leadT1ad

ড. কাওসার আহমেদের সাক্ষাৎকার

‘মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দ্রুতই উগ্রবাদের উত্থান ঘটার শঙ্কা রয়েছে’

ড. কাওসার আহমেদ কানাডার উইনিপেগ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সংঘাত ও শান্তি বিশেষজ্ঞ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষপটে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, তার মধ্যে একটি বড় বিষয় হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট। এ সংকট নিরসনে এখনও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখা দেখা যায়নি। কিভাবে এ সংকট সমাধানে অগ্রসর হওয়া যায়, সে বিষয়ে সম্প্রতি ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেছেন কাওসার আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. সোহেল রানা

ড. কাওসার আহমেদ
ড. কাওসার আহমেদ

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৫৫
স্ট্রিম গ্রাফিক

স্ট্রিম: ২০১৭ সালের পর থেকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক সেমিনার ও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। তবে সব ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে আমাদের কাজের মধ্যে বড় ধরনের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। আমরা প্রায়ই ‘বল পাসিং’ বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ি। আমরা ভাবি এটি রাষ্ট্রের কাজ, রাষ্ট্র ভাবে এটি অন্য রাষ্ট্রের কাজ—ফলাফল হিসেবে আমরা কোনো আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। তবে এই দীর্ঘ সময়ে ডক্টর কাওসার আহমেদ আপনার কাজগুলো নজর কেড়েছে। আপনি যেভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই বিষয়টির পেছনে লেগে আছেন, তা সচরাচর দেখা যায় না। আমার মনে হয়েছে আপনিই এই বিষয়ে কথা বলার সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি এবং আপনার কাছ থেকে আমরা নতুন কিছু তথ্য জানব। আমার প্রথম প্রশ্ন— ‘কনফ্লিক্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ কানাডা’ (সিআরআরআইসি) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর মূল কাজ কী?

ড. কাওসার আহমেদ: আপনার চমৎকার ভূমিকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি কতটুকু যোগ্য জানি না, তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। 'কনফ্লিক্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট' ২০১৭ সালের ১৬ই ডিসেম্বর কানাডার উইনিপেগ শহরে স্থাপিত হয়। আমি, ডক্টর হেলাল মহিউদ্দিন এবং তৎকালীন মেজর সাইদুল ইসলাম (অবসরপ্রাপ্ত)—আমরা তিনজন মিলে এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। আমরা লক্ষ্য করেছিলাম যে, উত্তর আমেরিকায় (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) বাংলাদেশীদের দ্বারা পরিচালিত কোনো ইন্টেলেকচুয়াল অর্গানাইজেশন বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্ল্যাটফর্ম নেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতার এত বছর পরও প্রবাসে আমাদের অনেক স্কলার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং প্র্যাকটিশনার বড় বড় অবস্থানে আছেন, কিন্তু বাংলাদেশের পলিসি নিয়ে কাজ করার বা বাংলাদেশকে প্রমোট করার মতো কোনো প্ল্যাটফর্ম ছিল না। সেই তাড়না থেকেই এই প্রতিষ্ঠানের জন্ম।

আমাদের ম্যান্ডেট বা লক্ষ্য খুবই সুনির্দিষ্ট। আমরা মূলত নলেজ মোবিলাইজেশন (জ্ঞান সঞ্চালন), নলেজ জেনারেশন (জ্ঞান তৈরি) এবং পলিসি অ্যাডভোকেসি নিয়ে কাজ করি। আমি চেয়েছি এটি যেন মূলত একটি একাডেমিক ওরিয়েন্টেড সেন্টার হিসেবেই থাকে। তবে প্রজেক্ট পেলে আমরা তা পরিচালনা করি। এই ধরনের একটি রিসার্চ অর্গানাইজেশন চালানো বেশ কষ্টসাধ্য; ফান্ডিং থেকে শুরু করে সময় দেওয়া—সবই চ্যালেঞ্জিং। এটি সম্পূর্ণ আমার একটি 'প্যাশন প্রজেক্ট'। আমি এই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করি না। তবে ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের একটি বিষয়কে বিদেশের মাটিতে জিইয়ে রাখার মধ্যে আমি এক তীব্র আনন্দ অনুভব করি।

স্ট্রিম: আমি নিশ্চিত যে আপনার এই কাজের মাধ্যমে প্রবাসে থাকা আমাদের মেধাবী স্কলাররা বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাবেন। আমি আশা করি পরবর্তী সরকারগুলো আপনাদের মতো গুণীজনদের কথার মূল্যায়ন করবে। এবার মূল আলোচনায় আসি। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আমার মনে একটি প্রশ্ন জাগে—প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ মানুষকে যখন মিয়ানমার বের করে দিল, তারা কেন তখন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারল না? এবং এখনো তারা কেন তাদের দেশে কোনো শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে না?

ড. কাওসার আহমেদ: এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি প্রশ্ন। এর উত্তরকে আমরা দুটি দিক থেকে বিশ্লেষণ করতে পারি: ঐতিহাসিক এবং সমাজ-রাজনৈতিক। ঐতিহাসিকভাবে আমাদের বুঝতে হবে যে, আমরা রাখাইন প্রদেশের বিশেষ করে উত্তর রাখাইনের সুন্নি মুসলিম রোহিঙ্গাদের কথা বলছি, যদিও রোহিঙ্গাদের মধ্যে হিন্দু ও খ্রিস্টানরাও আছেন।

আমাদের গবেষণা বলছে, ১৯৬২ সালের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ওপর এমন বৈষম্য ছিল না। মিয়ানমারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী উ নু-এর আমলে তারা বেশ স্বীকৃত ছিল। তাদের জন্য আলাদা রেডিও সেন্টার ছিল এবং ‘মা ইউ’ নামে একটি ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স বা সীমান্ত প্রদেশও সরকার অনুমোদন করেছিল, যেখানে তারা কিছুটা স্বায়ত্তশাসন পেত। কিন্তু ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইনের সামরিক সরকার ক্ষমতা দখলের পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে।

নে উইনের সরকার এবং বার্মার মেজরিটি 'বামার' জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি ভয় কাজ করত যে, এই অঞ্চলটি হয়তো তাদের হাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। মিয়ানমারে সামরিক সংস্কৃতি অত্যন্ত গভীরে প্রোথিত; প্রতিটি পরিবার থেকে কেউ না কেউ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। সেই ভীতি থেকেই পারসিকিউশন বা নির্যাতন শুরু হয়। নির্যাতনের প্রধান পর্যায়গুলো ছিল ১৯৭৭-৭৮, ১৯৯১-৯৩, ২০১২ এবং সবশেষ ২০১৭ সালের ভয়াবহ ঘটনা।

মিয়ানমারে প্রায় ১৩৮টি জাতিগোষ্ঠী আছে। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচাইতে বৈচিত্র্যময় দেশ। সেখানে প্রায় ২৩ থেকে ২৮টি ‘এথনিক আর্মড অর্গানাইজেশন’ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী আছে। এই গোষ্ঠীগুলো প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বলেই হয়তো তাদের ওপর নির্যাতন তুলনামূলক কম হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডক্টর ইমতিয়াজ আহমেদ একটি শব্দ ব্যবহার করেন— ‘ফ্র্যাগমেন্টেড সভরেনটি’ (খণ্ডিত সার্বভৌমত্ব)। মিয়ানমারের পেরিফেরি বা প্রান্তিক অঞ্চলে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রায় স্বায়ত্তশাসিত। তাদের নিজস্ব মুদ্রা, সেনাবাহিনী এবং শাসন ব্যবস্থা আছে।

কিন্তু রোহিঙ্গারা নিজেদের সেভাবে সংগঠিত করতে পারেনি। রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তারা প্রয়োজনীয় সমর্থন পায়নি। অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কোনো না কোনো পক্ষ (যেমন: চীন) থেকে সমর্থন পায়, তাদের নিজস্ব অর্থনীতি আছে (যেমন: পপি চাষ)। কিন্তু রোহিঙ্গাদের কোনো তহবিল বা অস্ত্রের উৎস ছিল না। এছাড়া রাখাইনে থাকাকালীন তাদের মধ্যে নেতৃত্বের চরম অভাব ছিল। সু চির সরকারের সময় দু-একজন এমপি নির্বাচিত হলেও সামগ্রিকভাবে তারা সংগঠিত হতে পারেনি।

স্ট্রিম: সংক্ষেপে যদি জানতে চাই, এর পেছনে কি তাদের শিক্ষার অভাব নাকি সাংস্কৃতিক কোনো কারণ কাজ করেছে বলে মনে করেন?

ড. কাওসার আহমেদ: আমি দীর্ঘ সাত-আট বছর তাদের নিয়ে কাজ করে দেখেছি যে, রোহিঙ্গারা প্রকৃতিগতভাবে অত্যন্ত শান্তিবাদী বা নন-ভায়োলেন্ট। নৃ-তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বোঝা যায়, তাদের মধ্যে কোনো ‘মার্শাল স্পিরিট’ বা যুদ্ধংদেহী মনোভাব নেই। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে এমনটাই মনে হয়েছে।

আরেকটি বড় কারণ হলো শিক্ষার অভাব। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে যখন তাদের রাষ্ট্রহীন ঘোষণা করা হলো, তখন মিয়ানমার সরকার পরিকল্পিতভাবে ওই অঞ্চলে শিক্ষালাভের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে জেনারেশনের পর জেনারেশন রোহিঙ্গারা অশিক্ষিত থেকে গেছে। শিক্ষার এই অভাবই তাদের মধ্যে বলিষ্ঠ কোনো নেতৃত্ব তৈরি হতে দেয়নি।

স্ট্রিম: আমার একটি সম্পূরক প্রশ্ন—রোহিঙ্গারা ২০১৭ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে আছে। বাংলাদেশ কেন তাদের মধ্য থেকে কোনো নেতৃত্ব (Leadership) গড়ে তুলতে সাহায্য করল না বা তাদের সেভাবে প্রোটেকশন দিল না? এখানে আপনি ঠিক কোথায় কমতি দেখছেন?

ড. কাওসার আহমেদ: ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যখন আমরা ‘কনফ্লিক্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ স্থাপন করি, তখন আমাদের ফ্ল্যাগশিপ রিসার্চ হিসেবে রোহিঙ্গাকেই বেছে নিয়েছিলাম। কারণ আমার একটি ধারণা ছিল যে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা। কিন্তু আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, গত পলিটিক্যাল রেজিম বা সরকার বিষয়টিকে এমনভাবে ফ্রেম করেছিলেন যেন এটি একটি সাময়িক বিষয় এবং সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে তারা চলে যাবে। কিন্তু আমি জানতাম এটি হওয়ার নয়।

আমি মূলত ডিসপ্লেসমেন্ট (বাস্তুচ্যুতি) এবং কনফ্লিক্ট নিয়ে কাজ করি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একবার বাস্তুচ্যুত হলে নিজ ভূমিতে ফেরার হার অত্যন্ত কম। আমি হতাশ হয়েছিলাম যে বাংলাদেশ সরকার এটিকে একটি অস্থায়ী সমস্যা হিসেবে দেখল। ফলে গত আট বছরে এ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পলিসি তৈরি হয়নি। গভর্নেন্স সিস্টেমে গত এক-দেড় বছরে কিছু পরিবর্তন এলেও তার আগে কী হয়েছে? কোনো পলিসি ছিল না, ছিল শুধু সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মতো কথাবার্তা। বড় সমস্যাটি হলো ‘অ্যাকশন’ বা কার্যকর পদক্ষেপের অভাব।

স্ট্রিম: আমরা কোনো পলিসি বা নীতি তৈরি করতে পারিনি—এর কারণ কি এই যে আমরা ঠিক করতে পারিনি আমাদের বন্ধু কে বা কার সাথে আলোচনা করব? আমাদের ব্যর্থতা ঠিক কোথায়?

ড. কাওসার আহমেদ: ব্যর্থতাটি বহুমুখী (মাল্টি-লেয়ারড)। তবে আমি বলব আমাদের ‘ফোরসাইটেডনেস’ বা দূরদর্শিতার অভাব ছিল, বিশেষ করে ফরেন পলিসিতে। এই কনফ্লিক্টে ভূ-রাজনীতি এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়রা সরাসরি জড়িত। তাদের নিজস্ব সমীকরণ থাকবেই, কিন্তু একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নিজস্ব সুনির্দিষ্ট পলিসি থাকতে হবে। ছোট্ট একটা উদাহরণ দিয়ে আমি এই প্রশ্ন থেকে চলে যাচ্ছি, সেটি হচ্ছে যে দেখেন, ২০১৭-তে সবচাইতে বেশি এক্সোডাস মানে সবচেয়ে বড় ডিসপ্লেসমেন্ট হলো। এর পর আমি, আপনি, সবাই জানি আরো কত হাজার রোহিঙ্গা এসেছে। পলিসিটা কী ছিল, কী হতে পারত?

আমি একটি সমসাময়িক উদাহরণ দেই। ২০২৪-এর ৭ই অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের পর সিনাই পেনিনসুলা সংলগ্ন সীমান্ত কিন্তু মিশর খুলে দেয়নি। কেন দেয়নি? একই কনটেক্সট, একই পলিসি ম্যাটার, যে ইজিপশিয়ানরা জানে যে যদি তারা বর্ডার খুলে দেয়… হিউম্যানিটারিয়ান কারণ সবাই আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুসলমান-মুসলমান ভাই-ভাই, সবই ঠিক আছে, কিন্তু ন্যাশনাল পলিসিতে ইজিপশিয়ানরা ডিসাইড করেছে সিনাই বর্ডার খুলবে না। এবং যদিও এটি একটু অন্যরকম শোনাতে পারে, তবে আমি মনে করি যে এক ধরনের পলিসি থাকতে হবে এবং পলিসির কনসিস্টেন্সি থাকতে হবে। রেজিম চেঞ্জ হবে, এক একটা ইলেকশনের পর একটা নতুন সরকার আসবে। কিন্তু এই ন্যাশনাল পলিসি যেটা, এখানে একটা ইউনাইটেড ফ্রন্ট আমাদের দরকার। আর পলিসিটা বাংলাদেশীদেরকে নিজেদেরই বের করতে হবে যে কী হওয়া উচিত।

স্ট্রিম: আপনি জাতীয় কৌশলের অভাবের কথা বললেন। তবে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর সরকারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ কিছুটা কমেছে বলে মনে হয়। আপনি কি বিষয়টি খেয়াল করেছেন?

ড. কাওসার আহমেদ: আমার কাছে ওভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। তবে মাঝে অনুপ্রবেশের প্রবাহ কিছুটা কমলেও গত ৩-৪ মাস ধরে তা আবার বাড়ছে। অর্থাৎ এটি একটি জোয়ার-ভাটার মধ্যে আছে। আর এখানেই আমার আপত্তির জায়গা—আমাদের কাছে সঠিক ডেটা বা তথ্য কেন নেই?

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনানিবাসে আমাদের সেনাবাহিনীর একটি ডিভিশন রয়েছে। বিজিবি মোতায়েন আছে এবং অন্যান্য সংস্থা আছে। কিন্তু আমরা কেন জানি না যে কতজন লোক ঢুকছে? তারা কোন পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে, কোন সময়ে ঢুকছে এবং তাদের ডেমোগ্রাফি বা পরিচয় কী? এটি একটি বড় সমস্যা। একবার ঢুকে যাওয়ার পর তারা রেজিস্ট্রেশন করল কি না, সেটাতো আরেক বিষয়।

আমি হতাশ হয়েছিলাম যে বাংলাদেশ সরকার এটিকে একটি অস্থায়ী সমস্যা হিসেবে দেখল। ফলে গত আট বছরে এ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পলিসি তৈরি হয়নি।

আমাদের চতুর্থ বই ‘রাউটলেজ’ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, যার নাম "রোহিঙ্গা স্টোরিজ"। সেখানে আমরা ‘ক্যাম্প ম্যানেজমেন্ট’ নিয়ে একটি চমৎকার অধ্যায় লিখেছি। বিশ্বের ইতিহাসে এটি একমাত্র উদাহরণ যেখানে প্রায় ৪০ জনের মতো সিভিল সারভেন্ট ক্যাম্প অ্যাডমিনিস্টার করছেন। এমনটা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। ২০১৯-২০ সালের তুলনায় এখন ক্যাম্প ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এত চমৎকার ম্যানেজমেন্ট থাকা সত্ত্বেও আমাদের কাছে ২০২৪ পরবর্তী ডেটা নেই। আইওএম (আইওএম)-এর কাছে ডেটা ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজনীয় টুলস থাকা সত্ত্বেও কেন আমাদের মধ্যে এই কোঅর্ডিনেশনের অভাব—সেটি আমার বোধগম্য নয়। আমাদের অবশ্যই নির্ভুল তথ্য ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

স্ট্রিম: আমার মনে একটি প্রশ্ন সবসময় ঘুরপাক খায়—আমরা কেন কোনো ‘ডিটারেন্স’ বা শক্ত অবস্থান দেখালাম না? আমাদের দুর্বলতা বা ভয়টা ঠিক কোথায়? আপনি যেমন মিশরের উদাহরণ দিলেন, তারা সিনাই উপত্যকায় প্রবেশাধিকার না দেওয়ার জন্য জাতীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাদের সর্বশক্তি সেখানে নিয়োগ করেছে। আমাদের দেশে এমন কোনো ডিটারেন্স বা জোরালো প্রস্তুতির অভাব কেন?

ড. কাওসার আহমেদ: এটি একটি অত্যন্ত জটিল এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। আলোচনার শুরুতে দর্শকদের বলে নিই, মাঝে মাঝে কিছু ইংরেজি শব্দ চলে আসছে, সেজন্য আমি দুঃখিত। আসলে ‘ডিটারেন্স’ বলতে আমরা শুধু সামরিক শক্তিকে বুঝি না; ডিটারেন্স সামরিক হতে পারে, আবার রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিকও হতে পারে।

আমি মনে করি এখানে কয়েকটি ফ্যাক্টর কাজ করেছে। বাংলাদেশের ফরেন পলিসিতে একটি ভিশন আছে— ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’। ভিশন হিসেবে এটি ঠিক আছে, কিন্তু এর বাস্তব ব্যাখ্যা বা প্রয়োগটা কী? উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারে ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ নামক তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী জোরালো অভিযান শুরু করে এবং তারা বড় সাফল্য পায়। আরাকান আর্মি যখন উত্তর দিক থেকে এগোচ্ছিল, তখন মিয়ানমারের অনেক সৈন্য পালিয়ে আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছিল এবং আমরা তাদের ফেরত দিয়েছি। কিন্তু ২০২৫ সালের মার্চে চীনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি আবার উল্টে যেতে শুরু করে।

এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়? আমাদের জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আকাশসীমা লঙ্ঘন হচ্ছে, এমনকি সীমান্তে নিহতের ঘটনাও ঘটছে। একজন সার্বভৌম দেশ হিসেবে এর রেসপন্স কী হওয়া উচিত? এটি কি ‘টিট ফর ট্যাট’ (ইটের বদলে পাটকেল) হবে, নাকি আনুপাতিক (প্রোপোরশনাল) হবে? আমার সন্দেহ আছে যে আমাদের নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে এ নিয়ে কোনো গভীর আলোচনা হয়েছে কিনা।

মিলিটারি একটি সার্বভৌম দেশের ফরেন পলিসির অন্যতম একটি ‘টুল’ বা হাতিয়ার মাত্র। কিন্তু এটার পেছনে পলিটিক্যাল উইলিংনেস বা রাজনৈতিক সদিচ্ছা কতটুকু ছিল? আমার তো মনে হয় কিছুই ছিল না। আমরা শুধু ‘ডিফেন্স-ডিফেন্স’ খেলছি। কিন্তু শুধু রক্ষণাত্মক অবস্থানে থেকে আপনি আপনার লক্ষ্য কতটুকু অর্জন করবেন তা নিয়ে সংশয় আছে। মিলিটারি স্টুডেন্ট হিসেবে আমরা ‘ইনডাইরেক্ট অ্যাপ্রোচ’ বা প্রতিপক্ষের ‘সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি’তে আঘাত করার তত্ত্ব পড়ি। কিন্তু আমাদের সামরিক ডিটারেন্সের গেম প্ল্যান কী হতে পারে, তা নিয়ে কোনো কার্যকর আলোচনা চোখে পড়ে না।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করি, ‘কনফ্লিক্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর পক্ষ থেকে আমরা একটি প্রজেক্ট পরিচালনা করছি যা ‘গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা’ ফান্ড করছে। সেই সূত্রেই আমার বাংলাদেশে আসা। গত নভেম্বর থেকে আমরা বিআইএসএস (বিআইআইএসএস)-সহ বিভিন্ন জায়গায় ন’টি অনুষ্ঠান করেছি। সেখানে এই সামরিক ডিটারেন্সের প্রসঙ্গটি বারবার উঠে এসেছে। মিয়ানমারের ক্ষমতায় যেহেতু সেনাবাহিনী, তাই সেখানে ‘মিলিটারি ডিপ্লোমেসি’র গুরুত্ব অনেক। কিন্তু এ নিয়ে কেউ সিরিয়াসলি ভেবেছে বলে মনে হয় না। এখনই সময় ডিটারেন্সের একটি সামগ্রিক স্ট্র্যাটেজি ঠিক করার। আমাদের একটি গেম প্ল্যান থাকতে হবে; না হলে মিয়ানমার ক্রমাগত আকাশসীমা ও জলসীমা লঙ্ঘন করবে এবং আমাদের রেসপন্স করতে করতে অনেক দেরি হয়ে যাবে।

স্ট্রিম: আপনি বারবার ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি’ বা জাতীয় কৌশলের ওপর জোর দিচ্ছেন। আসলে আমাদের মিলিটারি, ফরেন মিনিস্ট্রি এবং অন্যান্য সংস্থার কাজের মধ্যে কোনো সমন্বয় বা সংযোগ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি—মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী দেশ। কিন্তু তাদের সঙ্গে আমাদের সেভাবে সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি কেন? ভারত, নেপাল বা ভুটানের সঙ্গে আমাদের যেমন সম্পর্ক, মিয়ানমারের সঙ্গে তা নেই কেন? ভারতে আমাদের অনেক কনস্যুলেট এবং ডিপ্লোম্যাট থাকলেও মিয়ানমারে মাত্র ছয়জন আছেন বলে জানি। আমরা কেন তাদের আস্থায় নিতে পারলাম না? অং সান সুচি অনেক দেশ সফর করলেও বাংলাদেশে আসেননি কেন?

ড. কাওসার আহমেদ: এটিও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। গত দুই মাসে আমাদের বিভিন্ন এনগেজমেন্টে এই বিষয়টি এতবার এসেছে যে আমি নিজেও কিছুটা হতাশ। কিছু সত্য কথা বলতে গেলে—প্রথমত, আমরা মিয়ানমারকে কখনোই গুরুত্ব দিইনি। আমরা মনে করেছি এটি একটি শান্ত প্রতিবেশী এবং ভারতের তুলনায় এর কৌশলগত গুরুত্ব আমাদের কাছে কম। আমাদের ফরেন পলিসিতে মিয়ানমারকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘কালেক্টিভ অ্যামনেশিয়া’ (সামষ্টিক বিস্মৃতি) কাজ করেছে।

আমার সামরিক জীবনের শেষ দিকে ১৯ বছর গ্রাউন্ড সার্ভিস করার পর যখন আমাকে মিয়ানমার আর্মি নিয়ে স্টাডি করতে বলা হলো, আমি অবাক হয়ে দেখলাম আমাদের কাছে তাদের নিয়ে কোনো পর্যাপ্ত ডেটা বা তথ্য নেই। তাদের ডিভিশন বা কোর সম্পর্কেও আমরা পরিষ্কার ছিলাম না। মিয়ানমারে আমাদের অ্যাম্বেসি ও কনস্যুলেট সবসময় ছিল, সংখ্যায় হয়তো লোকবল কম ছিল। কিন্তু যারা সেখানে অ্যাম্বাসেডর বা ডিফেন্স অ্যাটাশে হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা আসলে কী করেছেন? আমরা সরাসরি অনেক সাবেক কর্মকর্তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছি, কিন্তু কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাইনি।

এটি আমাদের ফরেন পলিসির একটি নিরবচ্ছিন্ন ব্যর্থতা। আমরা ২০১৭ সালের আগে মিয়ানমারকে নিয়ে কোনো সিরিয়াস চিন্তা করিনি। অং সান সুচি প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আসলেন না—এটি একটি বড় কূটনৈতিক ব্যর্থতা। এটি শুধু গবেষণা করে সমাধান হবে না; এর জন্য ডিপ্লোম্যাটদের জোরালো লবিং এবং এনগেজমেন্ট দরকার ছিল। অথচ দেখুন, বারাক ওবামা মিয়ানমারে ভিজিট করলেন, আমেরিকানরা সেখানে গণতন্ত্রের সুবাতাস খুঁজে পেল—এগুলো ছিল মিয়ানমারের কূটনৈতিক সাফল্য। আর আমরা অদ্ভুতভাবে এই জায়গায় সব সময়ই পিছিয়ে ছিলাম।

স্ট্রিম: আমি মুগ্ধ হয়ে আপনার কথা শুনছিলাম। আমার জানার আগ্রহ মিটছে না, কারণ ইস্যুগুলো শেষ হওয়ার নয়। আপনাদের এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি (সিআ্রআরআইসি) রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে কীভাবে সাপোর্ট করছে বা আপনারা কীভাবে এটি অর্গানাইজ করছেন, সে সম্পর্কে যদি সংক্ষেপে কিছু বলতেন।

ড. কাওসার আহমেদ: আপনাকে আবারও ধন্যবাদ বিষয়টি তোলার জন্য। দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলি, আমাদের ইনস্টিটিউটটি আকারে খুবই ছোট। তবে শুরু থেকেই আমরা একটি বিষয়ে খুব অটল, আর তা হলো—পলিসি অ্যাডভোকেসিতে আমাদের ধারাবাহিকতা। রোহিঙ্গা বা মিয়ানমার ইস্যু নিয়ে অনেক সময় বড় বড় প্রজেক্ট হয় এবং প্রজেক্ট শেষ হলে কাজও শেষ হয়ে যায়; কিন্তু আমরা তা হতে দিইনি। গত ৯ বছর ধরে আমরা ধারাবাহিকভাবে কানাডিয়ান সরকারের কাছে লবিং করে যাচ্ছি। হাউজ অফ কমন্স থেকে শুরু করে সিনেটে আমরা একের পর এক অনুষ্ঠান করেছি। আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৯০টির মতো ওয়েবিনার আছে, যেখানে এই সংকটের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আমাদের এই নিরবচ্ছিন্ন কাজের ফলস্বরূপ, গত বছর আমরা ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’র অধীনে ‘গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা’ থেকে একটি গ্র্যান্ট বা অনুদান পেয়েছি। এই প্রজেক্টের একটি বড় অংশ আমি বাংলাদেশের জন্য উৎসর্গ করেছি। সেই সূত্রেই আমি নভেম্বরে দুই সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলাম এবং এবারও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেশন করলাম। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো—এই পুরো আলোচনা বা ডিসকোর্সের কেন্দ্রে বাংলাদেশকে রাখা। কারণ, এই সংকটে বাংলাদেশই সবচাইতে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ (ভালনারেবল) অবস্থায় আছে।

এই কনফ্লিক্ট বা সংকট নিয়ে আমার দুটি বড় আশঙ্কার কথা আমি আজ ফোরকাস্ট (পূর্বাভাস) হিসেবে বলে যেতে চাই:

১. খুব দ্রুতই এই অঞ্চলে মিলিটেন্সি বা উগ্রবাদের উত্থান ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

২. ‘ডোনার ফ্যাটিগ’ বা দাতাদের অনীহা এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই সংকটের পুরো দায়ভার হয়তো শুধু বাংলাদেশের ওপরই এসে পড়বে।

আমি আশা করি আমার এই পূর্বাভাসগুলো যেন সত্যি না হয়, তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের ইনস্টিটিউট থেকে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে গিয়ে অ্যাডভোকেসি করি এবং স্টেকহোল্ডারদের কানেক্ট করি। এই প্রজেক্টের অংশ হিসেবে আমি এবার আইডিয়ারসি-র রিজিওনাল হেড এবং মিয়ানমার বিষয়ক কনসালটেন্ট ফেলিক্স হাস-কে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি। আমরা বিআইএসএস-এর সাথে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছি।

আমরা চাই বাংলাদেশ সরকার এই প্রক্রিয়ায় ডায়াসপোরাদের (বিদেশে বসবাসরত বিশেষজ্ঞ) সম্পৃক্ত করুক। শুধু বাংলাদেশী ডায়াসপোরাই নয়, ইংল্যান্ড, কানাডা ও জার্মানিতে বসবাসরত শক্তিশালী রোহিঙ্গা ডায়াসপোরাকেও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। আমরা ‘রোহিঙ্গা রিকনস্ট্রাকশন প্ল্যান’ নামে একটি আইডিয়া প্রমোট করছি, যাকে আমরা সিক্সথ অ্যাভিনিউ বা সিক্সথ অ্যাপ্রোচ বলছি। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আমাদের ওয়েবসাইটে (https://project.crric.org) পাওয়া যাবে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো—বুদ্ধি ও সময় দিয়ে বাংলাদেশকে সাহায্য করা, যাতে দেশটি এই সংকট সমাধানের জন্য একটি কার্যকর জাতীয় পলিসি বা নীতি প্রণয়ন করতে পারে।

স্ট্রিম: ডক্টর কাওসার, আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

ড. কাওসার আহমেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ। ধন্যবাদ ঢাকা স্ট্রিম এবং স্ট্রিমের পাঠকদেরও।

সর্বাধিক পঠিত
এই মুহূর্তে
Ad 300x250

সম্পর্কিত