স্ট্রিম ডেস্ক

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার ধানমন্ডি লেক এলাকায় পুলিশ আকস্মিক অভিযান চালায়। পরদিন একই ধরনের ঘটনা দেখা যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ঢাকার বাইরে চাঁদপুরেও। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ শিক্ষার্থী, পথচারী এবং বিনোদনপ্রেমীদের যেভাবে জেরা, তল্লাশি এবং ক্ষেত্রবিশেষে লাঠিপেটা করা হয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যদের কেউ কেউ নাগরিকদের মানিব্যাগ, পকেট এবং মোবাইল ফোন চেক করছেন কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই।
এমনকি এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ভদ্রলোক ইফতারের পর এখানে আসে না’ বলে মন্তব্য করে মারধর করার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে। ‘অযাচিত ঘোরাঘুরি’ করলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলনের এমন ঘোষণার পরপরই এই অভিযানগুলো শুরু হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুলিশ আসলে কতদূর যেতে পারে? একজন নাগরিক হিসেবে রাস্তায় চলাফেরা করার সময় আপনার গোপনীয়তা ও সম্মানের অধিকার কতটুকু সুরক্ষিত? তল্লাশি, জেরা এবং মোবাইল ফোন চেক করার আইনি ভিত্তিই বা কি?
রাস্তায় পুলিশ কাউকে থামালে বা প্রশ্ন করলে অনেকেই ঘাবড়ে যান। তবে পুলিশ আইন ১৮৬১-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, অপরাধ প্রতিরোধ এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ১৬১ ধারা পুলিশকে যেকোনো ব্যক্তিকে তদন্তের স্বার্থে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতা দিয়েছে।
তবে এই ক্ষমতার একটি সীমারেখা আছে। পুলিশ আপনাকে থামিয়ে আপনার পরিচয় বা গন্তব্য জানতে চাইতে পারে, কিন্তু আপনাকে উত্তর দিতে বাধ্য করতে পারে না যদি সেই উত্তর আপনাকে কোনো অপরাধে ফাঁসিয়ে দেয়। অর্থাৎ ‘সেলফ-ইনক্রিমিনেশন’ বা নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো কোনো কথা বলার বিরুদ্ধে আপনার আইনি সুরক্ষা রয়েছে।
সন্দেহভাজন না হলে বা কোনো অপরাধ সংঘটনের বিশ্বাসযোগ্য কারণ না থাকলে পুলিশ অকারণে কাউকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা করতে পারে না। ধানমন্ডি বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেভাবে ঢালাওভাবে সাধারণ মানুষকে জেরা করা হয়েছে, তা নিয়ে আইনজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারান মো. আরাফ স্ট্রিমকে বলেন, পুলিশের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ নয়; প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে অবশ্যই আইনি যুক্তি থাকতে হবে।
কাউকে তল্লাশি করার প্রক্রিয়া ফৌজদারি কার্যবিধি এবং পুলিশ রেগুলেশনস বেঙ্গল (পিআরবি) দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। চাইলেই একজন কনস্টেবল বা কর্মকর্তা কারও পকেটে হাত ঢোকাতে পারেন না।
সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো বদ্ধ স্থান বা ব্যক্তির দেহ তল্লাশির জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের সার্চ ওয়ারেন্ট লাগে (ধারা ৯৪ ও ৯৬)। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি মনে করেন ওয়ারেন্ট আনতে গেলে আলামত নষ্ট হবে, তবে তিনি কারণ লিপিবদ্ধ করে (ধারা ১৬৫) তাৎক্ষণিক তল্লাশি চালাতে পারেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা অনুযায়ী, তল্লাশি হতে হবে স্বচ্ছ। পুলিশ যখন কাউকে তল্লাশি করবে, তখন স্থানীয় দুই বা ততোধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে রাখতে হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযানে দেখা গেছে, পুলিশ একাই তল্লাশি চালাচ্ছে, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারা অনুযায়ী, কোনো নারীকে তল্লাশি করতে হলে অবশ্যই একজন নারী পুলিশ সদস্যের সাহায্য নিতে হবে। পুরুষ পুলিশ সদস্যের কোনো নারীর দেহ স্পর্শ করার বা তল্লাশি করার এখতিয়ার নেই।
বর্তমান সময়ে পুলিশের হাতে হেনস্তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন চেক করা। রাস্তায় থামিয়ে গ্যালারি বা মেসেজ চেক করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে, তা সংবিধান ও মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩(খ) অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিককে তার চিঠিপত্র ও যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষার গ্যারান্টি দিয়েছে। মোবাইল ফোন এখন ব্যক্তিগত জীবনের ডিজিটাল ডায়েরি। কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা বা আদালতের নির্দেশ ছাড়া পুলিশ কারও ফোন চেক করতে পারে না। সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ বা অন্য কোনো আইনেও পুলিশকে এমন ‘র্যান্ডম চেক’ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সোলায়মান তুষার স্ট্রিমকে বলেন, ‘মোবাইল ফোন চেক করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মারাত্মক লঙ্ঘন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে বিনা কারণে কারও ব্যক্তিগত ডিভাইসে প্রবেশ করা বেআইনি।’
