আবু তাহের খান

বিচারকের সামনে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি, সাক্ষী বা বিচারপ্রার্থী যখন ‘সত্য বৈ মিথ্যা বলিব না’ উচ্চারণপূর্বক শপথ গ্রহণ করেন, তখন সেই উচ্চারণ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সত্য তথ্য পাওয়ার ব্যাপারে বিচারকের মনে কোনো আশ্বাস তৈরি করে কিনা, আমরা জানি না। তবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের আইন পরিষদের (জাতীয় সংসদ) সদস্যরা যখন পরস্পরের সাক্ষী হয়ে এবং জনগণকে সাক্ষী রেখে একসঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন, তখন সাধারণ মানুষের মনে ক্ষণিকের জন্য হলেও আশা জাগ্রত হয় যে, শপথ গ্রহণকারীদের সবাই না হোক, অন্তত কেউ কেউ তাদের কার্যকালে শপথ রক্ষা করে চলবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যে সদস্যরা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নেওয়া শপথের ভিত্তিতে ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনে বসতে যাচ্ছেন, তাঁদের ঘিরেও জনগণের মধ্যে সেই আশাবাদ একইভাবে তৈরি হয়েছে! প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, সংসদ সদস্যরা যেসব বাক্য উচ্চারণ করে এ শপথ নিলেন, তার অন্যতম চেতনাই হচ্ছে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁরা রাষ্ট্রের সংবিধান, আইন ও বিধিবিধান মেনে চলবেন এবং এ চলার পথে অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনোরূপ আচরণ করবেন না।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে : শপথ গ্রহণকালে তাঁরা সংবিধান মেনে চলার যে অঙ্গীকার করেছেন, সেই সংবিধানে কী কী বলা আছে এবং সে অনুযায়ী তাঁদের কী ধরনের আচরণ ও দায়িত্ব পালন করা উচিৎ। শপথ গ্রহণকারীদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলি, তাঁরা সবাই কি সে ব্যাপারে পরিপূর্ণভাবে সচেতন? অর্থাৎ তাঁরা সবাই কি সংবিধানটি পড়ে দেখেছেন? এমন প্রশ্ন উত্থাপনের মাধ্যমে এখানে দেশের আইন প্রণেতাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অসম্মান পোষণের চেষ্টা করা হচ্ছে না; বরং বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাওয়া যে, সংসদ সদস্যরা যাতে তাঁদের কার্যকালে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও জবাবদিহির স্বাক্ষর রাখতে পারেন, সেজন্য শুরুতেই তাঁদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। এবং এর অংশ হিসেবেই শপথ গ্রহণের আগে তাঁদের উচিৎ সংবিধানটি ভালো করে পড়ে দেখা, যাতে সংবিধানের চেতনাটি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁদের হৃদয়ে প্রোথিত হয়ে যায় এবং সেটি তাঁদের উপলব্ধিকে স্পর্শ ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
কথা হচ্ছে, নির্বাচনোত্তর সামাজিকতার ভিড়ে এটি তাঁরা পড়ার সময় পাবেন কীভাবে? এর জবাব সংসদ সদস্যরা নিজের অজান্তে নিজেরাই তৈরি করে রেখেছেন। আপনারাই বলুন, নির্বাচন-পূর্ব শেষ প্রচারণার রাতে আপনি ক’টা পর্যন্ত জেগেছিলেন এবং কত কিলোমিটার পথ হেঁটেছিলেন? নির্বাচনে জেতার জন্য যদি এতটা করে থাকতে পারেন, তাহলে জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে রাত জেগে সংবিধানটি পড়তে পারবেন না? আর শুধু শপথের সূত্রে কৌতুহল পূরণের জন্য নয়; সংসদ সদস্য হিসেবে আগামী পাঁচ বছর যোগ্যতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্যও এটি পড়া প্রয়োজন। আর এটি পড়তে যেয়ে কোথাও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কোনোরূপ অস্পষ্টতা বোধ করলে সেজন্য এর অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গেও যোগাযোগের প্রয়োজন নেই; নিজ দলের বিজ্ঞ আইনজীবীরাই এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবেন। এটিও বলব, যারা এ সংবিধান বহুবার পড়েছেন কিংবা এটি নিয়ে যাদের নিত্যদিন কাজ করতে হয়, তারাও যেন সংসদের অধিবেশনে বসার আগে আপনত্ব ও পবিত্রতার অনুভূতি নিয়ে মহান সংবিধানটিতে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নেন।
সংসদ সদস্যদের বিনয়ের সঙ্গে আরও বলব, সংবিধান বা শপথ শুধু একটি দলিল বা আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি জনগণের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সম্পর্কের চুক্তি। ওই যে দলীয় নির্বাচনী ইশতেহার, সেটি ওই চুক্তির বাস্তবায়ন কৌশল মাত্র। ফলে নির্বাচনে জিতে ইশতেহারে উল্লিখিত অঙ্গীকারের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করতে হলে সর্বাগ্রে মূল চুক্তি অর্থাৎ সংবিধানটি ভালোভাবে আয়ত্তের পাশাপাশি এটিকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা এমন অনেক কথা বলেন এবং আচরণ করেন, যেগুলো সংবিধানের মৌলিক চেতনা ও দর্শনের সঙ্গে যায় না। আর সেজন্যই একটি নতুন সংসদের যাত্রাক্ষণে মাননীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের কাছে করজোড়ে অনুরোধ করবো, দেশটিকে সংবিধানের আলোকে চালান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নয়; জাতীয় সংসদই হয়ে ওঠুক রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু।
একটি ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করেছিল। মাঝপথে কক্ষচ্যুত হলেও নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিন জোট মিলে আবার সেই মূল পথ অর্থাৎ ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচে ফিরে যাওয়ার অঙ্গীকার করে, যা ‘তিন জোটের রূপরেখা’ নামে পরিচিত। সেই রূপরেখা থেকে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কেউ সরে গিয়েছে, এমন কোনো ঘোষণা কেউ কখনো দেয়নি। ফলে ধরেই নেওয়া যায়, সেই ঘোষণা এখনও বহাল আছে। সেই সূত্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলেরই উচিৎ হবে, সংসদকে ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের ব্যবস্থায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে নিবেদিতচিত্ত হয়ে কাজ করা। আর তা করতে হলে সর্বাগ্রে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংবিধানটি অনুপুঙ্খ ও গভীরভাবে অধ্যয়নের কোনো বিকল্প নেই।
জাতীয় সংসদের কার্য-অধিবেশনে বসার আগে সংবিধানের পাশাপাশি আর যেসব দলিল ভালোভাবে আত্মস্থ করা প্রয়োজন, তার মধ্যে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অন্যতম। কিন্তু আমরা জানি না সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি সংসদ সচিবালয় থেকে ইতোমধ্যে সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে কিনা। অন্তত গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কোনো খবর না দেখে শঙ্কা হচ্ছে, সেটি হয়তো এখনও বিতরণ করা হয়নি। কিন্তু এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের একটি বিষয় মনে রাখতে অনুরোধ করবো, এ পর্যন্ত নির্বাচিত ২৯৭ জনের মধ্যে ২২৭ জনই প্রথমবারের মতো সংসদে বসতে যাচ্ছেন। ফলে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ব্যবহার বিষয়ে কার্যত তাঁদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। ফলে এ বিষয়ে তাঁরা যেন পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পান, সে দিকটির প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। আর সম্মানিত নতুন সদস্যদের কাছে অনুরোধ, তাঁরাও যেন তাঁদের দায়িত্ব পালনের এ বিষয়টি একইসঙ্গে দায়িত্ব ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেন।
পরিশেষে একটি কথাই বলব, জাতীয় সংসদ বহুসংখ্যক সদস্যের (বাংলাদেশে ৩৫০ জন) এমন এক প্রতিষ্ঠান, যেখানে সদস্যদের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র ভোটদান ক্ষমতা থাকলেও এর সামগ্রিক ফলাফল (আইন, বিধি, নীতি, সিদ্ধান্ত ইত্যাদি) আসলে তাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই প্রযুক্ত হয়ে থাকে। ফলে এমন সামগ্রিক অংশগ্রহণভিত্তিক যে কর্মকাণ্ড, তার জন্য শুধু সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকা, অধিবেশন কক্ষে ফ্লোর নিয়ে কথা বলা, নিজ এলাকার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দাবি করা (এটি আসলে স্থানীয় সরকারের কাজ) কিংবা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় উপস্থিত থাকাই যথেষ্ট নয়। এজন্য শিক্ষায়তনিক জ্ঞানের পাশাপাশি রাষ্ট্রচিন্তার ওপর গভীর অধ্যয়নভিত্তিক মৌলিক জ্ঞান ও চিন্তাভাবনা থাকাটাও জরুরি। সংবিধান, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি ইত্যাদি সে ধারার মৌলিক জ্ঞান না হলেও রাষ্ট্রচিন্তা সংক্রান্ত মৌলিক জ্ঞান অর্জনের পূর্বশর্ত বটে। অতএব জাতীয় সংসদের একজন সদস্য হিসেবে এ জাতীয় বিষয়ে গভীর জ্ঞান শুধু জরুরি নয়; অপরিহার্যও বটে। সেই অপরিহার্যতার কথা ভেবে নতুন সংসদে যোগদানের আগে এর নতুন সদস্যরা উল্লিখিত দলিল-দস্তাবেজ ভালোভাবে পড়ে নিলে তাঁরাই সর্বাধিক লাভবান হবেন বলে আশা করা যায়।

বিচারকের সামনে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি, সাক্ষী বা বিচারপ্রার্থী যখন ‘সত্য বৈ মিথ্যা বলিব না’ উচ্চারণপূর্বক শপথ গ্রহণ করেন, তখন সেই উচ্চারণ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সত্য তথ্য পাওয়ার ব্যাপারে বিচারকের মনে কোনো আশ্বাস তৈরি করে কিনা, আমরা জানি না। তবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের আইন পরিষদের (জাতীয় সংসদ) সদস্যরা যখন পরস্পরের সাক্ষী হয়ে এবং জনগণকে সাক্ষী রেখে একসঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন, তখন সাধারণ মানুষের মনে ক্ষণিকের জন্য হলেও আশা জাগ্রত হয় যে, শপথ গ্রহণকারীদের সবাই না হোক, অন্তত কেউ কেউ তাদের কার্যকালে শপথ রক্ষা করে চলবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যে সদস্যরা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নেওয়া শপথের ভিত্তিতে ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনে বসতে যাচ্ছেন, তাঁদের ঘিরেও জনগণের মধ্যে সেই আশাবাদ একইভাবে তৈরি হয়েছে! প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, সংসদ সদস্যরা যেসব বাক্য উচ্চারণ করে এ শপথ নিলেন, তার অন্যতম চেতনাই হচ্ছে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁরা রাষ্ট্রের সংবিধান, আইন ও বিধিবিধান মেনে চলবেন এবং এ চলার পথে অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনোরূপ আচরণ করবেন না।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে : শপথ গ্রহণকালে তাঁরা সংবিধান মেনে চলার যে অঙ্গীকার করেছেন, সেই সংবিধানে কী কী বলা আছে এবং সে অনুযায়ী তাঁদের কী ধরনের আচরণ ও দায়িত্ব পালন করা উচিৎ। শপথ গ্রহণকারীদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলি, তাঁরা সবাই কি সে ব্যাপারে পরিপূর্ণভাবে সচেতন? অর্থাৎ তাঁরা সবাই কি সংবিধানটি পড়ে দেখেছেন? এমন প্রশ্ন উত্থাপনের মাধ্যমে এখানে দেশের আইন প্রণেতাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অসম্মান পোষণের চেষ্টা করা হচ্ছে না; বরং বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাওয়া যে, সংসদ সদস্যরা যাতে তাঁদের কার্যকালে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও জবাবদিহির স্বাক্ষর রাখতে পারেন, সেজন্য শুরুতেই তাঁদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। এবং এর অংশ হিসেবেই শপথ গ্রহণের আগে তাঁদের উচিৎ সংবিধানটি ভালো করে পড়ে দেখা, যাতে সংবিধানের চেতনাটি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁদের হৃদয়ে প্রোথিত হয়ে যায় এবং সেটি তাঁদের উপলব্ধিকে স্পর্শ ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
