leadT1ad

ভোটাধিকার হরণে নতুন ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর কাঁচপুর বালুর মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

ভোটাধিকার হরণে নতুন ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১৫-১৬ বছর ধরে দেশে নির্বাচনের নামে প্রহসন চলছে। নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছে, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন আবার নতুন করে একটি দল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর কাঁচপুর বালুর মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপির জনসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আগ্রহ দেখে অনেকের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সে কারণেই ভোটাধিকার হরণে নতুন ষড়যন্ত্র চলছে।

এর আগে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে জনসভা শেষে রাত ২টার দিকে কাঁচপুরের জনসভায় যোগ দেন তারেক রহমান। মধ্যরাতেও কাঁচপুর বালুর মাঠ নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

নারায়ণগঞ্জবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, একটি বিশাল সমস্যা ছিল নারায়ণগঞ্জে, দুর্নীতি। কারা ছিল, কারা করেছে, কীভাবে করেছে– এগুলো আপনারা সব জানেন। নারায়ণগঞ্জ শহরের ২০টি স্পটে মাদক কারবার হয়। শহরের চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো নির্মূল এবং দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা হবে।

নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষমতায় এলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের পরিবারের গৃহিণীদের হাতে প্রতি মাসে অন্তত ৭ থেকে ১০ দিনের নগদ অর্থ বা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। কয়েক বছর এই কার্যক্রম চালানো গেলে নারীরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবেন।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের তালিকা করে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে অন্তত একটি ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও কীটনাশক সরকারিভাবে সরবরাহ করা হবে।

শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষিকাজের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি আবার চালুর ঘোষণা দেন তারেক রহমান। বলেন, নদী-নালা ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে নিজে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবেন।

এ ছাড়া মসজিদ-মাদ্রাসার খতিব, ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এতে ধর্মীয় নেতারা সম্মানজনক উপায়ে হালাল আয়ের সুযোগ পাবেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলামের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তৃতা করেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জোট প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী।

দিনভর পরিকল্পনা তুলে ধরে চাইলেন ভোট

রোববার সকাল থেকে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে সাতটি নির্বাচনী সভায় প্রচার শেষে মধ্যরাতে ঢাকা ফেরেন তারেক রহমান। এসব সভায় বক্তৃতায় তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি নির্মূলসহ নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ক্ষমতায় গেলে প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন জানিয়ে তারেক রহমান বিএনপির ধানের শীষ এবং জোটের শরিক জমিয়তে উলামায় ইসলামের খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট চান।

রোববার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের একটি হোটেলে নগর ও আশপাশের অর্ধশত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। পরে তিনি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা দেন। এরপর একে একে ফেনী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সোয়াগাজী, দাউদকান্দি এবং নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে নির্বাচনী প্রচার চালান।

সমালোচনার জবাব দেবেন কাজ দিয়ে

কুমিল্লায় নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমান সমালোচনায় কান না দিয়ে নেতাকর্মীদের কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তারা শুধু বিএনপির বদনাম করে যাচ্ছে। করুক, আমার আপত্তি নেই। আমি জনগণের জন্য কাজ করে যাব, সে পরিকল্পনায় দিয়েছি।

তারেক রহমান বলেন, পরিকল্পনা গ্রহণ করে সেটিকে কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হয়, তা একমাত্র বিএনপিই জানে। তাদের (জামায়াত) হিংসা হচ্ছে। কারণ জনগণের জন্য তারা ভালো কিছু উপস্থাপন করতে পারেনি। তাদের ওই আইডিয়া নেই। কারণ তাদের তো দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা নেই।

এ সময় তিনি জনতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে কয়েকটি দল বলছে, বিএনপি নাকি ধোঁকা দিচ্ছে। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আমাদের লাভ কী? মানুষের কাছে তো বিএনপিকে আসতে হবে। বিএনপি তো মানুষের রাজনীতি করে।

কুমিল্লায় ইপিজেড ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রতিশ্রুতি

কুমিল্লায় ইপিজেড ও ভাষা শিক্ষার জন্য ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান। সোয়াগাজীতে নির্বাচনী সভায় যোগ দিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ইপিজেড আছে। আমরা এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির জন্য এক এক করে ইপিজেড করতে চাই। অনেক শিল্প কারখানা আছে, যেগুলো মেয়েদের কাজ করার উপযুক্ত। ধীরে ধীরে নারীদের কাজ করার উপযুক্ত মিল কারখানা এই ইপিজেডের মাধ্যমে করতে চাই।

দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এলাকার বহু মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে আছেন। এই মানুষগুলোকে যদি আমরা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে প্রশিক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শিখিয়ে পাঠাতে পারি, তাহলে বেতন বেশি পাবেন। আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করে, প্রশিক্ষণ দিয়ে, ভাষা শিক্ষা দিয়ে বিদেশে পাঠাব।

দুই দশক পর নানাবাড়িতে

প্রায় ২০ বছর পর খালেদা জিয়ার পিতৃভূমি ফেনীতে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন তারেক রহমান। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘এটি কিন্তু আমার নানাবাড়ি। আমি আবদার করতে পারি।’ দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কথা একটাই, আমাদের দেশ গড়তে হবে। এই দেশ যদি আমরা না গড়তে পারি, ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে। সভায় ফেনীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠ তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা ঘিরে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল
চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠ তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা ঘিরে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

জনসমুদ্র পলোগ্রাউন্ড

দিনের প্রথম নির্বাচনী সভায় যোগ দিতে দুপুর সোয়া ১২টা নাগাদ চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে উপস্থিত হন তারেক রহমান। এ সময় মাঠে জড়ো হয় চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলা থেকে আসা লাখো নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।

সভায় তারেক রহমান বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি আছে। যেই দাবিটির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া উদ্যোগ (বাণিজ্যিক রাজধানী করার) গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি।

বিগত ১৫ বছরে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি– মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে শুধু চট্টগ্রামের মানুষ নয়, দেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত