রাজনীতি বিশ্লেষক ও লেখক

মমতার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল মানুষের আস্থা দিয়ে। কিন্তু ১৫ বছরের শেষে এসে সেই আস্থার জায়গায় অনেকের মনে জমেছে প্রশ্ন, সরকার কি মানুষের, না কি দলের? প্রকল্প আছে, কিন্তু স্বচ্ছতা কোথায়? ভাতা আছে, কিন্তু কাজ কোথায়? এই প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে না পারার ফলেই তৃণমূলের ভিত ভেঙেছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট শেষ হয়েছে। এখন রাজ্যজুড়ে কেবল অপেক্ষা ফল ঘোষণার। কিন্তু ভোটগ্রহণ শেষ মানেই রাজনৈতিক উত্তাপ শেষ, এমনটা কখনও হয় না। বরং অনেক সময় ভোটের পরের সময়টাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজনীতির ময়দানে লড়াই সরে গিয়ে শুরু হয় ব্যাখ্যার লড়াই—মানুষ কী ভাবল, কার বিরুদ্ধে রাগ জমল,

তথ্য বলছে, গত এক দশকে গো-মাংস বা গরু পরিবহণের অভিযোগে অন্তত ৫০ জনের বেশি মানুষ গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। উত্তর, মধ্য ও পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত ‘গো-রক্ষা বাহিনী’ রাতভর টহল দেয়, ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালায়।

সব জায়গাতেই এখন একটাই প্রশ্ন: বাংলায় কি আবার ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল, নাকি ঘুরে দাঁড়াবে বিজেপি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিভিন্ন সংস্থা ও মিডিয়া হাউস এরইমধ্যে মতামত সমীক্ষা বা ‘ওপিনিয়ন পোল’ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। সেসব পোলের ফলাফল বলছে, লড়াই এখনো তৃণমূল বনাম বিজেপি, কিন্তু আগের মতো একতরফা নয়।

নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি ততই প্রতীকী হয়ে উঠছে। সরাসরি মাঠে নামতে না পারলেও তাহেরপুরের সভায় পাঠানো অডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলা এখন তাঁর রাজনৈতিক হিসাবের কেন্দ্রে রয়েছে।