কথা হচ্ছে, নির্বাচনোত্তর সামাজিকতার ভিড়ে এটি তাঁরা পড়ার সময় পাবেন কীভাবে? এর জবাব সংসদ সদস্যরা নিজের অজান্তে নিজেরাই তৈরি করে রেখেছেন। আপনারাই বলুন, নির্বাচন-পূর্ব শেষ প্রচারণার রাতে আপনি ক’টা পর্যন্ত জেগেছিলেন এবং কত কিলোমিটার পথ হেঁটেছিলেন? নির্বাচনে জেতার জন্য যদি এতটা করে থাকতে পারেন, তাহলে জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে রাত জেগে সংবিধানটি পড়তে পারবেন না? আর শুধু শপথের সূত্রে কৌতুহল পূরণের জন্য নয়; সংসদ সদস্য হিসেবে আগামী পাঁচ বছর যোগ্যতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্যও এটি পড়া প্রয়োজন। আর এটি পড়তে যেয়ে কোথাও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কোনোরূপ অস্পষ্টতা বোধ করলে সেজন্য এর অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গেও যোগাযোগের প্রয়োজন নেই; নিজ দলের বিজ্ঞ আইনজীবীরাই এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবেন। এটিও বলব, যারা এ সংবিধান বহুবার পড়েছেন কিংবা এটি নিয়ে যাদের নিত্যদিন কাজ করতে হয়, তারাও যেন সংসদের অধিবেশনে বসার আগে আপনত্ব ও পবিত্রতার অনুভূতি নিয়ে মহান সংবিধানটিতে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নেন।
সংসদ সদস্যদের বিনয়ের সঙ্গে আরও বলব, সংবিধান বা শপথ শুধু একটি দলিল বা আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি জনগণের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সম্পর্কের চুক্তি। ওই যে দলীয় নির্বাচনী ইশতেহার, সেটি ওই চুক্তির বাস্তবায়ন কৌশল মাত্র। ফলে নির্বাচনে জিতে ইশতেহারে উল্লিখিত অঙ্গীকারের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করতে হলে সর্বাগ্রে মূল চুক্তি অর্থাৎ সংবিধানটি ভালোভাবে আয়ত্তের পাশাপাশি এটিকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা এমন অনেক কথা বলেন এবং আচরণ করেন, যেগুলো সংবিধানের মৌলিক চেতনা ও দর্শনের সঙ্গে যায় না। আর সেজন্যই একটি নতুন সংসদের যাত্রাক্ষণে মাননীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের কাছে করজোড়ে অনুরোধ করবো, দেশটিকে সংবিধানের আলোকে চালান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নয়; জাতীয় সংসদই হয়ে ওঠুক রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু।
একটি ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করেছিল। মাঝপথে কক্ষচ্যুত হলেও নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিন জোট মিলে আবার সেই মূল পথ অর্থাৎ ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচে ফিরে যাওয়ার অঙ্গীকার করে, যা ‘তিন জোটের রূপরেখা’ নামে পরিচিত। সেই রূপরেখা থেকে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কেউ সরে গিয়েছে, এমন কোনো ঘোষণা কেউ কখনো দেয়নি। ফলে ধরেই নেওয়া যায়, সেই ঘোষণা এখনও বহাল আছে। সেই সূত্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলেরই উচিৎ হবে, সংসদকে ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের ব্যবস্থায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে নিবেদিতচিত্ত হয়ে কাজ করা। আর তা করতে হলে সর্বাগ্রে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংবিধানটি অনুপুঙ্খ ও গভীরভাবে অধ্যয়নের কোনো বিকল্প নেই।
