জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বিনিয়োগ বাড়াতে ১৮০ দিনের যৌথ কর্মপরিকল্পনা, ২৫টি বিশেষ উদ্যোগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১৪: ১৩
চারটি প্রধান বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার জন্য ১৮০ দিনের একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ছবি।

দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও সহজ, কার্যকর ও গতিশীল করতে চারটি প্রধান বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার (বিডা, বেজা, মিডা ও পিপিপি) জন্য ১৮০ দিনের একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। গত রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করেন বিডা, বেজা ও মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং পিপিপিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা আরও সহজ করতেই এই কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১৮০ দিনের এই রোডম্যাপ তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর সাজানো হয়েছে—অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগ সহায়তা জোরদার এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন। মোট ২৫টি উদ্যোগের মধ্যে ১৩টি অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে, ৭টি বিনিয়োগ সহায়তা খাতে এবং ৫টি বিনিয়োগ উন্নয়ন খাতে রাখা হয়েছে। শতাংশের হিসাবে অবকাঠামো খাতে ৫০, বিনিয়োগ সহায়তায় ৩০ এবং বিনিয়োগ উন্নয়নে ২০ শতাংশ উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বৈঠকে আশিক চৌধুরী বলেন, “আমাদের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বাস্তবায়নমুখী সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানো।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আমাদের অগ্রাধিকার হলো স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে সহায়তা করা এবং তা আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া। বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আমরা সহায়তা করব, তবে আমাদের মূল জোর থাকবে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি উৎসাহিত করা এবং যাঁরা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাঁদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়তা করা।”

অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বন্দর আধুনিকায়ন, চাইনিজ ইকোনমিক জোন বাস্তবায়ন, শিল্পপার্কে ‘রেডি-টু-ইউজ’ প্লট সম্প্রসারণ, ফ্রি ট্রেড জোন ও ডিফেন্স ইকোনমিক জোন বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিপিপি, বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

বিনিয়োগ সহায়তা খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও সেবা উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিডা, বেজা, বেপজা, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও পিপিপিএ—এই পাঁচটি সংস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগ, বাংলাদেশ–দক্ষিণ কোরিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করা, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বেসরকারি খাতের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, ‘বাংলাবিজ’ নামে একক বিনিয়োগ সেবা প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানো এবং চীনে বিডার প্রথম বিদেশি কার্যালয় চালুর বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে বিনিয়োগ উন্নয়ন খাতে দেশের শিল্প খাতের ম্যাপিং, নির্দিষ্ট খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্লু ইকোনমির অংশ হিসেবে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, ম্যারিকালচার ও রপ্তানিমুখী চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা এবং নতুন এফডিআই প্রণোদনা কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই ২৫টি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও প্রতিযোগিতামূলক ও গতিশীল হবে।

সম্পর্কিত