উচ্চ আদালতও বিভিন্ন রায়ে বলেছে, তদন্তের স্বার্থে ডিভাইস জব্দ করতে হলে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে পাসওয়ার্ড চাওয়া বা জোর করে ফোন খুলে দেখা পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ এক শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে। এটি কি আইনসম্মত? উত্তর হলো—না। বাংলাদেশের কোনো আইনেই পুলিশকে সন্দেহভাজন বা আটক ব্যক্তিকে মারধর করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, পুলিশি হেফাজতে কাউকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। যদি কোনো কর্মকর্তার নির্যাতনে কারও মৃত্যু হয়, তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। এমনকি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ থেকে ৫৩ ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় যতটুকু বলপ্রয়োগ প্রয়োজন (পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে), তার বেশি শক্তি প্রয়োগ করা যাবে না। অর্থাৎ, কেউ যদি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তবে তাকে চড়-থাপ্পড় বা লাঠিপেটা করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া বা নিষ্ঠুর অমানবিক দণ্ড দেওয়া যাবে না। অথচ সাম্প্রতিক অভিযানে দেখা গেছে, পুলিশ বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নিজেই ‘শাস্তি’ দিচ্ছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।
পুলিশের সামনে দাঁড়ালে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু আইন জানা থাকলে আপনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। যদি পুলিশ আপনাকে রাস্তায় আটকায় বা তল্লাশি করতে চায়: পুলিশের কাছে তার নাম, পদবি এবং কোন থানার অধীনে তিনি কর্মরত তা জানতে চান। সাদা পোশাকে থাকলে আইডি কার্ড দেখতে চাওয়া আপনার অধিকার। কেন আপনাকে জেরা বা তল্লাশি করা হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চান। তল্লাশির সময় আশেপাশে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে সাক্ষী হিসেবে থাকার অনুরোধ করুন।
পুলিশ ফোন চেক করতে চাইলে ভদ্রভাবে বলুন যে এটি আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং কোনো মামলা ছাড়া এটি চেক করা সংবিধানবিরোধী। পুলিশ যদি আপনার কোনো মালামাল (যেমন ফোন বা মানিব্যাগ) নিয়ে যায়, তবে অবশ্যই একটি জব্দ তালিকা বা সিজার লিস্ট (Seizure List) বুঝে নিন।
মাদক নির্মূল বা কিশোর অপরাধ দমন—রাষ্ট্রের এই উদ্দেশ্যগুলো মহৎ। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথে যদি সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য শুভলক্ষণ নয়। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা বা অভিভাবকদের উদ্বেগের দোহাই দিয়ে পুলিশ যদি আইনি প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে ‘হিল টার্ন’ নেয় বা খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হবে।
অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর হওয়া প্রয়োজন, কিন্তু সেই কঠোরতা হতে হবে আইনের চৌহদ্দির ভেতরে। বিনা ওয়ারেন্টে তল্লাশি, মোবাইল চেক করা বা গায়ে হাত তোলা—এগুলো পেশাদার বাহিনীর কাজ নয়। আইনের রক্ষক হয়ে আইন ভঙ্গ করা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তাই এখনই সময়, পুলিশ বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার ধানমন্ডি লেক এলাকায় পুলিশ আকস্মিক অভিযান চালায়। পরদিন একই ধরনের ঘটনা দেখা যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ঢাকার বাইরে চাঁদপুরেও। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ শিক্ষার্থী, পথচারী এবং বিনোদনপ্রেমীদের যেভাবে জেরা, তল্লাশি এবং ক্ষেত্রবিশেষে লাঠিপেটা করা হয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যদের কেউ কেউ নাগরিকদের মানিব্যাগ, পকেট এবং মোবাইল ফোন চেক করছেন কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই।
এমনকি এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ভদ্রলোক ইফতারের পর এখানে আসে না’ বলে মন্তব্য করে মারধর করার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে। ‘অযাচিত ঘোরাঘুরি’ করলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলনের এমন ঘোষণার পরপরই এই অভিযানগুলো শুরু হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুলিশ আসলে কতদূর যেতে পারে? একজন নাগরিক হিসেবে রাস্তায় চলাফেরা করার সময় আপনার গোপনীয়তা ও সম্মানের অধিকার কতটুকু সুরক্ষিত? তল্লাশি, জেরা এবং মোবাইল ফোন চেক করার আইনি ভিত্তিই বা কি?
