চন্দ্রিকা নূরানী ইরাবতী

আপনার কি নতুন কোনো জায়গায় ইন্সটাগ্রামওয়ার্দি ছবি তোলার জন্য মন খাঁ খাঁ করছে? এদিকে কফিশপ বা রেস্টুরেন্টে যাওয়ার বাজেট নেই, পার্কে গেলে পুলিশ দ্বারা ‘মাদকাসক্ত’ ট্যাগ ও মার খাওয়ার ভয়, আর রিসোর্টে যেতে চাইলে নির্ঘাত কিডনি বেচার পরিস্থিতি?
নো অরিজ! আপনার জন্য একটাই সলিউশন। আউটিংয়ের জন্য বেছে নিন ট্রেন্ডি আর এস্থেটিক কোনো মিউজিয়াম। কিন্তু সত্যি বলতে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মিউজিয়ামই সাধারণ দর্শকের ঘোরাঘুরি বা ছবি তোলার জন্য খুব একটা জুতসই নয়। একজন দর্শক মিউজিয়ামে গিয়ে যদি সাজানো বস্তুগুলোর সাথে নিজের হিস্ট্রি, কালচার বা লাইফস্টাইলকে রিলেট করতে না পারে, তবে সেটা দর্শকের নয় বরং কিউরেশনের সীমাবদ্ধতা।
তাই এই তালিকায় আমি এমন কিছু মিউজিয়ামের নাম দিচ্ছি যেগুলো ভিজ্যুয়ালি ইম্প্রেসিভ, ঘুরতে আরাম আর আপনার ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রাম ফিডের জন্য হবে একদম পারফেক্ট ব্যাকড্রপ।
গরিব কিন্তু অ্যাস্থেটিক ইনফ্লুয়েন্সাররা ঝটপট নোট নিয়ে নিন! আপনার নেক্সট রিল বা কন্টেন্টের জন্য কোন মিউজিয়ামগুলো একদম মাস্ট ভিজিট!
[ এই তালিকায় শুধু ছবি তোলার সুবিধা আছে এমন মিউজিয়ামগুলোকেই রাখা হয়েছে। অনেক রিচ কালেকশনের মিউজিয়াম কেবল ছবি তোলার সুযোগ নেই বলে বাদ পড়েছে। এই লিস্টের বাইরে আপনার নজরে অন্য কোনো এস্থেটিক মিউজিয়াম থাকলে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। ]
১) বাংলাদেশ মিলিটারি মিউজিয়াম
আপনার প্রিয়জন হয়তো আবদার করেছেন তাকে কক্সবাজার নিয়ে যেতে হবে, নীল জলরাশির সামনে দাঁড়িয়ে কিছু এস্থেটিক ছবি তুলে দিতে হবে। কিন্তু আপনার পকেটের দশা আর অফিসের ব্যস্ততা কোনোটাই সায় দিচ্ছে না। যদি বলি, সমুদ্রসৈকত এমনকি মাঝসমুদ্রের নিচে সাবমেরিনেও ঘুরে আসতে পারবেন খুব অল্প খরচে, বিশ্বাস হবে?

ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করলে নিশ্চয়ই দেখেছেন, দেশের কুল কিডসরা এই মিউজিয়াম খোলার পর থেকেই নীল সমুদ্র আর মাছের ব্যাকড্রপে রিলস আর ছবি দিয়ে ফিড ভাসিয়ে দিচ্ছে।
এই জাদুঘরের নেভি সেকশনটি মূলত অডিওভিজ্যুয়ালের এক জাদুকরী মিশ্রণ। এখানে যুদ্ধজাহাজের একটি অংশ দেয়ালের সাথে এমনভাবে সেট করা, যেখানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সমুদ্রের ঢেউ খেলা করে। জাহাজের ডেকে দাঁড়ালে মনে হবে আপনি সত্যিই মাঝসমুদ্রে ভাসছেন। আবার অন্য একটি রুমে রাখা আস্ত এক সাবমেরিন, যার ভেতরে নাবিকদের জীবনযাপনের ডেমো দেওয়া আছে। সেই রুমের মেঝে আর দেয়ালে সমুদ্রের তলদেশ আর মাছের প্রজেকশন এমন এক মায়াবী নীল আবহ তৈরি করে, যা ছবি তোলার জন্য একদম পারফেক্ট। মূলত এই আন্ডার ওয়াটার ভাইবটাই দর্শকদের চুম্বকের মতো টানে।
মিলিটারি মিউজিয়ামের এই সেকশনটির জনপ্রিয়তার রহস্য হলো ইতিহাসের যথাযথ কন্টেক্সটচুয়ালাইজেশন। এই জাহাজ বা সাবমেরিনগুলো যদি ড্রয়িংরুমের শোপিসের মতো সাজিয়ে রাখা হতো, তবে সাধারণ দর্শক হয়তো এর গুরুত্ব বা রোমাঞ্চ বুঝতে পারতেন না। কিন্তু যখন সাবমেরিনের চারপাশে সমুদ্রের এনভায়রনমেন্ট ক্রিয়েট করা হলো, তখন দর্শক সহজেই এর অরিজিনাল কন্টেক্সট রিলেট করতে পারছেন।
এই কন্টেক্সটচুয়ালাইজেশনের কারণেই এই মিউজিয়ামের জিনিসপত্র কাচঘেরা অবজেক্ট না হয়ে, হয়ে উঠেছে এক্সপেরিয়েন্সের বিষয়। এই মিউজিয়ামের টিকেট প্রাইস মাত্র ১৫০ টাকা।
একটু ভাইব্র্যান্ট কালার, একটু পিংক আভিজাত্য এবং নবাবি অ্যাস্থেটিকে ছবি তোলার জন্য যেতে পারেন পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিলে । বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে অবস্থিত এই প্যালেস মিউজিয়ামটি আপাদমস্তক গোলাপি। তাই আমার সাজেশন থাকবে, এখানে যাওয়ার আগে ড্রেসআপের দিকে একটু নজর দিন, যাতে প্যালেসের দেয়ালের সাথে আপনার আউটফিটটা কন্ট্রাস্ট করে।
আহসান মঞ্জিলের স্পেশালিটি হলো এর অথেন্টিসিটি। সাধারণত মিউজিয়ামগুলোতে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রত্নবস্তু সংগ্রহ করে এনে সাজানো হয়, কিন্তু এখানে নবাবদের অরিজিনাল প্যালেসেই তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে আগের মিউজিয়ামটির মতো এখানে কোনো ফেক এনভায়রনমেন্ট বা প্রজেকশনের প্রয়োজন পড়েনি; পুরো জায়গাটাই হান্ড্রেড পার্সেন্ট অরিজিনাল কনটেক্সট।

আপনি যখন প্রাসাদের ডাইনিং টেবিলে উঁকি দেবেন, দেখবেন সেই সময়ের কাঁটাচামচ আর প্লেটগুলো ঠিক সেভাবেই সাজানো। লাইব্রেরির আলমারিতে থরে থরে সাজানো সেই আমলের বই। একই সাথে বেডরুম, বলরুম কিংবা কার্ডরুম সবই তার নিজস্ব ব্যবহারের সরঞ্জাম দিয়ে সাজানো। ফলে এক চক্কর দিলেই দর্শক খুব সহজে নবাবদের দৈনন্দিন লাইফস্টাইল কল্পনা করতে পারেন।
পুরো প্রাসাদ ঘুরে দেখা শেষ হলে এই কালারফুল বিল্ডিংকে ব্যাকড্রপে রেখে সেরে নিতে পারেন আপনার ফটোসেশন। দিনশেষে প্রাসাদের সামনে খোলা জায়গায় বা সিঁড়িতে বসে আড্ডার সুযোগ তো থাকছেই। আর ফুড লাভার ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য এই লোকেশন তো সোনায় সোহাগা! ঘোরাঘুরি শেষে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কাচ্চি, বাকরখানি আর লাচ্ছি দিয়ে একটা জম্পেশ ফুড ভ্লগও হয়ে যেতে পারে। খাওয়া শেষ করে বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে একটা রিভার ক্রুজ ভাইবের ছবিও তুলতে পারবেন। ভাগ্যিস, নদীর দুর্গন্ধ ছবিতে আসে না!
এখানকার টিকেট জনপ্রতি ৪০ টাকা । তবে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকেট লাগে না।
জেনোসাইডের ভয়াবহ রূপ, মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক ঘটনাবলি আর যুদ্ধের বিভিন্ন দিক বুঝতে যেতে পারেন আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে । সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হলো, এখানকার প্রতিটি গ্যালারিতেই ছবি তোলার জন্য কিছু বিশেষ এস্থেটিক স্পট রাখা হয়েছে।
এই জাদুঘরটির মূল আকর্ষণ হলো এর আর্কিটেকচার। ভবনটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে দর্শক প্রবেশ করামাত্রই এক ঐতিহাসিক জার্নির ভেতর দিয়ে যেতে পারেন। মিউজিয়ামে ঢুকেই সরাসরি যুদ্ধের সরঞ্জামের বদলে আপনি দেখতে পাবেন এই জনপদের প্রাচীন ও মধ্যযুগের কিছু নিদর্শন। এরপর একটি গোলাকার রুমে দেয়ালজুড়ে টানা লম্বা পেইন্টিংয়ে নদীর পাড়ে ঢাকা শহরের রূপ দেখতে দেখতে একটা সময়রেখা ধরে এগোতে পারবেন। আর অবজেক্টগুলো ধীরে ধীরে প্রাচীন থেকে আধুনিক সময়ের দিকে মোড় নিতে থাকবে।
ভাষা আন্দোলনের গ্যালারিতে গেলে দেখা মিলবে আন্দোলনকারীদের কার্ডবোর্ড কাট আউট। আবার গ্যালারির একটি অংশকে হুবহু তৎকালীন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো করে বানানো হয়েছে। সেখানকার ইতিহাস কিউরেট করা হয়েছে এমনভাবে, যেন আপনি নিজেই সেই সময়ের বন্দি। কারাগারের এই অংশটি ভালো ছবি তোলার জন্য বেশ জনপ্রিয়।
জাদুঘরটির একটি গ্যালারিতে ২৫শে মার্চের সেই ভয়াবহ রাতকে তুলে ধরা হয়েছে চমৎকার অডিও ভিজ্যুয়াল এবং প্রপসের মাধ্যমে। আবার অন্য অংশে মুক্তিযুদ্ধের সময় উদ্বাস্তুদের শরণার্থী হিসেবে ভারতে যাত্রা এবং মানবেতর জীবনযাপনের দৃশ্য উঠে এসেছে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে। সেখানে শরণার্থীরা যে পাইপের ভেতর আশ্রয় নিতেন, তেমন পাইপ দেয়ালের সাথে লাগানো আছে। দর্শকরা চাইলে এই পাইপের ভেতর বসে ছবি তুলে সেই সময়ের হাহাকার বা সংগ্রামকে ফ্রেমবন্দি করতে পারেন।

যদিও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অডিও ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে ইতিহাসকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, তবুও কিউরেটরিয়াল সীমাবদ্ধতার কারণে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অনেক রাজনৈতিক পক্ষ বা শক্তির ভূমিকা এখানে কিছুটা আড়ালে রয়ে গেছে। ইতিহাসে যারা ব্রাত্য রয়ে গেছেন, তাদের সন্ধান হয়তো আপনাকে অন্য কোথাও করতে হবে। এই জাদুঘরের প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা।
৪. বড় সর্দার বাড়ি
ঢাকার ঠিক পাশেই যদি এমন কোনো স্পট খুঁজেন যেটা দেখতে হুবহু নেটফ্লিক্সের কোনো পিরিয়ড ড্রামা বা সিনেমার সেটের মতো, তবে ঘুরে আসতে পারেন সোনারগাঁওয়ের বড় সরদার বাড়ি থেকে। প্রায় ছয় শ বছরের ধুলোবালি মেখে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপত্যটি প্রাক-মুঘল থেকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সব আভিজাত্যের এক জাদুকরী মিক্স।
এই প্রাসাদের সবচেয়ে ইন্সটাগ্রামওয়ার্দি দিক হলো এর প্রবেশদ্বারের চিনি টিকরি কাজ। ভাঙা চিনা বাসন আর রঙিন কাচের মোজাইকগুলো এমন এক ঝিলমিলে ব্যাকড্রপ তৈরি করে যে, কোনো ফিল্টার ছাড়াই আপনার ছবিগুলো জাদুকরী হয়ে উঠবে। ভেতরকার ২৭ হাজার বর্গফুটের বিশালত্ব আর চুরাশিটি কক্ষের হাতছানি আপনাকে দেবে এক নিখুঁত মেইন ক্যারেক্টার এনার্জির আবেশ।
মাঝখানের লাল রঙের বর্গাকার উঠানটি মুঘল আভিজাত্যের স্মারক, যা বর্তমানে ছবি তোলার জন্য গোল্ডমাইন। একসময় এখানে মসলিন আর জামদানির স্বপ্নবুনন হতো, আর এখন সেখানে আপনার রিলসের ফ্রেমবুনন হতে পারে। ২০১২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংওয়ান কোম্পানির হাত ধরে যখন এই জরাজীর্ণ রূপবতী ভবনটি নতুন জীবন ফিরে পায়, তখন থেকেই এটি হয়ে উঠেছে জীবন্ত এক অ্যাস্থেটিক গ্যালারি।

নিচতলার শোকেজে সাজানো কাঠখোদাই আর মৃৎশিল্পের দুর্লভ নিদর্শনগুলো আপনাকে আমাদের শেকড়ের গল্প শোনাবে। আর প্রাসাদের দুই পাশের দিঘির ঘাটলায় দাঁড়িয়ে যখন নীল আকাশের প্রতিফলন দেখবেন, মনে হবে আপনি কোনো এক পিরিয়ড ফিল্মের মায়াবী অলিন্দে হাঁটছেন। যারা একটু হলেও হেরিটেজ অ্যাস্থেটিক পছন্দ করেন, তাদের জন্য বড় সরদার বাড়ি এক কথায় মাস্ট ভিজিট। এখানকার প্রবেশমুল্য ১০০ টাকা।
আপনার যদি লম্বা জার্নির ক্লান্তি সয়ে প্রান্তিক বাংলার কোনো স্টানিং আর্কিটেকচারের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার শখ থাকে, তবে আপনার ডেস্টিনেশন হওয়া উচিত দিনাজপুরের কান্তনগর। এখানে মূলত সবাই যান কান্তজিউ মন্দিরের সেই নিখুঁত আর ডিটেইলড টেরাকোটা ডিজাইন দেখতে।
এই মন্দিরটি এখনো একটি অ্যাক্টিভ উপাসনালয়। পূজার মৌসুমে এখানে যখন ভক্তদের সমাগম ঘটে, তখন মন্দিরের আসল পারপাস আর রিচুয়ালগুলোর সাথে আপনি সহজেই কানেক্ট করতে পারবেন। তবে আমাদের লিস্টের আসল আকর্ষণ হলো মন্দিরের ঠিক পাশেই অবস্থিত কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর।
সত্যি বলতে, মন্দিরের জাঁকজমকের তুলনায় মিউজিয়ামের ভেতরের কিউরেশন আপনাকে কিছুটা নিরাশ করতে পারে। দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা প্রাচীন প্রত্নবস্তুগুলো এখানে বেশ সাদামাটা শোকেসে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, মিউজিয়ামের বাইরের অংশটি দারুণ অ্যাস্থেটিক ! এর চারপাশের সাজানো বাগান আর মিউজিয়ামের দেয়ালে মন্দিরের আদলে তৈরি করা কারুকার্যগুলো ছবি তোলার জন্য দুর্দান্ত। এখানে পোজ দিলে আপনার ছবিতে উপনিবেশ আমলের বাংলার এক পৌরাণিক ও ভিন্টেজ ভাইব ফুটে উঠবে। যারা একটু নিরিবিলি আর অফবিট লোকেশন পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি মাস্ট ভিজিট।

এখানকার টিকেট জনপ্রতি ২০ টাকা । মনে রাখবেন, মিউজিয়ামটি রবিবারে পূর্ণদিবস এবং সোমবারে অর্ধদিবস বন্ধ থাকে, তাই ট্রিপ প্ল্যান করার আগে ক্যালেন্ডার দেখে নিন!
এখন সিদ্ধান্ত আপনার! খরচ করে রেস্টুরেন্টে গিয়ে পোজ দেবেন, নাকি নামমাত্র টিকেটে এই রাজকীয় এস্থেটিক আর মেইন ক্যারেক্টার ভাইব নিয়ে আসবেন। স্রেফ ধুলোপড়া ইতিহাস নয়, একটু ক্রিয়েটিভিটি থাকলে আমাদের এই জাদুঘরগুলোই হতে পারে আপনার পরবর্তী ভাইরাল রিলসের সেরা ব্যাকড্রপ।
তাই দেরি না করে আপনার ফটোগ্রাফার বন্ধুটিকে মেনশন দিয়ে প্ল্যানটা জলদি সেরে ফেলুন। যাওয়ার আগে ইতিহাসটা একটু দেখে নিয়েন প্লিজ, যাতে অন্তত ছবির ক্যাপশনটা ভুল না হয়!

আপনার কি নতুন কোনো জায়গায় ইন্সটাগ্রামওয়ার্দি ছবি তোলার জন্য মন খাঁ খাঁ করছে? এদিকে কফিশপ বা রেস্টুরেন্টে যাওয়ার বাজেট নেই, পার্কে গেলে পুলিশ দ্বারা ‘মাদকাসক্ত’ ট্যাগ ও মার খাওয়ার ভয়, আর রিসোর্টে যেতে চাইলে নির্ঘাত কিডনি বেচার পরিস্থিতি?
নো অরিজ! আপনার জন্য একটাই সলিউশন। আউটিংয়ের জন্য বেছে নিন ট্রেন্ডি আর এস্থেটিক কোনো মিউজিয়াম। কিন্তু সত্যি বলতে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মিউজিয়ামই সাধারণ দর্শকের ঘোরাঘুরি বা ছবি তোলার জন্য খুব একটা জুতসই নয়। একজন দর্শক মিউজিয়ামে গিয়ে যদি সাজানো বস্তুগুলোর সাথে নিজের হিস্ট্রি, কালচার বা লাইফস্টাইলকে রিলেট করতে না পারে, তবে সেটা দর্শকের নয় বরং কিউরেশনের সীমাবদ্ধতা।
তাই এই তালিকায় আমি এমন কিছু মিউজিয়ামের নাম দিচ্ছি যেগুলো ভিজ্যুয়ালি ইম্প্রেসিভ, ঘুরতে আরাম আর আপনার ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রাম ফিডের জন্য হবে একদম পারফেক্ট ব্যাকড্রপ।
গরিব কিন্তু অ্যাস্থেটিক ইনফ্লুয়েন্সাররা ঝটপট নোট নিয়ে নিন! আপনার নেক্সট রিল বা কন্টেন্টের জন্য কোন মিউজিয়ামগুলো একদম মাস্ট ভিজিট!
[ এই তালিকায় শুধু ছবি তোলার সুবিধা আছে এমন মিউজিয়ামগুলোকেই রাখা হয়েছে। অনেক রিচ কালেকশনের মিউজিয়াম কেবল ছবি তোলার সুযোগ নেই বলে বাদ পড়েছে। এই লিস্টের বাইরে আপনার নজরে অন্য কোনো এস্থেটিক মিউজিয়াম থাকলে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। ]
১) বাংলাদেশ মিলিটারি মিউজিয়াম
আপনার প্রিয়জন হয়তো আবদার করেছেন তাকে কক্সবাজার নিয়ে যেতে হবে, নীল জলরাশির সামনে দাঁড়িয়ে কিছু এস্থেটিক ছবি তুলে দিতে হবে। কিন্তু আপনার পকেটের দশা আর অফিসের ব্যস্ততা কোনোটাই সায় দিচ্ছে না। যদি বলি, সমুদ্রসৈকত এমনকি মাঝসমুদ্রের নিচে সাবমেরিনেও ঘুরে আসতে পারবেন খুব অল্প খরচে, বিশ্বাস হবে?

ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করলে নিশ্চয়ই দেখেছেন, দেশের কুল কিডসরা এই মিউজিয়াম খোলার পর থেকেই নীল সমুদ্র আর মাছের ব্যাকড্রপে রিলস আর ছবি দিয়ে ফিড ভাসিয়ে দিচ্ছে।
এই জাদুঘরের নেভি সেকশনটি মূলত অডিওভিজ্যুয়ালের এক জাদুকরী মিশ্রণ। এখানে যুদ্ধজাহাজের একটি অংশ দেয়ালের সাথে এমনভাবে সেট করা, যেখানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সমুদ্রের ঢেউ খেলা করে। জাহাজের ডেকে দাঁড়ালে মনে হবে আপনি সত্যিই মাঝসমুদ্রে ভাসছেন। আবার অন্য একটি রুমে রাখা আস্ত এক সাবমেরিন, যার ভেতরে নাবিকদের জীবনযাপনের ডেমো দেওয়া আছে। সেই রুমের মেঝে আর দেয়ালে সমুদ্রের তলদেশ আর মাছের প্রজেকশন এমন এক মায়াবী নীল আবহ তৈরি করে, যা ছবি তোলার জন্য একদম পারফেক্ট। মূলত এই আন্ডার ওয়াটার ভাইবটাই দর্শকদের চুম্বকের মতো টানে।
মিলিটারি মিউজিয়ামের এই সেকশনটির জনপ্রিয়তার রহস্য হলো ইতিহাসের যথাযথ কন্টেক্সটচুয়ালাইজেশন। এই জাহাজ বা সাবমেরিনগুলো যদি ড্রয়িংরুমের শোপিসের মতো সাজিয়ে রাখা হতো, তবে সাধারণ দর্শক হয়তো এর গুরুত্ব বা রোমাঞ্চ বুঝতে পারতেন না। কিন্তু যখন সাবমেরিনের চারপাশে সমুদ্রের এনভায়রনমেন্ট ক্রিয়েট করা হলো, তখন দর্শক সহজেই এর অরিজিনাল কন্টেক্সট রিলেট করতে পারছেন।
এই কন্টেক্সটচুয়ালাইজেশনের কারণেই এই মিউজিয়ামের জিনিসপত্র কাচঘেরা অবজেক্ট না হয়ে, হয়ে উঠেছে এক্সপেরিয়েন্সের বিষয়। এই মিউজিয়ামের টিকেট প্রাইস মাত্র ১৫০ টাকা।