জাতীয় সংসদের কার্য-অধিবেশনে বসার আগে সংবিধানের পাশাপাশি আর যেসব দলিল ভালোভাবে আত্মস্থ করা প্রয়োজন, তার মধ্যে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অন্যতম। কিন্তু আমরা জানি না সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি সংসদ সচিবালয় থেকে ইতোমধ্যে সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে কিনা। অন্তত গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কোনো খবর না দেখে শঙ্কা হচ্ছে, সেটি হয়তো এখনও বিতরণ করা হয়নি। কিন্তু এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের একটি বিষয় মনে রাখতে অনুরোধ করবো, এ পর্যন্ত নির্বাচিত ২৯৭ জনের মধ্যে ২২৭ জনই প্রথমবারের মতো সংসদে বসতে যাচ্ছেন। ফলে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ব্যবহার বিষয়ে কার্যত তাঁদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। ফলে এ বিষয়ে তাঁরা যেন পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পান, সে দিকটির প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। আর সম্মানিত নতুন সদস্যদের কাছে অনুরোধ, তাঁরাও যেন তাঁদের দায়িত্ব পালনের এ বিষয়টি একইসঙ্গে দায়িত্ব ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেন।
পরিশেষে একটি কথাই বলব, জাতীয় সংসদ বহুসংখ্যক সদস্যের (বাংলাদেশে ৩৫০ জন) এমন এক প্রতিষ্ঠান, যেখানে সদস্যদের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র ভোটদান ক্ষমতা থাকলেও এর সামগ্রিক ফলাফল (আইন, বিধি, নীতি, সিদ্ধান্ত ইত্যাদি) আসলে তাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই প্রযুক্ত হয়ে থাকে। ফলে এমন সামগ্রিক অংশগ্রহণভিত্তিক যে কর্মকাণ্ড, তার জন্য শুধু সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকা, অধিবেশন কক্ষে ফ্লোর নিয়ে কথা বলা, নিজ এলাকার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দাবি করা (এটি আসলে স্থানীয় সরকারের কাজ) কিংবা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় উপস্থিত থাকাই যথেষ্ট নয়। এজন্য শিক্ষায়তনিক জ্ঞানের পাশাপাশি রাষ্ট্রচিন্তার ওপর গভীর অধ্যয়নভিত্তিক মৌলিক জ্ঞান ও চিন্তাভাবনা থাকাটাও জরুরি। সংবিধান, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি ইত্যাদি সে ধারার মৌলিক জ্ঞান না হলেও রাষ্ট্রচিন্তা সংক্রান্ত মৌলিক জ্ঞান অর্জনের পূর্বশর্ত বটে। অতএব জাতীয় সংসদের একজন সদস্য হিসেবে এ জাতীয় বিষয়ে গভীর জ্ঞান শুধু জরুরি নয়; অপরিহার্যও বটে। সেই অপরিহার্যতার কথা ভেবে নতুন সংসদে যোগদানের আগে এর নতুন সদস্যরা উল্লিখিত দলিল-দস্তাবেজ ভালোভাবে পড়ে নিলে তাঁরাই সর্বাধিক লাভবান হবেন বলে আশা করা যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন ইরানে হামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? তার ব্যাখ্যা ছিল খুবই সাধারণ। তিনি বলেছেন, হামলা চালানোর জন্য এটাই ছিল আমাদের শেষ ও সেরা সুযোগ। যারা ট্রাম্পের মানসিকতা সম্পর্কে অবগত, তারা জানেন যে তিনি দীর্ঘমেয়াদি কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল মেনে চলেন না।
১ দিন আগে
সব প্রজন্মেই এটা দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের প্রজন্মে দেখেছি, আমার কন্যাদের সময়েও সেটা ঘটেছে; বর্তমান সময়েও তা দেখছি। সমাজ ও দেশভেদেও এর পরিবর্তন হয়নি। সব দেশে, সব প্রজন্মেই বয়স্করা বলেছেন, তরুণরা অস্থিরমতি, হঠকারী এবং প্রগলভ। তারা শুধু সবকিছু ভাঙ্গতে চায়, বদলাতে চায় সামাজিক বিধি-বিধান, রীতি-নীতি, ফ্যাশ
১ দিন আগে
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক ও সামরিক কেন্দ্রবিন্দুগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তেহরানের আগ্রাসী নীতির বাস্তবায়ন ঘটাচ্ছে।
১ দিন আগে
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করবে বাংলাদেশের সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতাকে বিকশিত-উদ্ভাসিত করার লক্ষ্য নিয়ে। বাংলাদেশ শুধু বাঙালির নয়, শুধু মুসলমানের দেশ নয়। এখানে অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবার সম অধিকার রয়েছে।
১ দিন আগে