রাস্তায় পুলিশ কাউকে থামালে বা প্রশ্ন করলে অনেকেই ঘাবড়ে যান। তবে পুলিশ আইন ১৮৬১-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, অপরাধ প্রতিরোধ এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ১৬১ ধারা পুলিশকে যেকোনো ব্যক্তিকে তদন্তের স্বার্থে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতা দিয়েছে।
তবে এই ক্ষমতার একটি সীমারেখা আছে। পুলিশ আপনাকে থামিয়ে আপনার পরিচয় বা গন্তব্য জানতে চাইতে পারে, কিন্তু আপনাকে উত্তর দিতে বাধ্য করতে পারে না যদি সেই উত্তর আপনাকে কোনো অপরাধে ফাঁসিয়ে দেয়। অর্থাৎ ‘সেলফ-ইনক্রিমিনেশন’ বা নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো কোনো কথা বলার বিরুদ্ধে আপনার আইনি সুরক্ষা রয়েছে।
সন্দেহভাজন না হলে বা কোনো অপরাধ সংঘটনের বিশ্বাসযোগ্য কারণ না থাকলে পুলিশ অকারণে কাউকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা করতে পারে না। ধানমন্ডি বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেভাবে ঢালাওভাবে সাধারণ মানুষকে জেরা করা হয়েছে, তা নিয়ে আইনজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারান মো. আরাফ স্ট্রিমকে বলেন, পুলিশের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ নয়; প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে অবশ্যই আইনি যুক্তি থাকতে হবে।
কাউকে তল্লাশি করার প্রক্রিয়া ফৌজদারি কার্যবিধি এবং পুলিশ রেগুলেশনস বেঙ্গল (পিআরবি) দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। চাইলেই একজন কনস্টেবল বা কর্মকর্তা কারও পকেটে হাত ঢোকাতে পারেন না।
সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো বদ্ধ স্থান বা ব্যক্তির দেহ তল্লাশির জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের সার্চ ওয়ারেন্ট লাগে (ধারা ৯৪ ও ৯৬)। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি মনে করেন ওয়ারেন্ট আনতে গেলে আলামত নষ্ট হবে, তবে তিনি কারণ লিপিবদ্ধ করে (ধারা ১৬৫) তাৎক্ষণিক তল্লাশি চালাতে পারেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা অনুযায়ী, তল্লাশি হতে হবে স্বচ্ছ। পুলিশ যখন কাউকে তল্লাশি করবে, তখন স্থানীয় দুই বা ততোধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে রাখতে হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযানে দেখা গেছে, পুলিশ একাই তল্লাশি চালাচ্ছে, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারা অনুযায়ী, কোনো নারীকে তল্লাশি করতে হলে অবশ্যই একজন নারী পুলিশ সদস্যের সাহায্য নিতে হবে। পুরুষ পুলিশ সদস্যের কোনো নারীর দেহ স্পর্শ করার বা তল্লাশি করার এখতিয়ার নেই।
বর্তমান সময়ে পুলিশের হাতে হেনস্তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন চেক করা। রাস্তায় থামিয়ে গ্যালারি বা মেসেজ চেক করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে, তা সংবিধান ও মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩(খ) অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিককে তার চিঠিপত্র ও যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষার গ্যারান্টি দিয়েছে। মোবাইল ফোন এখন ব্যক্তিগত জীবনের ডিজিটাল ডায়েরি। কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা বা আদালতের নির্দেশ ছাড়া পুলিশ কারও ফোন চেক করতে পারে না। সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ বা অন্য কোনো আইনেও পুলিশকে এমন ‘র্যান্ডম চেক’ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সোলায়মান তুষার স্ট্রিমকে বলেন, ‘মোবাইল ফোন চেক করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মারাত্মক লঙ্ঘন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে বিনা কারণে কারও ব্যক্তিগত ডিভাইসে প্রবেশ করা বেআইনি।’
উচ্চ আদালতও বিভিন্ন রায়ে বলেছে, তদন্তের স্বার্থে ডিভাইস জব্দ করতে হলে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে পাসওয়ার্ড চাওয়া বা জোর করে ফোন খুলে দেখা পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ এক শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে। এটি কি আইনসম্মত? উত্তর হলো—না। বাংলাদেশের কোনো আইনেই পুলিশকে সন্দেহভাজন বা আটক ব্যক্তিকে মারধর করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, পুলিশি হেফাজতে কাউকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। যদি কোনো কর্মকর্তার নির্যাতনে কারও মৃত্যু হয়, তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। এমনকি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ থেকে ৫৩ ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় যতটুকু বলপ্রয়োগ প্রয়োজন (পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে), তার বেশি শক্তি প্রয়োগ করা যাবে না। অর্থাৎ, কেউ যদি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তবে তাকে চড়-থাপ্পড় বা লাঠিপেটা করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া বা নিষ্ঠুর অমানবিক দণ্ড দেওয়া যাবে না। অথচ সাম্প্রতিক অভিযানে দেখা গেছে, পুলিশ বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নিজেই ‘শাস্তি’ দিচ্ছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।
পুলিশের সামনে দাঁড়ালে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু আইন জানা থাকলে আপনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। যদি পুলিশ আপনাকে রাস্তায় আটকায় বা তল্লাশি করতে চায়: পুলিশের কাছে তার নাম, পদবি এবং কোন থানার অধীনে তিনি কর্মরত তা জানতে চান। সাদা পোশাকে থাকলে আইডি কার্ড দেখতে চাওয়া আপনার অধিকার। কেন আপনাকে জেরা বা তল্লাশি করা হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চান। তল্লাশির সময় আশেপাশে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে সাক্ষী হিসেবে থাকার অনুরোধ করুন।
পুলিশ ফোন চেক করতে চাইলে ভদ্রভাবে বলুন যে এটি আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং কোনো মামলা ছাড়া এটি চেক করা সংবিধানবিরোধী। পুলিশ যদি আপনার কোনো মালামাল (যেমন ফোন বা মানিব্যাগ) নিয়ে যায়, তবে অবশ্যই একটি জব্দ তালিকা বা সিজার লিস্ট (Seizure List) বুঝে নিন।
মাদক নির্মূল বা কিশোর অপরাধ দমন—রাষ্ট্রের এই উদ্দেশ্যগুলো মহৎ। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথে যদি সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য শুভলক্ষণ নয়। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা বা অভিভাবকদের উদ্বেগের দোহাই দিয়ে পুলিশ যদি আইনি প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে ‘হিল টার্ন’ নেয় বা খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হবে।
অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর হওয়া প্রয়োজন, কিন্তু সেই কঠোরতা হতে হবে আইনের চৌহদ্দির ভেতরে। বিনা ওয়ারেন্টে তল্লাশি, মোবাইল চেক করা বা গায়ে হাত তোলা—এগুলো পেশাদার বাহিনীর কাজ নয়। আইনের রক্ষক হয়ে আইন ভঙ্গ করা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তাই এখনই সময়, পুলিশ বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
.png)

এক সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জ্বালানি শক্তি ছিল প্রাকৃতিক গ্যাস। বিদ্যুৎকেন্দ্র, কলকারখানা, সিএনজি, এমনকি রান্নার চুলাও অনেকটাই চলত দেশে উৎপাদিত গ্যাসে। কিন্তু এখন চিত্রটা উল্টো। রাজধানী থেকে শিল্পাঞ্চল—সবখানেই কমবেশি গ্যাসের চাপ কম, কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সরবরাহ থাকে না, আবার কোথাও উৎপাদন কমিয়ে দ
৪২ মিনিট আগে
হরমুজ প্রণালিতে সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা থেকে একে অন্যকে ঠেকানোর লক্ষ্যেই হামলা চালানো হচ্ছে—এমন দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এভাবেই দুই দেশ ক্রমেই আরও তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলার চক্রে জড়িয়ে পড়েছে
৫ ঘণ্টা আগে
২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মানসিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরকে ‘ঔপনিবেশিক প্রভাবমুক্ত’ করার উদ্যোগ নেওয়া। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দীর্ঘদিন ধরেই মনে করে, ব্রিটিশ শাসন ও পশ্চিমা প্রভাবের ফলে ভাষা, সংস্কৃতি ও চিন্তায় যে উত্তরাধিক
৬ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসানীতির ওপর নজর রেখে প্রতিবছর বিশ্ব পাসপোর্ট সূচক প্রকাশ করে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস। এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংস্থাটি শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশ করেছে।
৭ ঘণ্টা আগে