স্ট্রিম প্রতিবেদক

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছোট প্রযুক্তি কোম্পানি ইনটেক লিমিটেড। কোম্পানিটি লোকসানি ছিল। কিন্তু গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। আর এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান মোস্তাকুর রহমান। ইনটেক লিমিটেডে তাঁর মালিকানা রয়েছে। মোস্তাকুরের নিয়োগের পরদিন এই কোম্পানির শেয়ারের দাম আরেক দফায় বাড়ে।
গভর্নর নিয়োগের আগের ও পরের দিন অস্বাভাবিক হারে বাড়া ইনটেক লিমিটেডের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের পরিবারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। কোম্পানিটি বর্তমানে এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম লাবুর পরিবার ও তাঁর সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলম মাসুদের ছোট ভাই লাবু। ইনটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন লাবুর ছেলে আতিকুল আলম চৌধুরী। আর নথিপত্রে লাবুকে কোম্পানির উপদেষ্টা হিসেবে দেখানো হয়েছে। লাবু যখন আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন ইনটেকের কয়েকজন পরিচালক ওই ব্যাংকের শীর্ষ পদে ছিলেন।
বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকেই মোস্তাকুর রহমান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানির একজন উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার। তবে ইনটেকের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। সর্বশেষ প্রান্তিকে তাদের আয় ছিল ১৯ লাখ টাকা। আর নিট লোকসান হয়েছে ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য বলছে, মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের আগের দিন কোম্পানির শেয়ারের দাম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ টাকা হয়। নিয়োগের পরদিন শেয়ারটির দাম আরও প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়ে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠে। তবে ৪ মার্চ দাম আবার কমে ৩২ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে আসে।
শেয়ারের এই দাম বাড়ার পেছনে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের কোনো অবৈধ সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ পায়নি নেত্র নিউজ। তবে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ার যে প্রবণতা চলছে, এটি তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে শেয়ারবাজারে এস আলম গ্রুপের একমাত্র তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের শেয়ারের দামও বেড়েছে। এটি ১৭ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছেছে, যা গত নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সরকার পতনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে এসব ব্যাংকের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসে। মোস্তাকুর রহমানের পূর্বসূরি আহসান এইচ মনসুর এই গ্রুপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন যে, গ্রুপটি তাদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে।
একজন সক্রিয় ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে বসালে স্বার্থের সংঘাত হতে পারে, এই ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তদারকি করে, রিজার্ভ সামলায়, সুদের হার নির্ধারণ করে এবং অর্থ পাচার রোধে কাজ করে। এস আলম গ্রুপের মতো অলিগার্কদের (প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী) বিরুদ্ধে আগের সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। এখন নতুন গভর্নরকে এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, যার সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারদের হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ জড়িত।
এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও গত বুধবার পর্যন্ত গভর্নরের কোনো বক্তব্য পায়নি নেত্র নিউজ।
এস আলম গ্রুপের সঙ্গে ইনটেকের সম্পর্ক বেশ গভীর বলেই মনে হয়। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের প্রতিনিধি হিসেবে থাকা সাবেক দুই পরিচালক এ এন এম ইয়াহিয়া ও আহমদুল হক ২০২১ সালে ইনটেকের শেয়ার কেনেন। ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইনটেকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক বদিউর রহমানের স্ত্রীও একই বছর শেয়ার কেনেন। তবে ওই সময় এস আলম গ্রুপ ইনটেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের কথা অস্বীকার করেছিল।
গভর্নরের স্ত্রী আখতার সানজিদা কাশেম একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তিনি এ. কাশেম অ্যান্ড কোম্পানির ম্যানেজিং পার্টনার। নথিপত্র বলছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান ইওয়াই বাংলাদেশের মাধ্যমে ওই অডিট ফার্মকে দিয়ে আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা করিয়েছিল। ওই বছরেই এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর তারা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় আট শ কোটি ডলার (৯৩ হাজার কোটি টাকা) ঋণ নেয়। তবে সানজিদা কাশেমের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ নেই। এ বিষয়ে এ. কাশেম অ্যান্ড কোম্পানিও কোনো মন্তব্য করেনি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক সামষ্টিক অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান প্রায়ই বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে লেখালেখি করেন। তাঁর মতে, নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে গভর্নরের উচিত স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে এমন সব কোম্পানির মালিকানা ছেড়ে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘শাসকের স্ত্রীকে অবশ্যই সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে।’
‘নিষ্ক্রিয় ভূমিকা’
ইনটেকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বর্তমান পরিচালক উবায়দা আসাদীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, মোস্তাকুর রহমানকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। আসাদীর বাবা লিয়াকত আলী চৌধুরী চট্টগ্রামে একটি জাহাজ নির্মাণ কোম্পানির দেখাশোনা করেন। লাবু যখন আল-আরাফাহ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তাঁর বাবা ব্যাংকটির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
প্রথমে ইনটেকের কোম্পানি সচিব জাইদুল ইসলাম দাবি করেন, উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার মোস্তাকুর রহমান আর বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর এক ব্যক্তি নন। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, তিনি ওই শেয়ারহোল্ডারকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না।
ইনটেকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক এ টি এম মাহবুবুল আলম নিশ্চিত করেন, ওই শেয়ারহোল্ডার আর বর্তমান গভর্নর একই ব্যক্তি। তিনি গভর্নরকে পারিবারিক বন্ধু বলে উল্লেখ করেন।

মাহবুব জানান, কোম্পানিতে মোস্তাকুর রহমানের শেয়ার খুবই সামান্য। নথিপত্র অনুযায়ী ইনটেকে তাঁর শেয়ার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের কিছু বেশি। মাহবুব আরও বলেন, ২০১০ সালের দিকে মোস্তাকুর রহমান কোম্পানিতে সক্রিয় ছিলেন, তবে কখনও নিয়ন্ত্রণ নেননি।
মাহবুব জানান, ২০২০ সালে আবদুস সালাম লাবুর পরিবার ও তাঁর সহযোগীদের তিনি নিজেই কোম্পানিতে নিয়ে আসেন। কারণ তাঁরা পুঁজিবাজারের ‘বিখ্যাত ব্যক্তি’ ছিলেন। মূলত আইন অনুযায়ী উদ্যোক্তাদের হাতে অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার রাখার বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্যই তাঁদের আনা হয়। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, লাবুর পরিবারকে কোম্পানিতে আনার ব্যাপারে মোস্তাকুর রহমান অনিচ্ছুক ছিলেন এবং এতে তাঁর কোনো ভূমিকা ছিল না।’
এর আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইনটেক ও এর কয়েকজন পরিচালককে কয়েকবার জরিমানা করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েও কৃষিখাতে বিনিয়োগ করায় কোম্পানিটি প্রশ্নের মুখে পড়েছিল।
বড় চ্যালেঞ্জ
পেশায় কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোস্তাকুর রহমানের একটি মাঝারি আকারের সোয়েটার কারখানা রয়েছে। পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর মাধ্যমে তিনি এমন একটি কমিটিতে ছিলেন, যা সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করত। এ ছাড়া একটি ট্যুর অপারেটিং কোম্পানি এবং একটি আবাসন কোম্পানিতেও তাঁর মালিকানা রয়েছে। তাঁর প্রায় সব ব্যবসাই টাকার মান বা সুদের হারের ওপর নির্ভরশীল। আর এসব নির্ধারণ করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল কাজ।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে তাঁর পোশাক কারখানার ৮৯ কোটি টাকার একটি ঋণ পুনর্গঠন করা হয়। গভর্নর হওয়ার পর তাঁর প্রথম কাজগুলোর একটি ছিল রপ্তানিমুখী শিল্পের (যার বড় অংশই পোশাক খাত) শ্রমিকদের বেতন দিতে ঋণের সুবিধা অনুমোদন করা।
অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান বলেন, গভর্নর চাইলে সরাসরি নিজের বা পরিচিতদের স্বার্থ জড়িত, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু মোস্তাকুর রহমানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কাঠামোগত।
তিনি বলেন, ‘শুধু তিনি নন, যে কোনো ব্যবসায়ী চাইবেন সুদের হার কম থাকুক। এতে ব্যবসার ভালো হয়। কিন্তু এটি হয়তো সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ভালো নাও হতে পারে। রপ্তানিকারকেরা সবসময় টাকার মান কম রাখতে চান, যাতে বেশি রপ্তানি করা যায়। কিন্তু এতে আমদানি খরচ বেড়ে যায়। আর বাংলাদেশ রপ্তানির চেয়ে আমদানিই বেশি করে।’
মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যোগাযোগ রয়েছে। তিনি দলটির ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলীয় নেতা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক প্রচারণার সময় বিএনপি কার্যালয়ে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
এক নেতা বলেন, ‘তিনি জ্যেষ্ঠ নেতাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আমরা প্রায়ই তাঁকে নজরুল ইসলাম খান এবং ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে দেখতাম।’ এই দুই নেতাই বর্তমানে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছোট প্রযুক্তি কোম্পানি ইনটেক লিমিটেড। কোম্পানিটি লোকসানি ছিল। কিন্তু গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। আর এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান মোস্তাকুর রহমান। ইনটেক লিমিটেডে তাঁর মালিকানা রয়েছে। মোস্তাকুরের নিয়োগের পরদিন এই কোম্পানির শেয়ারের দাম আরেক দফায় বাড়ে।
গভর্নর নিয়োগের আগের ও পরের দিন অস্বাভাবিক হারে বাড়া ইনটেক লিমিটেডের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের পরিবারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। কোম্পানিটি বর্তমানে এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম লাবুর পরিবার ও তাঁর সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলম মাসুদের ছোট ভাই লাবু। ইনটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন লাবুর ছেলে আতিকুল আলম চৌধুরী। আর নথিপত্রে লাবুকে কোম্পানির উপদেষ্টা হিসেবে দেখানো হয়েছে। লাবু যখন আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন ইনটেকের কয়েকজন পরিচালক ওই ব্যাংকের শীর্ষ পদে ছিলেন।
বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকেই মোস্তাকুর রহমান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানির একজন উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার। তবে ইনটেকের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। সর্বশেষ প্রান্তিকে তাদের আয় ছিল ১৯ লাখ টাকা। আর নিট লোকসান হয়েছে ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য বলছে, মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের আগের দিন কোম্পানির শেয়ারের দাম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ টাকা হয়। নিয়োগের পরদিন শেয়ারটির দাম আরও প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়ে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠে। তবে ৪ মার্চ দাম আবার কমে ৩২ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে আসে।
শেয়ারের এই দাম বাড়ার পেছনে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের কোনো অবৈধ সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ পায়নি নেত্র নিউজ। তবে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ার যে প্রবণতা চলছে, এটি তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে শেয়ারবাজারে এস আলম গ্রুপের একমাত্র তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের শেয়ারের দামও বেড়েছে। এটি ১৭ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছেছে, যা গত নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সরকার পতনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে এসব ব্যাংকের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসে। মোস্তাকুর রহমানের পূর্বসূরি আহসান এইচ মনসুর এই গ্রুপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন যে, গ্রুপটি তাদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে।
একজন সক্রিয় ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে বসালে স্বার্থের সংঘাত হতে পারে, এই ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তদারকি করে, রিজার্ভ সামলায়, সুদের হার নির্ধারণ করে এবং অর্থ পাচার রোধে কাজ করে। এস আলম গ্রুপের মতো অলিগার্কদের (প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী) বিরুদ্ধে আগের সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। এখন নতুন গভর্নরকে এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, যার সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারদের হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ জড়িত।
এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও গত বুধবার পর্যন্ত গভর্নরের কোনো বক্তব্য পায়নি নেত্র নিউজ।
এস আলম গ্রুপের সঙ্গে ইনটেকের সম্পর্ক বেশ গভীর বলেই মনে হয়। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের প্রতিনিধি হিসেবে থাকা সাবেক দুই পরিচালক এ এন এম ইয়াহিয়া ও আহমদুল হক ২০২১ সালে ইনটেকের শেয়ার কেনেন। ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইনটেকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক বদিউর রহমানের স্ত্রীও একই বছর শেয়ার কেনেন। তবে ওই সময় এস আলম গ্রুপ ইনটেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের কথা অস্বীকার করেছিল।
গভর্নরের স্ত্রী আখতার সানজিদা কাশেম একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তিনি এ. কাশেম অ্যান্ড কোম্পানির ম্যানেজিং পার্টনার। নথিপত্র বলছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান ইওয়াই বাংলাদেশের মাধ্যমে ওই অডিট ফার্মকে দিয়ে আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা করিয়েছিল। ওই বছরেই এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর তারা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় আট শ কোটি ডলার (৯৩ হাজার কোটি টাকা) ঋণ নেয়। তবে সানজিদা কাশেমের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ নেই। এ বিষয়ে এ. কাশেম অ্যান্ড কোম্পানিও কোনো মন্তব্য করেনি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক সামষ্টিক অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান প্রায়ই বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে লেখালেখি করেন। তাঁর মতে, নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে গভর্নরের উচিত স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে এমন সব কোম্পানির মালিকানা ছেড়ে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘শাসকের স্ত্রীকে অবশ্যই সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে।’
‘নিষ্ক্রিয় ভূমিকা’
ইনটেকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বর্তমান পরিচালক উবায়দা আসাদীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, মোস্তাকুর রহমানকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। আসাদীর বাবা লিয়াকত আলী চৌধুরী চট্টগ্রামে একটি জাহাজ নির্মাণ কোম্পানির দেখাশোনা করেন। লাবু যখন আল-আরাফাহ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তাঁর বাবা ব্যাংকটির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
প্রথমে ইনটেকের কোম্পানি সচিব জাইদুল ইসলাম দাবি করেন, উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার মোস্তাকুর রহমান আর বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর এক ব্যক্তি নন। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, তিনি ওই শেয়ারহোল্ডারকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না।
ইনটেকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক এ টি এম মাহবুবুল আলম নিশ্চিত করেন, ওই শেয়ারহোল্ডার আর বর্তমান গভর্নর একই ব্যক্তি। তিনি গভর্নরকে পারিবারিক বন্ধু বলে উল্লেখ করেন।

মাহবুব জানান, কোম্পানিতে মোস্তাকুর রহমানের শেয়ার খুবই সামান্য। নথিপত্র অনুযায়ী ইনটেকে তাঁর শেয়ার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের কিছু বেশি। মাহবুব আরও বলেন, ২০১০ সালের দিকে মোস্তাকুর রহমান কোম্পানিতে সক্রিয় ছিলেন, তবে কখনও নিয়ন্ত্রণ নেননি।
মাহবুব জানান, ২০২০ সালে আবদুস সালাম লাবুর পরিবার ও তাঁর সহযোগীদের তিনি নিজেই কোম্পানিতে নিয়ে আসেন। কারণ তাঁরা পুঁজিবাজারের ‘বিখ্যাত ব্যক্তি’ ছিলেন। মূলত আইন অনুযায়ী উদ্যোক্তাদের হাতে অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার রাখার বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্যই তাঁদের আনা হয়। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, লাবুর পরিবারকে কোম্পানিতে আনার ব্যাপারে মোস্তাকুর রহমান অনিচ্ছুক ছিলেন এবং এতে তাঁর কোনো ভূমিকা ছিল না।’
এর আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইনটেক ও এর কয়েকজন পরিচালককে কয়েকবার জরিমানা করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েও কৃষিখাতে বিনিয়োগ করায় কোম্পানিটি প্রশ্নের মুখে পড়েছিল।
বড় চ্যালেঞ্জ
পেশায় কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোস্তাকুর রহমানের একটি মাঝারি আকারের সোয়েটার কারখানা রয়েছে। পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর মাধ্যমে তিনি এমন একটি কমিটিতে ছিলেন, যা সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করত। এ ছাড়া একটি ট্যুর অপারেটিং কোম্পানি এবং একটি আবাসন কোম্পানিতেও তাঁর মালিকানা রয়েছে। তাঁর প্রায় সব ব্যবসাই টাকার মান বা সুদের হারের ওপর নির্ভরশীল। আর এসব নির্ধারণ করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল কাজ।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে তাঁর পোশাক কারখানার ৮৯ কোটি টাকার একটি ঋণ পুনর্গঠন করা হয়। গভর্নর হওয়ার পর তাঁর প্রথম কাজগুলোর একটি ছিল রপ্তানিমুখী শিল্পের (যার বড় অংশই পোশাক খাত) শ্রমিকদের বেতন দিতে ঋণের সুবিধা অনুমোদন করা।
অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান বলেন, গভর্নর চাইলে সরাসরি নিজের বা পরিচিতদের স্বার্থ জড়িত, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু মোস্তাকুর রহমানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কাঠামোগত।
তিনি বলেন, ‘শুধু তিনি নন, যে কোনো ব্যবসায়ী চাইবেন সুদের হার কম থাকুক। এতে ব্যবসার ভালো হয়। কিন্তু এটি হয়তো সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ভালো নাও হতে পারে। রপ্তানিকারকেরা সবসময় টাকার মান কম রাখতে চান, যাতে বেশি রপ্তানি করা যায়। কিন্তু এতে আমদানি খরচ বেড়ে যায়। আর বাংলাদেশ রপ্তানির চেয়ে আমদানিই বেশি করে।’
মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যোগাযোগ রয়েছে। তিনি দলটির ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলীয় নেতা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক প্রচারণার সময় বিএনপি কার্যালয়ে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
এক নেতা বলেন, ‘তিনি জ্যেষ্ঠ নেতাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আমরা প্রায়ই তাঁকে নজরুল ইসলাম খান এবং ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে দেখতাম।’ এই দুই নেতাই বর্তমানে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কোনো কাজ না করেই ভুয়া কার্যাদেশ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জাল প্যাড বানিয়ে ১৩ কোটি ৭১ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ছয় শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থার উপসহকারী পরিচালক সজীব আ
২৫ মিনিট আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় এ বিষয়ে সাশ্রয়ী হতে আহ্বান জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এমন পরিস্থিতিতে সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার এবং ব্যক্তিগত যানের বদলে গণপরিবহন ব্যবহারের জন্য জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জন পলাতক আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
১ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা।
১ ঘণ্টা আগে