leadT1ad

পঞ্চগড়-১

নওশাদ-সারজিস: বাবার লিগ্যাসির বিপক্ষে লড়াই গণঅভ্যুত্থানের তারুণ্যের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পঞ্চগড়

নওশাদ জমির ও সারজিস আলম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়-১ (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় ভোটের লড়াই জমে উঠেছে। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলমের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনে এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের পৈত্রিক নিবাস তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের নয়াবাড়ী গ্রামে এবং সারজিস আলমের বাড়ি আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখা ইউনিয়নের বামনকুমার গ্রামে। দুই প্রার্থীই বর্তমানে গ্রাম-গঞ্জে চষে বেড়াচ্ছেন এবং ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ সারজিস আলম শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে পঞ্চগড়ের মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এনসিপি গঠনের পর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে তিনি পঞ্চগড়ের মসজিদ, মন্দির ও হাসপাতালের উন্নয়নসহ নানা সামাজিক কাজে সক্রিয় রয়েছেন। পঞ্চগড় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নদীভাঙন রোধে তাঁর উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তবে তাঁর দুর্নীতিবিরোধী কিছু বক্তব্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সারজিস আলমের পক্ষে প্রচারণা প্রসঙ্গে এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক তানবীরুল বারী নয়ন জানান, তাঁদের নেতা সার্বক্ষণিক ভোটারদের সঙ্গে থাকছেন। আটোয়ারীতে ৮০ শতাংশ ভোটসহ পুরো আসনে ১১ দলীয় জোট জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। এনসিপি তেঁতুলিয়া উপজেলার সমন্বয়কারী হাবিবুর রহমান হাবীব জানান, তাঁদের সাংগঠনিক কাঠামো ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী।

অপর দিকে বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি হাতে নিয়ে সাধারণ ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। ভোটাদের সেই সব বিষয়ে তাঁর আগামীর পরিকল্পনা জানাচ্ছেন।

নওশাদ জমিরের প্রচারণা কৌশলে এক ভিন্নধর্মী পরিবর্তন দেখা গেছে; তিনি কোনো বড় বহর ছাড়াই একাকী ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। তিনি বলছেন, ‘নির্বাচিত হলে আমার কাছে আসতে কোনো নেতার প্রয়োজন হবে না, ভোটাররা সরাসরি আসতে পারবেন।’ তাঁর এই সহজলভ্য হওয়ার প্রতিশ্রুতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের বাবা ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার পঞ্চগড়-১ আসন থেকে একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির সংসদীয় কমিটিতে তিনি আইনমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং স্পিকার ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি পদে ছিলেন। এ ছাড়া পঞ্চগড় জেলার শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন স্কুল কলেজ, মাদ্রাসাসহ রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিপুল পরিবর্তন আনেন। এসব উন্নয়নের বিষয় তুলে ধরে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে ভোটের মাঠে নেমেছেন ও ভোটারদের কাছে কাছে ভোট চাইছেন।

যেহেতু ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার পঞ্চগড়ের তথা দেশের অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সঙ্গত কারণেই জেলার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে পিতার আসনে এবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রার্থী হওয়ায় সাধারণ ভোটার ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। এই প্রার্থীর আশা সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠিত হলে পঞ্চগড়-১ আসনে তিনি সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হবেন।

পঞ্চগড় জেলা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি এ কে এম ফজলে নূর বলেন, ‘বর্তমান সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও একটু উন্নত করা দরকার এবং জনসাধারণকে হ্যাঁ ও না ভোট সম্পর্কে আরও ধারনা দেওয়া আবশ্যক।’

তরুণ ভোটার আদিপ আল কুরাইশী বলেন, ‘আমি চাই দেশের মধ্যে অন্যায় ও দুর্নীতি দূর হোক এবং সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি যেই সরকার ক্ষমতায় আসুক না কেন; তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করুক। আগামী সরকারের কাছে এটাই আমার প্রত্যাশা।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত