স্ট্রিম প্রতিবেদক

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র্যাগিং ও বুলিং বা নিগ্রহ প্রতিরোধে বড় নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত একটি সার্বক্ষণিক টোল-ফ্রি হেল্পলাইন এবং একটি কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট চালু করার নির্দেশ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন। আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র্যাগিং শিক্ষার্থীদের জীবন, মর্যাদা ও মৌলিক অধিকারের ওপর মারাত্মক আঘাত। এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের সরাসরি লঙ্ঘন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের স্বাক্ষরিত এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট হাইকোর্ট এ সংক্রান্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান নিজেই রিটের পক্ষে শুনানি করেন। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান।
প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত ‘গভর্নমেন্ট অব বাংলাদেশ বনাম প্রফেসর নুরুল ইসলাম’ মামলার নজির উল্লেখ করেছেন। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘রাইট টু লাইফ’ বা জীবনের অধিকার কেবল বেঁচে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং নিরাপদ পরিবেশ, স্বাস্থ্য, মর্যাদাপূর্ণ জীবন এবং শিক্ষা লাভের সুযোগ নিশ্চিত করাও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আদালত মনে করেন, র্যাগিংয়ের কারণে শারীরিক নির্যাতন, গভীর মানসিক ট্রমা ও যৌন হয়রানির মতো ঘটনা ঘটছে। এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার শামিল।
রায়ে র্যাগিং প্রতিরোধে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য একটি অ্যান্টি-র্যাগিং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি কেন্দ্রীয় অ্যান্টি-র্যাগিং ওয়েবসাইট চালু করার ওপর জোর দিয়েছেন আদালত। এই ওয়েবসাইটে র্যাগিং-সংক্রান্ত অভিযোগ নিবন্ধন করা যাবে। অভিযোগের বিপরীতে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি ও অবস্থান বা ‘স্ট্যাটাস অব অ্যাকশন টেকেন’ পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।
বিচারকেরা মনে করেন, এই ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলো ভুক্তভোগীদের ভয় কাটিয়ে অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করবে। আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেছেন, বাংলাদেশে এখনো র্যাগিংকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। তবে দণ্ডবিধি ও অন্যান্য প্রচলিত আইনের অধীনে র্যাগিংয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বহু কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
প্রতিবেশী ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর অ্যান্টি-র্যাগিং আইন ও নীতিমালার উদাহরণ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেন, এসব দেশের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও একটি কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। এ ছাড়া সরকার প্রণীত ‘পলিসি ফর প্রিভেনশন অব বুলিং অ্যান্ড র্যাগিং ইন এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন, ২০২৩’ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রায়ে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শক্তিশালী ডিসিপ্লিনারি ও অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে জরুরি অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দিয়েছেন আদালত। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের জীবন, মর্যাদা ও নিরাপদ শিক্ষার অধিকার বাস্তবে সুরক্ষিত করা।

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র্যাগিং ও বুলিং বা নিগ্রহ প্রতিরোধে বড় নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত একটি সার্বক্ষণিক টোল-ফ্রি হেল্পলাইন এবং একটি কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট চালু করার নির্দেশ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন। আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র্যাগিং শিক্ষার্থীদের জীবন, মর্যাদা ও মৌলিক অধিকারের ওপর মারাত্মক আঘাত। এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের সরাসরি লঙ্ঘন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের স্বাক্ষরিত এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট হাইকোর্ট এ সংক্রান্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান নিজেই রিটের পক্ষে শুনানি করেন। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান।
প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত ‘গভর্নমেন্ট অব বাংলাদেশ বনাম প্রফেসর নুরুল ইসলাম’ মামলার নজির উল্লেখ করেছেন। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘রাইট টু লাইফ’ বা জীবনের অধিকার কেবল বেঁচে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং নিরাপদ পরিবেশ, স্বাস্থ্য, মর্যাদাপূর্ণ জীবন এবং শিক্ষা লাভের সুযোগ নিশ্চিত করাও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আদালত মনে করেন, র্যাগিংয়ের কারণে শারীরিক নির্যাতন, গভীর মানসিক ট্রমা ও যৌন হয়রানির মতো ঘটনা ঘটছে। এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার শামিল।
রায়ে র্যাগিং প্রতিরোধে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য একটি অ্যান্টি-র্যাগিং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি কেন্দ্রীয় অ্যান্টি-র্যাগিং ওয়েবসাইট চালু করার ওপর জোর দিয়েছেন আদালত। এই ওয়েবসাইটে র্যাগিং-সংক্রান্ত অভিযোগ নিবন্ধন করা যাবে। অভিযোগের বিপরীতে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি ও অবস্থান বা ‘স্ট্যাটাস অব অ্যাকশন টেকেন’ পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।
বিচারকেরা মনে করেন, এই ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলো ভুক্তভোগীদের ভয় কাটিয়ে অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করবে। আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেছেন, বাংলাদেশে এখনো র্যাগিংকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। তবে দণ্ডবিধি ও অন্যান্য প্রচলিত আইনের অধীনে র্যাগিংয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বহু কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
প্রতিবেশী ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর অ্যান্টি-র্যাগিং আইন ও নীতিমালার উদাহরণ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেন, এসব দেশের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও একটি কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। এ ছাড়া সরকার প্রণীত ‘পলিসি ফর প্রিভেনশন অব বুলিং অ্যান্ড র্যাগিং ইন এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন, ২০২৩’ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রায়ে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শক্তিশালী ডিসিপ্লিনারি ও অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে জরুরি অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দিয়েছেন আদালত। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের জীবন, মর্যাদা ও নিরাপদ শিক্ষার অধিকার বাস্তবে সুরক্ষিত করা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় বাকি পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঘোষণা করেছেন
১ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা এবং দায়মুক্তি দিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে এই গেজেট জারি করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ঢাকা। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ২৬২, যা ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত।
৪ ঘণ্টা আগে
দেশজুড়ে আলোচনায় থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
৪ ঘণ্টা আগে