ইনস্ক্রিপ্ট প্রতিবেদক

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিবার বিশ্বনেতাদের মধ্যে যাঁর অভিনন্দনবার্তা প্রথম পৌঁছয় ঢাকায়, তিনি প্রায় অবধারিতভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দিল্লির ক্ষমতায় মনমোহন সিং কিংবা নরেন্দ্র মোদি—যিনিই থাকুন, এই কূটনৈতিক তৎপরতায় ছেদ পড়েনি। ১৩ ফেব্রুয়ারির সকালেও তাঁর ব্যতিক্রম হয়নি।
তবে এবার প্রাপক বদলেছেন। এবার অভিনন্দনবার্তা গেছে তারেক রহমানের উদ্দেশে। ঘটনাটি আর শুধু সৌজন্য বিনিময়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তায় পরিণত হয়েছে। এই দ্রুত অভিনন্দন, বাংলা ভাষায় আলাদা পোস্ট, তারপর সরাসরি ফোনালাপ— সব মিলিয়ে দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট: নতুন বাস্তবতাকে দ্রুত স্বীকৃতি।
এই দ্রুততার মধ্যেই লুকিয়ে আছে বার্তা। দিল্লি বোঝে, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলায়। যে দেশ আগে নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়, সে শুরুতেই একটি মানসিক ও কূটনৈতিক সুবিধা পায়। তাই ফল ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অভিনন্দন জানানোটা ছিল হিসাবি ও সময়মতো নেওয়া পদক্ষেপ। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ ভারতের জন্য শুধু প্রতিবেশী নয়; এটি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, পানিবণ্টন, সীমান্ত-ব্যবস্থাপনা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ক্ষমতার পালাবদল হতেই সম্পর্কের সুর পাল্টে ফেলা তাই কৌশলগত হিসাবের অঙ্গ।
গত ১০ বছরে দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছিল মূলত পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে। বিশেষ করে সন্ত্রাস দমন, সীমান্তে জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সমন্বয় ভারতের জন্য বেশ লাভের ছিল। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ভারতের একধরনের রাজনৈতিক আস্থা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এই আস্থা স্থায়ী কিছু নয়; নির্বাচনের ফল বদলালে যেন কূটনৈতিক অবস্থান ও ভাষাও বদলে যায়।
টানা চারবার ‘নির্বাচনে জেতা’ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা সমীকরণ এবারে বাংলাদেশে ভেঙে গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, দিল্লি বুঝেছে, নতুন বাস্তবতাকে দ্রুত স্বীকার না করলে শূন্যতা তৈরি হবে, যে শূন্যতা অন্য শক্তি পূরণ করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব ভারতকে সতর্ক করে রেখেছে। ঋণ ও বাণিজ্যে চীন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তাই অনেক বিশ্লেষকই মনে করছেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের সময় দিল্লির দ্রুত অভিনন্দন ছিল আগেভাগে সম্পর্ক মজবুত করে নেওয়ার কৌশল।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির। গত দেড় বছরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রশ্নে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বারবার উদ্বেগ জানিয়েছে। যদিও ঢাকার অন্তর্বর্তী প্রশাসন তা অস্বীকার করেছে। এই টানাপোড়েন দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত খারাপ করছিল। এখন নতুন সরকারের সঙ্গে কথা বলার পরিবেশ তৈরি করতে হলে শুরুতেই ইতিবাচক বার্তা দেওয়া দরকার। অভিনন্দন জানানো ও সরাসরি ফোন করা সেই সদিচ্ছারই প্রকাশ।
তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে, তারেক রহমান সাম্প্রতিক বক্তৃতাগুলোতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা বলেছেন, কখনো ভারতবিরোধী কথা বলেননি। দিল্লি সেটিকে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক মহলের একাংশ।
এখানে আরও একটি দিক গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বাংলাদেশ ইস্যু প্রায়ই আবেগঘন বিষয় হয়ে ওঠে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সীমান্ত পারাপার ও অনুপ্রবেশ—এসব প্রশ্ন নির্বাচনী ভাষ্যে প্রভাব ফেলে। ফলে দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারকে একদিকে আঞ্চলিক রাজনীতি যেমন সামলাতে হয়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। তাই অনেকে বলছেন, ভারত সরকার বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত হলেও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক চলবে নিজস্ব পথে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ‘ডিপ্লোম্যাটিক ইউ-টার্ন’ বললে আংশিক সত্য বলা হয়। আসলে এটি কূটনৈতিক ধারাবাহিকতারই নতুন সংস্করণ। রাষ্ট্রনীতি ব্যক্তি-নির্ভর নয়; তা পরিস্থিতি-নির্ভর। আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেমন পারস্পরিক স্বার্থে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তেমনই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরি করা ভারতের জন্য এখন প্রায় অনিবার্য। বিশ্লেষকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গেলে বাংলাদেশকে পাশে রাখা জরুরি—তাকে দূরে রেখে দিল্লির পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়।
সবচেয়ে বড় কথা, ভোটে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ এবং তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আন্তর্জাতিক মহলে একটি বার্তা দিয়েছে। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা বন্ধু নেই, আছে কেবল স্বার্থের অঙ্ক। সেই অঙ্ক মেলাতেই দিল্লির এই দ্রুত পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে।
সাংবাদিক অর্ক দেব বলেন, ‘আসলে বাংলাদেশ-ভারত ’৭১ থেকেই মিত্ররাষ্ট্র। মিত্রতা ছাড়া অন্য কোনো পথ কোনো রাষ্ট্রের হাতেই খোলা নেই। এই মিত্রতা কিন্তু অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি হওয়ার কথা নয়। স্বাভাবিক বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সৌহার্দ্যের সম্পর্ক।’
অর্ক দেব বলেন, ‘হাসিনা মোদি সরকারের কম্পালশান। এই কম্পালশানের পিছনে দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কিন্তু আপনি যদি ধারাবাহিক ভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ব্রিফ দেখেন, লক্ষ করবেন সেখানে বারবার পারস্পরিক সম্পর্কের বুনটেই জোর দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারত সম্পর্কের উন্নতিতেই নজর দেবে বলে মনে হয়।’
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে মতামত ও বক্তব্যের জন্য পরিচিত ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক সৌমিত্র দস্তিদার বলেন, ‘দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ অবশ্যই থাকা উচিত। দুই পক্ষের মানুষের মধ্যে অনেক ভুল-বোঝাবুঝি আছে। পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষ তৈরি করা হয়েছে এবং সেই বিদ্বেষে এখনো অনেকেই হাওয়া দিচ্ছে। কিন্তু এবার পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে রায় দিয়েছে। তারা শান্তি ও শৃঙ্খলার পক্ষে রায় দিয়েছে। মহিলারা রাস্তায় নেমে তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছিল, তার বিরুদ্ধেও তারা রায় দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের মানুষদের যদি বলা হয় তারা খুব মৌলবাদী হয়ে গিয়েছে, সেটা আমি অন্তত দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি— এটা একদমই ঠিক নয়।’
সৌমিত্র দস্তিদার বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন, তারা হয়ত বিএনপিকে ভোট দিয়েছে অর্থনৈতিক কারণে বা আরও বিভিন্ন কারণে। কিন্তু মানুষের কোথাও না কোথাও তো একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা ছিল বলেই তারা মৌলবাদী শক্তিকে হারিয়ে সরাসরি ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে।’
এই ইতিবাচক দিকটাকেই দেশের এবং রাজ্যের অন্যান্য মানুষের মনে রাখা উচিত। মানুষের যদি রায় থাকে যে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হোক, তাহলে আমার মনে হয় দেশে যে সরকারই থাকুক, ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিবার বিশ্বনেতাদের মধ্যে যাঁর অভিনন্দনবার্তা প্রথম পৌঁছয় ঢাকায়, তিনি প্রায় অবধারিতভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দিল্লির ক্ষমতায় মনমোহন সিং কিংবা নরেন্দ্র মোদি—যিনিই থাকুন, এই কূটনৈতিক তৎপরতায় ছেদ পড়েনি। ১৩ ফেব্রুয়ারির সকালেও তাঁর ব্যতিক্রম হয়নি।
তবে এবার প্রাপক বদলেছেন। এবার অভিনন্দনবার্তা গেছে তারেক রহমানের উদ্দেশে। ঘটনাটি আর শুধু সৌজন্য বিনিময়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তায় পরিণত হয়েছে। এই দ্রুত অভিনন্দন, বাংলা ভাষায় আলাদা পোস্ট, তারপর সরাসরি ফোনালাপ— সব মিলিয়ে দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট: নতুন বাস্তবতাকে দ্রুত স্বীকৃতি।
এই দ্রুততার মধ্যেই লুকিয়ে আছে বার্তা। দিল্লি বোঝে, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলায়। যে দেশ আগে নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়, সে শুরুতেই একটি মানসিক ও কূটনৈতিক সুবিধা পায়। তাই ফল ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অভিনন্দন জানানোটা ছিল হিসাবি ও সময়মতো নেওয়া পদক্ষেপ। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ ভারতের জন্য শুধু প্রতিবেশী নয়; এটি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, পানিবণ্টন, সীমান্ত-ব্যবস্থাপনা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ক্ষমতার পালাবদল হতেই সম্পর্কের সুর পাল্টে ফেলা তাই কৌশলগত হিসাবের অঙ্গ।
গত ১০ বছরে দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছিল মূলত পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে। বিশেষ করে সন্ত্রাস দমন, সীমান্তে জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সমন্বয় ভারতের জন্য বেশ লাভের ছিল। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ভারতের একধরনের রাজনৈতিক আস্থা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এই আস্থা স্থায়ী কিছু নয়; নির্বাচনের ফল বদলালে যেন কূটনৈতিক অবস্থান ও ভাষাও বদলে যায়।
টানা চারবার ‘নির্বাচনে জেতা’ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা সমীকরণ এবারে বাংলাদেশে ভেঙে গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, দিল্লি বুঝেছে, নতুন বাস্তবতাকে দ্রুত স্বীকার না করলে শূন্যতা তৈরি হবে, যে শূন্যতা অন্য শক্তি পূরণ করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব ভারতকে সতর্ক করে রেখেছে। ঋণ ও বাণিজ্যে চীন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তাই অনেক বিশ্লেষকই মনে করছেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের সময় দিল্লির দ্রুত অভিনন্দন ছিল আগেভাগে সম্পর্ক মজবুত করে নেওয়ার কৌশল।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির। গত দেড় বছরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রশ্নে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বারবার উদ্বেগ জানিয়েছে। যদিও ঢাকার অন্তর্বর্তী প্রশাসন তা অস্বীকার করেছে। এই টানাপোড়েন দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত খারাপ করছিল। এখন নতুন সরকারের সঙ্গে কথা বলার পরিবেশ তৈরি করতে হলে শুরুতেই ইতিবাচক বার্তা দেওয়া দরকার। অভিনন্দন জানানো ও সরাসরি ফোন করা সেই সদিচ্ছারই প্রকাশ।
তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে, তারেক রহমান সাম্প্রতিক বক্তৃতাগুলোতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা বলেছেন, কখনো ভারতবিরোধী কথা বলেননি। দিল্লি সেটিকে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক মহলের একাংশ।
এখানে আরও একটি দিক গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বাংলাদেশ ইস্যু প্রায়ই আবেগঘন বিষয় হয়ে ওঠে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সীমান্ত পারাপার ও অনুপ্রবেশ—এসব প্রশ্ন নির্বাচনী ভাষ্যে প্রভাব ফেলে। ফলে দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারকে একদিকে আঞ্চলিক রাজনীতি যেমন সামলাতে হয়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। তাই অনেকে বলছেন, ভারত সরকার বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত হলেও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক চলবে নিজস্ব পথে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ‘ডিপ্লোম্যাটিক ইউ-টার্ন’ বললে আংশিক সত্য বলা হয়। আসলে এটি কূটনৈতিক ধারাবাহিকতারই নতুন সংস্করণ। রাষ্ট্রনীতি ব্যক্তি-নির্ভর নয়; তা পরিস্থিতি-নির্ভর। আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেমন পারস্পরিক স্বার্থে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তেমনই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরি করা ভারতের জন্য এখন প্রায় অনিবার্য। বিশ্লেষকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গেলে বাংলাদেশকে পাশে রাখা জরুরি—তাকে দূরে রেখে দিল্লির পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়।
সবচেয়ে বড় কথা, ভোটে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ এবং তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আন্তর্জাতিক মহলে একটি বার্তা দিয়েছে। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা বন্ধু নেই, আছে কেবল স্বার্থের অঙ্ক। সেই অঙ্ক মেলাতেই দিল্লির এই দ্রুত পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে।
সাংবাদিক অর্ক দেব বলেন, ‘আসলে বাংলাদেশ-ভারত ’৭১ থেকেই মিত্ররাষ্ট্র। মিত্রতা ছাড়া অন্য কোনো পথ কোনো রাষ্ট্রের হাতেই খোলা নেই। এই মিত্রতা কিন্তু অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি হওয়ার কথা নয়। স্বাভাবিক বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সৌহার্দ্যের সম্পর্ক।’
অর্ক দেব বলেন, ‘হাসিনা মোদি সরকারের কম্পালশান। এই কম্পালশানের পিছনে দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কিন্তু আপনি যদি ধারাবাহিক ভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ব্রিফ দেখেন, লক্ষ করবেন সেখানে বারবার পারস্পরিক সম্পর্কের বুনটেই জোর দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারত সম্পর্কের উন্নতিতেই নজর দেবে বলে মনে হয়।’
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে মতামত ও বক্তব্যের জন্য পরিচিত ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক সৌমিত্র দস্তিদার বলেন, ‘দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ অবশ্যই থাকা উচিত। দুই পক্ষের মানুষের মধ্যে অনেক ভুল-বোঝাবুঝি আছে। পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষ তৈরি করা হয়েছে এবং সেই বিদ্বেষে এখনো অনেকেই হাওয়া দিচ্ছে। কিন্তু এবার পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে রায় দিয়েছে। তারা শান্তি ও শৃঙ্খলার পক্ষে রায় দিয়েছে। মহিলারা রাস্তায় নেমে তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছিল, তার বিরুদ্ধেও তারা রায় দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের মানুষদের যদি বলা হয় তারা খুব মৌলবাদী হয়ে গিয়েছে, সেটা আমি অন্তত দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি— এটা একদমই ঠিক নয়।’
সৌমিত্র দস্তিদার বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন, তারা হয়ত বিএনপিকে ভোট দিয়েছে অর্থনৈতিক কারণে বা আরও বিভিন্ন কারণে। কিন্তু মানুষের কোথাও না কোথাও তো একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা ছিল বলেই তারা মৌলবাদী শক্তিকে হারিয়ে সরাসরি ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে।’
এই ইতিবাচক দিকটাকেই দেশের এবং রাজ্যের অন্যান্য মানুষের মনে রাখা উচিত। মানুষের যদি রায় থাকে যে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হোক, তাহলে আমার মনে হয় দেশে যে সরকারই থাকুক, ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে অনুষ্ঠিত হওয়া ঐতিহাসিক গণভোটে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ। স্বভাবতই মানুষের প্রশ্ন জাগছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট জেতার ফলে জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের আলোকে আগামী দিনে কী কী বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছ?
১ দিন আগে
৩০০ আসনের সংসদে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৫১টি আসন। যখন নির্বাচনে কোনো দলই এককভাবে এই সংখ্যা ছুঁতে পারে না, তখনই সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও জোটের সমীকরণ। নির্বাচনের এই টানটান উত্তেজনার মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—ঝুলন্ত সংসদ আসলে কী, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণটা কী তবে?
৩ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ও পালিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রথমবার দেশে জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদের ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
৪ দিন আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের আর দুই দিন বাকি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্দেশ্যে তৈরি হওয়া ‘জুলাই সনদ’ রয়েছে গণভোটের কেন্দ্রে। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ ৪টি প্রধান বিষয়ের পাশাপাশি সংবিধানের ৪৮টি সংশোধনীর কথা বলা হয়েছে।
৪ দিন আগে