা ভ্যালু সিস্টেমটারেই উল্টায় দিছে।
কিন্তু মিসরিডিংটা হয় কই? মানুষ এই থিওরি পড়ে নিজেরে ‘মাস্টার মোরালিটি’র পক্ষে ভাবে, আর অন্যদের ‘স্লেভ’ বা ‘হার্ড’ বইলা গালি দেওয়ার একটা ইন্টেলেকচুয়াল ভোকাব পেয়ে যায়।
এখানেই সবচেয়ে সাটল আর ডেঞ্জারাস ভুলটা হয়। অন্যরে ছোট করে নিজেরে সুপিরিয়র ভাবার এই যে ইগো, সেইটাই তো আরেক ধরনের রেজেন্টিমেন্ট! নিটশে এই থিওরিটা দিছিলেন আয়নায় নিজেকে জাজ করার জন্য, অন্যদের ছোট করে নিজের সুপিরিওরিটি কমপ্লেক্স মেটানোর টুল হিসেবে না আরকি।

নিটশে নিজেকে বলতেন ‘ফিলোসফার উইথ অ্যা হ্যামার’, যিনি হাতুড়ি দিয়ে সমাজের কমফোর্ট জোন আর ভণ্ডামিগুলো ভেঙে দিতে চাইছিলেন। কিন্তু আইরনিটা হইলো, আমরা সেই হাতুড়ি টি-শার্ট আর কফি মগে প্রিন্ট করে বসে আছি। দিনশেষে নিটশেকে পড়া মানে নিজের কনফার্মেশন বায়াস খোঁজা না, বরং নিজেকে আনকমফোর্টেবল করা। তো, নেক্সট টাইম ‘গড ইজ ডেড’ বা ‘হোয়াট ডাজন্ট কিল মি...’ লিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাপশন দেওয়ার আগে অন্তত দুইবার ভাইবেন, আসল নিটশে এইসব দেখলে আপনার দিকে হাতুড়ি নিয়ে দৌড়ায় আসতেন কি না!
.png)

হিস্ট্রির সবচেয়ে ডার্ক ট্রুথটা হইলো, কোনো মিলিটারি বাহিনী কিন্তু কলোনিয়ালিজমের পথরে স্মুদ করে নাই। এই কলোনিয়ালিজমের প্রসেসটা স্মুদ হইতে শুরু করে বিগ বিগ করপোরেশনগুলার আরোপ করা কিছু কিউট কিউট শব্দের মাধ্যমে।
০৮ আগস্ট ২০২৬
কী কী শর্তপূরণ হলে আমরা কোনো শিল্পকর্মকে বৈপ্লবিক বলতে পারি? শিল্পের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক হওয়ার একটা জায়গা থাকে শিল্পশৈলী ও শিল্প-মাধ্যমের দিক থেকে। সেই দিক বিবেচনায় সুবোধ সিরিজটা অতিপরিচিত সীমিত রঙে করা স্টেনসিল পদ্ধতির গ্রাফিতি। মূলত জনপরিসরে যখন এই সিরিজ নিয়ে আলাপ হয় তা এর শিল্পশৈলী না, বরঞ্চ এ
০১ আগস্ট ২০২৬
মিম কালচারে বিটলসের ড্রামার রিঙ্গো স্টাররে নিয়া মজার একটা লাইন আছে। লাইনটা হইল—‘রিঙ্গো ওয়াজ নট ইভেন দ্য বেস্ট ড্রামার ইন দ্য বিটলস।’ আমার কাছে মনে হয়, পপ কালচারের সবচেয়ে ক্লিশে জিনিসটা হইলো, পপ কালচার সবসময় ‘ফ্রন্টম্যান’ আর ‘মাস্টারমাইন্ড’ ন্যারেটিভ সেল করতে পছন্দ করে।
০৭ জুলাই ২০২৬
একটা বাংলা সিনেমা তৈরি হইছে আর এই জন্য সারাদেশ থিকা ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষেরা শহরে ভিড় করতে শুরু করছেন। সিনেমা হল খুঁজতেছে সবাই, সিনেমা দেখবে। কেউ কেউ তো কাঁথা বালিশও নিয়া আসছেন। শুয়ে পড়ছেন সিনেমা হলের গেটে। সকাল সকাল টিকেট পাইতে হবে, যদি টিকেট শেষ হইয়া যায়। গ্রামেও এই সিনেমার ক্রেজ ছড়ায় পড়ছে।
০৫ জুলাই ২০২৬