আল জাজিরার এক্সপ্লেইনার

আন্তর্জাতিক আইনে ‘বেসামরিক’ স্থাপনা কোনগুলো, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কোথায় হামলা চালাচ্ছে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ ইরানের রওদান এবং বন্দর আব্বাসকে সংযোগকারী সেতু। ছবি: এএফপি

ইরানের সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও।

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা থেকে একে অন্যকে ঠেকানোর লক্ষ্যেই হামলা চালানো হচ্ছে—এমন দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এভাবেই দুই দেশ ক্রমেই আরও তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলার চক্রে জড়িয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র যখন দক্ষিণ ইরান এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশের অন্যান্য অংশে হামলা চালাচ্ছে, তখন তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলো এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।

তবে শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র বেসামরিক অবকাঠামোতেও আঘাত হেনেছে। এতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তিবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ভেঙে পড়েছে।

গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেব। তারা আলোচনার টেবিলে না এলে তাদের সব সেতুও ধ্বংস করে দেব।’ এর আগে এপ্রিল মাসেও তিনি বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে একই ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন।

ইরানের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জুলাই থেকে আবার সংঘাত শুরু হওয়ার পর অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জন আহত হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিম ইরানের বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল সামরিক কমান্ড সেন্টার, রেলপথ এবং বিমানবন্দর।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক সম্পদ রয়েছে, সেসব জায়গাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, সশস্ত্র সংঘাতে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালায়। এর মধ্যে মিনাবের একটি মেয়েদের বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৭০ জন নিহত হন।

ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: এএফপি
ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: এএফপি

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র শুক্রবার (১৭ জুলাই) বলেন, ‘ইরান এবং পুরো অঞ্চলে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা নিয়ে আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। এ ধরনের হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।’

তাহলে আন্তর্জাতিক আইনে কোন কোন স্থাপনাকে বেসামরিক অবকাঠামো বলা হয়? আর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দ্বিতীয় দফার যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন কোন স্থাপনায় হামলা হয়েছে?

আইন কী বলে

১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং ১৯৭৭ সালের অতিরিক্ত প্রোটোকল অনুযায়ী, সংঘাত চলাকালে বেসামরিক অবকাঠামো বা ‘বস্তু’র ওপর সশস্ত্র হামলা কিংবা প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো নিষিদ্ধ।

আন্তর্জাতিক আইনে বলা হয়েছে, যেসব স্থাপনা সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয় এবং সাধারণত বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়—যেমন উপাসনালয়, বাড়িঘর, বসতবাড়ি কিংবা স্কুল—সেগুলো বেসামরিক অবকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত।

এ ছাড়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং সমাজের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অপরিহার্য যেসব স্থাপনা রয়েছে, সেগুলোও বেসামরিক অবকাঠামোর মধ্যে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক, সেতু, রেলপথ, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, হাসপাতাল, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, পানীয় জলের স্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থা, সেচব্যবস্থা, খাদ্যসামগ্রী, ফসল, গবাদিপশু, বাঁধ, প্রতিরক্ষাবাঁধ এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না।

কোনো স্থাপনা সামরিক না বেসামরিক—এ নিয়ে সন্দেহ থাকলে সেটিকে বেসামরিক হিসেবেই ধরে নিতে হবে এবং সেখানে হামলা করা যাবে না।

বেসামরিক অবকাঠামো কি কখনো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে

হ্যাঁ, তবে কেবল নির্দিষ্ট এবং সতর্কতার সঙ্গে নির্ধারিত কিছু পরিস্থিতিতে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো বেসামরিক অবকাঠামো তখনই বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, যখন প্রমাণ করা যায় যে হামলার সময় সেটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং সেটি ধ্বংস করলে নিশ্চিত সামরিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

তবুও আইন বলছে, এমন হামলা অবশ্যই সম্ভাব্য সামরিক সুবিধার তুলনায় সমানুপাতিক হতে হবে। অর্থাৎ কোনো সন্দেহভাজন বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ফলে যদি বেসামরিক মানুষের মৃত্যু, আহত হওয়া বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ক্ষতি সম্ভাব্য সামরিক লাভের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেই হামলা নিষিদ্ধ।

বেলফাস্টের কুইন্স ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ লুক মফেট আল জাজিরাকে বলেন, ‘মূল নীতি হলো, কোনো অবকাঠামোকে বেসামরিক এবং সুরক্ষিত হিসেবেই ধরে নেওয়া হবে, যতক্ষণ না শত্রুপক্ষ সেটিকে ব্যবহার করে বা ভবিষ্যতে ব্যবহার করতে পারে বলে সেটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।’

লুক মফেট বলেন, অতীতে ইরাক ও লিবিয়ায় বিদ্যুৎ বা পানি সরবরাহ স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো একই যুক্তি ব্যবহার করেছিল, যদিও এতে বেসামরিক মানুষের ক্ষতি হয়েছিল।

মফেট বলেন, ‘শত্রুপক্ষকে অবকাঠামো ব্যবহার করতে না দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের ক্ষতি এড়িয়ে চলার মধ্যে ব্যবধান খুবই সূক্ষ্ম। তাই সামরিক বাহিনীকে বারবার নিশ্চিত করতে হয় যে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করলে বাস্তব সামরিক সুবিধা পাওয়া যাবে এবং বেসামরিক ক্ষতি অতিরিক্ত হবে না। অন্যথায় সেটি নির্বিচার হামলা হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক আইনে এ ধরনের নির্বিচার হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিচার করা যেতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোথায় কোথায় হামলা চালিয়েছে

ইরানের গণমাধ্যম ও কর্মকর্তাদের দাবি, জেনেভা কনভেনশনে বর্ণিত বেসামরিক অবকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে এসব হামলা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, তারা কেবল ‘সামরিক রসদ সরবরাহ-সংক্রান্ত অবকাঠামো’তে হামলা চালিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর আইনজীবীরা কিছু লক্ষ্যবস্তুকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ (ডুয়াল-ইউজ) হিসেবে অনুমোদন দিয়ে থাকতে পারেন। অর্থাৎ সেগুলো সম্ভাব্যভাবে সামরিক কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

সড়ক, সেতু ও হাসপাতাল

বন্দর আব্বাস শহরে, যেখানে ইরানের প্রধান নৌঘাঁটি এবং সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বন্দর অবস্থিত, সেখানে একটি রেলওয়ে স্থাপনা এবং কাহুরেস্তান সেতুতে হামলা চালানো হয়। এই সেতু বন্দর আব্বাসকে অন্যান্য শহরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। হামলায় কয়েকজন নিহত হন এবং একটি যানবাহন সেতু থেকে নিচে পড়ে যায়।

হরমোজগান প্রদেশের বন্দর খামির কাউন্টিতে ছয়টি সেতু ধ্বংস করা হয়। ফলে বন্দর আব্বাসে যাতায়াত ব্যাহত হয়। ধ্বংস হওয়া সেতুগুলোর মধ্যে রয়েছে গারিয়েহ সেতু, লাতিদান গ্রামের কাছে একটি সেতু, কাহুরেস্তান-লার সড়কের দুটি ছোট সেতু, মারৌ গ্রামের সেতু, যা বন্দর খামিরকে বন্দর আব্বাসের সঙ্গে যুক্ত করেছে, এবং বন্দর খামির-কেশার-বন্দর আব্বাস সড়কের একটি নির্মাণাধীন সেতু।

গোলেস্তান প্রদেশের আক তাকেহ খান রেলসেতুতেও হামলা চালানো হয়। এই সেতুর মাধ্যমে ইরান চীন এবং তুর্কমেনিস্তান ও কাজাখস্তান হয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত।

রাজাভি খোরাসান প্রদেশের মাশহাদগামী তেহরান-মাশহাদ রেলপথেও হামলা হয়। ওই সময় প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন অনুষ্ঠান চলছিল।

এ ছাড়া আহভাজের শহীদ বাঘাই হাসপাতাল মার্কিন হামলায় অচল হয়ে যায়। এতে ২০০ জনের বেশি রোগীকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়।

