
লেখক ও গবেষক

এই উপমহাদেশের ইতিহাস জটিল। সেই ইতিহাসে রাজনৈতিক সহিংসতা কম ঘটেনি। এই ইতিহাসের বাঁকবদলগুলো সাধারণত বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই আন্দাজ হয়। কিন্তু ইতিহাস তো কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার সমাহার নয়। এটি বরং দীর্ঘ ধারাবাহিকতা। সেখানে অন্তর্নিহিত থাকে জনগোষ্ঠীর অবদমিত আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তির স্পৃহা।

মাহবুব-এ-খোদা। দেওয়ানবাগী পীর হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত হওয়ার অনেক আগে এটিই ছিল তার নাম। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের হিস্ট্রিতে তার এন্ট্রিটা কোনোভাবেই অ্যাক্সিডেন্ট ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের সাথে তার কানেকশনের পেছনে ছিল দীর্ঘ পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিজম আর কড়া দেশপ্রেমের দুর্দান্ত স্টোরিলাইন।

জাতীয় পতাকা কেবল নির্দিষ্ট অনুপাতের একখণ্ড রঞ্জিত কাপড় নয়, জাতীয় পতাকা একটি জনপদের সামষ্টিক আকাঙ্ক্ষা, দীর্ঘ লড়াইয়ের নির্যাস এবং আত্মপরিচয়ের এক দৃশ্যমান ইশতেহার। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বটতলায় প্রথম উত্তোলিত পতাকাটি ছিল এক রাষ্ট্রদ্রোহী বিদ্রোহের প্রকাশ, যা সময়ের পরিক্রমায়

অগ্নিঝরা মার্চ চলছে। এই মাস যেমন বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জনের স্মারক, তেমনি তা পাকিস্তানি হানাদারদের চরম পৈশাচিকতারও সাক্ষী। ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি বাহিনী মেতে উঠেছিল এক সুপরিকল্পিত নিধনযজ্ঞে। তাদের সেই বর্বরোচিত আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু কেবল সম্মুখ সমরের যোদ্ধা বা রাজনৈতিক কর্মীরাই ছিল এমন নয়। বহু মান

অগ্নিঝরা মার্চের শুরু। এই মাস আমাদের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনের সূচনালগ্ন। আবার সেই সাথে শোক ও দহনের স্মৃতিবাহক। ১৯৭১ সালের মার্চে বাংলার মানুষ যখন স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এক পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞে। তাদের এই পাশবিকতার সবচেয়ে করুণ আখ্যানটি সম্ভবত হলো

ভাষা প্রবহমান নদীর মতো; সময়ের আবর্তে শব্দের আভিধানিক অর্থ বদলে যাওয়া ভাষার চিরায়ত বাস্তবতা। আমরা প্রতিদিন হাজারও শব্দ ব্যবহার করি, যার কোনোটি আমাদের দক্ষতাকে প্রকাশ করে, কোনোটি লজ্জাকে আবার কোনোটি আমাদের শারীরিক অসুস্থতাকে।

একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পলাশ-শিমুলের রঙে রাঙানো এক শোকাবহ অথচ গৌরবের দিন। ১৯৫২ সালের এই দিনে ঢাকার রাজপথে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারদের বুকের তাজা রক্তে লেখা হয়েছিল মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। সেই রক্তস্রোত আজ বিশ্বস্বীকৃত।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের যে গণআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার একটি পলিসি-নির্ভর প্রতিফলন ঘটেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে।

সামনে নির্বাচন। জুলাই-আগস্টের এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র মেরামতের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। দীর্ঘ দেড় দশকের একদলীয় ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার পর জাতি এখন এক বিশেষ সময়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো—আসন্ন নির্বাচন কি কেবল ‘আনুষ্ঠানিকতা’র নির্বাচন হবে, নাকি জনগণের ইচ্ছার প্রকৃত প্র

জুলাই অভ্যুত্থান কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হলেও এর গর্ভে সুপ্ত ছিল রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে নতুন করে গড়ার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা। রাজনৈতিক দর্শনের পরিভাষায় একে বলা যায় ‘কনস্টিটিউট পাওয়ার’ বা গঠনমূলক ক্ষমতার জাগরণ।

সাংবাদিকতার মূল শক্তি নিহিত সঠিক প্রশ্ন তোলার সাহসে । আপাতদৃষ্ট সত্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রকৃত বাস্তবতাকে উন্মোচন করাই সাংবাদিকতার নিরন্তর দায়বদ্ধতা। এবারের নির্বাচনে ‘ঢাকা স্ট্রিম’-এর বিশেষ আয়োজন ‘কিপ কোয়েশ্চেনিং’ সিরিজের আজকের আলোচনার বিষয়—গণতন্ত্র না মবতন্ত্র?

পৃথিবীর অনেক গণতান্ত্রিক দেশে গণভোটের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সরকার সেখানে সবসময়ই ‘নিরপেক্ষ দর্শক’ নয়। অনেক সময় তারা ‘সক্রিয় পক্ষ’। ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট গণভোটের উদাহরণটি এক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক এবং শক্তিশালী দলিল হতে পারে।

আজ ২ জানুয়ারি। ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও মানবাধিকারের দলিলে এটি একটি রক্তিম ও অস্বস্তিকর অধ্যায়।

খালেদা জিয়া তাঁর সমর্থক এবং বৃহত্তর জনসমাজে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি লাভ করেছেন। এই উপাধি তাঁর রাজনৈতিক জীবনকে সংজ্ঞায়িত করেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে প্রবীণতান্ত্রিকতার আধিপত্য লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনীতিকে এমন এক বৃত্তে বন্দী করেছিল, যেখানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের প্রবেশাধিকার ছিল খুব সীমিত।

১৭ বছরের দীর্ঘ নির্বাসনে থেকেও একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে সুসংহত রাখার নেপথ্যে এই ‘জুম পলিটিক্স’ বা ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন কীভাবে কাজ করেছে? তা আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় হতে পারে।

‘আজান হয়েছে, আমাকে দুই রাকাত ফজরের নামাজ পড়তে দাও।’ একাত্তরের রমজান মাসে পাকিস্তানিদের কাছে শেষবারের মতো মিনতি করেছিলেন পীর বেলায়েত হোসেন। কিন্তু পাকিস্তানিরা তাঁকে সেই সুযোগ দেয়নি। ব্রাশফায়ারে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় তাঁর দেহ। সঙ্গে তাঁর পরিবারের আরও ১০ সদস্যের।

আজ এক ‘অগ্নিপুরুষ’-এর জন্মদিন। ইতিহাসের পাতায় যার নাম লেখা আছে ‘মজলুম জননেতা’ হিসেবে, কিন্তু শোষকের কলিজা কাঁপাতে তিনি ছিলেন সাক্ষাৎ দাবানল। তিনি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।

১৯৭১ সালের রণক্ষেত্র। চারদিকে লুটপাট আর নারী নির্যাতনের মহোৎসব। সাধারণ সৈনিকরা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে কথা বলছে। তাদেরই একজন প্রশ্ন তুলল— ‘আমাদের কমান্ডার (জেনারেল নিয়াজী) নিজেই তো একজন ধর্ষক। তাহলে আমাদের থামাবে কে?’

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রাক্কালে, যখন ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় সুনিশ্চিত, ঠিক সেই অন্তিম লগ্নে আল-বদর বাহিনীর নেতারা তাদের চূড়ান্ত বার্তা বা ‘আখেরি খিতাব’ দেন। এই বার্তাটি ছিল বাঙালি জাতির জন্য চরম বিপজ্জনক এক ঘোষণা।

১৯৯৮ সাল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রায় ২৭ বছর পর, পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করলেন লেফট্যানেন্ট জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজি। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার।

টাঙ্গাইল শাড়ির বুনন শিল্পকে ‘অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের’ স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো)। মঙ্গলবার ভারতের দিল্লিতে ইউনেসকো কনভেনশনের চলমান ২০তম আন্তরাষ্ট্রীয় পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পর্যালোচনায় সাধারণত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, গেরিলা কৌশল কিংবা আধুনিক সমরাস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে বিশদ আলোচনা হলেও প্রকৃতির নীরব অথচ বিধ্বংসী ভূমিকা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।

বাউল শিল্পী মহারাজা আবুল সরকারকে সম্প্রতি ‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ—তিনি আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। বাস্তবতা হলো, চার ঘণ্টার দীর্ঘ একটি পালাগান থেকে মাত্র ত্রিশ সেকেন্ডের একটি ক্লিপ কেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফিদেল কাস্ত্রোর গড়া সেই সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে। আজ ২৫ নভেম্বর, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই প্রশ্ন জাগে—কীভাবে একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র আমেরিকার কঠোর অবরোধের মধ্যেও নিশ্চিত করল যে কোনো মানুষ ক্ষুধার কারণে মারা যাবে না? কীভাবে সম্ভব হলো নামমাত্র মূল্যে রেশন, যা ২০০–২৫০ টাকার সমান খরচে এক মাস টিকে থাকার গ্য

একটি স্মার্টফোন, ইন্টারনেট কানেকশন—২০২৫ সালের বাংলাদেশে কারো জীবন ধ্বংস করতে মনে হয় এটুকুই যথেষ্ট। মাদারীপুরের বাউল আবুল সরকারের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে ‘ধর্মীয় অনুভূতি’র মনে হলেও, এর পেছনের কারিগর মূলত ‘প্রযুক্তিগত দুর্বৃত্তায়ন’।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হলেন, প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী যিনি ফাঁসির দণ্ডাদেশ পেলেন আবার তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি