কাজী নিশাত তাবাসসুম

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক আবারও এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কূটনীতি, সামরিক হুমকি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি একসঙ্গে জট পাকিয়ে ফেলেছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল। ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশা দেখানো হলেও যুদ্ধ এখন গড়িয়েছে ১০ম সপ্তাহে। সংঘাত কীভাবে শেষ হবে, সে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও দিতে পারছে না ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখন একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ দুই ধরনের চাপের মুখে আছেন। একদিকে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত সাফল্য পেতে দিচ্ছে না, অন্যদিকে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে মার্কিন রাজনীতিতেও।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনের এই নৌপথ ইরান যুদ্ধের প্রভাবে গতিপথ পরিবর্তন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি অনেক বেশি হলেও ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে না গিয়েও কীভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করা যায়।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম গ্যালন প্রতি ৪ ডলারের ওপরে উঠে যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে জনসাধারণের। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানও জোরালো হচ্ছে।
বিভিন্ন জরিপে বলছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় হোয়াইট হাউসের ওপরেও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে ।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বারবার শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির দাবি করছেন। কখনো তিনি বলছেন, ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত, আবার কখনো নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিচ্ছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবস্থান পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই।
বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধের পর অন্যান্য বিষয় সমাধানে ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রায় অর্ধশতকের বিরোধ এক পাতার সমঝোতায় মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। কারণ, দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা।
ইরানও এখন শুধু যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী নয়, তারা বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল থেকে আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার দিকেও নজর দিচ্ছে তেহরান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের দাবি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। বর্তমান আলোচনা যুদ্ধ শুরুর পর দুই পক্ষকে সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে এনেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
তবুও ভয়-সংশয় কাটছে না। কারণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে, চুক্তি খুব কাছাকাছি এবং ইরান তার শর্ত মেনে নিয়েছে। কিন্তু পরে দেখা গেছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তত সহজ নয়। বরং ইরান এখনো আপসহীন অবস্থান ধরে রেখেছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা স্থগিত করেছে। অর্থাৎ, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই আবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন উদ্যোগের কথা বলা হয়। পরে কয়েকটি জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার পর সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ট্রাম্প বলেন, শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এত দ্রুত কৌশল বদলানোকে পরিস্থিতি শিথিলের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এতে বরং যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তির চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ত্রিতা পার্সির মতে, ট্রাম্প প্রশাসন বারবার এমন একটি ‘সিলভার বুলেট’ কৌশল খুঁজছে, যা এক ধাক্কায় ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করবে। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
যুদ্ধ চলাকালে ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা, বন্দর অবরোধ এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে আঘাতের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরও ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়েনি। বরং দ্রুত নতুন কট্টরপন্থী নেতৃত্ব সামনে এসেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মধ্যেও বড় ধরনের বিভাজনের লক্ষণ দেখা যায়নি। ফলে সরকার পতন বা অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের যে ধারণা বা আশা ওয়াশিংটনের একটি অংশ করেছিল, তা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শাসকগোষ্ঠী এই যুদ্ধকে শুধু সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখছে না, তারা এটিকে ইসলামী বিপ্লবের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে টিকে থাকাটাই তাদের কাছে রাজনৈতিক বিজয়ের সমান।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধের ব্যাপ্তিকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হোয়াইট হাউসে সামরিক সদস্যদের অভিভাবকদের সাথে বৈঠকে তিনি এই সংঘাতকে ‘ছোটখাটো সংঘর্ষ’ বলে উল্লেখ করেন এবং ভেনেজুয়েলাতে পরিচালিত স্বল্পমেয়াদি অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন।
কিন্তু সমালোচকদের মতে, ভেনেজুয়েলার সীমিত অভিযানের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ ও জটিল যুদ্ধের তুলনা বাস্তবতার সাথে মেলে না। কারণ এই সংঘাতে হাজারো মার্কিন সেনা, বিশাল সামরিক উপস্থিতি এবং শত শত কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌ ও বিমান সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হানলেও স্পষ্ট রাজনৈতিক বিজয় অর্জন করতে পারেনি। ইরান এখনো তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসেনি। একই সাথে দেশটির আঞ্চলিক প্রভাবও পুরোপুরি ভাঙা যায়নি।
ফলে যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি থাকলেও কৌশলগত সাফল্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা এগোলেও স্থায়ী সমাধানের পথ এখনও অনিশ্চিত। আর সেই অনিশ্চয়তার সবচেয়ে বড় প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য ও কৌশল পরিবর্তনের মধ্যেই।
(সিএনএনের নিবন্ধ ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের কৌশল’ অবলম্বনে লেখা)

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক আবারও এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কূটনীতি, সামরিক হুমকি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি একসঙ্গে জট পাকিয়ে ফেলেছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল। ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশা দেখানো হলেও যুদ্ধ এখন গড়িয়েছে ১০ম সপ্তাহে। সংঘাত কীভাবে শেষ হবে, সে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও দিতে পারছে না ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখন একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ দুই ধরনের চাপের মুখে আছেন। একদিকে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত সাফল্য পেতে দিচ্ছে না, অন্যদিকে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে মার্কিন রাজনীতিতেও।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনের এই নৌপথ ইরান যুদ্ধের প্রভাবে গতিপথ পরিবর্তন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি অনেক বেশি হলেও ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে না গিয়েও কীভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করা যায়।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম গ্যালন প্রতি ৪ ডলারের ওপরে উঠে যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে জনসাধারণের। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানও জোরালো হচ্ছে।
বিভিন্ন জরিপে বলছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় হোয়াইট হাউসের ওপরেও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে ।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বারবার শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির দাবি করছেন। কখনো তিনি বলছেন, ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত, আবার কখনো নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিচ্ছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবস্থান পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই।
বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধের পর অন্যান্য বিষয় সমাধানে ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রায় অর্ধশতকের বিরোধ এক পাতার সমঝোতায় মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। কারণ, দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা।
ইরানও এখন শুধু যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী নয়, তারা বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল থেকে আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার দিকেও নজর দিচ্ছে তেহরান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের দাবি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। বর্তমান আলোচনা যুদ্ধ শুরুর পর দুই পক্ষকে সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে এনেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
তবুও ভয়-সংশয় কাটছে না। কারণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে, চুক্তি খুব কাছাকাছি এবং ইরান তার শর্ত মেনে নিয়েছে। কিন্তু পরে দেখা গেছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তত সহজ নয়। বরং ইরান এখনো আপসহীন অবস্থান ধরে রেখেছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা স্থগিত করেছে। অর্থাৎ, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই আবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন উদ্যোগের কথা বলা হয়। পরে কয়েকটি জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার পর সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ট্রাম্প বলেন, শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এত দ্রুত কৌশল বদলানোকে পরিস্থিতি শিথিলের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এতে বরং যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তির চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ত্রিতা পার্সির মতে, ট্রাম্প প্রশাসন বারবার এমন একটি ‘সিলভার বুলেট’ কৌশল খুঁজছে, যা এক ধাক্কায় ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করবে। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
যুদ্ধ চলাকালে ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা, বন্দর অবরোধ এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে আঘাতের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরও ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়েনি। বরং দ্রুত নতুন কট্টরপন্থী নেতৃত্ব সামনে এসেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মধ্যেও বড় ধরনের বিভাজনের লক্ষণ দেখা যায়নি। ফলে সরকার পতন বা অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের যে ধারণা বা আশা ওয়াশিংটনের একটি অংশ করেছিল, তা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শাসকগোষ্ঠী এই যুদ্ধকে শুধু সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখছে না, তারা এটিকে ইসলামী বিপ্লবের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে টিকে থাকাটাই তাদের কাছে রাজনৈতিক বিজয়ের সমান।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধের ব্যাপ্তিকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হোয়াইট হাউসে সামরিক সদস্যদের অভিভাবকদের সাথে বৈঠকে তিনি এই সংঘাতকে ‘ছোটখাটো সংঘর্ষ’ বলে উল্লেখ করেন এবং ভেনেজুয়েলাতে পরিচালিত স্বল্পমেয়াদি অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন।
কিন্তু সমালোচকদের মতে, ভেনেজুয়েলার সীমিত অভিযানের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ ও জটিল যুদ্ধের তুলনা বাস্তবতার সাথে মেলে না। কারণ এই সংঘাতে হাজারো মার্কিন সেনা, বিশাল সামরিক উপস্থিতি এবং শত শত কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌ ও বিমান সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হানলেও স্পষ্ট রাজনৈতিক বিজয় অর্জন করতে পারেনি। ইরান এখনো তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসেনি। একই সাথে দেশটির আঞ্চলিক প্রভাবও পুরোপুরি ভাঙা যায়নি।
ফলে যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি থাকলেও কৌশলগত সাফল্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা এগোলেও স্থায়ী সমাধানের পথ এখনও অনিশ্চিত। আর সেই অনিশ্চয়তার সবচেয়ে বড় প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য ও কৌশল পরিবর্তনের মধ্যেই।
(সিএনএনের নিবন্ধ ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের কৌশল’ অবলম্বনে লেখা)
.png)

বিশ্বরাজনীতির পুরোনো ছক যেন দ্রুত ভেঙে পড়ছে, তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ। যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে বৃহৎ শক্তিগুলোর টানাপোড়েন সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা, প্রতিযোগিতা ও নতুন মেরুকরণ।
৭ ঘণ্টা আগে
আধুনিক বিশ্বে শরণার্থী সংকট সামলানোর একটি নতুন পদ্ধতি তৈরি হয়েছে। ধনী ও শক্তিশালী দেশগুলো নিজের দেশে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বদলে অন্য দেশকে অর্থ দিয়ে তাদের সেখানে রাখতে চাইছে। ফলে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া শুধু মানবিক দায়িত্বের বিষয় থাকছে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে অর্থনীতি, রাজনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনীত
১ দিন আগে
ভারতে ছাত্রদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ আপাতত থেমেছে। শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দিল্লির যন্তর মন্তর পরিষ্কার করা হয়েছে। দেয়ালের গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ও যেন আপাতত নিজেদের পর্ব শেষ করেছে। অন্যদিকে বিজেপি আবার সংসদে নিজেদের বিল পাস করানোর কাজে ফিরেছে।
১২ আগস্ট ২০২৬
চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এবার সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত আউটরিচ সেশনগুলোও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
১২ আগস্ট ২০২৬