লেখা:

এই সময়ে অনেকের মনেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গভীর আতঙ্ক কাজ করছে। এআই কি তবে চাকরির কেয়ামত (‘জব-পোক্যালিপস’) ঘটাতে যাচ্ছে? এবারের দাভোস সম্মেলনেও এই শঙ্কা ছিল প্রবল। সেখানে প্রযুক্তির প্রভাবে কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কঘণ্টা বাজানো হয়েছে। ডেস্কে বসে কাজ করা কর্মীদের (হোয়াইট-কলার) ছাঁটাইয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে অনেকেই ঝড়ের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ এখনো আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। ব্যবসার ওপর এআই কত বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে না। নির্ভরযোগ্য জরিপগুলো বলছে, অধিকাংশ কোম্পানি এখনো এআই পুরোদমে গ্রহণ করেনি। কিন্তু যখন করবে, তখন করপোরেট জগতে বড় ধরনের ওলটপালট শুরু হবে। কারণ এআই নিছক তথ্যপ্রযুক্তি নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।
নব্বইয়ের দশকের কথা ভাবা যাক। ডিজিটাল যুগের আগের প্রযুক্তির ঢেউও ব্যবসার ধরন পাল্টে দিয়েছিল। কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, পরিচালনা (কম্পিউটিং) আর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ইন্টারনেটের ভিত্তি গড়ে দেয়। স্মার্টফোন আর তারবিহীন প্রযুক্তির কল্যাণে সেই ইন্টারনেট মানুষের হাতের মুঠোয় চলে আসে। এর ফলে ব্যবসার মডেলে আমূল পরিবর্তন আসে। এক ছাদের নিচে সব উৎপাদনের ‘ভার্টিক্যালি ইন্টিগ্রেটেড’ মডেল ভেঙে যায়। তৈরি হয় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সাপ্লাই চেইন। অফিসের পদবিন্যাস বা হায়ারার্কি কমে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সমতল বা ‘ডিলেয়ারড’ হয়ে ওঠে। নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিবর্তন বিশ্বায়নে সাহায্য করেছে ঠিকই, কিন্তু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব ছিল না।
ডিজিটালাইজেশনের আরেকটি বড় ফলাফল হলো ‘প্ল্যাটফর্ম বিজনেস মডেল’-এর উত্থান। উবার বা অ্যামাজনের মতো কোম্পানিগুলো অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছে। ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তারা বিশাল লজিস্টিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। ডেটা ও অ্যালগরিদম-চালিত এই প্ল্যাটফর্মগুলো এখন অনেক খাত নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা একচেটিয়া বাজার দখলের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও ভোগের ধরনও বদলে দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো, এআই কোম্পানিগুলোকে কীভাবে নতুন করে সাজাবে? ডেল টেকনোলজিসের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট বিবেক মহিন্দ্রার মতে, একটি কোম্পানির টিকে থাকার মূল শক্তি হলো তার ‘সাংগঠনিক সক্ষমতা’। ডেলের ক্ষেত্রে এটি তাদের সাপ্লাই চেইন। এআই এখন এই সক্ষমতার জায়গাগুলো বদলে দিচ্ছে। ফলে কার শক্তি আসলে কোথায়, তা পরিমাপ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
কিছু কিছু শিল্প খাত এআইয়ের কারণে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন যে—আইন, হিসাববিজ্ঞান ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের মতো খাতে এন্ট্রি-লেভেল বা শুরুর দিকের চাকরিগুলো এআই গিলে খেতে পারে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও বসে নেই। তারা সফটওয়্যার তৈরির সময় ও খরচ কমাতে নিজস্ব এআই মডেল ব্যবহার করছে। এর অর্থ পরিষ্কার—ভবিষ্যতে কম্পিউটার প্রোগ্রামারদের চাহিদা কমে যাবে।
কিন্তু এখানেই এক বড় সংকট লুকিয়ে আছে। ব্যবসার জুনিয়র পদগুলো যদি বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতের কর্মীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা শিখবে কোত্থেকে? কোড লেখার জন্য এআই ব্যবহার করলে মানবকর্মীদের শেখার দক্ষতায় যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তার প্রমাণ মিলতে শুরু করেছে।
জেনারেটিভ এআই করপোরেট কাঠামোকে নতুন রূপ দেবে। একটি সম্ভাব্য ফলাফল হলো, এটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও ছোট করে ফেলবে। কোম্পানিগুলো বাইরের সোর্স থেকে কাজ করিয়ে নিতে বা কনট্রাক্ট দিতে বেশি আগ্রহী হবে। ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান তো একধাপ এগিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন—ভবিষ্যতে এমন ‘ইউনিকর্ন’ বা বিলিয়ন ডলারের স্টার্ট-আপ দেখা যাবে, যার কর্মী মাত্র একজন। এআই এজেন্টরা বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দরকষাকষির জটিলতা কমাবে। তারা জটিল সাপ্লাই চেইনগুলোর ওপর নজরদারি করবে।
তবে কিছু অর্থনীতিবিদ ভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী করছেন। তাদের মতে, জেনারেটিভ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার কেন্দ্রীভূত বা সেন্ট্রালাইজড করবে। কারণ মানুষের উপলব্ধিতে থাকা অব্যক্ত জ্ঞান (ট্যাসিট নলেজ) এআই আয়ত্ত করে ফেলতে পারে। ব্যবসার আসল প্রাণ তো এই জ্ঞানই।
লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের একটি ছোট উদাহরণ দেওয়া যাক। সেখানে ভিক্টোরিয়া লাইনে কাজ করতেন এক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ভিক্টোরিয়া লাইনের রেলট্র্যাকের বিশেষ কিছু বাঁকের কারণে ট্রেনের চাকায় বাড়তি গ্রিজ বা পিচ্ছিল পদার্থ দরকার। এই জ্ঞান কোনো বইয়ে লেখা ছিল না; এটি ছিল তাঁর অভিজ্ঞতার ফসল। ওই কর্মী অবসরে যাওয়ার পর সেই জ্ঞান হারিয়ে গেল। ফলস্বরূপ ভিক্টোরিয়া লাইনের ট্রেনগুলো ঘনঘন বিকল হতে শুরু করল এবং চাকাগুলো দ্রুত ক্ষয়ে যেতে লাগল।
ওই প্রকৌশলীর মতো এমন অব্যক্ত জ্ঞান সচরাচর কোথাও লিখে রাখা হয় না বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখানো হয় না। কিন্তু কর্মীরা বারবার যে কাজ করেন, এআই তা পর্যবেক্ষণ করে সেই অলিখিত জ্ঞানও নথিবদ্ধ করে ফেলতে পারবে। এটি এআইয়ের এক নতুন ক্ষমতার দিক।
ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের উচিত এআইয়ের কারণে সাংগঠনিক পরিবর্তনগুলোর ওপর নজর রাখা। কাঠামোগত এই পরিবর্তন অনিবার্য, তাই এর মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। এই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শ্রমবাজারের বিশাল ভাঙন সামাল দেওয়া। অতীতের অটোমেশনের (স্বয়ংক্রিয়করণ) ঢেউয়ের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি যেন মানুষ সহজে মোকাবিলা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। নব্বইয়ের দশকে কারখানার অটোমেশনের সময় নীতিগত যে ভুল হয়েছিল, তা আর করা যাবে না। সেই অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের ক্ষত অনেক উন্নত দেশ এখনো ‘পোস্ট-ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্লাইট’ বা শিল্প-পরবর্তী অবক্ষয় হিসেবে বয়ে বেড়াচ্ছে।
প্রস্তুতি থাকলে এআই ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এর ফলে পুরো অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বাড়বে। সব করপোরেট নেতার ভাবা উচিত, তাদের প্রতিষ্ঠানে জেনারেটিভ এআই কীভাবে কাজ করবে, উৎপাদন প্রক্রিয়া কীভাবে বদলাবে, অব্যক্ত জ্ঞান কীভাবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে। সংক্ষেপে, এই নতুন প্রযুক্তির ঢেউয়ের মাঝে নিজের কোম্পানির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার একটি পরিকল্পনা তাদের থাকতেই হবে।
আগামী এক দশকে অর্থনীতিতে যে কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে, তা নিশ্চিতভাবেই সাম্প্রতিক অতীতের যেকোনো ঘটনার চেয়ে নাটকীয় হবে। অনেকেই ভাবছেন এআই শুধু কাজের ধরন বদলাবে; কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, এটি ব্যবসার পুরো দৃশ্যপটকেই নতুন করে সাজাবে।
লেখক: ডায়ান কোয়েল, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসির অধ্যাপক।

এই সময়ে অনেকের মনেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গভীর আতঙ্ক কাজ করছে। এআই কি তবে চাকরির কেয়ামত (‘জব-পোক্যালিপস’) ঘটাতে যাচ্ছে? এবারের দাভোস সম্মেলনেও এই শঙ্কা ছিল প্রবল। সেখানে প্রযুক্তির প্রভাবে কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কঘণ্টা বাজানো হয়েছে। ডেস্কে বসে কাজ করা কর্মীদের (হোয়াইট-কলার) ছাঁটাইয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে অনেকেই ঝড়ের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ এখনো আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। ব্যবসার ওপর এআই কত বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে না। নির্ভরযোগ্য জরিপগুলো বলছে, অধিকাংশ কোম্পানি এখনো এআই পুরোদমে গ্রহণ করেনি। কিন্তু যখন করবে, তখন করপোরেট জগতে বড় ধরনের ওলটপালট শুরু হবে। কারণ এআই নিছক তথ্যপ্রযুক্তি নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।
নব্বইয়ের দশকের কথা ভাবা যাক। ডিজিটাল যুগের আগের প্রযুক্তির ঢেউও ব্যবসার ধরন পাল্টে দিয়েছিল। কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, পরিচালনা (কম্পিউটিং) আর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ইন্টারনেটের ভিত্তি গড়ে দেয়। স্মার্টফোন আর তারবিহীন প্রযুক্তির কল্যাণে সেই ইন্টারনেট মানুষের হাতের মুঠোয় চলে আসে। এর ফলে ব্যবসার মডেলে আমূল পরিবর্তন আসে। এক ছাদের নিচে সব উৎপাদনের ‘ভার্টিক্যালি ইন্টিগ্রেটেড’ মডেল ভেঙে যায়। তৈরি হয় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সাপ্লাই চেইন। অফিসের পদবিন্যাস বা হায়ারার্কি কমে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সমতল বা ‘ডিলেয়ারড’ হয়ে ওঠে। নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিবর্তন বিশ্বায়নে সাহায্য করেছে ঠিকই, কিন্তু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব ছিল না।
ডিজিটালাইজেশনের আরেকটি বড় ফলাফল হলো ‘প্ল্যাটফর্ম বিজনেস মডেল’-এর উত্থান। উবার বা অ্যামাজনের মতো কোম্পানিগুলো অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছে। ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তারা বিশাল লজিস্টিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। ডেটা ও অ্যালগরিদম-চালিত এই প্ল্যাটফর্মগুলো এখন অনেক খাত নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা একচেটিয়া বাজার দখলের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও ভোগের ধরনও বদলে দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো, এআই কোম্পানিগুলোকে কীভাবে নতুন করে সাজাবে? ডেল টেকনোলজিসের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট বিবেক মহিন্দ্রার মতে, একটি কোম্পানির টিকে থাকার মূল শক্তি হলো তার ‘সাংগঠনিক সক্ষমতা’। ডেলের ক্ষেত্রে এটি তাদের সাপ্লাই চেইন। এআই এখন এই সক্ষমতার জায়গাগুলো বদলে দিচ্ছে। ফলে কার শক্তি আসলে কোথায়, তা পরিমাপ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
কিছু কিছু শিল্প খাত এআইয়ের কারণে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন যে—আইন, হিসাববিজ্ঞান ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের মতো খাতে এন্ট্রি-লেভেল বা শুরুর দিকের চাকরিগুলো এআই গিলে খেতে পারে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও বসে নেই। তারা সফটওয়্যার তৈরির সময় ও খরচ কমাতে নিজস্ব এআই মডেল ব্যবহার করছে। এর অর্থ পরিষ্কার—ভবিষ্যতে কম্পিউটার প্রোগ্রামারদের চাহিদা কমে যাবে।
কিন্তু এখানেই এক বড় সংকট লুকিয়ে আছে। ব্যবসার জুনিয়র পদগুলো যদি বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতের কর্মীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা শিখবে কোত্থেকে? কোড লেখার জন্য এআই ব্যবহার করলে মানবকর্মীদের শেখার দক্ষতায় যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তার প্রমাণ মিলতে শুরু করেছে।
জেনারেটিভ এআই করপোরেট কাঠামোকে নতুন রূপ দেবে। একটি সম্ভাব্য ফলাফল হলো, এটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও ছোট করে ফেলবে। কোম্পানিগুলো বাইরের সোর্স থেকে কাজ করিয়ে নিতে বা কনট্রাক্ট দিতে বেশি আগ্রহী হবে। ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান তো একধাপ এগিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন—ভবিষ্যতে এমন ‘ইউনিকর্ন’ বা বিলিয়ন ডলারের স্টার্ট-আপ দেখা যাবে, যার কর্মী মাত্র একজন। এআই এজেন্টরা বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দরকষাকষির জটিলতা কমাবে। তারা জটিল সাপ্লাই চেইনগুলোর ওপর নজরদারি করবে।
তবে কিছু অর্থনীতিবিদ ভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী করছেন। তাদের মতে, জেনারেটিভ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার কেন্দ্রীভূত বা সেন্ট্রালাইজড করবে। কারণ মানুষের উপলব্ধিতে থাকা অব্যক্ত জ্ঞান (ট্যাসিট নলেজ) এআই আয়ত্ত করে ফেলতে পারে। ব্যবসার আসল প্রাণ তো এই জ্ঞানই।
লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের একটি ছোট উদাহরণ দেওয়া যাক। সেখানে ভিক্টোরিয়া লাইনে কাজ করতেন এক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ভিক্টোরিয়া লাইনের রেলট্র্যাকের বিশেষ কিছু বাঁকের কারণে ট্রেনের চাকায় বাড়তি গ্রিজ বা পিচ্ছিল পদার্থ দরকার। এই জ্ঞান কোনো বইয়ে লেখা ছিল না; এটি ছিল তাঁর অভিজ্ঞতার ফসল। ওই কর্মী অবসরে যাওয়ার পর সেই জ্ঞান হারিয়ে গেল। ফলস্বরূপ ভিক্টোরিয়া লাইনের ট্রেনগুলো ঘনঘন বিকল হতে শুরু করল এবং চাকাগুলো দ্রুত ক্ষয়ে যেতে লাগল।
ওই প্রকৌশলীর মতো এমন অব্যক্ত জ্ঞান সচরাচর কোথাও লিখে রাখা হয় না বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখানো হয় না। কিন্তু কর্মীরা বারবার যে কাজ করেন, এআই তা পর্যবেক্ষণ করে সেই অলিখিত জ্ঞানও নথিবদ্ধ করে ফেলতে পারবে। এটি এআইয়ের এক নতুন ক্ষমতার দিক।
ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের উচিত এআইয়ের কারণে সাংগঠনিক পরিবর্তনগুলোর ওপর নজর রাখা। কাঠামোগত এই পরিবর্তন অনিবার্য, তাই এর মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। এই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শ্রমবাজারের বিশাল ভাঙন সামাল দেওয়া। অতীতের অটোমেশনের (স্বয়ংক্রিয়করণ) ঢেউয়ের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি যেন মানুষ সহজে মোকাবিলা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। নব্বইয়ের দশকে কারখানার অটোমেশনের সময় নীতিগত যে ভুল হয়েছিল, তা আর করা যাবে না। সেই অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের ক্ষত অনেক উন্নত দেশ এখনো ‘পোস্ট-ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্লাইট’ বা শিল্প-পরবর্তী অবক্ষয় হিসেবে বয়ে বেড়াচ্ছে।
প্রস্তুতি থাকলে এআই ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এর ফলে পুরো অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বাড়বে। সব করপোরেট নেতার ভাবা উচিত, তাদের প্রতিষ্ঠানে জেনারেটিভ এআই কীভাবে কাজ করবে, উৎপাদন প্রক্রিয়া কীভাবে বদলাবে, অব্যক্ত জ্ঞান কীভাবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে। সংক্ষেপে, এই নতুন প্রযুক্তির ঢেউয়ের মাঝে নিজের কোম্পানির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার একটি পরিকল্পনা তাদের থাকতেই হবে।
আগামী এক দশকে অর্থনীতিতে যে কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে, তা নিশ্চিতভাবেই সাম্প্রতিক অতীতের যেকোনো ঘটনার চেয়ে নাটকীয় হবে। অনেকেই ভাবছেন এআই শুধু কাজের ধরন বদলাবে; কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, এটি ব্যবসার পুরো দৃশ্যপটকেই নতুন করে সাজাবে।
লেখক: ডায়ান কোয়েল, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসির অধ্যাপক।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আছেন সাতজন। তাঁরা মূলত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এককভাবে প্রার্থী হওয়ার কারণে তাদেরকে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ বলা হয়। যদিও সংবিধান বা নির্বাচনি আইনে ‘বিদ্রোহী প্রার
১৩ ঘণ্টা আগে
প্রতি বছর বাংলাদেশে গড়ে প্রায় ২৫ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জীবন ও সম্পদের প্রাণহানিও ব্যাপক। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে অগ্নিকাণ্ডে মোট ৬৫০ জনের মৃত্যু ও ২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
এই মহাবিপদ থেকে বাঁচতে পাকিস্তানের সামনে এখন ‘বিচক্ষণ কূটনীতি’ এবং একমুখী আমেরিকা-নির্ভরতা কাটিয়ে চীন-রাশিয়া-তুরস্ক বলয়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে প্রস্তাবিত ‘মুসলিম ন্যাটো’ গঠন এবং নিজস্ব ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করাই হবে তাদের টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।
২ দিন আগে
বোরো মৌসুম মানে বাংলাদেশের কৃষির সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে এই একটি মৌসুম থেকে। ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত কৃষকের পুরো জীবন আবর্তিত হয় এই ফসলকে ঘিরে। হাল চাষ থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কৃষকের শরীরে ঘাম, চোখে স্বপ্ন। কিন্তু এবার সেই স্বপ্নের গায়ে
২ দিন আগে