বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি, ভ্রমণপিপাসু ও আলোকচিত্রী নিয়াজ আব্দুর রহমান এবং তাঁর দল গিয়েছিলেন আর্কটিক সার্কেল বা উত্তর মেরুবৃত্তে। বরফভাঙা জাহাজে টানা আট দিনের এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় তাঁরা ৮২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ অতিক্রম করেন। উত্তাল সমুদ্র আর কনকনে ঠান্ডার মাঝে ‘বরফের জঙ্গল’ পেরিয়ে তাঁরা বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন।
স্ট্রিম প্রতিবেদক

চারদিকে অনন্ত শুভ্রতার রাজত্ব। জমাট বাঁধা বরফের এক বিস্তীর্ণ প্রান্তর চিরে তীব্র শব্দে এগিয়ে চলেছে একটি বরফভাঙা জাহাজ। মাথার ওপর সূর্য, যে সূর্য এই সময়ে এখানে ডোবে না! মধ্যরাতেও সে আলো ছড়ায়। উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের দোলায় জাহাজের ভয়ংকর রোলিং আর পিচিং। তার মাঝেই সবার চোখেমুখে চরম উত্তেজনা, কখন দেখা মিলবে আর্কটিকের একাকী রাজা, মেরু ভালুকের।
দিন কয়েক আগের কথা। রোমাঞ্চকর এই যাত্রার শুরুটা হয়েছিল পৃথিবীর একেবারে উত্তর দিকের সর্বশেষ জনপদ লংইয়ারবিয়েন থেকে। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি নিয়াজ আব্দুর রহমান, তাঁর সঙ্গী লিসা, ডা. মোমেনুজ্জামান, ডা. মৃণাল এবং রেজাউল আমিনকে নিয়ে শুরু করেন এই অভিযান। লংইয়ারবিয়েন থেকে একটি বিশেষ জাহাজে চড়ে তাঁরা যাত্রা করেন উত্তর মেরুর দিকে। গন্তব্য—পৃথিবীর ছাদ।

রোমাঞ্চকর এই অভিযানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি ও আলোকচিত্রী নিয়াজ আব্দুর রহমান জানান, আট দিন ধরে তাঁরা একটি বরফভাঙা জাহাজে করে আর্কটিক সার্কেলে উত্তরের দিকে যাত্রা করেছেন। ইতিমধ্যে তাঁরা ৮২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ অতিক্রম করেছেন। এখানকার অদ্ভুত প্রকৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন এখানে ২৪ ঘণ্টাই দিনের আলো, সূর্য কখনোই অস্ত যায় না।’

এই অনন্ত বরফের রাজ্যকে নিয়াজ আব্দুর রহমান আখ্যা দিয়েছেন ‘বরফের জঙ্গল’ হিসেবে। তাঁর ভাষায়, ‘এই বরফের জঙ্গলে আমাদের চোখ অনবরত খুঁজে ফিরেছে মেরুভল্লুক।’
মেরুভল্লুকের স্বভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এরা অত্যন্ত একাকী প্রাণী। মাইলের পর মাইল বরফের রাজ্যে এরা একাই ঘুরে বেড়ায়। কখনো কখনো বছরের পর বছর অন্য কোনো মেরু ভালুকের সঙ্গে এদের দেখাই হয় না। সাধারণত এই ধরনের অভিযানে তিন থেকে চারটির বেশি ভালুকের দেখা পাওয়া যায় না। কিন্তু বাংলাদেশি এই দলটি ছিল দারুণ সৌভাগ্যবান। নিয়াজ আব্দুর রহমান উচ্ছ্বাস নিয়ে বলেন, ‘আমরা এতটাই ভাগ্যবান ছিলাম যে, বরফের এই বিশাল জগতে নয়টি মেরু ভালুকের দেখা পেয়েছি!’

শুধু মেরু ভালুকই নয়, আর্কটিকের এই সাফারিতে তাঁদের ক্যামেরায় ধরা দিয়েছে সিন্ধুঘোটক , সিল, আর্কটিক শিয়াল ও বল্গা হরিণ। দেখা মিলেছে সামুদ্রিক পাখিদেরও। এর মধ্যে অন্যতম ছিল আটলান্টিক পাফিন। নিয়াজ জানান, এই পাখিদের আদর করে ডাকা হয় ‘সমুদ্রের ক্লাউন’ বা বিদূষক।
তবে এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিকূল পরিবেশের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সমুদ্র বেশ উত্তাল ছিল। জাহাজের দুলুনিতে মাঝে মাঝেই আমরা অসুস্থ (সি-সিক) হয়ে পড়েছিলাম।’ কিন্তু এই কষ্ট বৃথা যায়নি। তাঁর মতে, ‘এই পরাবাস্তব দৃশ্য এবং বন্যপ্রাণী দেখার পর মনে হয়েছে, আমাদের সব কষ্টই সার্থক হয়েছে।’

আট দিনের হাড় কাঁপানো শীত, উত্তাল সমুদ্র আর অনন্ত শুভ্রতার রোমাঞ্চ শেষে বরফভাঙা জাহাজটি এখন ফিরতি পথে। তবে বরফের বুকে লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানো এবং বন্যপ্রাণী দর্শনে বাংলাদেশিদের এই আর্কটিক জয় নিঃসন্দেহে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

চারদিকে অনন্ত শুভ্রতার রাজত্ব। জমাট বাঁধা বরফের এক বিস্তীর্ণ প্রান্তর চিরে তীব্র শব্দে এগিয়ে চলেছে একটি বরফভাঙা জাহাজ। মাথার ওপর সূর্য, যে সূর্য এই সময়ে এখানে ডোবে না! মধ্যরাতেও সে আলো ছড়ায়। উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের দোলায় জাহাজের ভয়ংকর রোলিং আর পিচিং। তার মাঝেই সবার চোখেমুখে চরম উত্তেজনা, কখন দেখা মিলবে আর্কটিকের একাকী রাজা, মেরু ভালুকের।
দিন কয়েক আগের কথা। রোমাঞ্চকর এই যাত্রার শুরুটা হয়েছিল পৃথিবীর একেবারে উত্তর দিকের সর্বশেষ জনপদ লংইয়ারবিয়েন থেকে। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি নিয়াজ আব্দুর রহমান, তাঁর সঙ্গী লিসা, ডা. মোমেনুজ্জামান, ডা. মৃণাল এবং রেজাউল আমিনকে নিয়ে শুরু করেন এই অভিযান। লংইয়ারবিয়েন থেকে একটি বিশেষ জাহাজে চড়ে তাঁরা যাত্রা করেন উত্তর মেরুর দিকে। গন্তব্য—পৃথিবীর ছাদ।

রোমাঞ্চকর এই অভিযানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি ও আলোকচিত্রী নিয়াজ আব্দুর রহমান জানান, আট দিন ধরে তাঁরা একটি বরফভাঙা জাহাজে করে আর্কটিক সার্কেলে উত্তরের দিকে যাত্রা করেছেন। ইতিমধ্যে তাঁরা ৮২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ অতিক্রম করেছেন। এখানকার অদ্ভুত প্রকৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন এখানে ২৪ ঘণ্টাই দিনের আলো, সূর্য কখনোই অস্ত যায় না।’

এই অনন্ত বরফের রাজ্যকে নিয়াজ আব্দুর রহমান আখ্যা দিয়েছেন ‘বরফের জঙ্গল’ হিসেবে। তাঁর ভাষায়, ‘এই বরফের জঙ্গলে আমাদের চোখ অনবরত খুঁজে ফিরেছে মেরুভল্লুক।’
মেরুভল্লুকের স্বভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এরা অত্যন্ত একাকী প্রাণী। মাইলের পর মাইল বরফের রাজ্যে এরা একাই ঘুরে বেড়ায়। কখনো কখনো বছরের পর বছর অন্য কোনো মেরু ভালুকের সঙ্গে এদের দেখাই হয় না। সাধারণত এই ধরনের অভিযানে তিন থেকে চারটির বেশি ভালুকের দেখা পাওয়া যায় না। কিন্তু বাংলাদেশি এই দলটি ছিল দারুণ সৌভাগ্যবান। নিয়াজ আব্দুর রহমান উচ্ছ্বাস নিয়ে বলেন, ‘আমরা এতটাই ভাগ্যবান ছিলাম যে, বরফের এই বিশাল জগতে নয়টি মেরু ভালুকের দেখা পেয়েছি!’

শুধু মেরু ভালুকই নয়, আর্কটিকের এই সাফারিতে তাঁদের ক্যামেরায় ধরা দিয়েছে সিন্ধুঘোটক , সিল, আর্কটিক শিয়াল ও বল্গা হরিণ। দেখা মিলেছে সামুদ্রিক পাখিদেরও। এর মধ্যে অন্যতম ছিল আটলান্টিক পাফিন। নিয়াজ জানান, এই পাখিদের আদর করে ডাকা হয় ‘সমুদ্রের ক্লাউন’ বা বিদূষক।
তবে এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিকূল পরিবেশের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সমুদ্র বেশ উত্তাল ছিল। জাহাজের দুলুনিতে মাঝে মাঝেই আমরা অসুস্থ (সি-সিক) হয়ে পড়েছিলাম।’ কিন্তু এই কষ্ট বৃথা যায়নি। তাঁর মতে, ‘এই পরাবাস্তব দৃশ্য এবং বন্যপ্রাণী দেখার পর মনে হয়েছে, আমাদের সব কষ্টই সার্থক হয়েছে।’

আট দিনের হাড় কাঁপানো শীত, উত্তাল সমুদ্র আর অনন্ত শুভ্রতার রোমাঞ্চ শেষে বরফভাঙা জাহাজটি এখন ফিরতি পথে। তবে বরফের বুকে লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানো এবং বন্যপ্রাণী দর্শনে বাংলাদেশিদের এই আর্কটিক জয় নিঃসন্দেহে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
.png)

ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
১০ ঘণ্টা আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
১১ ঘণ্টা আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
১৩ ঘণ্টা আগে
প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
১৩ ঘণ্টা আগে