পানি ও খাদ্যসংক্রান্ত স্থাপনা

দেহলোরান কাউন্টির মুসিয়ান এলাকায় একটি বোতলজাত পানি কারখানায় হামলা চালানো হয়। যুদ্ধের প্রথম ধাপেও এই এলাকা লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

দক্ষিণের জাস্ক এলাকার বোনজি গ্রামের লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রেও হামলা হয়। এতে ১০ হাজার মানুষের পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতু পরিদর্শন করছেন ইরানি কর্মকর্তারা। ছবি: এএফপি
মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতু পরিদর্শন করছেন ইরানি কর্মকর্তারা। ছবি: এএফপি

খুজেস্তান প্রদেশের হোভেইজেহ কাউন্টির একটি এবং দাশতে আজাদেগান কাউন্টির আরেকটি গম সংরক্ষণাগারে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর সীমিত সংঘর্ষের সময় এবং এমওইউ স্বাক্ষরের ঠিক আগে সিরিক কাউন্টির বোমানি এলাকার একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছিল।

বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর

ইরানের কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণের ইরানশাহর শহরের বিমানবন্দরে হামলায় একজন আহত হন। এতে বৈদ্যুতিক স্থাপনা, একটি জ্বালানি ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সেমনানে বিমানবন্দরের কিছু অংশে হামলা হয় এবং সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইরানি গণমাধ্যম জামের তৌহিদ-জাম বিমানবন্দরেও হামলার খবর দিয়েছে। সিরিক কাউন্টির মাছ ধরার ঘাট ও বাণিজ্যিক জেটিতে হামলা চালানো হয়। এতে একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। বন্দর আব্বাসের মাছ ধরার ঘাট ও বাণিজ্যিক জেটিতেও হামলা চালানো হয়। হরমোজগান প্রদেশের কিশ বাণিজ্যিক বন্দরেও হামলা হয়।

বুশেহর প্রদেশের আসালুইয়েহ কাউন্টির একটি মাছ ধরার জেটিতেও হামলা চালানো হয়। এতে স্থানীয় জেলেদের নৌকায় আগুন ধরে যায়।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, আবাসিক এলাকা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক ভবন

যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ভবন লক্ষ্য করে হামলার সময় বন্দর আব্বাসের একটি যোগাযোগ টাওয়ারেও আঘাত লাগে। এ ছাড়াও, কেশম দ্বীপের একটি যোগাযোগ টাওয়ারেও হামলা চালানো হয় এবং সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বন্দর আব্বাসের আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের হাজিআবাদে একটি পরিবেশ সংরক্ষণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে। হরমোজগান প্রদেশের কিশ এলাকায় একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার কেন্দ্রেও হামলা হয়। বন্দর আব্বাসের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বার্ড গার্ডেনে অবস্থিত একটি পয়োবর্জ্য শোধনাগারেও হামলা চালানো হয়।

আল জাজিরার অনুসন্ধান অনুযায়ী, ইরানের একমাত্র সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি এখনো সচল রয়েছে।

দক্ষিণ খুজেস্তান প্রদেশের আংশিক নির্মাণাধীন দারখোভিন পারমাণবিক স্থাপনাতেও সপ্তাহান্তে হামলা চালানো হয়েছে।

ইরান কোথায় কোথায় হামলা চালিয়েছে

ইরান বারবার কুয়েত, ওমান, জর্ডান ও কাতারে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ক্রমেই বেসামরিক অবকাঠামোও এসব হামলার আওতায় এসেছে। তবে আইআরজিসির দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র একাধিকবার আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং প্রধান বিদ্যুৎ গ্রিড অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। একটি তেল স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়।

এদিকে কাতারের কর্মকর্তারা জানান, দোহায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশু আহত হয়েছে। তবে বেসামরিক অবকাঠামো বা আবাসিক এলাকা সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এ ছাড়া ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত রুট ব্যবহার করায় একাধিক বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

(আল জাজিরা থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত