leadT1ad

দিনাজপুর-৩ (সদর)

খালেদা জিয়ার শূন্যতাকে শক্তিতে রূপান্তরের চেষ্টা বিএনপির, উন্নয়ন চান ভোটাররা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
দিনাজপুর

দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো নিজের জন্মস্থানে প্রার্থী হয়েছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২৮ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছিলেন। তবে ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন দলের নেতা-কর্মীরা।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ফেনী ও বগুড়ার মতো দিনাজপুরেও বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। এরপর গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দলের উচ্চপর্যায় থেকে দিনাজপুর-৩ আসনে আমাকে মনোনয়ন ফরম তোলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে মনোনয়ন ফরম তুলেছি।’

এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দিনাজপুর সদরের ভোটের হিসাব অনেকটাই পাল্টে যেতে পারে বলে মনে করছেন এখানকার ভোটাররা। যদিও সদর-৩ আসনে প্রার্থী সংখ্যা ৮জন (বেগম খালেদা জিয়া বাদে), তারপরও এখানে ভোটের আসল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম টানা তিনবারের নির্বাচিত পৌরমেয়র হলেও তাঁর আমলে তিনি পৌরসভার দৃশ্যত তেমন কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ।

দিনাজপুর পৌরসভার গোলাপবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ২০ বছর প্রবাসে ছিলাম। দেশে এসে দেখি দিনাজপুরের রাস্তাঘাটসহ সবকিছুর আরও অবনতি ঘটেছে। যেখানে পাশের ঠাকুরগাঁওয়ের মতো জেলার রাস্তা ফোর লেন হয়ে গেছে, সেখানে আমাদের রাস্তাঘাট দেখলে মনে হয় ৭১ এর যুদ্ধ কেবল শেষ হলো। বহুদিন পর দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আশাকরি জনগণ এবার সঠিক নেতৃত্ব খুজে নেবে।’

আসন্ন নির্বাচন ও প্রচারি বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. মোকাররম হোসেন বলেন, ‘আমরা সবাই খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত। তাঁর শোককে শক্তিতে পরিণত করে আমরা এখানে বিজয়ী হয়ে এর মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে চাই। এই মুহুর্তে আমরা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। দু’একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী মনোক্ষুন্ন থাকলেও শীঘ্রই তারা ভেদাভেদ ভুলে প্রচারে নামবেন। ইনশাআল্লাহ আমরা বিজয়ী হব।’

এদিকে সদর-৩ আসনে জামায়াত থেকে প্রার্থী হয়েছেন জেলা জামায়াতের ইউনিট সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক নেতা অ্যাডভোকেট মাঈনুল আলম। প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তিনি। তবে ২০১৪ সালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় হয়েছিলেন।

ভোটের বিষয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন, জানতে চাইলে শহর জামায়াতের আমীর সিরাজুস সালেহীন বলেন, ‘সারা দেশে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। জনগণ স্বৈরাচারকে হটিয়ে নতুন করে আর কোনো চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, মাস্তানকে ক্ষমতায় আনতে চায় না। ইনশাআল্লাহ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।’

এছাড়া এই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের জেলা সভাপতি আহমেদ শফি রুবেল। সদরে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন খায়রুজ্জামান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), রেজাউল করীম (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ), কিবরিয়া হোসেন (বাসদ), লায়লাতুল রিমা (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ), রবিউল ইসলাম (জনতার দল)।

এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রার্থীতা করে জয় পেয়েছিলেন খালেদা জিয়ার বড় বোন প্রয়াত খুরশিদ জাহান হক।

Ad 300x250

সম্পর্কিত