leadT1ad

মৌলভীবাজার-৪

শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতের সংকট সমাধানে প্রার্থীরা দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ০৮
পর্যটনের জন্য দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে শ্রীমঙ্গলের। ছবিটি লালটিলার ফুলছড়া চা বাগানের। ছবি: উইকিপিডিয়া

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান আর পর্যটনের জন্য দেশজুড়ে খ্যাতি থাকলেও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবন কাটছে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার সংকট, পর্যটন ব্যবস্থাপনার ত্রুটি, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব স্থানীয়দের উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অবহেলিত জনপদের ভোটাররা এখন স্থায়ী সমাধানের আশায় বুক বাঁধছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দীর্ঘদিনের। গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর মৌলভীবাজার কিংবা সিলেটে পাঠাতে হয়, যা অনেক সময় দরিদ্র মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়।

অন্যদিকে শ্রীমঙ্গলকে ‘চায়ের রাজধানী’ বলা হলেও এখানকার পর্যটন খাত এখনো অবহেলিত। সঠিক নির্দেশনার অভাব, প্রশিক্ষিত গাইডের ঘাটতি এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকলেও তার সুফল পাচ্ছে না স্থানীয়রা। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় বেকারত্ব এই অঞ্চলের যুবসমাজের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সমাজকর্মী মুজিবুর রহমান রঞ্জু বলেন, ‘কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো হাসপাতাল ও পর্যটন খাতে। অতীতের সরকারগুলো এদিকে নজর দেয়নি বললেই চলে। আমরা অনেক লেখালেখি করেও কোনো পরিবর্তন আনতে পারিনি। এর পেছনে রাজনৈতিক অনীহাই প্রধান কারণ ছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা নতুন রূপরেখা দেখতে পাচ্ছি। আশা করি, যারা নবনির্বাচিত হবেন, তারা জনদুর্ভোগ লাঘবে কাজ করবেন।’

নির্বাচনী লড়াইয়ে এই জনপদের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিচ্ছেন প্রার্থীরা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের পর্যটন এলাকার সমস্যাগুলো আমি চিহ্নিত করেছি। নির্বাচিত হলে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে আমার প্রধান কাজ।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আমার সক্ষমতা সম্পর্কে জানেন। আমি অতীতেও রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাওর-টিলা এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি, যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোর আধুনিকায়ন ও চিকিৎসক সংকট নিরসনে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। শিক্ষিতদের চাকরির ব্যবস্থা এবং চা-শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আমি কাজ করে যাব।’

মৌলভীবাজারের এই জনপদের ভোটাররা এখন একটি সুপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং কার্যকর প্রশাসনিক তদারকির অপেক্ষায়। শেষ পর্যন্ত কার প্রতিশ্রুতিতে ভরসা রেখে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জবাসী তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন, তা এখন দেখার বিষয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত