leadT1ad

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হত্যা: নেপথ্যে বিদেশি অর্থ ও রাজনৈতিক কুশীলব

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৪২
আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির। ডানে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে নেওয়া দুর্বৃত্তদের ছবি।

রাজধানীর তেজগাঁও থানার পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় দেশের বাইরে থেকে অর্থ আসার তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে সোমবার (১২ জানুয়ারি) সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত এবং একজন শ্যুটার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ডিবি প্রধান জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রাজনৈতিক কুশীলব ও এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আসামি বিল্লাল, কাদির ও রিয়াজের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের অন্যতম শ্যুটার জিন্নাতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিবির ভাষ্য, মুছাব্বির হত্যার নেপথ্যে অনেক ‘কুশীলব’ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন রাজনৈতিক নেতাও রয়েছেন। তাঁকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ওই নেতার সাথে অপরাধজগতের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তাঁদের মাধ্যমেই মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া শ্যুটার ও অন্যদের ভাড়া করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য (মোটিভ) সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা ডিবি। যদিও কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

ডিবির একাধিক কর্মকর্তা আরও জানান, কারওয়ান বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে প্রায় সাড়ে চার মাস আগে থেকে মুছাব্বিরকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। এ জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকার জোগান আসে দেশের বাইরে থেকে। দেশের বাইরে থেকেই অপরাধজগতের পলাতক সেই শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়। ওই শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে রমনা এলাকার এক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার সুসম্পর্ক থাকায় সতর্কতার সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেবে পুলিশ।

এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সোমবার রাতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশের বাইরে থেকে কিছু টাকা সন্ত্রাসীদের কাছে এসেছে। আমরা বিষয়টি আরও তদন্ত করছি। চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে সামনে রেখে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না, তা-ও জানার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যরা তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছে। আমরা আমাদের তদন্তে সব বিষয়েই গুরুত্ব দিচ্ছি।”

গত ৭ জানুয়ারি রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে মুছাব্বিরকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় মুছাব্বিরসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরপরই আহতদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আবু সুফিয়ান মাসুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ৮ জানুয়ারি নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়।

এর আগে, গত রবিবার মুছাব্বির হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ‘পরিকল্পনাকারী’ বিল্লাল, আসামিদের পালাতে সহায়তাকারী কাদির, ঘটনাস্থল রেকি করা রিয়াজ ও শ্যুটার জিন্নাতকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় ডিবি।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত