রাতুল আল আহমেদ

লাস্ট কয়দিন ধরে ফেসবুকে ঢুকলেই একটা শব্দই খালি কানে আসতেছে।
রিল খোলেন— দোহাই ল্যাংটা।
মিম দেখেন — দোহাই ল্যাংটা।
কমেন্ট সেকশনে ঢোকেন— দোহাই ল্যাংটা।
কী যে একটা অবস্থা! সত্যি বলতে, আমি গানটা আগে শুনি নাই। আমার ধারণা, যারা শেয়ার দিচ্ছে, তাদের একটা বড় অংশই সম্ভবত পুরো গানটা শুনে নাই। ইউটিউবে সার্চ মারলাম দোহাই ল্যাংটা লিখে। শুনলাম। গুগল থেইকা জানলাম, ভাইরাল গানটার শিল্পীর নাম বাবলী সরকার, জাতীয় পর্যায়ের একজন বিখ্যাত বাউলশিল্পী। আর ভাইরাল গানটা হচ্ছে একটা দীর্ঘ পালার শুরুতে গাওয়া বন্দনা। যেইখানে শিল্পী গান শুরুর আগে দৃশ্যপট ও আধ্যাত্মিক জগতকে ভক্তির মাধ্যমে তুইলা ধরেন।

কিন্তু, কথা হইল, মিমে যে অংশটুকু আগে শুনছিলাম সেইখানে এই আধ্যাত্মিক জগতের নামনিশানাও নাই। তবু তারা এই শব্দটা ব্যবহার করতেছে কেন?
এই প্রশ্নটা যদি আপনার মাথায় আসে বস, তাইলে বলতে হবে আপনি একা না।
এখন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হইলে পয়লা যেই প্রবলেম ফেস করা লাগবে, তা হইলো ভাইরাল জিনিসের ব্যাখ্যা সব সময় পরে আসে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো কিছু ভাইরাল হলেই আমরা খুব দ্রুত কিছু ব্যাখ্যা বানাই। একবার মনে হয় এটা খুব রিলেটেবল ছিল বা এটা খুব ফানি ছিল অথবা এটা খুব শকিং ছিল।
প্রবলেম হইল, এই ব্যাখ্যাগুলো সব ভাইরাল হওয়ার পরে তৈরি হয়। ভাইরাল হওয়ার আগে কেউ বলতে পারে না কোনটা ভাইরাল হবে। ফলে ‘দোহাই ল্যাংটা’ এক্সাক্টলি কেন ভাইরাল, এই প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর সম্ভবত কারও কাছেই নেই।
তবু চলেন গান এবং মিমগুলোরে আরেকবার একটু অবজার্ভ করি। দেখি, কেন এইটা ভাইরাল হইল!
‘ল্যাংটা’ শব্দের শক ভ্যালু
আপনি পুরা গানটা শুনছেন? শুনছেন নিশ্চয়ই এতক্ষণে। খিয়াল করছেন বস, বাবলী সরকারের গানটার ভণিতার পরে মূল আবেদন কী আছিল গানের?
‘এই ভব সাগরে পড়ে মায়া ঘোরে/ তোমাকে চিনি না ওহে নিরঞ্জন!’
মানুষ কিন্তু এই মূল আবেদনে যায় নাই। মানুষ একটা শব্দে হুক খাইছে। সেই শব্দটা হইতেছে ‘ল্যাংটা’।

ল্যাংটা শব্দটার মধ্যে একটা অস্বস্তি আছে। একটা মধ্যবিত্ত ট্যাবু আছে। আর ইন্টারনেটের একটা নিয়ম হচ্ছে যেখানে একটু ট্যাবুর গন্ধ আছে, সেইটাই দ্রুত জনপ্রিয় হয়। তা সে হোক চুদ লিংপং, বা faah! মিমারদের জন্য এই ইস্যুটাই পারফেক্ট কাঁচামাল। এ জন্যই এই কমিউনিটি গানটার পুরাটা নেয় নাই। তারা একটা পার্ট নিয়েছে। কারণ, এই পার্টটা কাটাছেঁড়া করা সহজ।
মিম কালচারের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো অ্যাবসার্ডিটি। অলি আউলিয়াদের প্রতি ভক্তি আধ্যাত্মিক বিষয়। কিন্তু যখন সেই ভক্তি প্রকাশে ‘কাটাকেল্লা কাটাকেল্লা/ কেল্লায় করে আল্লা আল্লা’ কিংবা ‘দোহাই ল্যাংটা’র মতন শব্দগুলো দ্রুত লয়ে ইউজ হয়, তখন এক ধরনের শক ভ্যালু তৈরি হয়।
এইটারে সহজেই লুপ করা যায়, এডিট করা যায়, রিমিক্স করা যায়। নাগরিক শিক্ষিত সমাজের কাছে এই র ব্যাপারটা এবং ট্যাবু শব্দ মিলায়ে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করে। মিমাররা এই অস্বস্তিটাকেই পুঁজি করেন। ফলে যেইটা হয়, গানটা তখন আর গান থাকে না। এইটা হইয়া যায় একটা টেমপ্লেট।
ক্যাচি হিপহপ রিদম
গানটা শুনলে দেখবেন, এর লয় অত্যন্ত দ্রুত এবং এতে আধুনিক হিপহপ বা র্যাপ মিউজিকের মতো নেম ড্রপিং স্টাইল আছে।
‘গনি শা আর কান্দু শা ভক্তে করে তোমার আশা / তিতু শা আর সুবহান শা কোথায় বাবা ও পরান শা?’
এখানে ‘শা’ শব্দের রিপিটেশন এবং ছন্দের যে অন্ত্যমিল, তা কানে এক ধরনের অডিও হুক তৈরি করে। মিমারদের জন্য এ ধরনের ছন্দবদ্ধ দ্রুতলয়ের অডিও ভিডিওর সাথে সিঙ্ক করা খুব সহজ। এবং এতেই এটি হয়ে ওঠে একটি শক্তিশালী সাউন্ড বাইট। ফলে যেইটা হয়, ব্যাপারটা আপনার ব্রেনের মধ্যে গিয়ে একদম পুরা বড়শির মতন গাঁইথা যায়।
চন্ডীদাস যেমনে বইলা গেছেন, ‘সই, কেবা শুনাইলে শ্যাম নাম।
কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিল গো
আকুল করিল মোর প্রাণ।।’--এ টাইপেরই আর কী।
মানে বোঝেন আর না বোঝেন ছন্দটা মাথায় ঢুইকা যায়। একটু পরেই টের পাওয়া যায় নিজেই গুনগুন করতাছেন। আর এইটাই ভাইরাল হওয়ার একটা ক্রাইটেরিয়া।
অ্যাটেনশন ইকোনমি
এইখানেই ঢুইকা পড়ে অ্যাটেনশন ইকোনমির হিসাবকিতাব। ডিজিটাল যুগে আমাদের অ্যাটেনশন স্প্যান এখন বড়জোর ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড। এই অল্প সময়ের মধ্যে আপনার স্ক্রল থামাইতে হইলে মিমারদের দরকার একটা প্যাটার্ন ইন্টারাপ্ট। আপনি শান্তিতে নিউজফিড স্ক্রল করতেছেন, হঠাৎ কানে আসল ‘দোহাই ল্যাংটা’ বা ‘কাটাকেল্লা’! আপনার ব্রেন একটা ধাক্কা খাইল। এই ধাক্কাটাই মিমারের সার্থকতা।
অ্যাটেনশন ইকোনমিতে কন্টেন্টের কোয়ালিটির চাইতে তার স্টপিং পাওয়ার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাবলী সরকারের এই অংশটুকু একটা ‘হাই-ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাটেনশন ট্রিগার’ হিসেবে কাজ করে। পীরদের পবিত্র নামের সঙ্গে ‘ল্যাংটা’ বা ‘কাটাকেল্লা’র মতো শব্দগুলোর যে মিডলক্লাস এস্থেটিক্সের ক্ল্যাশ, সেইটা মানুষের অবচেতন মনে একধরনের কৌতূহল আর রিঅ্যাকশন তৈরি করে। আর ডিজিটাল দুনিয়ায় আপনার রিঅ্যাকশন মানেই হলো তাদের লাভ। আপনি হাসেন আর গালি দেন, যতক্ষণ আপনি ভিডিওটা দেখতেছেন বা শেয়ার করতেছেন, ততক্ষণ আপনি এই অ্যাটেনশন ইকোনমির একজন কাস্টমার।
তয় এইখানে একটা ছোট্ট ট্র্যাজেডিও আছে।
এই মিমগুলোর বেশিরভাগে শিল্পী, মানে বাবলী সরকারকে দেখা যায় না। শোনা যায় শুধু তাঁর গানের কাটাছেঁড়া অংশ। যেইখানে তাঁর মূল গানের যে আধ্যাত্মিকতা সেইটা নাই, আছে খালি ল্যাংটা।
মানেডা কী দাঁড়াইল?
শিল্পী বা তার ভাব সেকেন্ডারি। শব্দটাই প্রধান। মানে, যারে বলে গিয়া ‘ডেথ অব দ্য অথর’। সোশ্যাল মিডিয়ায় এইটা নতুন কিছু না। অনেক সময় একটা গান ভেঙে একটা লাইনই বাঁইচা থাকে।
‘দোহাই ল্যাংটা’ ট্রেন্ডটা সম্ভবত খুব বেশিদিন থাকবে না। মিমের সমুদ্রে কনটেন্ট আসবে, যাবে। তখন আমরা এইটা ভুইলা যাব।
কিন্তু আপাতত, চলেন শুনি আর ভাইব করি—
‘বেলতলী সোলেমান ল্যাংটা, দোহাই ল্যাংটা, দোহাই ল্যাংটা
কাটাকেল্লা কাটাকেল্লা, কেল্লায় করে আল্লাহ আল্লাহ।
গনি শাহ আর কান্দু শাহ ভক্তে করে তোমার আশা।
তিতু শাহ আর সুবহান শাহ কোথায় বাবা ও পরান শাহ?’

লাস্ট কয়দিন ধরে ফেসবুকে ঢুকলেই একটা শব্দই খালি কানে আসতেছে।
রিল খোলেন— দোহাই ল্যাংটা।
মিম দেখেন — দোহাই ল্যাংটা।
কমেন্ট সেকশনে ঢোকেন— দোহাই ল্যাংটা।
কী যে একটা অবস্থা! সত্যি বলতে, আমি গানটা আগে শুনি নাই। আমার ধারণা, যারা শেয়ার দিচ্ছে, তাদের একটা বড় অংশই সম্ভবত পুরো গানটা শুনে নাই। ইউটিউবে সার্চ মারলাম দোহাই ল্যাংটা লিখে। শুনলাম। গুগল থেইকা জানলাম, ভাইরাল গানটার শিল্পীর নাম বাবলী সরকার, জাতীয় পর্যায়ের একজন বিখ্যাত বাউলশিল্পী। আর ভাইরাল গানটা হচ্ছে একটা দীর্ঘ পালার শুরুতে গাওয়া বন্দনা। যেইখানে শিল্পী গান শুরুর আগে দৃশ্যপট ও আধ্যাত্মিক জগতকে ভক্তির মাধ্যমে তুইলা ধরেন।

কিন্তু, কথা হইল, মিমে যে অংশটুকু আগে শুনছিলাম সেইখানে এই আধ্যাত্মিক জগতের নামনিশানাও নাই। তবু তারা এই শব্দটা ব্যবহার করতেছে কেন?
এই প্রশ্নটা যদি আপনার মাথায় আসে বস, তাইলে বলতে হবে আপনি একা না।
এখন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হইলে পয়লা যেই প্রবলেম ফেস করা লাগবে, তা হইলো ভাইরাল জিনিসের ব্যাখ্যা সব সময় পরে আসে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো কিছু ভাইরাল হলেই আমরা খুব দ্রুত কিছু ব্যাখ্যা বানাই। একবার মনে হয় এটা খুব রিলেটেবল ছিল বা এটা খুব ফানি ছিল অথবা এটা খুব শকিং ছিল।
প্রবলেম হইল, এই ব্যাখ্যাগুলো সব ভাইরাল হওয়ার পরে তৈরি হয়। ভাইরাল হওয়ার আগে কেউ বলতে পারে না কোনটা ভাইরাল হবে। ফলে ‘দোহাই ল্যাংটা’ এক্সাক্টলি কেন ভাইরাল, এই প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর সম্ভবত কারও কাছেই নেই।
তবু চলেন গান এবং মিমগুলোরে আরেকবার একটু অবজার্ভ করি। দেখি, কেন এইটা ভাইরাল হইল!
‘ল্যাংটা’ শব্দের শক ভ্যালু
আপনি পুরা গানটা শুনছেন? শুনছেন নিশ্চয়ই এতক্ষণে। খিয়াল করছেন বস, বাবলী সরকারের গানটার ভণিতার পরে মূল আবেদন কী আছিল গানের?
‘এই ভব সাগরে পড়ে মায়া ঘোরে/ তোমাকে চিনি না ওহে নিরঞ্জন!’
মানুষ কিন্তু এই মূল আবেদনে যায় নাই। মানুষ একটা শব্দে হুক খাইছে। সেই শব্দটা হইতেছে ‘ল্যাংটা’।

ল্যাংটা শব্দটার মধ্যে একটা অস্বস্তি আছে। একটা মধ্যবিত্ত ট্যাবু আছে। আর ইন্টারনেটের একটা নিয়ম হচ্ছে যেখানে একটু ট্যাবুর গন্ধ আছে, সেইটাই দ্রুত জনপ্রিয় হয়। তা সে হোক চুদ লিংপং, বা faah! মিমারদের জন্য এই ইস্যুটাই পারফেক্ট কাঁচামাল। এ জন্যই এই কমিউনিটি গানটার পুরাটা নেয় নাই। তারা একটা পার্ট নিয়েছে। কারণ, এই পার্টটা কাটাছেঁড়া করা সহজ।
মিম কালচারের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো অ্যাবসার্ডিটি। অলি আউলিয়াদের প্রতি ভক্তি আধ্যাত্মিক বিষয়। কিন্তু যখন সেই ভক্তি প্রকাশে ‘কাটাকেল্লা কাটাকেল্লা/ কেল্লায় করে আল্লা আল্লা’ কিংবা ‘দোহাই ল্যাংটা’র মতন শব্দগুলো দ্রুত লয়ে ইউজ হয়, তখন এক ধরনের শক ভ্যালু তৈরি হয়।
এইটারে সহজেই লুপ করা যায়, এডিট করা যায়, রিমিক্স করা যায়। নাগরিক শিক্ষিত সমাজের কাছে এই র ব্যাপারটা এবং ট্যাবু শব্দ মিলায়ে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করে। মিমাররা এই অস্বস্তিটাকেই পুঁজি করেন। ফলে যেইটা হয়, গানটা তখন আর গান থাকে না। এইটা হইয়া যায় একটা টেমপ্লেট।
ক্যাচি হিপহপ রিদম
গানটা শুনলে দেখবেন, এর লয় অত্যন্ত দ্রুত এবং এতে আধুনিক হিপহপ বা র্যাপ মিউজিকের মতো নেম ড্রপিং স্টাইল আছে।
‘গনি শা আর কান্দু শা ভক্তে করে তোমার আশা / তিতু শা আর সুবহান শা কোথায় বাবা ও পরান শা?’
এখানে ‘শা’ শব্দের রিপিটেশন এবং ছন্দের যে অন্ত্যমিল, তা কানে এক ধরনের অডিও হুক তৈরি করে। মিমারদের জন্য এ ধরনের ছন্দবদ্ধ দ্রুতলয়ের অডিও ভিডিওর সাথে সিঙ্ক করা খুব সহজ। এবং এতেই এটি হয়ে ওঠে একটি শক্তিশালী সাউন্ড বাইট। ফলে যেইটা হয়, ব্যাপারটা আপনার ব্রেনের মধ্যে গিয়ে একদম পুরা বড়শির মতন গাঁইথা যায়।
চন্ডীদাস যেমনে বইলা গেছেন, ‘সই, কেবা শুনাইলে শ্যাম নাম।
কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিল গো
আকুল করিল মোর প্রাণ।।’--এ টাইপেরই আর কী।
মানে বোঝেন আর না বোঝেন ছন্দটা মাথায় ঢুইকা যায়। একটু পরেই টের পাওয়া যায় নিজেই গুনগুন করতাছেন। আর এইটাই ভাইরাল হওয়ার একটা ক্রাইটেরিয়া।
অ্যাটেনশন ইকোনমি
এইখানেই ঢুইকা পড়ে অ্যাটেনশন ইকোনমির হিসাবকিতাব। ডিজিটাল যুগে আমাদের অ্যাটেনশন স্প্যান এখন বড়জোর ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড। এই অল্প সময়ের মধ্যে আপনার স্ক্রল থামাইতে হইলে মিমারদের দরকার একটা প্যাটার্ন ইন্টারাপ্ট। আপনি শান্তিতে নিউজফিড স্ক্রল করতেছেন, হঠাৎ কানে আসল ‘দোহাই ল্যাংটা’ বা ‘কাটাকেল্লা’! আপনার ব্রেন একটা ধাক্কা খাইল। এই ধাক্কাটাই মিমারের সার্থকতা।
অ্যাটেনশন ইকোনমিতে কন্টেন্টের কোয়ালিটির চাইতে তার স্টপিং পাওয়ার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাবলী সরকারের এই অংশটুকু একটা ‘হাই-ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাটেনশন ট্রিগার’ হিসেবে কাজ করে। পীরদের পবিত্র নামের সঙ্গে ‘ল্যাংটা’ বা ‘কাটাকেল্লা’র মতো শব্দগুলোর যে মিডলক্লাস এস্থেটিক্সের ক্ল্যাশ, সেইটা মানুষের অবচেতন মনে একধরনের কৌতূহল আর রিঅ্যাকশন তৈরি করে। আর ডিজিটাল দুনিয়ায় আপনার রিঅ্যাকশন মানেই হলো তাদের লাভ। আপনি হাসেন আর গালি দেন, যতক্ষণ আপনি ভিডিওটা দেখতেছেন বা শেয়ার করতেছেন, ততক্ষণ আপনি এই অ্যাটেনশন ইকোনমির একজন কাস্টমার।
তয় এইখানে একটা ছোট্ট ট্র্যাজেডিও আছে।
এই মিমগুলোর বেশিরভাগে শিল্পী, মানে বাবলী সরকারকে দেখা যায় না। শোনা যায় শুধু তাঁর গানের কাটাছেঁড়া অংশ। যেইখানে তাঁর মূল গানের যে আধ্যাত্মিকতা সেইটা নাই, আছে খালি ল্যাংটা।
মানেডা কী দাঁড়াইল?
শিল্পী বা তার ভাব সেকেন্ডারি। শব্দটাই প্রধান। মানে, যারে বলে গিয়া ‘ডেথ অব দ্য অথর’। সোশ্যাল মিডিয়ায় এইটা নতুন কিছু না। অনেক সময় একটা গান ভেঙে একটা লাইনই বাঁইচা থাকে।
‘দোহাই ল্যাংটা’ ট্রেন্ডটা সম্ভবত খুব বেশিদিন থাকবে না। মিমের সমুদ্রে কনটেন্ট আসবে, যাবে। তখন আমরা এইটা ভুইলা যাব।
কিন্তু আপাতত, চলেন শুনি আর ভাইব করি—
‘বেলতলী সোলেমান ল্যাংটা, দোহাই ল্যাংটা, দোহাই ল্যাংটা
কাটাকেল্লা কাটাকেল্লা, কেল্লায় করে আল্লাহ আল্লাহ।
গনি শাহ আর কান্দু শাহ ভক্তে করে তোমার আশা।
তিতু শাহ আর সুবহান শাহ কোথায় বাবা ও পরান শাহ?’

বাস্তব দুনিয়া লজিকে চললেও ইন্টারনেটের দুনিয়া তেমন লজিক গুনে না। কিন্তু রেগুলার লাইফে আমরা যে পরিমাণ প্রেশারে থাকি, যত স্ট্রেস আমাদের ওপর দিয়া যায়, তাতে অনেক সময় নেট দুনিয়ার ইলজিক্যাল আর মিনিংলেস ব্যাপারস্যাপার আমাদের স্ট্রেস রিলিফের সুযোগ কইরা দেয়।
৩ দিন আগে
সালটা ২০২১। ঘরের স্পিকারে ফুল ভলিউমে দোজা ক্যাটের ‘বস বিচ’ বাজতেছে । আয়নার সামনে দাঁড়ায়ে আমার বোন চোখে গাঢ় কাজল, আর ঠোঁটে হাই পিগমেন্টেড কালো লিপস্টিক দিয়ে সাজগোজ করছে। মা একবার রুমে উঁকি দিয়ে খুবই বিরক্ত স্বরে জিজ্ঞেস বললেন, ‘ঠোঁট কেন কালা হবে?’
৬ দিন আগে
মাহবুব-এ-খোদা। দেওয়ানবাগী পীর হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত হওয়ার অনেক আগে এটিই ছিল তার নাম। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের হিস্ট্রিতে তার এন্ট্রিটা কোনোভাবেই অ্যাক্সিডেন্ট ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের সাথে তার কানেকশনের পেছনে ছিল দীর্ঘ পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিজম আর কড়া দেশপ্রেমের দুর্দান্ত স্টোরিলাইন।
১০ দিন আগে
আপনার কি কখনো মনে হইছে বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতন একটা ঘটনা, যেটা বাংলাদেশের সব মানুষকে একছাতার নিচে এনেছিল, তার ঠিক দুই বছর পরে আমরা সবাই আর একছাতার নিচে নাই? বরং কয়েকটা ছাতার নিচে দাঁড়ায়ে বর্তমান বাংলাদেশ একটা ‘নিখিল বাংলা কালচারাল ওয়ার সমিতি’তে পরিণত হয়েছে।
১২ দিন আগে