একটু ভাইব্র্যান্ট কালার, একটু পিংক আভিজাত্য এবং নবাবি অ্যাস্থেটিকে ছবি তোলার জন্য যেতে পারেন পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিলে । বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে অবস্থিত এই প্যালেস মিউজিয়ামটি আপাদমস্তক গোলাপি। তাই আমার সাজেশন থাকবে, এখানে যাওয়ার আগে ড্রেসআপের দিকে একটু নজর দিন, যাতে প্যালেসের দেয়ালের সাথে আপনার আউটফিটটা কন্ট্রাস্ট করে।
আহসান মঞ্জিলের স্পেশালিটি হলো এর অথেন্টিসিটি। সাধারণত মিউজিয়ামগুলোতে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রত্নবস্তু সংগ্রহ করে এনে সাজানো হয়, কিন্তু এখানে নবাবদের অরিজিনাল প্যালেসেই তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে আগের মিউজিয়ামটির মতো এখানে কোনো ফেক এনভায়রনমেন্ট বা প্রজেকশনের প্রয়োজন পড়েনি; পুরো জায়গাটাই হান্ড্রেড পার্সেন্ট অরিজিনাল কনটেক্সট।

আপনি যখন প্রাসাদের ডাইনিং টেবিলে উঁকি দেবেন, দেখবেন সেই সময়ের কাঁটাচামচ আর প্লেটগুলো ঠিক সেভাবেই সাজানো। লাইব্রেরির আলমারিতে থরে থরে সাজানো সেই আমলের বই। একই সাথে বেডরুম, বলরুম কিংবা কার্ডরুম সবই তার নিজস্ব ব্যবহারের সরঞ্জাম দিয়ে সাজানো। ফলে এক চক্কর দিলেই দর্শক খুব সহজে নবাবদের দৈনন্দিন লাইফস্টাইল কল্পনা করতে পারেন।
পুরো প্রাসাদ ঘুরে দেখা শেষ হলে এই কালারফুল বিল্ডিংকে ব্যাকড্রপে রেখে সেরে নিতে পারেন আপনার ফটোসেশন। দিনশেষে প্রাসাদের সামনে খোলা জায়গায় বা সিঁড়িতে বসে আড্ডার সুযোগ তো থাকছেই। আর ফুড লাভার ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য এই লোকেশন তো সোনায় সোহাগা! ঘোরাঘুরি শেষে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কাচ্চি, বাকরখানি আর লাচ্ছি দিয়ে একটা জম্পেশ ফুড ভ্লগও হয়ে যেতে পারে। খাওয়া শেষ করে বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে একটা রিভার ক্রুজ ভাইবের ছবিও তুলতে পারবেন। ভাগ্যিস, নদীর দুর্গন্ধ ছবিতে আসে না!
এখানকার টিকেট জনপ্রতি ৪০ টাকা । তবে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকেট লাগে না।
জেনোসাইডের ভয়াবহ রূপ, মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক ঘটনাবলি আর যুদ্ধের বিভিন্ন দিক বুঝতে যেতে পারেন আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে । সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হলো, এখানকার প্রতিটি গ্যালারিতেই ছবি তোলার জন্য কিছু বিশেষ এস্থেটিক স্পট রাখা হয়েছে।
এই জাদুঘরটির মূল আকর্ষণ হলো এর আর্কিটেকচার। ভবনটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে দর্শক প্রবেশ করামাত্রই এক ঐতিহাসিক জার্নির ভেতর দিয়ে যেতে পারেন। মিউজিয়ামে ঢুকেই সরাসরি যুদ্ধের সরঞ্জামের বদলে আপনি দেখতে পাবেন এই জনপদের প্রাচীন ও মধ্যযুগের কিছু নিদর্শন। এরপর একটি গোলাকার রুমে দেয়ালজুড়ে টানা লম্বা পেইন্টিংয়ে নদীর পাড়ে ঢাকা শহরের রূপ দেখতে দেখতে একটা সময়রেখা ধরে এগোতে পারবেন। আর অবজেক্টগুলো ধীরে ধীরে প্রাচীন থেকে আধুনিক সময়ের দিকে মোড় নিতে থাকবে।
ভাষা আন্দোলনের গ্যালারিতে গেলে দেখা মিলবে আন্দোলনকারীদের কার্ডবোর্ড কাট আউট। আবার গ্যালারির একটি অংশকে হুবহু তৎকালীন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো করে বানানো হয়েছে। সেখানকার ইতিহাস কিউরেট করা হয়েছে এমনভাবে, যেন আপনি নিজেই সেই সময়ের বন্দি। কারাগারের এই অংশটি ভালো ছবি তোলার জন্য বেশ জনপ্রিয়।
জাদুঘরটির একটি গ্যালারিতে ২৫শে মার্চের সেই ভয়াবহ রাতকে তুলে ধরা হয়েছে চমৎকার অডিও ভিজ্যুয়াল এবং প্রপসের মাধ্যমে। আবার অন্য অংশে মুক্তিযুদ্ধের সময় উদ্বাস্তুদের শরণার্থী হিসেবে ভারতে যাত্রা এবং মানবেতর জীবনযাপনের দৃশ্য উঠে এসেছে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে। সেখানে শরণার্থীরা যে পাইপের ভেতর আশ্রয় নিতেন, তেমন পাইপ দেয়ালের সাথে লাগানো আছে। দর্শকরা চাইলে এই পাইপের ভেতর বসে ছবি তুলে সেই সময়ের হাহাকার বা সংগ্রামকে ফ্রেমবন্দি করতে পারেন।

যদিও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অডিও ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে ইতিহাসকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, তবুও কিউরেটরিয়াল সীমাবদ্ধতার কারণে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অনেক রাজনৈতিক পক্ষ বা শক্তির ভূমিকা এখানে কিছুটা আড়ালে রয়ে গেছে। ইতিহাসে যারা ব্রাত্য রয়ে গেছেন, তাদের সন্ধান হয়তো আপনাকে অন্য কোথাও করতে হবে। এই জাদুঘরের প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা।
৪. বড় সর্দার বাড়ি
ঢাকার ঠিক পাশেই যদি এমন কোনো স্পট খুঁজেন যেটা দেখতে হুবহু নেটফ্লিক্সের কোনো পিরিয়ড ড্রামা বা সিনেমার সেটের মতো, তবে ঘুরে আসতে পারেন সোনারগাঁওয়ের বড় সরদার বাড়ি থেকে। প্রায় ছয় শ বছরের ধুলোবালি মেখে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপত্যটি প্রাক-মুঘল থেকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সব আভিজাত্যের এক জাদুকরী মিক্স।
এই প্রাসাদের সবচেয়ে ইন্সটাগ্রামওয়ার্দি দিক হলো এর প্রবেশদ্বারের চিনি টিকরি কাজ। ভাঙা চিনা বাসন আর রঙিন কাচের মোজাইকগুলো এমন এক ঝিলমিলে ব্যাকড্রপ তৈরি করে যে, কোনো ফিল্টার ছাড়াই আপনার ছবিগুলো জাদুকরী হয়ে উঠবে। ভেতরকার ২৭ হাজার বর্গফুটের বিশালত্ব আর চুরাশিটি কক্ষের হাতছানি আপনাকে দেবে এক নিখুঁত মেইন ক্যারেক্টার এনার্জির আবেশ।
মাঝখানের লাল রঙের বর্গাকার উঠানটি মুঘল আভিজাত্যের স্মারক, যা বর্তমানে ছবি তোলার জন্য গোল্ডমাইন। একসময় এখানে মসলিন আর জামদানির স্বপ্নবুনন হতো, আর এখন সেখানে আপনার রিলসের ফ্রেমবুনন হতে পারে। ২০১২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংওয়ান কোম্পানির হাত ধরে যখন এই জরাজীর্ণ রূপবতী ভবনটি নতুন জীবন ফিরে পায়, তখন থেকেই এটি হয়ে উঠেছে জীবন্ত এক অ্যাস্থেটিক গ্যালারি।

নিচতলার শোকেজে সাজানো কাঠখোদাই আর মৃৎশিল্পের দুর্লভ নিদর্শনগুলো আপনাকে আমাদের শেকড়ের গল্প শোনাবে। আর প্রাসাদের দুই পাশের দিঘির ঘাটলায় দাঁড়িয়ে যখন নীল আকাশের প্রতিফলন দেখবেন, মনে হবে আপনি কোনো এক পিরিয়ড ফিল্মের মায়াবী অলিন্দে হাঁটছেন। যারা একটু হলেও হেরিটেজ অ্যাস্থেটিক পছন্দ করেন, তাদের জন্য বড় সরদার বাড়ি এক কথায় মাস্ট ভিজিট। এখানকার প্রবেশমুল্য ১০০ টাকা।
আপনার যদি লম্বা জার্নির ক্লান্তি সয়ে প্রান্তিক বাংলার কোনো স্টানিং আর্কিটেকচারের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার শখ থাকে, তবে আপনার ডেস্টিনেশন হওয়া উচিত দিনাজপুরের কান্তনগর। এখানে মূলত সবাই যান কান্তজিউ মন্দিরের সেই নিখুঁত আর ডিটেইলড টেরাকোটা ডিজাইন দেখতে।
এই মন্দিরটি এখনো একটি অ্যাক্টিভ উপাসনালয়। পূজার মৌসুমে এখানে যখন ভক্তদের সমাগম ঘটে, তখন মন্দিরের আসল পারপাস আর রিচুয়ালগুলোর সাথে আপনি সহজেই কানেক্ট করতে পারবেন। তবে আমাদের লিস্টের আসল আকর্ষণ হলো মন্দিরের ঠিক পাশেই অবস্থিত কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর।
সত্যি বলতে, মন্দিরের জাঁকজমকের তুলনায় মিউজিয়ামের ভেতরের কিউরেশন আপনাকে কিছুটা নিরাশ করতে পারে। দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা প্রাচীন প্রত্নবস্তুগুলো এখানে বেশ সাদামাটা শোকেসে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, মিউজিয়ামের বাইরের অংশটি দারুণ অ্যাস্থেটিক ! এর চারপাশের সাজানো বাগান আর মিউজিয়ামের দেয়ালে মন্দিরের আদলে তৈরি করা কারুকার্যগুলো ছবি তোলার জন্য দুর্দান্ত। এখানে পোজ দিলে আপনার ছবিতে উপনিবেশ আমলের বাংলার এক পৌরাণিক ও ভিন্টেজ ভাইব ফুটে উঠবে। যারা একটু নিরিবিলি আর অফবিট লোকেশন পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি মাস্ট ভিজিট।

এখানকার টিকেট জনপ্রতি ২০ টাকা । মনে রাখবেন, মিউজিয়ামটি রবিবারে পূর্ণদিবস এবং সোমবারে অর্ধদিবস বন্ধ থাকে, তাই ট্রিপ প্ল্যান করার আগে ক্যালেন্ডার দেখে নিন!
এখন সিদ্ধান্ত আপনার! খরচ করে রেস্টুরেন্টে গিয়ে পোজ দেবেন, নাকি নামমাত্র টিকেটে এই রাজকীয় এস্থেটিক আর মেইন ক্যারেক্টার ভাইব নিয়ে আসবেন। স্রেফ ধুলোপড়া ইতিহাস নয়, একটু ক্রিয়েটিভিটি থাকলে আমাদের এই জাদুঘরগুলোই হতে পারে আপনার পরবর্তী ভাইরাল রিলসের সেরা ব্যাকড্রপ।
তাই দেরি না করে আপনার ফটোগ্রাফার বন্ধুটিকে মেনশন দিয়ে প্ল্যানটা জলদি সেরে ফেলুন। যাওয়ার আগে ইতিহাসটা একটু দেখে নিয়েন প্লিজ, যাতে অন্তত ছবির ক্যাপশনটা ভুল না হয়!

ফেসবুক বা ইনস্টা স্ক্রল করলেই ইদানীং কিছু উইয়ার্ড রিল সামনে আসতেছে। যে সবজি বা ফলের পাতে থাকার কথা, তারা এখন স্ক্রিনে আইসা রীতিমতো তুইতোকারি করতেছে! করলা, শসা, আদা বা লেবু আপনার দিকে আঙুল তুইলা বলতেছে সে আপনার শরীরের কী কী উপকার করে, আর আপনি তারে অবহেলা কইরা কী কী ভুল করতেছেন।
২ দিন আগে
ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ কিংবা ডিনার—ইকোনমিক ক্লাস বা জেন্ডার নিউট্রাল হিসাবে বাংলাদেশিদের বিগেস্ট কমফোর্ট ফুড কোনটা? যে কয়টা খাবারের নাম এই তালিকায় আসবে, তার মধ্যে যে আলুভর্তা থাকবে, তা প্রায় চোখ বন্ধ কইরাই বইলা দেয়া যায়।
৫ দিন আগেমিউজিয়াম নিয়ে বেশ কুখ্যাত একটা জোক আছে। অনেকেই বলেন, 'আ মিউজিয়াম ইজ আ প্লেস হোয়ার উই পে টু লুক এট আওয়ার অ্যানসেস্টরস ট্র্যাশ।' তবে আপনি যদি আমার মতো মিউজিওফাইল হন, তবে এই জোকে আপনার একটু বাট হার্টেড হবার চান্স আছে।
৯ দিন আগে
শিল্প-সাহিত্যের অলিগলি চিনেন অথচ সালভাদর দালির নাম শোনেন নাই, এমন পাবলিক হয়তো আছেন। তবে দালির তাতে কিচ্ছু যাইত-আসত না। লোকটা এতটাই আত্মপ্রেমে ডুইবা ছিলেন যে তার নাকি ঘুম থিকা উঠলেই আনন্দ লাগতো। কিসের আনন্দ জানেন? দালি হওয়ার আনন্দ!
২৪ জানুয়ারি ২০২৬