জেনে অবাক হবেন যে শত বছর আগে বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলে বন্যপ্রাণী বাস করত। কোন কোন বন্যপ্রাণী ও পাখি সেখানে ছিল? নদী, জলাভূমি ও পুকুরে কী কী মাছ পাওয়া যেত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত জে এন গুপ্ত-এর পূর্ববঙ্গ ও আসামের ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার (বগুড়া) থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
তারেক অণু

একসময় বগুড়া জেলায় বড় শিকারযোগ্য প্রাণীদের মধ্যে বাঘ প্রচুর পরিমাণে ছিল। অথচ ১৯১০ সালের দিকে এসে তা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত। এখন বিশ্বাস করা কঠিন যে ১৮৬৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শিকারিদের একটি দল ২৫৭টি বাঘ ও চিতাবাঘের খুলি কালেক্টরের কাছে জমা দিয়ে পুরস্কার হিসেবে প্রায় ৭০০ টাকা পেয়েছিল।
এখনো (১৯১০ সালের কথা) বগুড়ার পাঁচবিবি ও শেরপুরে প্রচুর পরিমাণে চিতাবাঘ দেখা যায়। আর জেলার প্রায় সব এলাকাতেই মাঝে মাঝে তাদের দেখা মেলে। একসময় পাঁচবিবি এলাকায় বুনো শুয়োর মারাত্মক উপদ্রব হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু এখন ক্রমেই তা বিরল হয়ে যাচ্ছে। বুনো মহিষ এবং হরিণ পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। খরগোশ, সজারু ও বনবিড়াল মাঝে মাঝে দেখা যায়।
১৯১০ সালের দিকে এসেও প্রায় প্রতিটি গ্রামেই শেয়াল ও খেঁকশিয়ালের দেখা মেলে। বিষধর সাপের জন্য বগুড়া কুখ্যাত। এর মধ্যে গোখরা ও ক্রেট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অন্যান্য জেলায় ফলের ব্যাপক ক্ষতি করা কাঠবিড়ালি ও বানরেরা এই জেলায় তুলনামূলকভাবে অনুপস্থিত।
শিকারযোগ্য পাখিদের মধ্যে এখন (১৯১০ সালের দিকের কথা) স্থানীয় নাটাবটের ও কালা-তিতির পাঁচবিবি থানার ঝোপঝাড় ও ঘাসের জঙ্গলে পাওয়া যায়। জেলার বিল ও নির্জন পুকুরগুলোতে অল্প সংখ্যায় দেশি সরালি ও বালিহাঁসও দেখা যায়। পরিযায়ী বটেরা খুব কমই এই জেলায় আসে, যদিও প্রায় সংলগ্ন মালদা জেলায় (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলা) তাদের অনেক বেশি দেখা যায়।
পরিযায়ী হাঁসেরা, বিশেষ করে ভুতিহাঁস, খুন্তেহাঁস, ল্যাঞ্জাহাঁস এবং নানা ধরনের তিলিহাঁস এই জেলায় ছোট ছোট দলে বড়বিল ও ব্রহ্মপুত্রের চরে আসে। রাজহাঁস এবং খয়রা-চখাচখি ব্রহ্মপুত্রের চরে অনেক দেখা যায়। তাদের শিকার করা প্রায় অসম্ভব।
কোনো কোনো মৌসুমে কাদাখোঁচা পাখিদের অনেক বেশি দেখা যায়। সাধারণত তারা ধানক্ষেতের মধ্যে থাকে। যদিও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে, মৌসুমের শেষের দিকে তারা বিলের ঘাস এবং পদ্মপাতার ভেতর থাকতে পছন্দ করে। শীতকালেজুড়েই নানা ধরনের চটক পাখিদের দেখা যায়।
বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলের মোট মাছের সরবরাহের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই আসে দাওকোপা (যমুনা), বাঙালি, হলহলিয়া, ইছামতি এবং মানাস (মানস) নদী থেকে। সারিয়াকান্দি অঞ্চল মাছের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত। সেখানের পুরো এলাকাই প্রতি বছর বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। ফলে দাওকোবা ও বাঙালি নদী থেকে মাছ বিল ও অগভীর জলাভূমিতে প্রবেশ করে। শীতকালে সেগুলো ধরা হয়।
নাগর ও তুলসীগঙ্গায় ছোট আকারের মাছ পাওয়া যায়। চলন বিল থেকে নাগরে মাছ চলে আসে। এই মাছ বিপুল পরিমাণে ধরাও পড়ে। এই অঞ্চলে অসংখ্য পুকুর রয়েছে, সেখানে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করা হয়।
১৮৯০ সালের পর থেকে মাছের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ১৯১১ সালে এসে একটি বড় আকারের রুই মাছের দাম পাঁচ বা ছয় টাকা, অথচ ১০ বছর আগেও এর দাম ছিল এর অর্ধেক।
এই অঞ্চলে মাছ ধরার জন্য নানা ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হলো—
১) জাল ফেলা,
২) ফাঁদ পাতা,
৩) বর্শা বা বল্লম দিয়ে মাছ মারা,
৪) ছিপ দিয়ে মাছ ধরা।
১৯১০ সালের দিকে এসে বগুড়া জেলার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মাছের বাজার হলো ফতেহ আলী বাজার (বগুড়া), কালীতলা হাট, নুনগোলা হাট, সুলতানগঞ্জ হাট, মহিষাবন হাট, ধূপচাঁচিয়া হাট, ধাপ হাট, জয়পুর হাট, হিলি হাট, এলেঙ্গী হাট, গোসাইবাড়ি হাট, মোকামতলা হাট এবং বিহার হাট।
বগুড়ার নদী এবং পুকুরগুলোতে ৩৭ ধরনের মাছ ধরার রেকর্ড আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিতগুলো হচ্ছে কই, খলিশা, রুই মৃগেল, পুঁটি, সরপুঁটি, পাবদা, শিং, মাগুর, চিতল, টেংরা, আইড়, ইলিশ, পাঙাশ। কচ্ছপ, কাঁকড়া ও চিংড়ি সবখানেই দেখা যায়।

একসময় বগুড়া জেলায় বড় শিকারযোগ্য প্রাণীদের মধ্যে বাঘ প্রচুর পরিমাণে ছিল। অথচ ১৯১০ সালের দিকে এসে তা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত। এখন বিশ্বাস করা কঠিন যে ১৮৬৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শিকারিদের একটি দল ২৫৭টি বাঘ ও চিতাবাঘের খুলি কালেক্টরের কাছে জমা দিয়ে পুরস্কার হিসেবে প্রায় ৭০০ টাকা পেয়েছিল।
এখনো (১৯১০ সালের কথা) বগুড়ার পাঁচবিবি ও শেরপুরে প্রচুর পরিমাণে চিতাবাঘ দেখা যায়। আর জেলার প্রায় সব এলাকাতেই মাঝে মাঝে তাদের দেখা মেলে। একসময় পাঁচবিবি এলাকায় বুনো শুয়োর মারাত্মক উপদ্রব হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু এখন ক্রমেই তা বিরল হয়ে যাচ্ছে। বুনো মহিষ এবং হরিণ পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। খরগোশ, সজারু ও বনবিড়াল মাঝে মাঝে দেখা যায়।
১৯১০ সালের দিকে এসেও প্রায় প্রতিটি গ্রামেই শেয়াল ও খেঁকশিয়ালের দেখা মেলে। বিষধর সাপের জন্য বগুড়া কুখ্যাত। এর মধ্যে গোখরা ও ক্রেট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অন্যান্য জেলায় ফলের ব্যাপক ক্ষতি করা কাঠবিড়ালি ও বানরেরা এই জেলায় তুলনামূলকভাবে অনুপস্থিত।
শিকারযোগ্য পাখিদের মধ্যে এখন (১৯১০ সালের দিকের কথা) স্থানীয় নাটাবটের ও কালা-তিতির পাঁচবিবি থানার ঝোপঝাড় ও ঘাসের জঙ্গলে পাওয়া যায়। জেলার বিল ও নির্জন পুকুরগুলোতে অল্প সংখ্যায় দেশি সরালি ও বালিহাঁসও দেখা যায়। পরিযায়ী বটেরা খুব কমই এই জেলায় আসে, যদিও প্রায় সংলগ্ন মালদা জেলায় (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলা) তাদের অনেক বেশি দেখা যায়।
পরিযায়ী হাঁসেরা, বিশেষ করে ভুতিহাঁস, খুন্তেহাঁস, ল্যাঞ্জাহাঁস এবং নানা ধরনের তিলিহাঁস এই জেলায় ছোট ছোট দলে বড়বিল ও ব্রহ্মপুত্রের চরে আসে। রাজহাঁস এবং খয়রা-চখাচখি ব্রহ্মপুত্রের চরে অনেক দেখা যায়। তাদের শিকার করা প্রায় অসম্ভব।
কোনো কোনো মৌসুমে কাদাখোঁচা পাখিদের অনেক বেশি দেখা যায়। সাধারণত তারা ধানক্ষেতের মধ্যে থাকে। যদিও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে, মৌসুমের শেষের দিকে তারা বিলের ঘাস এবং পদ্মপাতার ভেতর থাকতে পছন্দ করে। শীতকালেজুড়েই নানা ধরনের চটক পাখিদের দেখা যায়।
বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলের মোট মাছের সরবরাহের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই আসে দাওকোপা (যমুনা), বাঙালি, হলহলিয়া, ইছামতি এবং মানাস (মানস) নদী থেকে। সারিয়াকান্দি অঞ্চল মাছের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত। সেখানের পুরো এলাকাই প্রতি বছর বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। ফলে দাওকোবা ও বাঙালি নদী থেকে মাছ বিল ও অগভীর জলাভূমিতে প্রবেশ করে। শীতকালে সেগুলো ধরা হয়।
নাগর ও তুলসীগঙ্গায় ছোট আকারের মাছ পাওয়া যায়। চলন বিল থেকে নাগরে মাছ চলে আসে। এই মাছ বিপুল পরিমাণে ধরাও পড়ে। এই অঞ্চলে অসংখ্য পুকুর রয়েছে, সেখানে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করা হয়।
১৮৯০ সালের পর থেকে মাছের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ১৯১১ সালে এসে একটি বড় আকারের রুই মাছের দাম পাঁচ বা ছয় টাকা, অথচ ১০ বছর আগেও এর দাম ছিল এর অর্ধেক।
এই অঞ্চলে মাছ ধরার জন্য নানা ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হলো—
১) জাল ফেলা,
২) ফাঁদ পাতা,
৩) বর্শা বা বল্লম দিয়ে মাছ মারা,
৪) ছিপ দিয়ে মাছ ধরা।
১৯১০ সালের দিকে এসে বগুড়া জেলার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মাছের বাজার হলো ফতেহ আলী বাজার (বগুড়া), কালীতলা হাট, নুনগোলা হাট, সুলতানগঞ্জ হাট, মহিষাবন হাট, ধূপচাঁচিয়া হাট, ধাপ হাট, জয়পুর হাট, হিলি হাট, এলেঙ্গী হাট, গোসাইবাড়ি হাট, মোকামতলা হাট এবং বিহার হাট।
বগুড়ার নদী এবং পুকুরগুলোতে ৩৭ ধরনের মাছ ধরার রেকর্ড আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিতগুলো হচ্ছে কই, খলিশা, রুই মৃগেল, পুঁটি, সরপুঁটি, পাবদা, শিং, মাগুর, চিতল, টেংরা, আইড়, ইলিশ, পাঙাশ। কচ্ছপ, কাঁকড়া ও চিংড়ি সবখানেই দেখা যায়।

দোহারের ইকরাশি গ্রামের শান্তি রানী পাল। বয়স ৯২ বছর। বয়সের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়েছেন। চোখের আলো কমে গেছে, গলার স্বরও ভেঙে গেছে; তবু সংসারের চাকাকে সচল রাখতে আদি পেশা হিসেবে কুমারের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
১৪ ঘণ্টা আগে
আজ ২৫ জানুয়ারি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন। সাহিত্যিক হিসেবে সাহিত্য-পরিসরে শতবর্ষ পরেও তিনি বেঁচে আছেন সক্রিয়তার ভেতর দিয়েই। এও সত্য যে, তাঁকে নিয়ে তাঁর কালেই তো বেশ জোরজারের সাথে চর্চা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ধুন্ধুমারভাবে প্রভাবিত করে গেছেন বিচিত্র ধারার সাহিত্যের লোকজনকে। এসবের পরও সেইকালে মধুসূদন
১ দিন আগে
হাতে বই কিংবা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণ পরই চোখ চলে যায় স্মার্টফোনে। সিনেমা দেখতে বসেও কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্য কনটেন্টে চলে যাওয়ার অভ্যাস এখন পরিচিত দৃশ্য। এই অস্থির মনোযোগ ও দ্রুত বিষয় বদলের প্রবণতাকেই আধুনিক মনোবিজ্ঞানে বলা হচ্ছে ‘পপকর্ন ব্রেইন’।
২ দিন আগে
২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর ২৪ জানুয়ারি পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস’। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকার সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশন।
২ দিন আগে