জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

অমর একুশে/ডিজিটাল দুনিয়ায় বাংলা ভাষার চ্যালেঞ্জ

সকালে ঘুম ভাঙার পর স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ‘শুভ সকাল’ বার্তা থেকে শুরু করে রাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় ই-মেইল লেখা—আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখন প্রযুক্তির ছোঁয়া। এই পরিবর্তনের জোয়ার থেকে বাদ যায়নি আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলাও। এক সময় যে ভাষা কেবল খাতা-কলম আর মুদ্রণযন্ত্রে সীমাবদ্ধ ছিল, আজ তা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গ্লোবাল ভিলেজের অলিগলি। কিন্তু এই প্রযুক্তিনির্ভরতা বাংলার জন্য কতটা আশীর্বাদ আর কতটাই বা আশঙ্কার?

স্ট্রিম গ্রাফিক

চর্যাপদের সেই প্রাচীন পঙ্‌ক্তি থেকে শুরু করে আজকের স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবক্স—বাংলা ভাষার এই দীর্ঘ পরিক্রমা শুধু সময়ের বিবর্তন নয়, এক মহাকাব্যিক রূপান্তর। এক সময় যা ছিল তালপাতার পুঁথিতে বন্দি, আজ তা কোটি কোটি টেরাবাইট ডেটার অংশ। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বাংলা ভাষা ভাবপ্রকাশের মাধ্যম থেকে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল সম্পদে পরিণত হয়েছে।

হাজার বছরের ইতিহাস আর আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে বাংলা ভাষা আজ যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখানে সম্ভাবনা যেমন অবারিত, চ্যালেঞ্জও ঠিক ততটাই জোরালো।

ইতিহাসের বাঁক: আদি থেকে আধুনিক

বাংলা ভাষার আদি উৎস ইন্দো-আর্য ভাষা। মাগধী প্রাকৃত থেকে অপভ্রংশের পথ ধরে সপ্তম শতাব্দীতে পাল আমলে যে ভাষার বীজ বপন করা হয়েছিল, তা আজ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্যবহৃত ভাষা। চর্যাপদ ছিল এই ভাষার শৈশব। মধ্যযুগে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আর বৈষ্ণব পদাবলীতে ভাষাটি সংহত রূপ পায়।

তবে বাংলা ভাষার প্রথম বড় 'প্রযুক্তিগত' বিপ্লব ঘটে আঠারো শতকের শেষে। ১৭৭৮ সালে চার্লস উইলকিন্স এবং পঞ্চানন কর্মকারের তৈরি করা প্রথম বাংলা চলনসই মুদ্রাক্ষর বা ‘মুভেবল টাইপ’ বাংলা ভাষাকে গণমানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে দেয়। ছাপাখানার সেই বিপ্লব পুঁথি থেকে বইয়ের যুগে রূপান্তর ঘটায় বাংলাকে। এরপর উনিশ শতকে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এবং বিদ্যাসাগরের হাত ধরে গদ্যের যে আধুনিকায়ন ঘটে, তা মূলত মুদ্রণ প্রযুক্তির প্রয়োজনেই একটি সুশৃঙ্খল কাঠামো পায়।

প্রযুক্তির সাথে প্রথম সংস্পর্শ ও বিবর্তন

বিশ শতকের শেষভাগে যখন কম্পিউটার বিপ্লব শুরু হলো, বাংলা ভাষা তখন এক নতুন সংকটের মুখে পড়ে। ইংরেজি ভাষার জন্য তৈরি করা যন্ত্রে বাংলা লিখব কীভাবে? এই প্রশ্নই জন্ম দেয় নতুন এক লড়াইয়ের।

আশির দশকে যখন টাইপরাইটারের বদলে কম্পিউটার জায়গা নিতে শুরু করল, তখন বাংলা লেখার জন্য আলাদা ফন্ট ও সফটওয়্যারের প্রয়োজন দেখা দিল। ১৯৮৭ সালে ‘শহীদ লিপি’র হাত ধরে কম্পিউটারে বাংলার যাত্রা শুরু হলেও তা ছিল বেশ জটিল। তবে প্রকৃত মাইলফলক তৈরি হয় মোস্তাফা জব্বারের ‘বিজয়’ কিবোর্ডের মাধ্যমে। ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের প্রকাশ বাংলা মুদ্রণ শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। পত্রিকা অফিস থেকে শুরু করে সরকারি দফতর—সবখানে বিজয় হয়ে ওঠে অপরিহার্য।

তবে তখনও একটি বড় সমস্যা ছিল ‘ফন্ট কনফ্লিক্ট’। একজনের কম্পিউটারে লেখা ফাইল অন্যজনের কম্পিউটারে ফন্ট না থাকলে পড়া যেত না। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে আসে ‘ইউনিকোড’। প্রযুক্তিগত এই বিবর্তন বাংলা ভাষাকে একটি বৈশ্বিক মানদণ্ড দেয়, যার ফলে ইন্টারনেট জগতে বাংলার প্রবেশ সহজতর হয়।

সফটওয়্যারের বিবর্তন: বিজয় থেকে অভ্রর বিপ্লব

বাংলা লেখার জগতে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক বিপ্লবটি ঘটে ২০০৩ সালে। মেহেদী হাসান খানের হাত ধরে আসে ‘অভ্র’ কিবোর্ড। ‘ভাষা হোক উন্মুক্ত’—এই স্লোগান নিয়ে আসা অভ্র ফোনেটিক পদ্ধতিতে (ইংরেজিতে লিখে বাংলায় রূপান্তর) লেখার সুযোগ করে দেয়। এর ফলে সাধারণ ব্যবহারকারী, যারা প্রথাগত টাইপিং জানতেন না, তারাও ইন্টারনেটে বাংলা লিখতে শুরু করেন। অভ্র মানুষের চিন্তার জগত বদলে দিল। প্রথাগত লেআউট শেখার ঝামেলা ছাড়াই সাধারণ মানুষ যখন ইংরেজিতে ‘Ami’ লিখে স্ক্রিনে ‘আমি’ দেখতে পেল, তখনই বাংলায় সোশ্যাল মিডিয়া বিপ্লবের বীজ রোপিত হলো। আজ স্মার্টফোনে রিদমিক বা জিবোর্ড ব্যবহার করে আমরা যে অবলীলায় মেসেজ লিখছি, তা সেই দীর্ঘ বিবর্তনেরই ফসল।

অভ্রর এই সহজলভ্যতা বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়া বিপ্লবে জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে। ফেসবুক, ব্লগ আর কমেন্ট বক্সে বাংলা লেখার জোয়ার শুরু হয় মূলত অভ্রর পর থেকেই। পরবর্তীতে স্মার্টফোনের যুগে ‘রিদমিক’ কিবোর্ড বা গুগলের ‘জি-বোর্ড’ এসে টাইপিংকে আঙুলের ডগায় নিয়ে এসেছে। এখন ভয়েস টু টেক্সট প্রযুক্তির মাধ্যমে কথা বললেই তা সরাসরি বাংলা অক্ষরে রূপান্তর হচ্ছে, যা এক দশক আগেও কল্পনা করা কঠিন ছিল।

বাংলা ভাষার আধুনিকীকরণ ও ডিজিটাল সত্তা

প্রযুক্তি মূলত লেখার পদ্ধতির পাশাপাশি ভাষার অভ্যন্তরীণ গঠনকেও প্রভাবিত করেছে। ডিজিটাল মাধ্যমে জায়গা বাঁচানোর প্রবণতা আর দ্রুত যোগাযোগের প্রয়োজনে ভাষার এক নতুন রূপ তৈরি হয়েছে। একে অনেকে ‘ডিজিটাল বাংলা’ বলে অভিহিত করেন। ইমোজি, স্টিকার এবং সংক্ষিপ্ত শব্দের ব্যবহার বাংলার ব্যাকরণগত কঠোরতাকে কিছুটা শিথিল করলেও এটি ভাষাকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও সমসাময়িক করেছে।

অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ই-বুক এবং ব্লগের কারণে প্রমিত বাংলার একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমগুলোর অনলাইন সংস্করণ বাংলা ভাষার আধুনিক পরিভাষা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন শব্দ বাংলা অভিধানে যুক্ত হচ্ছে, যা ভাষার আধুনিকীকরণকে ত্বরান্বিত করছে।

আগে কোনো বিষয়ের গভীরে জানতে হলে লাইব্রেরি কিংবা বাংলা বিশ্বকোষের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন গুগলে বাংলায় সার্চ দিলেই উইকিপিডিয়া থেকে শুরু করে অসংখ্য ব্লগে তথ্য পাওয়া যায়। দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর অনলাইন সংস্করণ বা মোবাইল অ্যাপের কারণে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মুহূর্তের মধ্যে প্রমিত বাংলায় খবরাখবর পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

বাংলা ভাষার ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব

বর্তমানে আমরা দাঁড়িয়ে আছি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সন্ধিক্ষণে, যেখানে মূল চালিকাশক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বাংলা ভাষার ওপর এআই-এর প্রভাব বহুমুখী। বাংলাতে প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ (এনএলপি)নিয়ে এখন প্রচুর কাজ হচ্ছে। চ্যাটজিপিটি, জেমিনি’র মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো এখন চমৎকার বাংলা বুঝতে এবং লিখতে পারে। যদিও শুরুতে এদের বাংলা ছিল কিছুটা যান্ত্রিক, কিন্তু দিন দিন তা আরও সাবলীল হচ্ছে।

গুগল ট্রান্সলেটের নির্ভুলতা গত কয়েক বছরে বহুগুণ বেড়েছে। এটি এখন শব্দ থেকে শব্দে অনুবাদ করে না, সেই সঙ্গে বাক্যের প্রেক্ষাপট ও অর্থ বুঝে অনুবাদ করার চেষ্টা করে। এর ফলে বিশ্বসাহিত্যের ভাণ্ডার এখন বাংলাভাষীদের জন্য আরও উন্মুক্ত। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সিরি এখন বাংলা কমান্ড বুঝতে পারে। ‘আজকের আবহাওয়া কেমন?’ কিংবা ‘রবীন্দ্রনাথের গান শোনাও’—বললেই যন্ত্র তা কার্যকর করছে। এটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বা নিরক্ষর মানুষের জন্য তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার আরও সহজ করে দিচ্ছে।

প্রযুক্তির অন্যতম সেরা অবদান হলো মুখে কথা বলে বাংলা লেখা। ব্যস্ততার মাঝে কিবোর্ডে টাইপ করার বদলে এখন অনেকেই গুগলের ভয়েস টাইপিং সুবিধা ব্যবহার করেন। এই প্রযুক্তি কর্মব্যস্ত মানুষকে সাহায্য করার পাশাপাশি যারা লিখতে অক্ষম কিংবা বয়স্ক, তাদের জন্য ডিজিটাল যোগাযোগের এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।

এছাড়াও এআই এখন বাংলায় কবিতা লিখছে, ইমেইল ড্রাফট করছে, এমনকি সংবাদের খসড়া তৈরি করে দিচ্ছে। এর ফলে সৃজনশীল কাজে মানুষের শ্রম কমছে, কিন্তু একইসঙ্গে ভাষার মৌলিকত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জও বাড়ছে।

ভবিষ্যৎ: কোথায় যাচ্ছে বাংলা

বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ এখন আবেগ বা ঐতিহ্যের বলয়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি বর্তমানে ডিজিটাল বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তির মহাসড়কে ধাবমান এক শক্তিশালী সত্তা। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং এবং বিগ ডেটার ওপর ভিত্তি করে। ভবিষ্যতে আমরা এমন এক সময়ের দিকে যাচ্ছি যেখানে ভাষা আর যোগাযোগের বাধা থাকবে না। কেউ বাংলায় কথা বললে বিশ্বের অন্য প্রান্তের মানুষ তা নিজ ভাষায় রিয়েল-টাইমে শুনতে পাবে। অগমেন্টেড রিয়ালিটি (এআর) এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর)-তে বাংলার রাজকীয় উপস্থিতি থাকবে। সরকারি সেবা থেকে শুরু করে বিচারিক কার্যক্রম—সবই হবে স্মার্ট এবং বাংলা-নির্ভর। তবে এই অগ্রযাত্রার পথে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘ডেটা’ বা তথ্যের অভাব। এআই-কে প্রশিক্ষিত করার জন্য পর্যাপ্ত উচ্চমানের বাংলা ডেটাসেট এখনও অপ্রতুল। ইন্টারনেটে ইংরেজির তুলনায় বাংলার কনটেন্ট অনেক কম। এআই-কে আরও দক্ষ করতে হলে ইন্টারনেটে উচ্চমানের বাংলা কনটেন্ট বাড়ানো জরুরি।

প্রযুক্তির সুযোগ সবার কাছে সমানভাবে না পৌঁছালে একটি বড় অংশ ডিজিটাল বাংলার এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে। ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে বাংলা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, একটি বিশাল ডিজিটাল সম্পদে পরিণত হবে। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে গৃহস্থালির যন্ত্র—সবই যখন বাংলা ভয়েস কমান্ডে চলবে, তখন প্রযুক্তির তৃণমূল স্তরেও বাংলার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

তবে এই আধুনিকায়নের ডামাডোলে ‘বাংলিশ’ বা মিশ্র ভাষার সংস্কৃতি যেন বাংলার মৌলিক ব্যাকরণ ও মাধুর্যকে গ্রাস না করে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল বানান এবং মিশ্র ভাষার (বাংলিশ) অতিব্যবহার নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষাজ্ঞান কমিয়ে দিতে পারে। শুদ্ধ চর্চা আর প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয় ঘটানো গেলে বাংলা ভাষা টিকে থাকার পাশাপাশি পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ প্রভাবশালী ভাষা হিসেবে ডিজিটাল দুনিয়ায় নেতৃত্ব দেবে।

প্রযুক্তির যুগে বাংলা ভাষা নিয়ে প্রত্যাশা

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আমাদের যে পরিচয় দিয়েছিল, ২০২৬ সালের এই প্রযুক্তির যুগে এসে সেই পরিচয় আরও বিশাল মহিমায় ভাস্বর। প্রযুক্তি বাংলা ভাষাকে টিকিয়েই রাখেনি, একে সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছে।

বাংলা ভাষা এখন আর শুধু বইয়ের পাতায় বা কবির কলমে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন সিলিকন চিপ আর ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা এক জীবন্ত সত্তা। তবে প্রযুক্তির এই প্লাবনে আমাদের মনে রাখতে হবে, যন্ত্র কেবল মাধ্যম, প্রাণ আমাদেরই। ভাষার শুদ্ধতা বজায় রেখে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলেই বাংলা ভাষা হবে আগামীর পৃথিবীর অন্যতম প্রধান ভাষা।

আমাদের পূর্বপুরুষরা রক্ত দিয়ে ভাষা রক্ষা করেছিলেন, এখন আমাদের দায়িত্ব হলো মেধা ও প্রযুক্তি দিয়ে সেই ভাষাকে ডিজিটাল দুনিয়ায় অপরাজেয় করে তোলা। প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত হোক আমাদের প্রাণের ভাষা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত