জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: মামলার রায় ৪ মার্চ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৪ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা আসামি।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল রায়ের এই দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ তাদের আইনি যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ করে। এরপর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। আজ রোববার ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার চূড়ান্ত দিনক্ষণ জানালেন।

কারাগারে এএসআই, ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পলাতক

এ মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে কেবল রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার কারাগারে রয়েছেন। আজ সকালে তাকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

বাকি চার আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান ও একই থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) হিসেবে শুনানি করেছেন অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন।

অন্যদিকে গ্রেপ্তার এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের আইনজীবী এরশাদুল হক বাবু। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যুক্তিতর্কে সব তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছি এবং চঞ্চল চন্দ্র সরকারের খালাস প্রার্থনা করেছি। আমরা আশা করি, রায়ে তিনি সুবিচার পাবেন। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন সাজার মুখোমুখি না হন, ট্রাইব্যুনালের কাছে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তিতর্ক সমাপনীর দিনে আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পনও চঞ্চলের খালাস চেয়েছিলেন।

বিপরীতে প্রসিকিউশন দাবি করেছে, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ নথিপত্রে এ মামলার পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করেছে।

মামলার অভিযোগ ও তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরা এলাকায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। ওই দিন প্রাণ বাঁচাতে আমির হোসেন নামের এক তরুণ রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন। পুলিশ সদস্যরা তার পিছু নিয়ে ভবনের ছাদে ওঠেন। একপর্যায়ে আমির হোসেন ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকার চেষ্টা করলে, এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঝুলে থাকার সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এছাড়া একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নামের দুজন শহীদ হন।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ৭ আগস্ট প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত