leadT1ad

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম ২ দিনেই ১০৭ কোটি টাকা উত্তোলন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২২: ১০
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের লোগো। সংগৃহীত ছবি

বেসরকারি খাতের শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির লেনদেনের শুরুতেই আমানতকারীদের টাকা তোলার হিড়িক পড়েছে। নতুন বছরের প্রথম দুই দিনেই ব্যাংকটি থেকে মোট ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন গ্রাহকেরা। এর বিপরীতে নতুন আমানত জমা পড়েছে মাত্র ৪৪ কোটি ৯ লাখ টাকা।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়াসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর জানান, গত দুই দিনে মোট ১৩ হাজার ৩১৪ জন গ্রাহক টাকা তুলেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপ ছিল এক্সিম ব্যাংকে। সেখান থেকে ৬ হাজার ২৬৫ জন গ্রাহক মোট ৬৬ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। যদিও এই ব্যাংকে জমা আমানতের পরিমাণও সর্বোচ্চ ২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

এক্সিম ব্যাংকের পর ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি ২৪ লাখ, এসআইবিএল থেকে ৩ কোটি ৪৯ লাখ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৪৮ লাখ এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ৬২ লাখ টাকা জমা হয়েছে।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘টাকা উত্তোলনের সঙ্গে জমাও হয়েছে। এটা প্রমাণ করে এখানে টাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। গ্রাহকের কোনো চিন্তা করতে হবে না। আগামীতেও ভয়ের কোনো কারণ দেখছি না।’

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, পাঁচটি ব্যাংক থেকে কীভাবে অর্থ বের হয়ে গেছে, তা চিহ্নিত করতে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে খুব শিগগির ফরেনসিক অডিট চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না।

আর্থিক সংকট ও অব্যবস্থাপনায় ধুঁকতে থাকা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত হয়েছে এই নতুন ব্যাংক। এর আগে গত ১ ডিসেম্বর ব্যাংকটিকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ব্যাংকের মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংক রেজল্যুশন অনুযায়ী, পুরোনো ব্যাংকগুলোর শেয়ার শূন্য ঘোষণা করে সেগুলোকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্যাংকটি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকবে এবং পরে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারছেন। পরবর্তী তিন মাসে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে তোলা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, প্রথম পর্যায়ে নিজ নিজ ব্যাংকের পুরোনো চেক দিয়েই টাকা তোলা যাবে, তবে পরে নতুন চেক বই ইস্যু করা হবে।

একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে চারটির নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের হাতে এবং একটির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম মজুমদার। বিগত সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও ঋণের নামে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে এসব ব্যাংকের বিরুদ্ধে। সেই সংকট কাটানোর লক্ষ্যেই সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই একীভূতকরণের পথে হেঁটেছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত