জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইবি শিক্ষিকাকে হত্যার কথা স্বীকার ফজলুর, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৪: ০৯
স্ট্রিম গ্রাফিক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলু রহমান লিখিত স্টেটমেন্টে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইমাম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. ইমাম হোসেন জানান, বুধবার (৪ মার্চ) রাতে পুলিশের উপস্থিতিতে ফজলুর রহমানের লিখিত স্টেটমেন্ট নেওয়া হয়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বিভাগীয় প্রধান বদলি করায় এবং বেতন বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁর মনে ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে ডা. ইমাম হোসেন বলেন, ‘ফজলুর রহমানকে বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে (আইসিইউ) ভর্তি রাখা হয়েছে। তিনি আশঙ্কামুক্ত, ডাকলে সাড়া দিচ্ছেন এবং চোখ মেলে তাকাচ্ছেন। কিছু জানতে চাইলে কলম দিয়ে লিখে উত্তর দিতে পারছেন। বুধবার রাতেই পুলিশের কর্মকর্তারা তার দুই পাতার লিখিত বক্তব্য নিয়ে গেছেন।’

ফজলুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে আসছেন এবং তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান এই চিকিৎসক।

এ দিকে নিহত শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনার স্বামীর বড় ভাই আবদুর রশিদ বলেন, ‘কর্মস্থলে এমন হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় কিছু রাঘববোয়াল জড়িত আছে। আমরা প্রশাসনের কাছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতি ও জিডি করা হয়েছে।’

গতকাল বুধবার (৫ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করেন একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে তিনি নিজেও আত্মহননের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আসমা সাদিয়া রুনা কুষ্টিয়া শহরস্থ কোর্টপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক। সংসার জীবনে তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জননী ছিলেন।

এছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিহতের মরদেহের পোস্টমর্টেম সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. ইমাম হোসেন ও মেডিকেল অফিসার ডা. রুমন রহমান।

ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, কয়েক দফা দাবি

এদিকে শিক্ষক হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা দ্রুত হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিত ও এর নেপথ্যের কারণ বের করার দাবি জানান।

আজ সকাল ১০টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সামনে মানববন্ধনের পর তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘আমার ম্যামকে হত্যা কেনো, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার ম্যামের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’, ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’ ও ‘ইবি কেন রক্তাক্ত, প্রশাসন বিচার চাই’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েক দফা দাবি জানান। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– দ্রুত হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিত করা, হত্যার নেপথ্যে কেউ থাকলে জবাবদিহিতে নিয়ে এসে তাঁর বিচার নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসে-হলে-ডিপার্টমেন্টে সিসি ক্যামেরা নিশ্চিত করা এবং তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এবং কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষণ করা, স্মার্ট আইডি ছাড়া কেউ ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে না (ভ্যানওয়ালা-দোকানদার সবাইকে আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা), ডেইলি বেসিস কর্মচারীদের নেম প্লেটসহ আলাদা পোশাকের ব্যবস্থা করা এবং তাদের বেতন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেওয়ার ব্যবস্থা করা, বিভাগীয় আয় ব্যয়ের হিসাব পরিষ্কার রাখা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।

বিচার চান শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষক হত্যার বিচার দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। সমাজকল্যাণ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া সাবরিনা বলেন, ‘আমরা ম্যামের হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে এখানে এসেছি। ম্যাম আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন, একজন কর্মচারী কতটা উগ্র হলে রুমে ঢুকে তাঁকে হত্যা করতে পারে। এই ঘটনার সাক্ষী অনেকেই আছেন, তাই আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।’

মাস্টার্সের ২৩-২৪ বর্ষের শিক্ষার্থী জোবেন বলেন, ‘এই অন্তঃকোন্দল আজকের না। আমাদের ম্যাম যখন দায়িত্ব নেওয়া শুরু করেছেন, তখন থেকে তাঁকে ব্যর্থ-অকার্যকর চেয়ারম্যান হিসেবে প্রমাণ করার জন্য আমাদের কর্মচারী চেষ্টা করে গেছেন। এতে আমাদের গুটিকয়েক শিক্ষক জড়িত ছিলেন, স্পষ্ট কথা এটা।’

হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলু রহমানের এই পর্যায়ে যাওয়ার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদেরও দায় দিয়ে এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজকে সাধারণ ফজলু থেকে খুনি ফজলু হওয়ার পেছনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা জড়িত আছে। কারণ আমাদের সামনেই অনেকবার কর্মচারীদের বলেছি, আপনারা একটা চেয়ারের সঙ্গে এভাবে ব্যবহার আচরণ করতে পারেন না। আমরা রিকোয়েস্ট করেছি, আমরা ধমক দিয়ে কথা বলেছি, কিন্তু আমাদের কথা গ্রাহ্য করে নাই। ম্যামকে কালকে হত্যা করা হয়েছে, এর আগে এক বছর ধরে ম্যামকে তিলে তিলে শেষ করা হয়েছে।’

এই হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি একজন মানুষ হিসেবে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। যদি আমি নিজেও এর সঙ্গে জড়িত থাকি তাহলে আমি আমারও শাস্তি দাবি করছি।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত