leadT1ad

নিরাপত্তা বাহিনীর ‘হেফাজতে’ বিএনপি নেতার মৃত্যু, সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চাইলেন মির্জা ফখরুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু। সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য অস্ত্র উদ্ধারের নামে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে এবং এতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে দলটির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধ করেছেন। এদিকে এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। এসময় তিনি এ বিষয়ে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা মনে করি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত এ ধরনের ঘটনা দেশের জন্য শুভ নয়।

বিচারবহির্ভূতভাবে শামসুজ্জামান ডাবলুকে নির্যাতন করে হত্যা করা দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি চরম অবমাননা। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে যেকোনও অপরাধের জন্য বিচারিক আদালতের মাধ্যমে দোষীর শাস্তি নিশ্চিত হবে, এটিই জনগণের প্রত্যাশা। কিন্তু চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র উদ্ধারের নামে তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা কখনোই দেশের মানুষের নিকট সমর্থনযোগ্য নয়।’

এ ধরনের ‘লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক’ ঘটনার বিষয়ে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমি উল্লিখিত পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।’

এদিকে স্ট্রিমের জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানিয়েছেন, শামসুজ্জামান ডাবলু সোমবার গভীর রাতে (১২ জানুয়ারি) নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা এ ঘটনার প্রতিবাদে দলটির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন এবং সড়ক অবরোধও করেছেন।

হাসপাতালের বাইরে জড়ো হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছে অবস্থিত তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে ডাবলুকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা হেফাজতে নেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি হেফাজতেই মারা যান বলে জানানো হয়।

ডাবলুর মরদেহ বর্তমানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ডাবলুর ভাই, উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম কাজল অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এদিকে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু রাত আনুমানিক ২টার দিকে হাসপাতালে যান। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ ঘটনার ব্যবস্থা নেব।’

জীবননগর পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাফিউদ্দিন শাফি জানান, এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ ডাবলুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি রাজি হননি।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত