leadT1ad

সুর নরম করলেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে চান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ঢাকা

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। ছবি: রয়টার্স।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে অপহরণের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আগের কড়া অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।

রবিবার সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় রদ্রিগেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তোলা আমার অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, যৌথ উন্নয়নের লক্ষ্যে সহযোগিতার একটি এজেন্ডায় একসঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

রোববার তাঁর প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েও ট্রাম্প প্রসঙ্গে সমঝোতার সুরেই কথা বলেছেন রদ্রিগেজ। তিনি আন্তর্জাতিক আইন মেনে দেশের উন্নয়নের জন্য মার্কিন সরকারের সহযোগিতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

গত শনিবার ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে। এরপর গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তিনি সংসদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন।

৫৬ বছর বয়সী ডেলসি রদ্রিগেজ ২০১৮ সাল থেকে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানে তিনি মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি এ ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে উল্লেখ করেন।

তার শপথ গ্রহণের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি আদালতে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। আদালতে হাজির হয়ে নিকোলাস মাদুরো নিজেকে এখনও ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করেন। তিনি মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের চারটি অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ বলে জানান।

সোমবার বিকেলে আদালতে শুনানির সময় দর্শকসারির একজন ব্যক্তি স্প্যানিশ ভাষায় মাদুরোর বিরুদ্ধে চিৎকার করেন। জবাবে মাদুরো বলেন, তিনি একজন ‘অপহৃত প্রেসিডেন্ট’ এবং ‘যুদ্ধবন্দি’।

৩০ মিনিটের শুনানিতে মাদুরো বলেন, তিনি একজন সৎ মানুষ এবং এখনও দেশের প্রেসিডেন্ট। ৯২ বছর বয়সী বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইন তাঁকে বলেন, এসব বিষয়ে কথা বলার সময় ও স্থান পরে নির্ধারিত হবে।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর আকস্মিক ও নাটকীয় অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হন।

এই অভিযানকে ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও আলোচিত অভিযান বলা হচ্ছে।

এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সোমবার ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক করে।

তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি মজুত কোনো অবৈধ নেতার হাতে থাকতে পারে না। তিনি মাদুরোকে ‘আইনের হাত থেকে পলাতক’ বলেও মন্তব্য করেন।

এর আগে শনিবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিকোলাস মাদুরোই ভেনিজুয়েলার একমাত্র প্রেসিডেন্ট।

ওই বক্তব্যের ফলে রদ্রিগেজ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। মাদুরো আটক হওয়ার পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন এবং সহযোগিতায় আগ্রহী।

টেলিভিশনে ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘চরমপন্থী’ বলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এরপর ট্রাম্প রদ্রিগেজকে সরাসরি হুমকি দেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রদ্রিগেজ সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে বড় মূল্য দিতে হবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ভেনেজুয়েলায় ভবিষ্যতে নতুন হামলা হতে পারে। তিনি সেখানে স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। এরপরই রবিবার টেলিগ্রামে বার্তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রবিবার রদ্রিগেজ আরও জানান, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর মুক্তির দাবিতে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের সহসভাপতি করা হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল ও জাতীয় পরিষদের সভাপতি জর্জে রদ্রিগেজকে।

যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস, কোকেন আমদানি ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী অবস্থানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

Ad 300x250

সম্পর্কিত