জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং উঠল, কেনা যাবে প্রয়োজনমতো

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১২: ৫১
জ্বালানি নেওয়ার দীর্ঘ লাইন। স্ট্রিম ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পর দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে চালু করা রেশনিং (বিক্রির সীমা) পদ্ধতি উঠিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সামনে ঈদযাত্রা ও সেচ মৌসুমে ডিজেলের বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় জ্বালানি তেল বিক্রিতে আরোপিত সীমা তুলে নেওয়ার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে আর কোনো রেশনিং থাকবে না। এখন থেকে সবাই প্রয়োজনমতো জ্বালানি তেল কিনতে পারবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট যেন না হয়, সে জন্য আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বন্ধু রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘ্নের কারণে দফায় দফায় দাম বেড়েছে। বাংলাদেশেও জ্বালানি নিয়ে নানা আশঙ্কা দেখা দেয়। অনেকেই স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণে জ্বালানি তেল কিনতে শুরু করেন। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার গত ৬ মার্চ জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করে। মোটরসাইকেলে শুরুতে সর্বোচ্চ ২ লিটার তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হলেও পরে রাইড শেয়ারিংয়ের জন্য বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়। অন্যান্য যানেও তেল সংগ্রহের পরিমাণ বেঁধে দেওয়া হয়।

রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কর্মকর্তারা। স্ট্রিম ছবি
রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কর্মকর্তারা। স্ট্রিম ছবি

এ ছাড়া ৭ মার্চ থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদার তুলনায় ২৫ শতাংশ কম জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছিল। পরে ১১ মার্চ থেকে বিভাগীয় শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়। তবুও চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় স্টেশন মালিকেরা সংবাদ সম্মেলন করে সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানান।

এর মধ্যে সরবরাহ সংকটের প্রতিবাদে খুলনায় শনিবার ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখেন ফিলিং স্টেশন মালিকরা। রাজশাহীতেও তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর আজ জ্বালানি বিক্রির সীমা তুলে দেওয়া হলো।

জ্বালানি তেল আমদানির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, মার্চ মাসে মোট ১৮টি জাহাজে জ্বালানি তেল দেশে আসার কথা রয়েছে। গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত ছয়টি জাহাজ এসে পৌঁছেছে। আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ আসবে। বাকি ছয়টি জাহাজের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি।

বাংলাদেশে আসা জাহাজগুলোতে সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ হাজার টন তেল থাকে। এসব জাহাজের বেশিরভাগই ডিজেল নিয়ে আসছে। শেষ দুটি জাহাজে ডিজেলের পাশাপাশি জেট ফুয়েলও থাকবে। এ ছাড়া ১৭ বা ১৮ মার্চের মধ্যে একটি জাহাজে ফার্নেস ওয়েল আসার কথা রয়েছে।

অকটেনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে খোলাবাজার থেকেও একটি জাহাজ কেনার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া সূচি অনুযায়ী আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি জাহাজ অকটেন নিয়ে আসার কথা রয়েছে। সেটি এগিয়ে মার্চেই আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

দেশে ফিলিং স্টেশনগুলোতে মূলত পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হয়। এর মধ্যে পেট্রোল শতভাগ দেশেই উৎপাদিত হয়। অকটেনের প্রায় ৫০ শতাংশ দেশে উৎপাদন হয়, বাকিটা আমদানি করা হয়। ফলে সরবরাহ নিয়ে মূল উদ্বেগটি ডিজেলকে ঘিরেই।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় দুই লাখ টন ডিজেল মজুত রয়েছে। এর বাইরে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আরও প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল সংরক্ষিত আছে। নতুন জাহাজ আসার মাধ্যমে এই মজুত আরও বাড়বে।

এ ছাড়া অকটেন ও পেট্রলের মজুত রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টন করে। দেশীয় উৎস থেকে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টন পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন হচ্ছে। দিনে এ দুই জ্বালানির চাহিদা ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টন।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, জুন মাস পর্যন্ত পরিশোধিত ডিজেল ও অকটেন কেনার চুক্তি করা রয়েছে। তবে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তেল পরিশোধনে সমস্যায় পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে আগামী মে মাসে তারা চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ দিতে ব্যর্থ হতে পারে।

সম্পর্কিত